Jump to ratings and reviews

মাইকেল ও বিদ্যাসাগর

ঊনবিংশ শতাব্দীর দুই উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক-মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। দুজনেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আলোকিত করে গেছেন। অথচ তাঁদের চরিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত প্রকৃতির।

বিদ্যাসাগর ছিলেন অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ মানুষ, অন্যদিকে মাইকেল নিজের বেপরোয়া উচ্ছৃঙ্খল জীবনের ব্যয়ভার বহন করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন, নিরুপায় হয়ে হাত পেতেছেন ঈশ্বরচন্দ্রের কাছে। বিদ্যাসাগরও অকৃপণ দরাজ হয়ে যতদিন পেরেছেন অকুণ্ঠ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এই দুই ভিন্ন চরিত্রের নক্ষত্রের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার কাহিনি-'মাইকেল ও বিদ্যাসাগর : দুই মেরুর দুই বন্ধু'।

232 pages, Hardcover

Published April 1, 2025

Loading...
Loading...

About the author

Raja Bhattacharjee

33 books12 followers

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (50%)
4 stars
3 (37%)
3 stars
1 (12%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 45 books1,949 followers
February 7, 2026
জীবনী নয়। প্রবন্ধ-সংকলন নয়। এমনকি সাহিত্যিক আলোচনাও নয়।
তাহলে এই বই ঠিক কী নিয়ে?
এর উপজীব্য হল দুই সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী মানুষের বন্ধুত্ব। তাঁরা ঊনবিংশ শতাব্দীর মানুষ হয়েও প্রতিভায় ও প্রভাবে শুধু সমাজ ও দেশকে নয়, সমকালকেও অতিক্রম করতে পেরেছিলেন। তাঁদের পরিণতি, আশা, আনন্দ, স্বপ্নভঙ্গ, আর পরিণতি ও তার আভাস নিয়েই লেখা হয়েছে এই আখ্যান।
এতে ঘটনার ঘনঘটা নেই। এই দুই মানুষের জীবনের কিছু মুহূর্ত, কয়েকটি পর্যায়, কয়েকটি প্রজ্জ্বলন ও নির্বাপন নিয়েই লেখা হয়েছে বইটি। বর্ণনায় কালেভদ্রে কিছু নাটকীয়তা থাকলেও লেখক তাকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য ভঙ্গিতে, এই দুই মানুষ (চরিত্র? প্রটাগনিস্ট? ট্র্যাজেডির নায়ক?) এবং তাঁদের পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মানানসই ভঙ্গিতে পরিবেশন করেছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে উঠেছে তাঁর ভারি নরম অথচ সতেজ ভঙ্গিতে বলা কথাগুলো— যাদের মধ্যে মিশে আছে একটা জাতির দীর্ঘশ্বাস।
পাঠ্য বই বলে নয়; বরং লুপ্ত হতে বসা বাংলা ভাষা ও বাঙালিয়ানার স্মৃতিকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যই না হয় পড়লেন এই সুমুদ্রিত বইটি।
Profile Image for রাজেশ  ভৌমিক .
11 reviews1 follower
May 9, 2025
গত তিনদিনে যতটুকু অবসর সময় পেয়েছি, গোগ্রাসে পড়েছি রাজা ভট্টাচার্যের মাইকেল ও বিদ্যাসাগর : দুই মেরুর দুই বন্ধু। লেখক বইটার কৈফিয়তে লিখেছেন যে ওটা লিখতে গিয়ে ওঁনার বুকে অনেকটা রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে বইটা পড়তে গিয়ে যেটা আমার হয়েছে, সেটা হলো প্রচুর প্রচুর অভিমান, খানিকটা চাপা রাগও। তবে এই রাগ হলো ভালবাসার রাগ, শ্রদ্ধার অভিমান। এই বইটা পড়ার আগে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন কাহিনী সম্পর্কে খুব একটা কিছু জানতাম না। তবে প্রাতঃস্মরণীয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জীবন সম্পর্কে যতটা জানি তাতে ওঁনার নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে আসে। তাই এমন একজন বিজ্ঞ, বিচক্ষণ এবং গুণী পুরুষ কী করে একজন অহংকারী, লোভী এবং মাতাল লোকের জন্য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিচ্ছিলেন সেখানেই আমার ব্যাথা! অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক এবং অখণ্ড ভারতের হবু মহাকবি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মধুসূদন দত্ত ছিলেন একজন পাশ্চাত্যের পূজারী। অন্যদিকে বিদ্যাসাগর মহাশয় ছিলেন একজন মহান সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত যাঁর শিরায় উপশিরায় বইছিল স্বদেশীয় চিন্তার স্রোত। হ্যাঁ, ঈশ্বরচন্দ্র মহান ছিলেন বলেই হয়তো সব জেনে বুঝেও মধুসূদনকে কখনও বিমুখ করেননি।

অপরিমিত ব্যয় এবং বেহিসেবী খরচের গায়ে বিলেতফেরত ব্যারিস্টারের সোনালী তকমা লাগিয়ে মিস্টার এম এম ডাট সাহেব যখন বাজারের সবচেয়ে দামি চুরুটের আনন্দ নিচ্ছিলেন, তখন তাঁর সেই চুরুটে ধরানো আগুনের সাকিন ছিলেন স্বয়ং করুণার সাগরই। কিন্তু আফসোস, যে সম্ভাবনার আগুন ঈশ্বরচন্দ্র মধুসূদনের ভেতরে খুঁজে পেয়েছিলেন তার হদিস মধুসূদন নিজেই কখনও পাননি বা হয়তো পেয়েও আগলে রাখতে পারেননি। এর জন্যই হয়তো কালের কলতানে মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম রয়ে গেছে একটা অসম্পূর্ণ সন্ধ্যারাগের মতো যার ছন্দে ছন্দে লেগে আছে বিষাদ, বিলাপ ও যন্ত্রণার সুর। অপরদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাম গুঞ্জিত হচ্ছে ভোরের রাগ ভৈরবের কল্লোলধ্বনির মতো যার কণায় কণায় অমৃতের উচ্ছ্বাস!

সহজ সরল ভাষার ডিঙ্গিতে চোখ ভাসিয়ে বিদ্যাসাগরের করুণার সাগর হয়ে ওঠার অভিযানের শেষে পৌঁছে প্রচণ্ডভাবে আহত হয়েছিলাম মধুসূদনের শেষ পরিণতি পড়ে। যাঁর কলমের আঁচড়ে ক্ষমতা ছিল সারাটা বঙ্গদেশ কাঁপিয়ে তোলার, তাঁর এই করুণ দশা? উফ্! সত্যিই নিয়তির কাঠগড়ায় বিলেত ফেরত ব্যারিস্টারের ওকালতিও অসহায়। এই বই থেকে প্রচুর শিখেছি। তবে যদি একটা উল্লেখনীয় শিক্ষার কথা বলি তবে বলবো কর্মফলের বিচার। সে আপনি যেই হোন না কেনো – উদীয়মান মহাকবি, জ্বলন্ত মহাতারকা কিংবা প্রতাপশালী নেতা; হিসেব মধুসূদন দত্তেরও হয়েছিল এবং হিসেব আমার-আপনারও হবে!

এসব ছাড়াও তৎকালীন বঙ্গদেশের অনেক অজানা তথ্য, বিদ্যাসাগরের সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা এবং তাঁর শেষ জীবনের কিঞ্চিৎ আভাসের সাথে চমৎকার লাগলো বইটি। হামেশার মতই পত্রভারতীর ঝকঝকে নির্ভুল হরফ এবং মার্জিত বাইন্ডিংয়ের সমাহারে সজ্জিত রাজা ভট্টাচার্য স্যারের কলম ও কালির শৃঙ্গার রসে পরিবেশিত বই "মাইকেল ও বিদ্যাসাগর" এক আকর্ষণীয় সৃষ্টি। আশা করি ভালো লাগবে, পড়ে ফেলুন দেখি চটজলদি! হ্যাপী রিডিং। 😊
***/*****

২৬ বৈশাখ, ১৪৩২
Displaying 1 - 2 of 2 reviews