বাংলা ভাষায় মৌলিক ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার!
ট্রেনে প্রায় পুরোটা পড়েছি, শেষ ৪৫ পৃষ্ঠা এখন পড়লাম। আটঘাট বেঁধে রিভিউ লেখার ইচ্ছা থাকলেও এখন সেটা সম্ভব না, অন্যকোনোদিন। অল্পকথায়, সাম্ভ���লার জন্য ছুটে চলেছে এক পথিক, যার জন্ম জানা নেই, মৃত্যু অনিশ্চিত। কে সে? হোরাস? নেবুলাস? মার্কাস ডাসিডিসিয়াস? সেইন্ট দ্য জারমেইন? মুগওয়া? জারমোনি? মানুষ হিসেবে তাকে সংজ্ঞায়িত করাটা বোকামী, মানুষের মতোই কিন্তু মানুষ না! না-মানুষ হয়ে সে বেঁচে থাকবে পৃথিবীর আলো বাতাসে, যেভাবে সে বেঁচে এসেছে ইতিহাসে, সেভাবেই খুঁজে যাবে সাম্ভালা- এক রহস্য।
সে দেখে এসেছে কুইন অব শেবা থেকে শুরু করে জুলিয়াস সিজারের মৃত্যু-নেপোলিয়ানের উত্থান হয়ে সিপাহি বিপ্লব পর্যন্ত, সাক্ষাৎ করেছে তিব্বতের শেরবানদের সাথে। সাক্ষী হয়েছে মানবজাতির ইতিহাসের, যেটা আসলে শুধুই বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। মায়ায় না জড়ানো না-মানুষও একদিন থিতু হয়ে গিয়েছে, সংসার করেছে। কিন্তু সংসারে কি যাযাবরের মন বসে?!
অতীত এসে মিশেছে বর্তমানে। খুন হয়ে গেছে অনেকগুলো, দৃশ্যপটে এসেছে পাগলাটে মানুষজন, যারা লুসিফার কিংবা শয়তানের উপাসনা করে হয়ে গেছে অমানুষ। এলিক্সার অফ লাইফ কিংবা অমৃতের সাথে এসে মিশেছে বর্তমানের স্রোত, ইতিহাস এর সাথে বর্তমান এক হয়ে গিয়েছে, ঢাকার জ্যাম ঠেলে পৌছে গিয়েছে মিশর, স্পেন, গ্রীস, তিব্বত, ভারত সবখানে। সবখানে তার ছাপ উপস্থিত, পাঠক হিসেবে আপনিও ছাপ রেখে আসতে পারেন, জড়িয়ে যেতে পারেন ভাবালুতায়।
পড়তে পড়তে এই সহস্রাব্দ প্রাচীন পথিকের সাথে হারিয়ে যেতে পারেন, ইচ্ছে হতে পারে সাম্ভালা কি জানার!
আসলেই, সাম্ভালা কি? এই শব্দের অর্থ জানতে হলে পড়ে ফেলুন বইটার অর্ধেক, আর অর্ধেক পড়ে ফেললে আপনি আর বইটা হাত থেকে নাও র���খতে পারেন! কারণ ততোক্ষণে কাহিনী জমে গেছে!
জেনে ফেলুন তাহলে, আমি ততোক্ষণে দ্বিতীয় যাত্রা শুরু করার তোড়জোড় করি!
আর হ্যাঁ, এটা একটা ট্রিলজি। ট্রিলজি শেষ না করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না আর কি! ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার জন্রা যদি আপনার পছন্দ হয়, তবে তিনটে একসাথে নিয়েই বসিয়েন। নইলে যাত্রার মাঝপথে থেমে যেতে হবে, ভাতটা ঠিক হজম হবে না!
প্লট দুর্দান্ত। রেসিপি ফলো করে কোনো ড্যান ব্রাউনের মতো গুপ্তসংঘ কে টানেননি লেখক, যাদের লক্ষ্য পৃথিবীকে সত্য জানানো। বরঙ, এটা একজন পরিব্রাজকের অ্যাডভেঞ্চার, যে জানতে চায় সাম্ভালা কি, জানতে চায় সাম্ভালার খোঁজ। বাতিঘরের প্রুফ রিডিং বাদ দিলে, বইটাতে প্রায় কোনো খুঁত নেই। থৃলার হিসেবে কোনো গালাগালি নেই। শরীফুল হাসান গড়গড় করে বলে গেছেন কাহিনী। পুরোটাই টানটান এক ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার!
সব মিলিয়ে পার্সোনাল রেটিং ৪.৫।
শুভ যাত্রা! 😃