গুপ্তচরবৃত্তি বড় সহজ কাজ নয়। একজন দারুণ গুপ্তচর আসলে একজন চোরও বটে৷ নিরলসভাবে নিজের কাজ করে যেতে হয় দেশের জন্য। গুপ্তচর তো রাজনীতিতে বরাবরই ছিল। সময় আর আগের মত নেই। আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল ছিল। মোবাইল ফোন ছিল না। ডিজিটাল আইডেন্টিফিকেশন, সিসিটিভি, ড্রোন ছিল না। এই সময়ে প্রতিটা দেশই তার প্রতিরক্ষাকে ঢেলে সাজাচ্ছে আধুনিকতম প্রযুক্তির সাহায্যে। ব্লু ফ্লাওয়ার ৪ একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারতে বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পাকিস্তান সেখানে প্রতিমুহূর্তে তাদের রাজনৈতিক খেলা খেলে যাচ্ছে। পাকিস্তানেই বা সায়ক বড়াল কী করছে? এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিয়েই হাজির হয়েছে ব্লু ফ্লাওয়ারের এই পর্বটি...
মফস্বল শহর অশোকনগরে বেড়ে ওঠা। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে। ছোটবেলা থেকেই পড়ার বইয়ের পাশাপাশি গল্পের বইয়ের নেশা ছিল। লেখার নেশা জাঁকিয়ে বসে কলেজে পড়াকালীন৷ ওই সময়েই "আদরের নৌকা" লিটল ম্যাগ প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে প্রবেশ। প্রথম বই ২০০৮ সালের বইমেলাতে প্রকাশিত হয় , "এক কুড়ি গল্প"। পরবর্তী কালে অফিস থেকে ফিরে ফেসবুকে লিখতে বসা এবং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাওয়া।
গান গাইবার পাশাপাশি ঘুরতে, ফটোগ্রাফি করতে ভালবাসেন লেখক।
ব্লু ফ্লাওয়ার ১,২,৩ পড়েছিলাম ২০২১ সালে। একটাই বই ছিলো তখন আদরের নৌকার। তারপরে এই ২০২৫ সালে এসে ব্লু ফ্লাওয়ার ৪ পড়লাম। বেশ ভালোই থ্রিলিং। তবে কোথায় যেন ব্লু ফ্লাওয়ার ১,২,৩-এর থেকে একটু ফিকে লাগলো। তবে অভীক দত্ত স্পাই থ্রিলার লেখায় সিদ্ধহস্ত এটা বলতেই হয়। লেখকের আরও বেশ কিছু স্পাই থ্রিলার সংগ্রহে আছে। ধীরে ধীরে সেগুলিও পড়ার ইচ্ছা রইলো।
আগেরগুলোর মতোই টানটান লেখা। এবারে কাহিনী বাংলাদেশে অনেক বেশি বিস্তারিত। মধ্যে মধ্যে পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তিও রয়েছে। তবে আগের থেকে একটু বেশি ফিকে লাগলো এই উপন্যাস। বরং বারবারই যেন মনে হচ্ছে আগের বইতে যা লেখা হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি চলছে। ভবিষ্যতে সিরিজ কন্টিনিউ হলে আরো বেশি করে নতুনত্ব ভাবনা আনতে হবে লেখককে।
“ব্লু ফ্লাওয়ার ৩”/ পর্ব ৪-এর কাহিনী সেখান থেকে শুরু হচ্ছে যেখানে পূর্বের “ব্লু ফ্লাওয়ার ২”/পরবর্তী ৩-এর কাহিনী শেষ হয়েছিল। এই কাহিনীতেও ভারত-পাকিস্তান সংক্রান্ত নানা ষড়যন্ত্র, কুচক্র, মতবিরোধের মতো বিষয় উঠে এসেছে, বাদ যায়নি বাংলাদেশও। বাংলাদেশের মাধ্যমিক ভাবে যে ভারতে পাকিস্তানী পাই, জঙ্গি গুলোকে ব্রেন ওয়াশ করে পাঠানো হয় তার ভয়াবহতা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন লেখক। বোম্বাইতে আশ্রম চালাচ্ছেন ধর্মগুরু এক বাবা, নাম দয়াসাগর। তার খোঁজে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন অফিসার তরুণ ও বিজয়। আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি তাদের। দয়াসাগর কে? তিনি কি আদেও ভারতীয়? পাকিস্তানের সঙ্গে তার কোন সংযোগ নেই তো?
বাংলাদেশে অপারেট করতে আশরাফ খান ও মাথুরকে পাঠিয়েছেন তুষার রঙ্গনাথন, উদ্দেশ্য রফিক নামের দুষ্কৃতীকে নিজেদের রাডারে রাখা। হানিট্র্যাপ করার প্ল্যান চলে, উঠে আসে রুকসারের নাম। রুকসার নাকি সুমাইমা কোনটা আসল পরিচয়?
সায়ক বড়ালের কাছে পাঠানো হয়েছে বীরেনকে। সায়কের কাছে থাকলে নাকি বীরেন অনেক কিছু শিখতে পারবে। কিন্তু ইসলামাবাদ তো যেই সেই জায়গা নয়! এ তো পাকিস্তান! দুশমনের দেশ! কি হবে তারপর?
🌻 মুগ্ধ করা অনুভূতি:- চরম থেকে চরমতর উৎসাহী হতে হবে এই সিরিজটিকে শুরু করলে। উত্তেজনার পারদ যেন পাতার পর পাতা অতিক্রমের পরে আরও বাড়তেই থাকে। যেভাবে প্রত্যেকটা পর্বের মধ্যে আলাদা আলাদা চ্যাপ্টারকে ইনক্লুড করা হয়েছে সত্যি প্রশংসনীয়। "External Terrorism", "Propaganda Terrorism"কে আলাদা জান- প্রাণ দেওয়া হয়েছে, যেটা গল্পের ক্ষেত্রে বাড়তি রোমাঞ্চের উদ্রেক করে। যারা "ধুরন্ধর" দেখেছেন, এটা নিশ্চয়ই দৃষ্টিগোচরে হয়েছে "বিস্ট মোড","জ্বিন","কিং অফ ল্যারি"এরকম কতগুলি পর্বে পর্বে বিভক্ত ছিল ছবিটির দুটি ভাগই। সেরকম এখানেও চ্যাপ্টার গুলিকে সেপারেট ইন্সিডেন্টের মধ্যে পরিক্রমা করানো হয়েছে। এই সিরিজ পড়ুন, স্পাই সিরিজ কাকে বলে বুঝে যাবেন আশা করি। বই যেমন সুন্দর, এমনই গল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে প্রচ্ছদটি। সুন্দর প্রচ্ছদ করেছেন অর্ক চক্রবর্তী , ভেতরের অলংকরণগুলিও তারই করা, প্রথম খন্ড এবং দ্বিতীয় খন্ডের থেকেও তৃতীয় খন্ডের প্রচ্ছদ আমার সবথেকে বেশি মন ছুঁয়েছে এবং অলংকরণগুলিও সেরার সেরা✨🤍।
সায়ক বড়ালের মানিব্যাগ পাওয়া থেকে পাকিস্তানে সায়ক বড়ালের সাথে একসাথে একটা মিশনে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা ...... এভাবেই শেষ হল ব্লু ফ্লাওয়ার। শত্রুদেশ কিভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের দেশকে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে সেটার আরও একটা অধ্যায় সমাপ্ত হল। পাকিস্তানে সায়ক বড়াল কী করছে? এ প্রশ্নের উত্তর নিয়েই হাজির হয়েছে ব্লু ফ্লাওয়ারের এই পর্বটি, সেই সাথে ধর্মের আড়ালে আতঙ্কবাদীরা কীভাবে মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একটু একটু করে ভারতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেই গল্পই বলছে ব্লু ফ্লাওয়ার ৪। ৪র্থ পর্বের ঘটনা একই সঙ্গে বাংলাদেশ এবং ভারতে বিস্তৃত হয়েছে। অপারেশন ব্লু ফ্লাওয়ার যে শেষ হয়ে যায়নি এবং শেষ অব্দি কি হল সেটা জানার জন্য পড়তে হবে এই বইটি।
ব্লু ফ্লাওয়ার ৩ আগের পর্বগুলোর মতো একই রকম টানটান লাগলেও ৪ অতটা ভালো লাগেনি, যেন শেষে এসে একটু মিইয়ে গেছে। এবার বীরেন কীভাবে সায়কের সাথে শত্রুদেশে টিকে থাকতে পারে তা জানা যাবে স্পাই ইউনিভার্সের পরবর্তী পর্বে।