কি আবার একটা গল্প শুনতে চাচ্ছেন? তাহলে শুনুন, আপনাদের একটা গল্প বলার গল্পই বলছি আজ! কিছুদিন আগে ভীষণ ফাঁসা ফেঁসেছিলাম, আমার প্রাণের বন্ধু সুকুমারের ৬-৭ বছর বয়সী ছোটবোন নিমির খপ্পরে পড়ে। বেজায় দুরন্ত পিচ্চি, তাই নিজের ঘাড় বাঁচাতে একটা গল্প বলতেই হল।
কিন্তু পিচ্চির অনেক সমস্যা, সে স্থিরভাবে একটা গল্প শুনতে রাজি না। আমি টেনেটুনে যতোই গল্পটাকে শেষ করতে চাই সে ততই আমাকে গল্পের প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন করতে নির্দেশ দেয়। সুতরাং তার শর্ত শুনেই গল্প চলল। সেই গল্প কখনো জীব জন্তুকে নিয়ে, কখনো বা পুরো মাত্রায় ভৌতিক, কখনোবা ছদ্মবেশী সায়েন্স ফিকশান, আবার সেখান থেকেই সরাসরি রূপকথার অলীক জগৎ পাড়ি দিয়ে থ্রিলারের কঠিন ধারায় গিয়ে পড়ল। গল্পে উঠে এল পিশাচসিদ্ধ তান্ত্রিক, চলন্ত কঙ্কাল, মহাকাশযান, ভিনগ্রহী, রোবট, রাজকুমার, রাজকুমারী, রাক্ষস, ডাইনি, জাদুকর, তলোয়ার, আর্মস ডিলার, পুলিশ, আরও কত কি! গল্পে যুক্ত হল মন্ত্র, যুদ্ধ, জাদু, ষড়যন্ত্র, রোমাঞ্চ, আর অনুরোধের ঢেঁকি গিলে পরিবর্তন হওয়া অসংখ্য চমকপ্রদ দৃশ্যপট। আর তারই সাথে আছে নিমির শত শত ভুলভাল প্রশ্নকে পাশ কাটানোর জন্য অসংখ্য জোড়াতালি ব্যাখ্যা।
আসুন, তবে সঙ্গী হয়ে যান সেই গল্পের। বিভিন্ন গল্প ধারার সমন্নয়ে বেড়ে ওঠা পুরো মাত্রার মজাদার এই অ্যাডভেঞ্চার আষাঢ়ে গল্পটি আপনাদেরকেও নিমির মতই ভাসিয়ে নিয়ে যাবে পরিতৃপ্তির স্রোতে।
Passionate about writing. The prior stories and poems were published in several magazines throughout years. First book was published in 2013. The next book was also at the same year. Both were collaboration work with other writers in story collections.
First novel was published in 2014, in Bangladesh.
Currently working on several novels, in various genres.
প্রথমেই বলে নেই যে আমাকে কেউ জোর করে এই বই পড়ায় নাই কিংবা বইটা পড়ার জন্যে কেউ কোন প্রকার রিকুয়েস্ট ও করে নাই। নতুন লেখকের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই বইটা পড়া। তাই বই পড়ে খারাপ লাগা বা ভাল লাগার পুরো দায়িত্ব ই আমার :) (আর কিছুটা লেখকের ) । তো বইটা শেষ। কেমন লাগল?? হুম, আসলে মিক্সড ফিলিংস হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গা আছে খুবই ইন্টেরেস্টিং লেগেছে আবার কিছু কিছু জায়গা আছে একদম বিরক্তি লেগেছে। তবে ভালো লাগার পরিমাণটাই কিঞ্চিত বেশী। বইটা আসলে সবকিছুর মিক্সড। রূপকথা, সাইন্স ফিকশন, থ্রিলার, একশন সব এলিমেন্ট ই বিদ্যমান!! শুরুটা একদম নরমাল এক তেলাপোকা কে দিয়ে ,এরপর একটু বুঝে উঠতে না উঠতেই গল্প মোড় নিল সাইন্স ফিকশন এর দিকে। প্রথমদিকে এইরকম কতগুলা মোড় নিতে দেখে একটু একঘেয়েমি লাগতে শুরু হয়েছিল - কিন্তু রূপকথার অংশ টুকতে আসতে না আসতেই গল্প জমে গেল। রূপকথার পুরো অংশ টুকুই এককথায় অসাধারণ। কিন্তু আমার আপত্তি এরপর থ্রিলার টুকু নিয়ে। না মানে একটু বেশী বেশী ই হয়ে গেছে আর কি এখানে :p অবশ্য বই এর নাম ও মাথায় রাখতে হবে (আষাঢ়ে গল্প) । তবে আগাগোড়া একটা রূপকথার বই ই বলা চলে। মোটেও সিরিয়াস কোন বই না। যারা খুবই সিরিয়াস ধরণের পাঠক তাদের না পড়াই শ্রেয়। আর একটা জিনিস -- আমি যদিও কোন লেখক না -জীবনে কিছুই লিখি নাই, তবুও একটা কথা বলতে চাই যে ওয়ার্ড চুজিং এর দিকে আরো একটু খেয়াল দিলে বোধহয় ভালো হত। কিছু সিচুয়েশন এ ওরকম গুরুগম্ভীর ভাষা একটু শ্রুতিকটুই শোনায়। তবে লেখকের প্রথম বই হিসেবে এটা অবশ্যই ছাড় দেয়া যায়। হাতে সময় থাকলে, কিংবা গুরুগম্ভীর দুটা বই এর মাঝে হালকা কিছু পড়তে চাইলে হাতে তুলে নিতে পারেন বইটা। ভালোই লাগবে।
অসংখ্য লুপহোল এবং ঘন ঘন প্লট পরিবর্তনের খানিকটা বিরক্তিকর জায়গা বাদে পুরোটুকু বেশ ভাল লেগেছে। রূপকথার পুরো অংশটুকু একেবারে ফার্স্টক্লাস এবং টুইস্টের কারসাজিগুলো বেশ জম্পেশ। শুধু চরিত্র অংকনে খানিকটা অপটুতা দেখা যায়। তবে অভারঅল শিশুদের বই হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে।
প্রান্ত ঘোষ দস্তিদার যে ভালো গল্প বলিয়ে, এটা আমি বুঝতে পারি উনার লাইভগুলো দেখে আর পরবর্তীতে আড্ডা দিয়ে । ভদ্রলোক যে ভালো পড়াশোনা করেন, সেটা তার কথায় কথায় রেফারেন্সগুলো শুনলেও বোঝা যায় । এই বইটি লেখকের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস । সাধারণত তরুণ লেখকেরা প্রথম বই হিসেবে প্রেম, থ্রিলার বা সমকালীন কোন ইস্যু বেছে নেন, প্রান্তদা লিখেছিলেন বাচ্চাদের কথা ভেবে । বিদেশের মাটিতে এই বইটি লেখা তাকে কতোখানি শক্তি দিয়েছিল, সেই সম্পর্কেও কথা বলেছেন ভূমিকায় । বইয়ের মূল চরিত্র নিমি নামের একটা বাচ্চা, যে কিনা লেখকের বন্ধুর বোন ৷ সেই বাচ্চাকে লেখক শোনান নানান রকমের ফরমায়েশি গল্প । কখনো জীবজন্ত, কখনো সায়েন্স ফিকশন বা থ্রিলার বা রুপকথা ৷ একটা মধ্যে অনেকগুলো জনরার অনেকগুলো সাবপ্লট ছিলো, তবে সুতো জড়িয়ে ছিল প্রত্যেকটা গল্পেই । নিমিকে বাচ্চাসুলভ তর্কে হারিয়ে দিয়ে লাস্টের এন্ডিংটা খুব মজার ছিলো! বইয়ের নামকরণের সার্থকতা একদম ঠিকঠাক ৷ এছাড়া একটা বোনাস গল্প আছে, "কারসাজি" নাম ৷ সেটা একটা রুপকথার গল্প, বাচ্চাদের ভালো লাগবে আশা করি ৷ বর্তমানে লেখক কাজ করছেন ফ্যান্টাসি এবং ওয়েস্টার্ন ধাঁচের লেখা নিয়ে । বাকি বইগুলোও আস্তে আস্তে পড়বো, রিভিউ দেবো । সেই সাথে অপেক্ষায় থাকবো লেখকের পরবর্তী বইগুলোর জন্যে ৷
প্রথম উপন্যাস হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার লেখকের এই বই। যদিও অনেক ব্যাকরণীয় ভুল্ভাল আছে, তবুও গল্প বলার সাবলীলতার গুণে তা মাফ করে দেওয়া যায়। লেখকের নিজের উক্তি দিয়েই বলতে হয়, তিনি আসলেই অত্যন্ত সজ্জন এবং প্রতিভাবান লেখক। বইয়ের নাম যেহেতু আষাঢ়ে গল্প সুতরাং এখানে যুক্তি খুঁজতে যাওয়াটা নেহাত আতলামি বই আর কিছু নয়। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী এটা পুরাপুরি খাঁটি একশত ভাগ বস্তুবাচক চাপা মার্কা বই। এছাড়াও আমরা গল্পের মাঝখানে দেখতে পাই যে লেখক তার সীমাবদ্ধতা সম্বন্ধে অবগত। সে অবলীলায় স্বীকার করে নিয়েছে যে, সে তো আর জে কে রাওলিং নয়, যে একদম ফাঁকফোকর বিহীন উপন্যাস লিখে ফেলবে। গল্পে সামান্য ফুটো না থাকলে বাতাস বয়ে অক্সিজেন কেমন করে আসবে। তবে আমার মতে এই গল্পে যে পরিমাণ ফুটো আছে তাতে করে আইলা, মহাসেন, রোয়ানু অবলীলায় যাতায়াত করতে পারবে। তথাপি, বইখানা লেখক মহাশয়ের কাছ থেকে উপহার স্বরূপ পাওয়ার পরেও শেষ করতে এত দেরী হল বলে আমি যারপরাণায় মর্মাহত। তবে আমার কাছে মূল গল্পের সমাপ্তির থেকে , বোনাস গল্প কারসাজির সমাপ্তি খানা মনঃপূতকর বলে মনে হয়েছে। জাদুকর বিশ্বব্যোমকে নিয়ে ভবিষ্যতে জম্পেশ একটা সিরিজ আশা করছি।