Premendra Mitra (Bangla: প্রেমেন্দ্র মিত্র) was a renowned Bengali poet, novelist, short story writer and film director. He was also an author of Bengali science fiction and thrillers.
His short stories were well-structured and innovative, and encompassed the diverse to the divergent in urban Indian society. The themes of poverty, degradation, caste, the intermittent conflict between religion and rationality and themes of the rural-urban divide are a thematically occurring refrain in much of his work. He experimented with the stylistic nuances of Bengali prose and tried to offer alternative linguistic parameters to the high-class elite prosaic Bengali language. It was basically an effort to make the Bengali literature free from softness, excessive romance and use of old style of writing which were prevalent in older writings.
অন্ধকারে শেয়ালের চোখ দেখে যদি আপনি ভয় পান, যদি ভয়ে আপনার জ্বর এসে যায়, যদি ডাক্তার আপনার চিকিৎসার জন্য হাওয়া বদলকেই শেষ পন্থা হিসেবে বেছে নেয় তবে আপনি হয়তো পুন্নামের পথে যাবেন, যেতে যেতে দেখবেন আপনি সুস্থ হয়ে উঠছেন অনেক কুটিলতা নিয়ে আর স্বচ্ছ জলের মতো আপনার বন্ধু হয়ে পড়ছে অসুস্থ... ঠিক যেন মোগল পিতা-পুত্রের গল্পের মতো। এই গল্প আপনাকে হয়তো অস্বস্তিতে ফেলবে, হয়তো আপনি নিজেকে আবিষ্কার করবেন একটি অতি প্রাচীন ভাঙা জমিদার বাড়িতে, হয়তো ঐ বাড়ির উঠোনে হেসে বেড়ায় একজন রহস্যময়ী নারী, হয়তো ঐ বাড়ির অভিশাপ আপনাকে ঝড়ের রাতে ফেলে দিতে চাইবে গভীর জলে, হয়তো আপনার সৌভাগ্য বাঁচিয়ে রাখবে আপনাকে। তবে চিরদিনের ইতিহাস এভাবে বদলায় না, সংসার সীমান্তে বেদনার সাথে পুনর্মিলন হয় বারবার। তখন আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন মহানগরে। এভাবে হারাতে হারাতে বুঝে ফেলবেন, মানুষ আসলে কখনওই হারাতে পারে না... আপনি তাই হারিয়ে যাওয়া কোন পতিতাকে হয়তো বলবেন, প্রত্যাবর্তনের মাঝে কোন লজ্জা নেই, আছে স্বস্তি। কেউ আপনার কথা বিশ্বাস না করলে আপনি ঘনাদাকে উদাহরণ হিসেবে সবার সামনে আনবেন, আপনি বলবেন ঘনাদা বলেছিল রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন। মেয়ের কথা মনে পড়তেই আপনার হয়তো মনে পড়বে রসুইঘরের কথা। রসুইঘর মানেই পুরাতন স্টোভ। পুরাতন স্টোভ মানে বাস্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনার মধ্যে বসে আপনি স্টোভে পাম্প করতে থাকবেন এবং মনে মনে স্মরণ করবেন তেলেনাপোতা আবিষ্কারের স্মৃতি। এই পুরো যাত্রায় আপনাকে সঙ্গ দেখে অপূর্ব ভাষা, চমৎকার ডিটেলিং, দুর্দান্ত স্টোরি টেলিং এবং যাত্রা শেষে আপনার মনে হবে, আহা এমন গল্প পড়ার মতো আনন্দ আর কিছুতেই নাই!
পুরানো বইয়ের দোকান থেকে একগাদা বই কিনতে গিয়ে এমনেই এই বইটা কিনে ফেলেছিলাম। স্রেফ কৌতুহলবশত কেনা। কিন্তু পড়ার কোনো আগ্রহই পাই নি। লঞ্চে যাচ্ছিলাম। বরিশাল থেকে ঢাকা। ডেকে। ডেকের পরিবেশ এমনিতেই ঘোরজাগানিয়া। তার মাঝেই এটা পড়া শুরু করলাম এবং যেমনটা অনুভূত হলো তাকে বলে "বিহ্বল হয়ে যাওয়া"। গল্প তো এমনই হওয়া উচিত, না?
ঘনাদার লিজেন্ডের কারণে প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছোট গল্প নিয়ে কথাই হয় না। অথচ মহানগর/ তেলানাপোতা আবিষ্কারের মতো গল্প না পড়ে আমরা ছোট গল্প নিয়ে কথা বলি কী করে? বইটা আমার সেলফের কাছেই থাকে।
গল্পগুলো আবার মনে করিয়ে দিল যে এই পৃথিবীতে মানুষের জন্ম আদৌ সুখী হবার জন্য হয় নি । পৃথিবীটা সুখী হবার জায়গা নয় । এমন এক অসুখী পৃথিবীর ছবি চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠলেও প্রেমেন্দ্র মিত্রের গদ্যমেজাজ আর গল্প বলার ধরণে মুগ্ধ হতে হয় । ভাবাবেগের প্রাবল্য নেই । নেই ভাবালুতার স্থান । গল্পে গল্পে উঠে এছে বাংলার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অস্তিত্বের সংকট । প্রেমেদ্র মিত্র তার নিজের শহর কলকাতার ভিতর দিয়ে শুধু কলকাতার নয় বরং সকল শহুরে মানুষের জীবনের ভগ্নদশার চেহারাই এঁকেছেন । মানুষের জীবনের ব্যাথা-বেদনা, অর্থনৈতিক কাঠামোর ছায়া গল্পগুলোর শরীর জুড়ে ছড়িয়ে আছে । গল্প গুলো ভীষণ বাস্তব । অন্ধকার- বাস্তব । নানা কম্পাঙ্কের হাহাকার ।
আবার মনে হয় এরা ঠিক বাস্তব নয়, কারো স্মৃতি নয়, স্বপ্নও নয় । কিছু গল্পে সুররিয়াল মেঘ জড়ো হয়েছে । তবে সব গুলো গল্পেই কোথাও যেন অ্যাবসার্ডিটির হালকা রেশ অনুভব করা যায় । মানবতাকে ঠিক কোন গল্পেই জিততে দেন নি । বাস্তবে ঠিক এমনটাই যে হয় । এমনটাই যে দেখে আসছি । তবে " সাগরসংগম" গল্পে হাহাকারের পর শেষ পর্যন্ত মানবতাই যেন জিতে গেছে বলে মনে হয় ।
বাস্তবতার এত রুপ দেখিয়েও প্রেমেন্দ্র মিত্র কিন্তু অদ্ভুতভাবে অতিবাস্তববাদীদের বিপরীত সুরকেও তুলে এনেছেন । বাস্তববাদীরা যাদের পলাতক বলে আখ্যা দেয় তাদেরই এক প্রতিনিধি "ময়ূরাক্ষী" গল্পের ল্যাংড়া সাহেব বা ডোমিনীরাজ বা পতঞ্জলি রায় তীব্র বাস্তববাদীদের অহংকার এবং আভিজাত্যকেই লক্ষ্য করে যেন বলেন, “জীবনের কদর্যতা কলঙ্ককেই এক মাত্র সত্য বলে মানতে যে নারাজ সেই আপনাদের কাছে "পলাতক" । জীবনের উলঙ্গ কুৎসিত বাস্তবতার মাঝেও সৌন্দর্যের স্বপ্ন দেখবার সাহস যার আছে সে শুধু অক্ষম কল্পনাবিলাসী ।” ... “মানুষ একদিন আশ্চর্য সব রূপকথা তৈরি করেছে । সে কি শুধুই মিথ্যার মৌতাতে বুঁদ হয়ে, যা বাস্তব তাকে ভুলিয়ে দেবার ও ভুলে থাকবার জন্যে? সে রূপকথার মধ্যে সেই দুঃসাহসী আশার বর্তিকা কি নেই, বিকৃত বর্তমানকে অবজ্ঞা ভরে বিদ্রূপ ক'রে ভবিষ্যতের সঙ্কেত যা বহন করে! জীবনকে তার সমস্ত কদর্যতা, গ্লানি আর অসম্পূর্ণতা নিয়ে সত্য করে জানবার দুর্ভাগ্য যাদের হয়নি, বাস্তবের ফাঁকা বুলির হুজুগে তারই সব চেয়ে বেশি মেতে ওঠে । জীবনকে সত্য ক'রে যে জেনেছে, সে সত্যের চেয়ে আরও বেশি কিছু দিয়ে তা প্রকাশ করে; - সেই বেশি কিছুই স্বপ্ন ।”
আমি বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য আমাকে অনেক গল্প উপন্যাসই পড়াশোনা অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য পড়তে হয়েছে। আর সত্যি বলতে কি যেগুলো আমার সিলেবাসের মধ্যে থাকে সেগুলো ভালো গল্প/উপন্যাস হলেও আমার ভালো লাগে না। কিন্তু প্রেমেন্দ্র মিত্রর এই বইটি আমার খুব খুব ভালো লেগেছে।
এই বইটিতে মোট ২১টি গল্প আছে।
১) শুধু কেরানি ২)পুন্নাম ৩)ভবিষ্যতের ভার ৪) হয়তো ৫)সাগরসংগম ৬)মৃত্তিকা ৭)অনাবশ্যক ৮)মহানগর ৯) জনৈক কাপুরুষের কাহিনী ১০) কুয়াশায় ১১)সংসার সীমান্তে ১২) পুনর্মিলন ১৩) ভস্মশেষ ১৪)শৃঙ্খল ১৫) স্টোভ ১৬) চিরদিনের ইতিহাস ১৭) তেলেনাপোতা আবিষ্কার ১৮) ময়ূরাক্ষী ১৯) লেভেল ক্রসিং ২০)মল্লিকা ২১) রবিনসন ক্রশো মেয়ে ছিলেন ।
এর মধ্যে আমার খুব ভালো লেগেছে - কুয়াশায়, স্টোভ, জনৈক কাপুরুষের কাহিনী, হয়তো, সংসার সীমান্তে। এছাড়াও শৃঙ্খল, লেভেল ক্রসিং, শুধু কেরানি, পুন্নাম এই গল্প গুলোও ভালো।
তবে এই গল্পগুলো কিন্তু অন্যান্য গল্পের মতো না, এর এক একটা বিশেষ শব্দের অভ্যন্তরীণ মানে আছে সেগুলো বুঝে পড়তে হবে। তাই একবারের জায়গায় দুবার করে পড়তে হতে পারে।
এই সংকলনের গল্পগুলোতে চরিত্রের গভীরতা নির্মাণ এবং মনস্তত্ত্বের সুবিস্তৃত বিশ্লেষণের যে দক্ষতা প্রেমেন্দ্র মিত্র দেখিয়েছেন তা আপনাকে গল্পগুলো শুধু পড়েই ক্ষান্ত হতে দেবে না,বাধ্য করবে গল্পগুলো নিয়ে ভাবতে।
খুব বেশি কিছু বলে ঔদ্ধত্য দেখাব না, শুধু বলব আমি প্রেমেন্দ্র মিত্রের ফ্যান হয়ে গেছি। আগেকার লেখকদের নাম শুনলেই যাদের মাথায় সাধু ভাষার মারপ্যাঁচ আর ভাবগাম্ভীর্যে ভরপুর লেখার কথা মাথায় আসে, তাদের একবার হলেও প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছোটগল্পগুলি পড়া উচিত, ধারণা পাল্টে যাবে। জীবনবোধ সম্পর্কে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অসামান্য জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার স্পর্শে লেখা প্রতিটা গল্পই দারুণ। লেখক ব্যক্তিগতভাবে স্যাডিজম দ্বারা প্রভাবিত বলে আমার মনে হয়েছে, প্রতিটা গল্পের সমাপ্তিই দুঃখের, চরম বাস্তবতার প্রতিফল। আর ছোটগল্পের সংজ্ঞাজাত অসম্পূর্ণতা, অতৃপ্তিকে প্রেমেন্দ্র মিত্রই বোধহয় একমাত্র বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পেরেছেন, প্রতিটি গল্প কলেবরে ছোট হলেও কাহিনীর পরিণতির দিক থেকে দারুণভাবে পরিপূর্ণ। সমাজের প্রতিটা স্তরের মানুষকে তিনি যতটা সূক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন, তা আমার কাছে অবাক লেগেছে। বিশেষ করে বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িত নারীদের জীবনাচরণ তার একাধিক গল্পে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা বাংলা সাহিত্যে অমূল্য। এককথায়, প্রেমেন্দ্রকে না পড়লে আপনার বাংলা সাহিত্যের একটি বিরাট অংশই অজানা থেকে যাবে।
মহানগর, সাগরসংগম, সংসার সীমান্তে, তেলেনাপোতা আবিষ্কার-- এই গল্পগুলো প্রেমেন্দ্র মিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প হলেও আমার কাছে ভস্মশেষ, শৃঙ্খল, স্টোভ--সংকলনের এই তিনটা গল্প একদম লা জওয়াব৷
কেবল গল্প না, কেবল সংলাপ না, কেবল স্বগতোক্তি না, কেবল দীর্ঘ বর্ণনা নয়, মেলোড্রামায় ভারাক্রান্ত নয়, শুধুই দার্শনিক জিজ্ঞাসায় জর্জরিত নয়; আবার এই সবকিছুই মিশ্র অনুপাতে মিলেমিশে গল্প অনুরাগী পাঠককে দেবে দারুণ এক আস্বাদ।
এইসব বই পড়লে, জানা যায়, বাংলা ছোটগল্প কোন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। আর কি অসীম বলিষ্ঠ ছিল লেখকের লেখনী। এই বইয়ের বিখ্যাত গল্প মহানগর, সংসার সীমান্তে, তেলেনাপোতা আবিষ্কার প্রভৃতি। কিন্তু আমার সেরা মনে হয়, 'হয়তো ' গল্পটিকে। গল্পটির মনস্তাত্ত্বিক মোচড় অসাধারণ। আর 'রবিনসন ক্রুশো মেয়ে ছিলেন ' গল্পটি এই বইয়ের অন্যসব সিরিয়াস গল্পের ভিড়ে ব্যতিক্রম ঠিকই। তবে পড়তে বেশ ভালোই লাগে।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখনীতে আছে এক নিবিড় কাব্যময়তা, ব্যক্তিগত সুরে গল্প বলে যান, যেন খুব বড় কিছু বলার তাড়া নেই, দৈনন্দিন টুকটাক, মিঠেকড়া, তারপর নির্বিকার বৃহত্তরের মুখোমুখি ঠেলে হকচকিয়ে দিয়ে মৃদু হাসেন। এ সংকলনে কিছু গল্প নেহাত গল্প, আর কিছু স্মৃতিতে বিদ্ধ হয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলে, তারা শিগগির নিভে যাবে সে লক্ষণধারী নয়, নাক্ষত্রিক শব্দটাই এদের জন্য যুতসই।
আমি বুঝিনা যে ব্যাক্তি তেলেনাপোতা আবিষ্কার লিখেছেন সে কেন ঘনাদার লেখক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। সাগর সঙ্গম, নিরুদ্দেশ, বিকৃত ক্ষুধার ফাঁদে,স্টোভ,পুন্নাম, কুয়াশায়, অনাবশ্যক এর মত ছোটগল্পের জনক যিনি তিনি নিঃসন্দেহে কালজয়ী হয়ে থাকবেন বাংলা সাহিত্যে।
বেদনা, বিষাদ, যুক্তি, চিন্তা ও সুখের মিশ্রণে ভীষণ উপভোগ্য গল্প সংগ্রহ... বুদ্ধদেব বসু প্রেমেন্দ্র মিত্রকে বলেছিলেন, 'A broken-hearted dreamer...' সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের সংঘর্ষকে যিনি গল্পে যুক্তি ও কাব্যিকতার মিশেলে উপস্থাপন করেতেন সুস্বাদুভাবে।