What do you think?
Rate this book


104 pages, Hardcover
First published February 1, 1993
আপনি যদি পায়রাবন্দে বেড়াতে আসেন, তা হলে কিছুটা সময় হাতে নিয়ে আসবেন, মিশবেন মানুষের গভীরে, জানতে পারবেন এই গ্রামের অনেক স্ত্রীলোক অসচেতনতার অন্ধকারে এমনভাবে ডুবে আছে যে, তারা মুখের হা বড় করে না ভাতের গ্রাস মুখে তোলার সময়। ভাত চিবোয়না। তাদের ধারণা, হাঁ একটু বড় করে পূর্ণগ্রাস ভাত মুখে তুললে ‘সংসারের অকল্যাণ হবে’; বিয়ের রাতে স্বামীর পায়ের বুড়ো আঙুলধোয়া পানি পান করত অনেকে এই ক’বছর আগেও। এখন সে প্রথা নেই বটে, কিন্তু এ যুগেও অনেক স্ত্রীর বদ্ধমূল ধারণা, স্বামী মারপিট করলে তা মুখ বুজে সহ্য করতে হয়, কেননা মারপিট ধর্মসিদ্ধ ব্যাপার। কেউ কেউ আবার এমনও মনে করে যে, একজন স্বামী তার শরীরের যেসব স্থানে মারবে সেসব জায়গা রোজ কেয়ামতের পরে যাবে বেহেশতে।”
আমি তো নিজের ইচ্ছায় এ বিয়ে করেছি!
-তাই নাকি?
-হ্যাঁ, তা-ই। ...আমি এখন এই স্বামীর পদসেবা করব। এতে আমার সওয়াব হবে। তারপর কদিন বাদে বুড়ো মারা গেলে তার সম্পত্তির মালিক হব। তখন একটা যুবক ছেলেকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করব।"
তুমি কি জানো ঐ ছেলেটা, ঐ যে যার কোলে বসে আছ, সে তোমার কি হয়? চেনো ওকে?”
“সুরমা ফিক করে হাসল। বলল: চিনবোনা ক্যান? ও তো আমার ভাইয়া!
:ভাইয়া না স্বামী? জানো না ওর সাথে তোমার বিয়ে হয়েছে?
সুরমা তার ছোট্ট হাতের মুঠোয় একটা কিল পাকাল। আমার দিকে দূর থেকেই তা ছুঁড়ে দিয়ে বলল-দূর! কী যে আপনি অসভ্য কথা বলেন!"
