ননী ভৌমিকের জন্ম ১৯২১ সালে, বর্তমান বাংলাদেশের রংপুরে। রংপুর শহরে স্কুলে পড়তেন। রংপুর কলেজে থেকে আই.এসসি ও পাবনা সরকারি কলেজ থেকে বি.এসসি পাস করেন। অর্থাভাবে এম.এসসি পড়তে পারেননি। পরে বীরভূম জেলার সিউড়িতে চলে আসেন। বীরভূম ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী বিপ্লবী নিত্যনারায়ণ ভৌমিক তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।
ননী ভৌমিক তরুণ বয়েসেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং স্বাধীনতা পত্রিকায় সাংবাদিকের কাজ করতে শুরু করেন। ৪৬ সালের ভয়াবহ দাঙ্গার ভেতরেও নির্ভীকভাবে সংবাদ সংগ্রহ করে গেছেন তিনি। পরে তেভাগা আন্দোলনের খবর জোগাড় করেছেন গ্রামে গ্রামে গিয়ে যা স্বাধীনতা পত্রিকায় প্রকাশিত হত। তার এই অভিজ্ঞতাভিত্তিক ছোটগল্প সংকলন 'ধানকানা' বের হয়। অরণি পত্রিকায় নিজের সাহিত্যচর্চা শুরু হয়। চৈত্রদিন তার অপর গ্রন্থ। ফ্যাসিবিরোধী প্রগতি লেখক সংঘ ও ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির সদস্য ছিলেন। পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন কিছুকাল। তার বিখ্যাত উপন্যাস ধুলোমাটি ধারাবাহিকভাবে পরিচয়ে বের হয়। ১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হলে তিনি গ্রেপ্তার হন ও প্রেসিডেন্সি, বক্সা ইত্যাদি জেলে আটক থাকেন।
১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি তিনি মস্কোর প্রগতি প্রকাশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অনুবাদকের কাজ নিয়ে সোভিয়েত রাশিয়া যান। রুশ মহিলা স্বেতলানা'কে বিয়ে করে সে দেশেই থেকে যান। বহু রুশ সাহিত্যের অসামান্য বাংলা অনুবাদ তার হাত দিয়ে বেরিয়েছে। রাজনৈতিক সাহিত্য ছাড়াও অজস্র শিশু কিশোরদের গল্প, উপন্যাস অনুবাদ করেছেন। ফিওদোর দস্তয়েভ্স্কির বঞ্চিত লাঞ্ছিত, জন রীডের দুনিয়া কাঁপানো দশদিন, ল্যেভ তল্স্তোয়ের আনা কারেনিনা ইত্যাদি ছাড়াও বাংলা- রুশ- বাংলা অভিধান, ইউক্রেনের গল্প, সোনার চাবি, উভচর মানব ইত্যাদি। তবে অনুবাদের কাজ করতে গিয়ে নিজের মৌলিক লেখার কাজ ব্যহত হয়। সোভিয়েত মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমন করে রিপোর্টাজ ধর্মী 'মরু ও মঞ্জরী' গ্রন্থটি লেখেন সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে।
ননী ভৌমিকের শেষ জীবন অবহেলা আর আর্থিক সমস্যায় কাটে। পুত্রের মৃত্যুতে মানসিক আঘাত ও স্মৃতিভ্রংশে ভুগতেন। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৯৬ সালে তিনি রাশিয়াতেই পথ দুর্ঘটনায় মারা যান।
'মনের মত কাজ' আমার বাবা আমাকে পড়তে বলেছিলো পুঁথিগত বিদ্যা আর বাস্তব কর্মজীবনে উপস্থিত হওয়ার তফাৎ কেমন বুঝতে। আমার কিন্তু পাশাপাশি সদ্য স্নাতক মেয়েটির একাকীত্ব উপলব্ধি হলো চরমভাবে।
প্রথম গল্প পড়ে মন খুব উদাস হলো হয়তো নিজেরো বেশ বয়স হয়েছে বলেই! তবে রুশ লেখায় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনি পড়া হয়েছিলো না বোধ হয় আগে, মনে করতে পারছি না। অনাথ বালকের সর্বস্ব হারানো বুড়ো সেনাকেই নিজের বাবা ধরে নেয়ার, দুজনেরই দুজনকে আঁকড়ে ধরে রাখার গল্প পড়ে খুব কষ্ট হলো, এত কষ্ট মনে হয় না প্রথমবার পড়ে হয়েছিলো।
স্কুল বা কলেজে পড়তে পারিবারিক সংগ্রহে থাকা বই থেকে হুটহাট দুই একটা গল্প পড়া হয়েছিলো। সবগুলো আবার পড়তে, এখন প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক হিসেবে খুব পরিতৃপ্ত লাগলো। সে সময়ের জনপ্রিয় রুশ লেখকেরা হয়তো বিপ্লব পরবর্তী কমিউনিস্ট রাশিয়ার কমরেড হিসেবে কর্মঠ, বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত রুশ জনগণের গল্পই বারবার তুলে ধরেছেন, কিন্তু তাতেও রুশ গ্রাম্য বালকের দৈনন্দিন জীবন, কি প্রকৃতি, বা শিকারীর জীবনযাপন উপলব্ধিতে কমতি বোধ হয়নি।