What do you think?


আবোল তাবোল
This selection offers you the best of his world - pun-riddled, fun-fiddled poetry from Abol Tabol and Khai Khai, stories of schoolboy pranks (Pagla Dashu) and madcap explorers (Heshoram Hushiyarer Diary), and the unforgettable harum-scarum classic Haw-Jaw-Baw-Raw-Law, presented here for the first time in its entirety. All the stories and poems are accompanied by Sukumar Rays inimitable illustrations.
112 pages, Paperback
First published September 19, 1923
About the author
Sukumar Ray
150 books239 followersSukumar Ray (Bangla: সুকুমার রায়) was a Bengali humorous poet, story writer and playwright. As perhaps the most famous Indian practitioner of literary nonsense, he is often compared to Lewis Carroll.
His works such as the collection of poems Aboltabol (Bengali: আবোলতাবোল), novella HaJaBaRaLa (Bengali: হযবরল), short story collection Pagla Dashu (Bengali: পাগলা দাশু) and play Chalachittachanchari (Bengali: চলচিত্তচঞ্চরী) are considered nonsense masterpieces equal in stature to Alice in Wonderland, and are regarded as some of the greatest treasures of Bengali literature. More than 80 years after his death, Ray remains one of the most popular of children's writers in both West Bengal and Bangladesh.
He was the son of famous Bengali writer Upendrakishore Ray Chowdhury and the father of the renowned film-maker Satyajit Ray.
His works such as the collection of poems Aboltabol (Bengali: আবোলতাবোল), novella HaJaBaRaLa (Bengali: হযবরল), short story collection Pagla Dashu (Bengali: পাগলা দাশু) and play Chalachittachanchari (Bengali: চলচিত্তচঞ্চরী) are considered nonsense masterpieces equal in stature to Alice in Wonderland, and are regarded as some of the greatest treasures of Bengali literature. More than 80 years after his death, Ray remains one of the most popular of children's writers in both West Bengal and Bangladesh.
He was the son of famous Bengali writer Upendrakishore Ray Chowdhury and the father of the renowned film-maker Satyajit Ray.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 68 reviews
January 6, 2015
রোদে রাঙা ইঁটের পাঁজা তার উপরে বসল রাজা—ননসেন্স ক্লাবের সভাপতি আর খেয়ালরসের এই রাজার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেক ছোটবেলায়।
ঠোঙাভরা বাদামভাজা খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না৷
গায়ে আঁটা গরম জামা পুড়ে পিঠ হচ্ছে ঝামা ;
রাজা বলে, "বৃষ্টি নামা— নইলে কিচ্ছু মিলছে না৷"
থাকে সারা দুপুর ধ'রে ব'সে ব'সে চুপটি ক'রে,
হাঁড়িপানা মুখটি ক'রে আঁকড়ে ধ'রে শ্লেটটুকু ;
ঘেমে ঘেমে উঠছে ভিজে ভ্যাবাচ্যাকা একলা নিজে,
হিজিবিজি লিখছে কি যে বুঝছে না কেউ একটুকু৷
ঝাঁ ঝাঁ রোদ আকাশ জুড়ে, মাথাটার ঝাঁঝ্রা ফুঁড়ে,
মগজেতে নাচছে ঘুরে রক্তগুলো ঝনর্ ঝন্ ;
ঠাঠা–পড়া দুপুর দিনে, রাজা বলে, "আর বাঁচিনে,
ছুটে আন্ বরফ কিনে ক'চ্ছে কেমন গা ছন্ছন্৷"
আরো রঙচঙ মেখে বলা যায় আমিও সেইসব সৌভাগ্যবান শিশুদের মধ্যে একজন, যাদের জীবনের সবচেয়ে দূর্লভ সময়টা কেটেছে সুকুদার হাত ধরে।
ছোটখালার বিয়ে হয়েছে তখন সবে, আমি পড়ি ফোরে। কবিতাপাগল বড়খালার কাছে শেখা 'দুই বিঘা জমি' বা মাকে'..কী যেনো একটা কবিতা শুনিয়েছিলাম নূতন খালুকে। রোগাপটকা একটা পিচ্চি (বয়সের তুলনায় সাইজে আরো পিচ্চি ছিলাম) 'কুমড়োপটাশ' চোখে বেণি দুলিয়ে কোবতে বলছে দেখে উনি বোধহয় খুব মজা পেয়েছিলেন! ওই সন্ধেতেই উপহার পাওয়া 'সেরা সন্দেশ' আর সুকুমার রায়ের 'সমগ্র শিশুসাহিত্য'।
আর সুকুমার রায় সেই থেকেই আমার সতত সঙ্গী।
ইস্কুলে আমাদের 'ভাবুক সভা'র প্রিয় উক্তি ছিলো 'তিনমাসের জেল আর সাতদিনের ফাঁসি'। মজার ছলে বন্ধুরা নাম পেতো 'রামতাড়ু' কিংবা 'হাঁসজারু'। ক্লাসের ফাঁকে যখন-তখন ফাজলামো করতাম ট্যাঁশগরু বা সৎপাত্র আওড়ে। ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে হাত-পায়ে ব্যথা করে ফের ডোবা হতো সুকুমার সলিলেই।
কৈশোর ফুরিয়ে গেছে বহু বছর হয়ে গেলো। এখনো ডেডলাইন ফাঁড়া কাটাতে রাত জাগার সময়ে ঘুরেফিরে মাথায় আসেন ঐ লোকটাই। অসংখ্য অসংখ্য মন খারাপ করা নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সুকুমার তার আবোল তাবোল লাইন দিয়ে আমার মন ভাল করে দিয়েছেন, আমি জানি বাকি জীবনেও দেবেন।
এক পৃথিবী কৃতজ্ঞতা আপনার কাছে সুকুমার।
আপনি ছিলেন বলেই আমি এখনো হাসি।
January 1, 2019
হাঁসজারু, বকচ্ছপ, গিরগিটিয়া, হাতিমি, বিছাগল... বাংলা ভাষায় ছোটদের বই যারা খানিকটা হলেও নেড়েচেড়ে দেখেন, এই চরিত্রগুলো তাদের ভীষণই প্রিয়, ভীষণই চেনা। তবু যদি অচেনা লাগে, তাহলে ছড়াটাই মনে করিয়ে দিতে হয়-
হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না
হ্যাঁ, এইসব অদ্ভূতুড়ে শঙ্কর প্রাণীগুলো- হাঁসজারু, বকচ্ছপ, গিরগিটিয়া, হাতিমি, বিছাগল- সব সুকুমার রায়ের অনন্য সৃষ্টি।ছড়াটির নামটিও জুতসই—‘খিচুড়ি’। ছবিসহ এই ছড়া প্রথম ছেপেছিলেন ‘সন্দেশ’ পত্রিকায়। পরে যেই ছড়ার বইটিতে এই ছড়ার স্থান হয়, সেটিও ভীষণই বিখ্যাত। নাম ‘আবোল তাবোল’।
‘আবোল তাবোল’ নামের সুকুমার রায়ের এই বইটা এমনি সব আবোল তাবোল ছড়ায় ভরা। আজগুবি আর মজার মজার সব ছড়া। এই যেমন ‘কাঠবুড়ো’ ছড়াটা। ছড়ার শুরুতেই কাঠবুড়োর যে বর্ণনা দিয়েছেন সুকুমার, শুনে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যাওয়ার কথা-
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে যেন কে বৃদ্ধ,
রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ।
শুধু কাঠ চেটেই ক্ষান্ত নয় বুড়ো, কাঠে কেন গর্ত হয়, তাই নিয়ে ভেবে ভেবে তার ‘টেকো মাথা তেতে ওঠে গায়ে ছোটে ঘর্ম’।
আবার ‘কি মুস্কিল’ ছড়াতে আছে এক আজব সমস্যার কথা। এক লোকের কাছে আছে এমন এক কেতাব, তাতে দুনিয়ার সব খবরই আছে। তাও কিন্তু তার একটা সমস্যা থেকেই গেছে। কেন?-
সব লিখেছে, কেবল দেখ পাচ্ছিনেকো লেখা কোথায়-
পাগলা ষাঁড়ে করলে তাড়া কেমন করে ঠেকাব তায়!
সারাদিন এ বই সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েও শেষ করা যাবে না। এক কথায় অসাধারণ। বইটাতে সুকুমার রায় কেবল ছড়া লিখেই ক্ষান্ত দেননি, প্রত্যেকটা ছড়ার সঙ্গে জুতসই ছবিও এঁকেছেন। এঁকেছেন হাঁসজারু আর গিরগিটিয়াদের ছবি, কাঠবুড়ো আর গোঁফ হারানো বড় বাবুর ছবি, হুঁকোমুখো হ্যাংলা আর ট্যাঁশ গরুর ছবি। আছে গোমড়ামুখো রামগড়ুরের ছানার ছবিও। ছবি আছে প্রত্যেকটা ছড়ার সাথেই। এই ছড়াগুলো সন্দেশে ছাপানোর সময় নিজ হাতে ছবিগুলো এঁকেছিলেন সুকুমার রায়।
হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),
হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না
হ্যাঁ, এইসব অদ্ভূতুড়ে শঙ্কর প্রাণীগুলো- হাঁসজারু, বকচ্ছপ, গিরগিটিয়া, হাতিমি, বিছাগল- সব সুকুমার রায়ের অনন্য সৃষ্টি।ছড়াটির নামটিও জুতসই—‘খিচুড়ি’। ছবিসহ এই ছড়া প্রথম ছেপেছিলেন ‘সন্দেশ’ পত্রিকায়। পরে যেই ছড়ার বইটিতে এই ছড়ার স্থান হয়, সেটিও ভীষণই বিখ্যাত। নাম ‘আবোল তাবোল’।
‘আবোল তাবোল’ নামের সুকুমার রায়ের এই বইটা এমনি সব আবোল তাবোল ছড়ায় ভরা। আজগুবি আর মজার মজার সব ছড়া। এই যেমন ‘কাঠবুড়ো’ ছড়াটা। ছড়ার শুরুতেই কাঠবুড়োর যে বর্ণনা দিয়েছেন সুকুমার, শুনে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যাওয়ার কথা-
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে যেন কে বৃদ্ধ,
রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ।
শুধু কাঠ চেটেই ক্ষান্ত নয় বুড়ো, কাঠে কেন গর্ত হয়, তাই নিয়ে ভেবে ভেবে তার ‘টেকো মাথা তেতে ওঠে গায়ে ছোটে ঘর্ম’।
আবার ‘কি মুস্কিল’ ছড়াতে আছে এক আজব সমস্যার কথা। এক লোকের কাছে আছে এমন এক কেতাব, তাতে দুনিয়ার সব খবরই আছে। তাও কিন্তু তার একটা সমস্যা থেকেই গেছে। কেন?-
সব লিখেছে, কেবল দেখ পাচ্ছিনেকো লেখা কোথায়-
পাগলা ষাঁড়ে করলে তাড়া কেমন করে ঠেকাব তায়!
সারাদিন এ বই সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েও শেষ করা যাবে না। এক কথায় অসাধারণ। বইটাতে সুকুমার রায় কেবল ছড়া লিখেই ক্ষান্ত দেননি, প্রত্যেকটা ছড়ার সঙ্গে জুতসই ছবিও এঁকেছেন। এঁকেছেন হাঁসজারু আর গিরগিটিয়াদের ছবি, কাঠবুড়ো আর গোঁফ হারানো বড় বাবুর ছবি, হুঁকোমুখো হ্যাংলা আর ট্যাঁশ গরুর ছবি। আছে গোমড়ামুখো রামগড়ুরের ছানার ছবিও। ছবি আছে প্রত্যেকটা ছড়ার সাথেই। এই ছড়াগুলো সন্দেশে ছাপানোর সময় নিজ হাতে ছবিগুলো এঁকেছিলেন সুকুমার রায়।
January 7, 2018
রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে,
" হাসব না-না, না-না !"
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী
খাসা তোর চ্যাঁচানী
শুনে শুনে আনমন্
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা গলা চাঁচা সুর
আহ্লাদে ভরপুর!
আহা! পড়তে কি যে মজা! :D
হাসির কথা শুনলে বলে,
" হাসব না-না, না-না !"
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী
খাসা তোর চ্যাঁচানী
শুনে শুনে আনমন্
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা গলা চাঁচা সুর
আহ্লাদে ভরপুর!
আহা! পড়তে কি যে মজা! :D
February 28, 2014
Did you know that Sukumar Ray wrote with the pen being held by his fingers? Or that he wrote on a paper! I mean, can you believe it? He wrote on blank sheets of paper with pen! That's not all, when he wrote, his fingers moved along with the pen. When he reached the end of his sheet of paper, he would stop there, and then begin writing on another sheet of paper. That's magical. How can anybody do that? But Ray did it, because he was a genius. This guy had a son whose name was Satyajit Ray, and he used to make films. Yeah, films, you know, with actors and cameras and stuff. But we are talking about Satyajit Ray's father here, who used to write with pen and paper, and I heard from somewhere, even, that at night, he would make the use of lamp so that he would have enough light to write. How is that even possible? Have you heard anybody do that? If you haven't, you should really read this guy, Sukumar Ray, because he used to write with pen over the paper and a night lamp by his side when it turned dark. That's cool stuff, if you ask me.
If the above written stuff sounds nonsense, then let it sound nonsense because it's intended to sound nonsense because it is, in fact, nonsense. This book is funny. Really funny. People search for stolen mustaches here, and reverse their age after 40 years, they have nails on their buns, grown kidney-beans on Neem trees et al. You know where I am going. More than any other stalwarts in nonsense literature, I was reminded more of, strangely, Daniil Kharms, because he used to write poetry in invented language, like Ray here, although Kharms didn't really write nonsense.
This isn't a book which should be critically evaluated, and even though it touches upon issues like corruption and the functioning of society in general, 'Abol Tabol' should just be enjoyed. Some books, they just make your heart light, make you smile wide. That's 'Abol Tabol' for you.
If the above written stuff sounds nonsense, then let it sound nonsense because it's intended to sound nonsense because it is, in fact, nonsense. This book is funny. Really funny. People search for stolen mustaches here, and reverse their age after 40 years, they have nails on their buns, grown kidney-beans on Neem trees et al. You know where I am going. More than any other stalwarts in nonsense literature, I was reminded more of, strangely, Daniil Kharms, because he used to write poetry in invented language, like Ray here, although Kharms didn't really write nonsense.
This isn't a book which should be critically evaluated, and even though it touches upon issues like corruption and the functioning of society in general, 'Abol Tabol' should just be enjoyed. Some books, they just make your heart light, make you smile wide. That's 'Abol Tabol' for you.
November 11, 2020
"আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা—
ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্র হল ব্যথা!
ছায়া ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি,
রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি!
শিশির ভেজা সদ্য ছায়া, সকাল বেলায় তাজা!
গ্রীষ্মকালে শুকনো ছায়া ভীষণ রোদে ভাজা,
চিলগুলো যায় দুপুর বেলায় আকাশ পথে ঘুরে
ফাঁদ ফেলে তার ছায়ার উপর খাঁচায় রাখি পুরে।
কাগের ছায়া বগের ছায়া দেখ্ছি কত ঘেঁটে—
হাল্কা মেঘের পান্সে ছায়া তাও দেখেছি চেটে।
কেউ জানেনা এ-সব কথা কেউ বোঝে না কিছু,
কেউ ঘোরে না আমার মত ছায়ার পিছুপিছু।
তোমরা ভাব গাছের ছায়া অমনি লুটায় ভূ’য়ে,
অমনি শুধু ঘুমায় বুঝি শান্ত মতন শুয়ে;
আসল ব্যাপার জানবে যদি আমার কথা শোনো,
বলছি যা তা সত্যি কথা, সন্দেহ নাই কোনো।
কেউ যবে তার রয় না কাছে, দেখতে নাহি পায়,
গাছের ছায়া ছট্ফটিয়ে এদিক ওদিক চায়।
সেই সময়ে গুড়গুড়িয়ে পিছন হতে এসে
ধামায় চেপে ধপাস্ করে ধরবে তারে ঠেসে।
পাতলা ছায়া, ফোক্লা ছায়া, ছায়া গভীর কালো—
গাছের চেয়ে গাছের ছায়া সব রকমেই ভালো।
গাছ গাছালি শেকড় বাকল মিথ্যে সবাই গেলে,
বাপ্ রে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে।
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পারো,
শুঁকলে পরে সর্দিকাশি থাকবে না আর কারো।
আমড়া গাছের নোংরা ছায়া কাম্ড়ে যদি খায়,
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নাই তায়।
আষাঢ় মাসের বাদলা দিনে বাঁচতে যদি চাও,
তেঁতুল তলার তপ্ত ছায়া হপ্তা তিনেক খাও।
মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া ‘ব্লটিং’ দিয়ে শুষে,
ধুয়ে মুছে সাবধানেতে রাখছি ঘরে পুষে!
পাক্কা নতুন টাট্কা ওষুধ এক্কেবারে দিশি—
দাম করেছি শস্তা বড়, চোদ্দ আনা শিশি।"
ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্র হল ব্যথা!
ছায়া ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি,
রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি!
শিশির ভেজা সদ্য ছায়া, সকাল বেলায় তাজা!
গ্রীষ্মকালে শুকনো ছায়া ভীষণ রোদে ভাজা,
চিলগুলো যায় দুপুর বেলায় আকাশ পথে ঘুরে
ফাঁদ ফেলে তার ছায়ার উপর খাঁচায় রাখি পুরে।
কাগের ছায়া বগের ছায়া দেখ্ছি কত ঘেঁটে—
হাল্কা মেঘের পান্সে ছায়া তাও দেখেছি চেটে।
কেউ জানেনা এ-সব কথা কেউ বোঝে না কিছু,
কেউ ঘোরে না আমার মত ছায়ার পিছুপিছু।
তোমরা ভাব গাছের ছায়া অমনি লুটায় ভূ’য়ে,
অমনি শুধু ঘুমায় বুঝি শান্ত মতন শুয়ে;
আসল ব্যাপার জানবে যদি আমার কথা শোনো,
বলছি যা তা সত্যি কথা, সন্দেহ নাই কোনো।
কেউ যবে তার রয় না কাছে, দেখতে নাহি পায়,
গাছের ছায়া ছট্ফটিয়ে এদিক ওদিক চায়।
সেই সময়ে গুড়গুড়িয়ে পিছন হতে এসে
ধামায় চেপে ধপাস্ করে ধরবে তারে ঠেসে।
পাতলা ছায়া, ফোক্লা ছায়া, ছায়া গভীর কালো—
গাছের চেয়ে গাছের ছায়া সব রকমেই ভালো।
গাছ গাছালি শেকড় বাকল মিথ্যে সবাই গেলে,
বাপ্ রে বলে পালায় ব্যামো ছায়ার ওষুধ খেলে।
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পারো,
শুঁকলে পরে সর্দিকাশি থাকবে না আর কারো।
আমড়া গাছের নোংরা ছায়া কাম্ড়ে যদি খায়,
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নাই তায়।
আষাঢ় মাসের বাদলা দিনে বাঁচতে যদি চাও,
তেঁতুল তলার তপ্ত ছায়া হপ্তা তিনেক খাও।
মৌয়া গাছের মিষ্টি ছায়া ‘ব্লটিং’ দিয়ে শুষে,
ধুয়ে মুছে সাবধানেতে রাখছি ঘরে পুষে!
পাক্কা নতুন টাট্কা ওষুধ এক্কেবারে দিশি—
দাম করেছি শস্তা বড়, চোদ্দ আনা শিশি।"
December 5, 2021
This is English translation of nonsense verses by Sukumar Ray in Bengali- Abol Tabol. Not a big fan of this style, I found the translation downright boring. The verses make no sense and I did not find any sense in making any sense of them!
June 26, 2024
❝ আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত বাদল বাজিয়ে আয় ❞
নতুন বছরের প্রথমদিন নতুন বই পেয়েই আগে ঢু মারতাম বাংলা বই আর আনন্দপাঠে।সেসব দিন কবে বাসি হয়ে গেছে।ক্লাস নাইনে থাকতে সুকুমার রায়ের “ছায়াবাজি” কবিতা প্রথম পড়ি। অদ্ভুত খেয়ালী আর ছন্দোবদ্ধ এমন কবিতা আবৃত্তি করার পর কেমন যেন এক ভালো লাগা কাজ করে। কবিতার সারমর্ম ঠিক বুঝা যায় না, ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে কিভাবে ব্যথা হতে পারে সেটাও যৌক্তিকতার কোনো শাখাতেই পড়ে না, তবুও এই আনরিয়েলিস্টিক কবিতাকে কেমন রস আর মাদকতাপূর্ণ মনে হয়, মনে হয় এই বুঝি নেশা ধরে গেলো। এই মোহগ্রস্ততার উৎস খুঁজলে দেখা যায় তার কৃতিত্ব ছন্দের। তাছাড়া যা অবাস্তব, যা দেখা যায় না সেটাকেই তো আমরা অজানা হিসেবে জানি, সেই অজানাকে জানার জন্য মানব সমাজে আগ্রহ চলে এসেছে সেই আদিম যুগ থেকে। সৃষ্টি করেছে মানব সভ্যতা। সুকুমার রায়ের "আবোল তাবোল" পড়তে পড়তে মনে হবে এটা কেবলই হাস্যরসাত্মক, খেয়ালী আর ছন্দ দিয়ে বাধা কয়েকটি ছড়ার সম্মেলন। কিন্তু ভর্ৎসনা করে কবি পঙক্তিতেই নিজেই বলেন,
❝ কি বল্লি তুই? এসব শুধু আবোল তাবোল বকুনি?
বুঝতে হ'লে মগজ লাগে, ব'লেছিলাম তখনি।
মগজভরা গোবর তোদের হ'চ্ছে ঘুঁটে শুকিয়ে,
যায় কি দেওয়া কোনো কথা তার ভিতরে ঢুকিয়ে?❞
মানুষ উন্নত জীব কারণ সে চিন্তাশীল। মানুষ চিন্তা আর বুদ্ধি দিয়ে অজানাকে জয় করেছে, নির্মাণ করেছে মানবসভ্যতা। তাই "আবোল তাবোল" শুধু অদ্ভুত খেয়াল নয়, চিন্তার খোরাক ও বটে।
কখনো প্রশ্ন করেছেন, কখনো বিজ্ঞান শিক্ষার ইনফ্লুয়েন্স করেছেন আবার কখনো খেয়ালে বুঝিয়েছেন যে কেতাবি শিক্ষাতেই সব কিছু হয় না। যেমন -
❝ সাবান কালি দাঁতের মাজন বানাবার সব কায়দাকেতা,
পূজা পার্ব্বণ তিথির হিসাব শ্রাদ্ধবিধি লিখছে হেথা।
সব লিখেছে, কেবল দেখ পাচ্ছিনেকো লেখা কোথায়—
পাগলা ষাঁড়ে করলে তাড়া কেমন ক'রে ঠেকাব তায়!❞
আসলেই তো! এমন অনেক জিনিস আছে যা কিতাবে নেই কিন্তু অভিজ্ঞতা দিয়ে মোকাবেলা করা লাগে।
আবার কখনো প্রশ্ন করেছেন -
❝ তেজপাতে তেজ কেন? ঝাল কেন লঙ্কায়?
নাক কেন ডাকে আর পিলে কেন চমকায়?❞
এসব কিছু বাদেও আরো একটি জিনিস এই বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ, সেটা হচ্ছে সুকুমার রায়ের প্রচ্ছদ ও প্রতিটি কবিতায় আঁকা চিত্র। "খিচুড়ি" কবিতায় হাঁস আর সজারুকে মিলিয়ে "হাঁসজারু" বানিয়ে ফেলেছেন।এই জিনিস ছোট থাকতে শুনে খুব ইন্টারেস্টিং লাগতো। খেয়াল করলেই দেখা যায় প্রথম প্রাণীর শেষের অক্ষর এবং পরের প্রাণীর প্রথম অক্ষর একই। কবিতার পাশাপাশি সেই "হাঁসজারু", "হাতিমি"," বকচ্ছপ" "মোরগরু", "সিংহরিণ"-রা কেমন হয় চিত্র একে দেখিয়েছেন।
এসব দেখে পাঠকের মনে হতেই পারে এসব কবিতার কোনো মানে নাই, বাচ্চাদের কবিতা। কবি মহাশয় খেয়াল স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে সে দায় ও এড়িয়ে গেছেন -
❝আজকে দাদা যাবার আগে
বলব যা মোর চিত্তে লাগে
নাইবা তাহার অর্থ হো'ক
নাইবা বুঝুক বেবাক লোক।
আপনাকে আজ আপন হ'তে
ভাসিয়ে দিলাম খেয়াল স্রোতে।❞
পুনশ্চ: বই যে একটা শিল্প সেটার যথাযথ কদর ও শৈল্পিকতাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য কবি প্রকাশনী কে ধন্যবাদ। পৃষ্ঠা, বাধাই, প্রচ্ছদ এবং চিরায়ত বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কবি প্রকাশনীর কাজ অনবদ্য।
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত বাদল বাজিয়ে আয় ❞
নতুন বছরের প্রথমদিন নতুন বই পেয়েই আগে ঢু মারতাম বাংলা বই আর আনন্দপাঠে।সেসব দিন কবে বাসি হয়ে গেছে।ক্লাস নাইনে থাকতে সুকুমার রায়ের “ছায়াবাজি” কবিতা প্রথম পড়ি। অদ্ভুত খেয়ালী আর ছন্দোবদ্ধ এমন কবিতা আবৃত্তি করার পর কেমন যেন এক ভালো লাগা কাজ করে। কবিতার সারমর্ম ঠিক বুঝা যায় না, ছায়ার সঙ্গে কুস্তি করে গাত্রে কিভাবে ব্যথা হতে পারে সেটাও যৌক্তিকতার কোনো শাখাতেই পড়ে না, তবুও এই আনরিয়েলিস্টিক কবিতাকে কেমন রস আর মাদকতাপূর্ণ মনে হয়, মনে হয় এই বুঝি নেশা ধরে গেলো। এই মোহগ্রস্ততার উৎস খুঁজলে দেখা যায় তার কৃতিত্ব ছন্দের। তাছাড়া যা অবাস্তব, যা দেখা যায় না সেটাকেই তো আমরা অজানা হিসেবে জানি, সেই অজানাকে জানার জন্য মানব সমাজে আগ্রহ চলে এসেছে সেই আদিম যুগ থেকে। সৃষ্টি করেছে মানব সভ্যতা। সুকুমার রায়ের "আবোল তাবোল" পড়তে পড়তে মনে হবে এটা কেবলই হাস্যরসাত্মক, খেয়ালী আর ছন্দ দিয়ে বাধা কয়েকটি ছড়ার সম্মেলন। কিন্তু ভর্ৎসনা করে কবি পঙক্তিতেই নিজেই বলেন,
❝ কি বল্লি তুই? এসব শুধু আবোল তাবোল বকুনি?
বুঝতে হ'লে মগজ লাগে, ব'লেছিলাম তখনি।
মগজভরা গোবর তোদের হ'চ্ছে ঘুঁটে শুকিয়ে,
যায় কি দেওয়া কোনো কথা তার ভিতরে ঢুকিয়ে?❞
মানুষ উন্নত জীব কারণ সে চিন্তাশীল। মানুষ চিন্তা আর বুদ্ধি দিয়ে অজানাকে জয় করেছে, নির্মাণ করেছে মানবসভ্যতা। তাই "আবোল তাবোল" শুধু অদ্ভুত খেয়াল নয়, চিন্তার খোরাক ও বটে।
কখনো প্রশ্ন করেছেন, কখনো বিজ্ঞান শিক্ষার ইনফ্লুয়েন্স করেছেন আবার কখনো খেয়ালে বুঝিয়েছেন যে কেতাবি শিক্ষাতেই সব কিছু হয় না। যেমন -
❝ সাবান কালি দাঁতের মাজন বানাবার সব কায়দাকেতা,
পূজা পার্ব্বণ তিথির হিসাব শ্রাদ্ধবিধি লিখছে হেথা।
সব লিখেছে, কেবল দেখ পাচ্ছিনেকো লেখা কোথায়—
পাগলা ষাঁড়ে করলে তাড়া কেমন ক'রে ঠেকাব তায়!❞
আসলেই তো! এমন অনেক জিনিস আছে যা কিতাবে নেই কিন্তু অভিজ্ঞতা দিয়ে মোকাবেলা করা লাগে।
আবার কখনো প্রশ্ন করেছেন -
❝ তেজপাতে তেজ কেন? ঝাল কেন লঙ্কায়?
নাক কেন ডাকে আর পিলে কেন চমকায়?❞
এসব কিছু বাদেও আরো একটি জিনিস এই বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ, সেটা হচ্ছে সুকুমার রায়ের প্রচ্ছদ ও প্রতিটি কবিতায় আঁকা চিত্র। "খিচুড়ি" কবিতায় হাঁস আর সজারুকে মিলিয়ে "হাঁসজারু" বানিয়ে ফেলেছেন।এই জিনিস ছোট থাকতে শুনে খুব ইন্টারেস্টিং লাগতো। খেয়াল করলেই দেখা যায় প্রথম প্রাণীর শেষের অক্ষর এবং পরের প্রাণীর প্রথম অক্ষর একই। কবিতার পাশাপাশি সেই "হাঁসজারু", "হাতিমি"," বকচ্ছপ" "মোরগরু", "সিংহরিণ"-রা কেমন হয় চিত্র একে দেখিয়েছেন।
এসব দেখে পাঠকের মনে হতেই পারে এসব কবিতার কোনো মানে নাই, বাচ্চাদের কবিতা। কবি মহাশয় খেয়াল স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে সে দায় ও এড়িয়ে গেছেন -
❝আজকে দাদা যাবার আগে
বলব যা মোর চিত্তে লাগে
নাইবা তাহার অর্থ হো'ক
নাইবা বুঝুক বেবাক লোক।
আপনাকে আজ আপন হ'তে
ভাসিয়ে দিলাম খেয়াল স্রোতে।❞
পুনশ্চ: বই যে একটা শিল্প সেটার যথাযথ কদর ও শৈল্পিকতাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য কবি প্রকাশনী কে ধন্যবাদ। পৃষ্ঠা, বাধাই, প্রচ্ছদ এবং চিরায়ত বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কবি প্রকাশনীর কাজ অনবদ্য।
August 16, 2025
"নই ঘোড়া,নই হাতী,নই সাপ-বিচ্ছু
মৌমাছি,প্রজাপতি নই আমি কিচ্ছু।
মাছ,ব্যাং গাছপালা জলমাটি ঢেউ নই,
নই জুতা,নই ছাতা আমি তবে কেউ নই।"
ননসেন্স রাইম,কিন্তু উপরের অংশটুকুন ভারী মনে লাগলো।
মৌমাছি,প্রজাপতি নই আমি কিচ্ছু।
মাছ,ব্যাং গাছপালা জলমাটি ঢেউ নই,
নই জুতা,নই ছাতা আমি তবে কেউ নই।"
ননসেন্স রাইম,কিন্তু উপরের অংশটুকুন ভারী মনে লাগলো।
May 1, 2018
রেটিংঃ ৪.৫/৫
খুব বেশি কিছু বলার নেই এই বই নিয়ে।প্রায় প্রত্যেকটা কবিতাই দারুণ।কিছু কবিতা অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি সাধারণ মনে হয়েছে।আমার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে- "ছায়াবাজি"
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পারো,
শুকলে পরে সর্দি কাশি থাকবে না আর কারো।
আমড়া গাছের নোংরা ছায়া কামড়ে যদি খায়,
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নাই তায়।
^_^
খুব বেশি কিছু বলার নেই এই বই নিয়ে।প্রায় প্রত্যেকটা কবিতাই দারুণ।কিছু কবিতা অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা বেশি সাধারণ মনে হয়েছে।আমার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে- "ছায়াবাজি"
নিমের ছায়া ঝিঙের ছায়া তিক্ত ছায়ার পাক,
যেই খাবে ভাই অঘোর ঘুমে ডাকবে তাহার নাক।
চাঁদের আলোয় পেঁপের ছায়া ধরতে যদি পারো,
শুকলে পরে সর্দি কাশি থাকবে না আর কারো।
আমড়া গাছের নোংরা ছায়া কামড়ে যদি খায়,
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে সন্দেহ নাই তায়।
^_^
January 6, 2015
এই অদ্বিতীয় বই-এর এই সংস্করণটিই আমি প্রথম পড়ি। এই সংস্করণের বিশেষত্ব হল এর অনবদ্য ইলাসট্রেশন, বড় আকারের ফন্ট, আর রঙিন চেহারা। ছড়াগুলো নিয়ে কি আর নতুন কিছু বলার আছে আদৌ?
April 29, 2018
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানী
খাসা তোর চ্যাঁচানী
শুনে শুনে আনমন্
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা গলা চাঁচা সুর
আহ্লাদে ভরপুর!
July 2, 2021
সুকুমার রায়ের বই মানেই তো এক টুকরো শান্তি।
"আবোল তাবোল" একেবারেই তো "আবোল তাবোল"। কিন্তু পড়তে এতো ভালো লাগে। আর অনেকখানি আনন্দ।❤️
"আবোল তাবোল" একেবারেই তো "আবোল তাবোল"। কিন্তু পড়তে এতো ভালো লাগে। আর অনেকখানি আনন্দ।❤️
April 17, 2024
It deserves a million stars!
July 17, 2025
এতো চমৎকার একটা বই! যাই বলি কম হয়ে যায়। সুকুমার রায় নিশ্চিত ছড়ার জাদুকর! ইলাস্ট্রেশন গুলা এতো মনোমুগ্ধকর! বইটা পড়ে অনেক হেসেছি..
July 19, 2022
পুরাই 'আবোল তাবোল'। কারেন্ট নাই। স্যাড খাইয়া বইসা আছি। কি মনে করে 'বইটই' থেকে 'আবোল তাবোল' পড়তে শুরু করলাম। আহা! পড়তে যে কি মজা। সারাক্ষণ হা-হা, খিক-খিক!!
ইশ! ইশশ!! পিচ্চিকালে পড়লে আরও কতই না হাসতাম!
শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে—
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে ?
মন্দ নয় সে পাত্র ভালো
রঙ যদিও বেজায় কালো ;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ;
বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই—
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় !
উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে
ঘায়েল হয়ে থামল শেষে ।
বিষয় আশয় ? গরীব বেজায়—
কষ্টে–সৃষ্টে দিন চলে যায় ।
মানুষ তো নয় ভাইগুলো তার—
একটা পাগল একটা গোঁয়ার ;
আরেকটি সে তৈরী ছেলে,
জাল করে নোট গেছেন জেলে ।
কনিষ্ঠটি তবলা বাজায়
যাত্রাদলে পাঁচ টাকা পায় ।
গঙ্গারাম তো কেবল ভোগে
পিলের জ্বর আর পাণ্ডু রোগে ।
কিন্তু তারা উচ্চ ঘর,
কংসরাজের বংশধর !
শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের
কি যেন হয় গঙ্গারামের ।—
যহোক, এবার পাত্র পেলে,
এমন কি আর মন্দ ছেলে ?
ইশ! ইশশ!! পিচ্চিকালে পড়লে আরও কতই না হাসতাম!
শুনতে পেলাম পোস্তা গিয়ে—
তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে ?
গঙ্গারামকে পাত্র পেলে ?
জানতে চাও সে কেমন ছেলে ?
মন্দ নয় সে পাত্র ভালো
রঙ যদিও বেজায় কালো ;
তার উপরে মুখের গঠন
অনেকটা ঠিক পেঁচার মতন ;
বিদ্যে বুদ্ধি ? বলছি মশাই—
ধন্যি ছেলের অধ্যবসায় !
উনিশটিবার ম্যাট্রিকে সে
ঘায়েল হয়ে থামল শেষে ।
বিষয় আশয় ? গরীব বেজায়—
কষ্টে–সৃষ্টে দিন চলে যায় ।
মানুষ তো নয় ভাইগুলো তার—
একটা পাগল একটা গোঁয়ার ;
আরেকটি সে তৈরী ছেলে,
জাল করে নোট গেছেন জেলে ।
কনিষ্ঠটি তবলা বাজায়
যাত্রাদলে পাঁচ টাকা পায় ।
গঙ্গারাম তো কেবল ভোগে
পিলের জ্বর আর পাণ্ডু রোগে ।
কিন্তু তারা উচ্চ ঘর,
কংসরাজের বংশধর !
শ্যাম লাহিড়ী বনগ্রামের
কি যেন হয় গঙ্গারামের ।—
যহোক, এবার পাত্র পেলে,
এমন কি আর মন্দ ছেলে ?
April 3, 2018
প্রথম কলকাতা যাই ২০০২ সালে। ক্লাস ২ তে পড়ি। মা বই দোকানে নিয়ে গেলো। একগাদা চাচা চৌধুরী আর পিংকি বগলদাবা করে আনলাম। এসে দেখলাম মা আরো একটা বই এনেছেন আবোল তাবোল। বইয়ের প্রথম পেজে লেখা ছিল
তোমার এখন সাত
তুমি আটে দিলে পা,
মাখো মায়ের মুখের ক্রিম
খাও বাবার সঙ্গে ডিম
আর আধ পেয়ালা চা।
মা চাকুরি করতেন তাই মাকে খুব কম সময় পেতাম। স্কুল বন্ধের দিন গুলোতে মায়ের পাশে শুয়ে "শুনেছিলাম পোস্তা গিয়ে..." আহা!
তোমার এখন সাত
তুমি আটে দিলে পা,
মাখো মায়ের মুখের ক্রিম
খাও বাবার সঙ্গে ডিম
আর আধ পেয়ালা চা।
মা চাকুরি করতেন তাই মাকে খুব কম সময় পেতাম। স্কুল বন্ধের দিন গুলোতে মায়ের পাশে শুয়ে "শুনেছিলাম পোস্তা গিয়ে..." আহা!
March 16, 2021
Singular favorite book of all time, all languages, all genres. The foundation to our collective imagination as a people, and the greatest humor and illustration EVER compiled in the annals of Bengali literature. My actual rating for this book is 10/5 stars. No translation can ever do justice to the original book.
April 27, 2010
an all time classic in bengali litrature. what makes it more interesting is the deep inner thoughts hidden in each verse. it is like old wine. aging has only made it better.
March 29, 2012
Brilliant! Creates a kind of fantansy which is incomparable in it's richness of emotions and sheer rythm. I can only say there will not be another Sukumar Ray.
April 9, 2013
Simply fantastic. A delightful read; not for the serious hearted.
A special shout out for the translator - great work that isn't lost in translation.
A special shout out for the translator - great work that isn't lost in translation.
August 6, 2024
This is a review of The translation by Sampurna Chatterji.
Unfortunately, Goodreads has messed up by considering each translation a "version" of the book. People are reviewing Sukumar Ray's original here!
For a more comprehensive idea of the English translations over the years,
Please see https://en.wikipedia.org/wiki/Abol_Tabol
The translation is quite fab!
I & my 13 year old daughter loved how Sampurna Chatterji has tried to maintain the original references, as well as rhymed, for example in "Kumdopotaash" - Pumpkin Grumpkin.
The portmanteaus & word-modifications for rhyming also add to the fun.
We also love the names given to the creatures created by the imagination of Sukumar Ray in pure Beaanglaa, in short, we had as much fun reading it, as the original - this is the review for the Abol Tabol Portion, we haven't read the Haw-jo-baw-ro-law & the rest of it yet.
We were looking for "Bombagoder raja", it was not there, but what is there is damn good!
Only, the 1st rhyme regarding the hybrid animals could have been left out, because, those referenced a sort of nonsense "sandhi" of the words like "hatimi" or "girgitiya", which are not working out in English.
Regardless, I am a fan!
Unfortunately, Goodreads has messed up by considering each translation a "version" of the book. People are reviewing Sukumar Ray's original here!
For a more comprehensive idea of the English translations over the years,
Please see https://en.wikipedia.org/wiki/Abol_Tabol
The translation is quite fab!
I & my 13 year old daughter loved how Sampurna Chatterji has tried to maintain the original references, as well as rhymed, for example in "Kumdopotaash" - Pumpkin Grumpkin.
The portmanteaus & word-modifications for rhyming also add to the fun.
We also love the names given to the creatures created by the imagination of Sukumar Ray in pure Beaanglaa, in short, we had as much fun reading it, as the original - this is the review for the Abol Tabol Portion, we haven't read the Haw-jo-baw-ro-law & the rest of it yet.
We were looking for "Bombagoder raja", it was not there, but what is there is damn good!
Only, the 1st rhyme regarding the hybrid animals could have been left out, because, those referenced a sort of nonsense "sandhi" of the words like "hatimi" or "girgitiya", which are not working out in English.
Regardless, I am a fan!
January 11, 2023
ননসেন্সিকাল জিনিসের প্রতি আমার কখনই তেমন একটা টান ছিল না তবে বাচ্চাকালে পড়লে হয়ত আরেকটু বেশি ভাল লাগত। কবিতাগুলোর মধ্যে একটা টাইমলেসনেস আছে। ১৯২৩ এর ১৯ সেপ্টেম্বরে আবোল-তাবল বই আকারে প্রকাশিত হয় । প্রায় ১০০ বছর আগে প্রকাশিত এবং লেখা আরও আগের হওয়া সত্ত্বেও পড়ে মনে হইসে যেন কেউ গতকাল কবিতাগুলা লেখসে। এই কবিতাগুলার এখানেই মাহাত্ব্য।
আবোল-তাবোলের কয়েকটা কবিতা বাচ্চাকালে পড়া হইসিল। এবার সবগুলা পড়লাম। সবগুলা সমান ভাবে এঞ্জয় করি নাই। বাচ্চাকালে পড়া কবিতাগুলা আবার পড়ে এক ধরণের নস্টালজিয়া কাজ করসে। 'ছায়াবাজি' আমাদের পাঠ্যবইয়ে ছিল।
নতুন পড়া কয়েকটা কবিতা আর কিছুর কবিতার লাইন মনে হাস্যরসের সঞ্চার না ঘটালেও কেন যেন জীবনবোধের তিক্ততার এক সরল রস দিয়েছে কৌতুকিও কবিতার ছলে।
'হাত গগণা' কবিতাটা তার মধ্যে একটা।
আবোল-তাবোলের কয়েকটা কবিতা বাচ্চাকালে পড়া হইসিল। এবার সবগুলা পড়লাম। সবগুলা সমান ভাবে এঞ্জয় করি নাই। বাচ্চাকালে পড়া কবিতাগুলা আবার পড়ে এক ধরণের নস্টালজিয়া কাজ করসে। 'ছায়াবাজি' আমাদের পাঠ্যবইয়ে ছিল।
নতুন পড়া কয়েকটা কবিতা আর কিছুর কবিতার লাইন মনে হাস্যরসের সঞ্চার না ঘটালেও কেন যেন জীবনবোধের তিক্ততার এক সরল রস দিয়েছে কৌতুকিও কবিতার ছলে।
'হাত গগণা' কবিতাটা তার মধ্যে একটা।
April 27, 2024
যে বয়সে অর্থ খুব বেশি গুরুত্ব রাখে না। সবকিছুকেই মনে হয় খেয়ালি। শৈশবের সেই সময়ের উপযোগী 'নন-সেন্স রাইমের' এই বই। শিশুদের জন্য লেখা হলেও সবার জন্যই সুখপাঠ্য এই বই। এই বইয়ের শব্দ, চিত্রকল্প এবং আইডিয়া সবকিছুই অসামান্য। এমন বই বারবার পড়া যায়। অনায়াসে।
আয়রে ভোলা খেয়াল‐খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর,
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন সুদূর।
আয় ক্ষ্যাপা‐মন ঘুচিয়ে বাঁধন
জাগিয়ে নাচন তাধিন্ ধিন্,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
নিয়মহারা হিসাবহীন।
আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল
মাতবি মাতাল রঙ্গেতে—
আয়রে তবে ভুলের ভবে
অসম্ভবের ছন্দেতে।
আয়রে ভোলা খেয়াল‐খোলা
স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।
আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে
নাইকো মানে নাইকো সুর,
আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায়
মন ভেসে যায় কোন সুদূর।
আয় ক্ষ্যাপা‐মন ঘুচিয়ে বাঁধন
জাগিয়ে নাচন তাধিন্ ধিন্,
আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া
নিয়মহারা হিসাবহীন।
আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল
মাতবি মাতাল রঙ্গেতে—
আয়রে তবে ভুলের ভবে
অসম্ভবের ছন্দেতে।
February 26, 2024
গ্রন্থটি পুরোপুরি বুঝতে একটি শিশুতোষ মন দরকার কিন্তু আমি এখন আর শিশু নই, যখন শিশু ছিলাম তখন পড়াও হইনি। ফলস্বরূপ পরিপূর্ণ মর্ম উদ্ধার ও আমার দারা সম্ভব হইনি। তবে গ্রন্থটি আমার জান্ত্রিক জীবনে কিছুটা হলেও সরলতা এনেছে। আবার নিজেকে শৈশব এ খুজে পেয়েছি, কিছুটা হলেও প্রশান্তি পেয়েছি। যদি বইটির কাব্যগুণ নিয়ে কথা বলি তবে সুকুমার রায় এর রচনা কে নিয়ে আর কি বলার। পরিশেষে যান্ত্রিক জীবনকে কিছুক্ষণ এর জন্য ভুলতে বইটি অতুলনীয়।
বি.দ্র. : এটি কোন কনভেনশোনাল বুক রিভিউয় নয়, বইটি পড়ে আমার অনুভুতি লিখলাম শুধু।
বি.দ্র. : এটি কোন কনভেনশোনাল বুক রিভিউয় নয়, বইটি পড়ে আমার অনুভুতি লিখলাম শুধু।
October 7, 2023
ছেলেবেলায় মা ছড়া শেখাতেন। আমার সেই থেকেই ছড়ার প্রতি অদ্ভুত ভালোবাসা ছিল। বড় হয়ে কবিতা পড়লাম, কবিতা আমার মনে সেভাবে কখনো জায়গা করে নিতে পারেনি। বড় হওয়ার পর আবোল তাবোলের টুকরো টুকরো ছড়া পড়লাম। জানলাম যে ছড়াগুলো শিখিয়ে মা ছড়ার রাজ্যে ঘুরতে নিয়ে যেতেন, সেগুলো সুকুমার রায়ের আবোলতাবোলই। পুরো বইটা পড়া হয়নি আগে। সম্প্রতি লীলা মজুমদারের পাকদনণ্ডী আর সানডেসাসপেন্স এর আবোলতাবোল স্পেশাল গল্পগুলো শুনতেই মনে হলো, আর না! এই তো সময় আবোলতাবোল পড়ে ফেলার!
December 17, 2017
These nonsense verseস no longer seems nonsense at all. The poem 'Khichudi' for instance, highlights the duality of human nature. The opposing tendencies in the fusion of ill matched animals seems to be a metaphor of drastically opposing tendencies in human beings, the combination of which give them a distinct characteristic. Sukumar Ray was a genius.
February 7, 2021
হাঁস ছিলো সজারু, ব্যাকরণ মানি না,
হয়ে গেল হাঁসজারু, কেমন এটা জানি না..
কিংবা,
রাম গরুড়ের ছানা, হাঁসতে তাদের মানা
হাসতে যদি বল তাদের,
বলবে হাসবো না হাসবো না...
অনেক পছন্দের কিছু কবিতা আছে এই বইতে। A bit of unconventional. হাঁসজারু, হাতিমি সহ অদ্ভুত কিছু প্রাণীর সৃষ্টি করেছেন সুকুমার রায় এই বইতে।
আর প্রায় সবার ছোটবেলায় শোনা কবিতা "বাবুরাম সাপুড়ে " তো আছেই৷
হয়ে গেল হাঁসজারু, কেমন এটা জানি না..
কিংবা,
রাম গরুড়ের ছানা, হাঁসতে তাদের মানা
হাসতে যদি বল তাদের,
বলবে হাসবো না হাসবো না...
অনেক পছন্দের কিছু কবিতা আছে এই বইতে। A bit of unconventional. হাঁসজারু, হাতিমি সহ অদ্ভুত কিছু প্রাণীর সৃষ্টি করেছেন সুকুমার রায় এই বইতে।
আর প্রায় সবার ছোটবেলায় শোনা কবিতা "বাবুরাম সাপুড়ে " তো আছেই৷
This entire review has been hidden because of spoilers.
December 13, 2023
স্কুলে থাকাকালীন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে উপহার পেয়েছিলাম এই বইটি। তখন ছোট ছিলাম, এসব ছড়া সাথে মজাদার ইলাস্ট্রেশন কি যে আনন্দ দিতো! যতবারই শেল্ফ গোছাতে যাই ততবারই এই বইটা রি-রিড হয়। এখনো সমান অনুভূতি। সুকুমার রায় কোন জাদুকর ছিলেন নিশ্চয়!
December 28, 2023
অসাধারণ ছড়ার বই। ছড়ার বই পড়তে ছেলেবেলা থেকেই খুব ভালো লাগে। সুকুমার রায়ের হচ্ছেন তার মধ্যে লিজেন্ড। "ঠিকানা" ছড়াটি খুব ভালো। তথাকথিত উচ্চবিলাসী শ্রম বিমুখ বাঙালির "বাবুরাম সাপুড়ে" আহ্লাদের চেয়েও আরো কেজো কথা আছে আবোল তাবোলে, তাই বইটি বনেদি বাড়ির বড়দের পড়া দরকার বেশি বেশি।
Displaying 1 - 30 of 68 reviews





























