যে শহরকে ঘিরে অনেক আশা ও স্বপ্ন ছিল আশার, অবশেষে সেখানেই আসতে হলো তাকে। সময়ের কামড় আর অসময়ের কীট গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্বপ্ন। জীবনের গল্প থেমে থাকবে না, মানুষের গল্প কোনো একভাবে শেষ হবেই। তাই স্বপ্নের দাবি আশাকে টেনে এনেছে দূরে চলে যাওয়া স্বপ্নপুরুষের ঘরে! সিরাজুল ইসলামের ‘সুগন্ধী’র দশটি গল্প, গল্পজগৎ নির্মাণ করে দিতে পারে পাঠকের মনে। মানুষের মনোজগতের বর্ণনা ও সংলাপের ভিন্নতা, কাহিনি ও বিষয়ে এক-একটি গল্প পৃথক ও সম্পূর্ণ। নগর জীবনের এমন নিপুণ গল্প পাঠককে মুগ্ধ করতেই পারে।
অগ্রজ লেখকের গল্পগ্রন্থ। একে অগ্রজ, দ্বিতীয়ত ইঞ্জিনিয়ার। তার উপন্যাস একটা পিডিএফে পড়ছিলাম, প্রিভিউ কপি বলা যায়। তবে সিরাজুল ইসলাম পাঠে আগ্রহী করছিল তার ছোটগল্প। দৈনিকের সাহিত্য পাতায় একটা গল্প পড়ে মনে হইছিল, হি পুটস সাম ইনার মিনিং বিটুইন হিজ লাইনস।
'সুগন্ধী' দশটা গল্পের সংকলন। এর মধ্যে প্রথম তথা নাম গল্পটা সাদামাটা হলেও মনে দাগ কাটে। 'মেঘবেলা'র নিম্ন মধ্যবিত্ত, শহরে ঠোক্কর খাওয়া দম্পতির গল্পটা কোয়াইট রিলেটেবল। এই গল্প থেকে টিভি নাটক করা সম্ভব। 'পুরুষ' সেখানে টক্সিক, ঈর্ষাকারতর পুরুষের চিরায়ত উপস্থাপন। 'জনম' সেখানে মমতার, হারানোর, মনের গহীন অভাবের বয়ান।
সিরাজুল ইসলামের গদ্য তার নিজস্ব। ছোটগল্পে তার গদ্য টানটান। ঝুলর পড়ে নাই, অন্তত এই গল্পগুলোয়। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে পড়ার মতো কাজ। গল্পগুলো মনে রাখার মতো। যে নামগুলো উল্লেখ করলাম, মা বাদেও 'জলজ', 'চরৈবেতি' ও 'নাগরদোলা'ও ভালো লাগার।
সিরাজুল ইসলামের গদ্যকে কী বলব, ব্রেভ? নন লিনিয়ার? কিংকর্তব্যবিমূঢ়? কারণ, প্রায় প্রতিটা গল্পেই কোনো রাখঢাক না রেখে লেখক যা লিখতে চেয়েছেন, তা-ই লিখেছেন। পড়তে অস্বস্তি হয়, আবার আগ্রহও কাটানো যায় না। ফেসবুকে কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, তার গল্প আশ্চর্য করে, আঘাতও করে। গল্পগ্রন্থ পড়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়াটা কিছুটা অপ্রতুল ব্যাপার, কিন্তু এই ছোটো বইটার গল্পগুলো পাঠককে সন্তুষ্ট করে ফেলতে পারে অনায়াসে। সোজাসাপটা কথোপকথনগুলো প্রত্যেকটা গল্পের প্রধান অস্ত্র এখানে। এটুকু লিখে রাখলাম। পরে আবার কখনো কিছু মনে হলে এডিট করে লিখব, যেহেতু মাথার ভেতর কয়েকদিন ঘুরপাক খাবে এগুলো।