গ্রুপ ক্যাপ্টেন (পরে এয়ার ভাইস মার্শাল) এ কে খন্দকার বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সার্বক্ষণিক সহকারী ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া চাকরিরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ। যুদ্ধের প্রায় সব নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। খুব কাছে থেকে যুদ্ধের সফলতা ও ব্যর্থতাগুলো অবলোকন করেন তিনি। যুদ্ধ পরিচালনায় মাঠপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কী কী সীমাবদ্ধতা ছিল, তা-ও তিনি জানতেন। তিনি যে অবস্থানে থেকে যুদ্ধকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তা অন্য অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। সে অভিজ্ঞতার আলোকেই লিখেছেন ১৯৭১: ভেতরে বাইরে। বইটি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাক্রমের বর্ণনা নয়, এতে পাওয়া যাবে যুদ্ধের নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং তার সফলতা, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা-সম্পর্কিত বেশ কিছু মূল্যবান তথ্য। প্রচলিত মত ও আবেগের ঊর্র্ধ্বে থেকে বাস্তবতা আর নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন লেখক। এমন কিছু বিষয়েরও উল্লেখ আছে বইটিতে, যা নিয়ে এর আগে বিশেষ কেউ আলোচনা করেননি। লেখকের নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নথিপত্রের সমর্থন বইটির নির্ভরযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
Air Vice Marshal (Retd.) A K Khandker, Bir Uttom, MP is the former Planning Minister of Government of Bangladesh. He is a retired diplomat and was the Deputy Chief of Staff of the Bangladesh Armed Forces during the Bangladesh Liberation War.
বীর উত্তম এ কে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছিলেন একইসাথে বাংলাদেশ বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সার্বক্ষণিক সহকারী। যুদ্ধের প্রায় সব নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে ছিল তার বিশেষ ভূমিকা, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবেই পথ চলা শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর।১৬ ই ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের দিন ওসমানীর অনুপস্থিতিতে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেন স্বাধীন বাংলাদেশের, কাজেই তিনি যখন যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বই লিখেন সেটা দাবী রাখে একটু বাড়তি মনোযোগের, সেই দাবী আরও বেড়ে যায় যখন বই প্রকাশের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বইটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার রব উঠে।
বইটিকে ভাগ করা হয়েছে যুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়, যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধে যোগদান, চলমান যুদ্ধ এবং পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ দিয়ে। খুঁটি নাটি ভুল চিন্তা, ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল পদক্ষেপকে তুলে ধরা হয়েছে এবং সমালোচনা করা হয়েছে লেখকের দৃষ্টিকোণ থেকে, আর সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটা স্পষ্ট যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অনেক তাৎপর্যপূর্ণ হলেও ভাষণে ছিল না চূড়ান্ত কোন দিক নির্দেশনা। বইকে নিষিদ্ধ করার দাবী উঠেছে ভাষণের শেষ শব্দগুলো “জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান” নিয়ে। তবে অন্য কোন রেফারেন্সে “জয় পাকিস্তান” শব্দগুলো কেন অনুপস্থিত সেই নিয়ে কোন বিতর্কে না গিয়ে লেখক এই প্রসঙ্গ এখানেই এড়িয়ে গেছেন।
একিভাবে ২৫ শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না দেয়া এবং তার গ্রেপ্তার হবার বিষয়টি বাঙালী জাতির জন্য চিরদিন-ই একটা গবেষণার বিষয় হয়ে থাকবে। বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করলেও সম্ভবত এই বিষয়টিকে দেখতে হবে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, আঙ্গিক এবং অবস্থান থেকে।
বিতর্ক থেকে যায় স্বাধীনতার ঘোষক কে সেটা নিয়েও। আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক এম, এ, হান্নান থেকে শুরু করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মেজর জিয়াউর রহমান সবাইকে একে একে বলা হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষক। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে স্বাধীনতা সংগ্রাম কোন ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়নি, আর এ নিয়ে আলোচনা, বিভাজন, দ্বিমত, তর্ক করার সময় মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ছিলও না। এমনকি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত এ নিয়ে কোন কথাবার্তাও শোনা যায়নি, পুরো ব্যাপারটাই শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর।
লেখক বইতে একে একে উল্লেখ করে গেছেন তার মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের সময়কার কিছু কথা, অস্থায়ী সরকার গঠন এবং এর পিছনের ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে যোগদানকারীকে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে বৈষম্য। অপ্রতুল লোকবল এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যখন আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না সম্মুখ সমরে পাকিস্তানীদের পরাজিত করা, তখন সেখানে সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা ছিল গেরিলা যুদ্ধ। গেরিলা যুদ্ধের নিয়ম, লক্ষ্য, সমর জ্ঞান, কার্যকারিতা উল্লেখ করার সাথে সাথে লেখক তুলে ধরেছেন গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারে আওয়ামী নেতাদের বৈষম্য এবং ভারতীয় বাহিনীর উদাসীনতা। একি সাথে সমালোচনা করেছেন গেরিলা যুদ্ধের মতো প্রতিষ্ঠিত কৌশলকে পাশ কাটিয়ে বিগ্রেড গঠন করার বাস্তবতা বিবর্জিত সিদ্ধান্তকে।
তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মেজর জেনারেল সুজান সিং উবানের প্রশিক্ষণে গড়ে উঠা মুজিব বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর সম্পর্ক এবং বিরোধের কিছু দিক। এই বাহিনী যতটা না মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহী ছিল তার চেয়ে বেশী আগ্রহী ছিল দেশ স্বাধীন হবার পর তাদের করনীয় বা ভূমিকা নিয়ে, এবং বাস্তবতা হচ্ছে দেশ স্বাধীন হবার এক বছরের মধ্যে এই বাহিনীর প্রথম এবং দ্বিতীয় সারীর সব নেতা বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে চলে যায়।
বইটিতে উল্লেখিত যুদ্ধের নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং তার সফলতা, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা-সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য ছাড়াও উল্লেখ আছে নৌ-কমান্ডো এবং বিমান বাহিনী গড়ার পেছনের কিছু কথা। পাকিস্তান নৌবাহিনীর আটজন সাবমেরিনার ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড-ফ্রান্স-স্পেন-ইতালি-সুইজারল্যান্ড হয়ে ভারতে পালিয়ে এসে গঠন করে নৌ কমান্ডো, এর এদের প্রথম অপারেশন ‘অপারেশন জ্যাকপট’ দিয়েই এরা স্থায়ী আসন গড়ে নেয় মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব-গাঁথায়। অপরদিকে ভারতের দেয়া তিনটি বেসামরিক মালবাহী বিমানের দুইটিতে কিছু সংযোজন, কিছু বিয়োজন করে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পালিয়ে আসা সদস্যরা রূপান্তরিত করে যুদ্ধ বিমানে। মুক্তিযুদ্ধের এই বিমানবাহিনী সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র বিমানবাহিনী ছিল যারা মাত্র দুইটি রূপান্তরিত যুদ্ধ বিমান দিয়ে পরিচালনা করে ৪০ টির মত সফল অপারেশন।
অভিযোগ ছিল যুদ্ধপরবর্তী বীরত্বসূচক খেতাব নিয়েও। তবে একি সাথে এ কথাও অনস্বীকার্য যে একটা দেশকে স্বাধীন করতে গেলে কিছু অনিয়ম হবেই আর সেই অনিয়মের দায়ভার-ও স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষমতাশীল দলকেই নিতে হবে। এবং পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে দায়িত্ববান লোকটিই মুক্তিযুদ্ধের পরে রয়ে গিয়েছেন সবার আড়ালে আর সবচেয়ে উপেক্ষিত। তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ।
বইটা প্রকাশের শুরু থেকেই বিতর্কের মাঝে পড়েছে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ 'জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান' বলে শেষ করেছিলেন দাবী করে। বইটা পড়ছি বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর একজন কমেন্ট করে যে, শুধু এ কারণে নয় বইটি আরো বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত। পড়তে পড়তে আইডিয়া পেলাম কেন। লেখক নিজে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী সামরিক ব্যক্তিদের মাঝে সর্বজ্যেষ্ঠ। তিনি নীতিনির্ধারক লেভেলে ছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। তাই তার অভিজ্ঞতা আর দশজন মুক্তিযোদ্ধাদের থেকে ভিন্ন এবং ভিন্ন মাত্রারও। লেখক বইতে প্রথমার্ধে বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগকে সিদ্ধান্তহীনতা এবং দুর্বল নেতৃত্বের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছেন যেটা থেকে বাদ পড়েননি বঙ্গবন্ধুও। বিভিন্নভাবে মতপ্রকাশ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারতো। আমার পড়া আমি এর আগে ১ নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর রফিকের 'লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে' এবং মেজর জলিলের 'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' বই দুটি পড়েছি। এবং আরো যেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইগুলো পড়েছি কোথাও এত প্রকটভাবে আওয়ামী লীগের যুদ্ধপূর্ব কর্মকাণ্ডকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় নি। সম্ভবতঃ তিনিই প্রথম যিনি মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধ শুরুর আগে পূর্ব পাকিস্তানে অল্প হলেও বিশৃঙ্খলার সুযোগে বাঙালিরাও বিহারীদের সম্পদ লুটপাট করেছে। যুদ্ধের অংশে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন যেড ফোর্স, কে ফোর্স এবং এস ফোর্স গঠনকে। প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা বাছাই প্রকৃয়াকে, যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীর ভুমিকার ফলপ্রসুতাকে। তাজউদ্দিন আহমেদের প্রতি তার শ্রদ্ধাও চোখে পড়েছে এই বইয়ে। কিভাবে বাংলাদেশের নৌকমান্ডো ও এয়ারফোর্স এর গঠন এবং একশন গুলো পরিচালিত হয়েছিলো তা জানলাম এই বইয়ে। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পন কেন এ জি ওসমানীর কাছে না হয়ে জেনারেল অরোরার কাছে হলো এবং কেন সেখানে সর্বাধিনায়ক ওসমানী উপস্থিত ছিলেন না সেটা নিয়েও অস্পষ্টতা দূর হলো�� বইটা পড়ে মনে হলো উনি কি বলতে চাচ্ছেন সেটা বুঝতে আরো একটি বই পড়ার প্রয়োজনঃ Bittersweet Victory a Freedom Fighters Tale - Abdul Qayyum Khan . আশ্চর্যজনকভাবে এ কে খন্দকারের লেখাতেই প্রথম এই বই এর নাম পড়লাম। একাধিকবার এই বই থেকে quote করেছেন তিনি। উইকিপিডিয়ার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই এর তালিকায় এই বইটি নেই। ----------------- সর্বশেষে আমার খেদঃ ২৩০ পৃষ্ঠার বই এর দাম ৪৫০ টাকা। অতিরিক্ত বেশি।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কামড়াকামড়ি করে এর গ্রহনযোগ্যতা কমিয়ে আনা ও নৈতিক অবস্থানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক ও বিপক্ষ লোকের রাজনীতি ভোটের মাঠে জয় পরাজয়ের রেখা টেনে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি ফ্যাক্টর হলো ভারতের সম্পৃক্ততা। ভারত কি শুধু নিজ স্বার্থেই যুদ্ধে এসেছিল নাকি বাঙালিদের শোষণ থেকে মুক্ত করাও উদ্দেশ্য ছিল! এরূপ বহুবিধ বিষয় যুদ্ধের পরে রাজনীতিতে আলোচ্য হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের একাধিক ন্যারেটিভ রয়েছে। কারণ বিভিন্ন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণে যুদ্ধটা বিভিন্ন রূপে ধরা দিয়েছিল। যুদ্ধে সার্বিক ঐক্য ছিল এমনটা বলার উপায় নেই; তবে সবার উদ্দেশ্যের মাঝে মিল ছিল বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম।
একজন সামরিক ব্যক্তির নিকট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ঠিক কোন কায়দায় ডানা মেলেছিল? সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের শোষণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুদ্ধের কাঠামো ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত হয়েছিল; তার বয়ান দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের উপ-সেনাপতি এ কে খন্দকার। পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে গৌরবের সাথে চাকরি করছিলেন। ১৯৬৯ পর্যন্ত ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। সেখানে পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে তেমন খবরাখবর রাখতে পারতেন না। কারণ সরকার পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে খবর সেন্সর করতো। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন। পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে তখন দুইজন বাঙালি গ্রুপ ক্যাপ্টেনের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। বড় পদে চাকরি করার সুবাদে বিভিন্ন বিষয় কানে আসতো। দেশের মধ্যকার আন্দোলনের ঝাপটা তিনিও পেয়েছিলেন। তাই অধীনস্থ ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের সাথে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেন। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিজয়ের পরেও সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে এবং বৈঠকের নামে সময়ক্ষেপন করতে থাকলে সামরিক বাহিনীর মাঝেও চিন্তার রেখা সৃষ্টি হয়।
এ কে খন্দকার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ায় সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন না। তবে তিনি আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের সেনাবাহিনীর ভেতরের খবর পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। সামরিক সরকার ও জুলফিকার আলি ভুট্টো আলোচনার নামে যে সময়ক্ষেপন করছিল এবং এর আড়ালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র আনছিল সেই খবর আওয়ামীলীগ নেতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তবে তিনি সবসময়ই আফসোস করেছিলেন যে, আওয়ামীলীগের হাতে এসব খবর থাকা সত্ত্বেও তারা ২৫ শে মার্চের অপারেশন সার্চলাইট সংঘটিত হওয়ার আগে কোনো ব্যবস্থা নিল না কেন! ৭ই মার্চের ভাষণে অমন খোলাখুলি ঘোষণা দিয়েও যুদ্ধের কোনো প্রস্তুতি না নেওয়া ছিল আওয়ামীলীগের অনেক বড় রাজনৈতিক ভুল। হয়তো এই ভুলটা না করলে ঐ রাতে মৃত্যুর সংখ্যাটা কমিয়ে আনা যেত। লেখক আওয়ামীলীগের এই ভুলের কড়া সমালোচনা করেছেন; কারণ সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকরা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন; অথচ তারা কোনো পদক্ষেপই নেয় নি!
অপারেশন সার্চলাইটের পরে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। লেখক চিন্তা করলেন যুদ্ধে যোগদান করবেন। তাই তিনি ছুটি নিয়ে ভারত যাওয়ার পথ খুঁজেন। দুইবার ব্যর্থ হয়ে তৃতীয়বারের মাথায় পরিবার এবং বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে ভারত যেতে সক্ষম হন। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ হয় এবং যুদ্ধকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা হয়। এরই মধ্যে এপ্রিলে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠন হলে এম জি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি এবং লেখককে উপ-সেনাপতি করে মুক্তিবাহিনী গঠন হয়। যুদ্ধের সুবিধার্থে দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছিল। কিন্তু ভারত সেই অর্থে যুদ্ধাস্ত্র এবং সরঞ্জাম দিচ্ছিল না। অপ্রতুল অস্ত্র নিয়ে দেশের ভেতরে অপারেশন পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছিল। লেখক বারবার বলেছেন বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রকৃতি ছিল মূলত গেরিলা ধরনের। গেরিলারা সাধারণত সেক্টর কমান্ডারদের অধীনে যুদ্ধ করছিল। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গেরিলাদের নিজেদের অধীনে নিয়ে অপারেশন পরিচালনা করে। ভারতীয় বাহিনীর এর খবরদারি অনেক যোদ্ধারাই মেনে নিতে পারেনি। এছাড়া ভারতীয় বাহিনী দেশের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন ওয়াকিবহাল না থাকায় অপারেশন পরিচালনা করতে গিয়ে গেরিলারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতো। এছাড়া অনেক গেরিলাদের নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার মতো প্রশিক্ষণ না পাওয়ায় দেশের ভেতরে গিয়ে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
স্বাধীনতার ঘোষক কে? স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বিতর্ক সম্ভবত এই বিষয় নিয়েই হয়েছে। প্রচলিত ইতিহাসে বলা হয় বঙ্গবন্ধু চিরকুটের মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে দিয়েছিলেন বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারের জন্য। কিন্তু চিরকুট বহনকারী সেই ব্যক্তিকে লেখক অনেক খুঁজেও বের করতে পারেন নি। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ ভাষণ প্রচারের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করলে তিনি পাকিস্তানিদের দ্বারা দেশদ্রোহী আখ্যা পাওয়ার আশঙ্কায় তাতে রাজি হন নি। তাহলে তিনি কীভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন? প্রশ্নের খোলাসা হয় নি আজও। ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী নিজ উদ্যোগেই নাকি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম আওয়ামীলীগের নেতা এম এ হান্নান ঘোষণা দেন। পরদিন মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে নিজেকে রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয়বার বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এবং মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণাটিই সারাদেশের মানুষ শুনতে পেরেছিল। একজন সামরিক ব্যক্তির ঘোষণা যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যপকভাবে আশার সঞ্চার করে। তবে এখানে উল্লেখ করার বিষয়, জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগে ঘোষণাটি দেন নি; বরং তাঁকে বেতারকেন্দ্রের কর্মকর্তারা ঘোষণা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সমান্তরালে আরেকটি বাহিনী গড়ে তুলেছিল ভারত সরকার। এই বাহিনী বিএলএফ বা মুজিববাহিনী নামে পরিচিতি পেয়েছিল। এই বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যেন কোনোভাবেই বামপন্থীদের নিয়ন্ত্রনে না যায়। এই কারণে যুদ্ধের শুরুতে অনেক বামপন্থী কর্মীদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়নি ভারত সরকার। সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের চুক্তি সম্পাদিত হলে ভারত সরকার বামপন্থীদের প্রতি নমনীয় হয় এবং মুক্তিবাহিনীর হাতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র আসতে থাকে। যুদ্ধের বেগ বাড়তে থাকে। অথচ মুজিববাহিনীর সদস্যরা প্রবাসী সরকারের সাথে দ্বন্দ্ব এবং দেশের ভেতরে মুক্তিবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধেও লিপ্ত হয়। মুজিববাহিনীর খুব কম সংখ্যক সদস্যই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। বরং যুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বারবার ভারত সরকারের কাছে মুজিববাহিনীকে নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানালেও তারা নীরব থেকেছে। এই মুজিববাহিনী থেকে যুদ্ধের পরে জাতীয় রক্ষিবাহিনী নামক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটা ভারত সরকারের মদদেই হয়েছিল।
বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ নিয়ে কত ভালো ভালো সিনেমা তৈরি হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীর পালিয়ে আসা কর্মকর্তারা যেভাবে বাংলাদেশের নৌবাহিনী তৈরি করলেন এবং বাংলাদেশের নতুন বিমানবাহিনী যেভাবে দেশের ভেতরে অপারেশন চালিয়েছে সেই বর্ননা পড়লে এখনো শরীর শিউরে উঠে। এই ঘটনাগুলো নিয়ে অনেক ভালো সিনেমা বানানো সম্ভব। আফসোসের বিষয় এই ব্যাপারে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কারোরই তেমন মাথাব্যথা নেই। অবশ্য দেশের মধ্যে বিভক্তিই যেন সবসময় আলোচনার বস্তু। পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি নতুন সাবমেরিন ছিল ফ্রান্সে। যুদ্ধ শুরু হলে সাবমেরিনের বাঙালি কর্মকর্তারা পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কত বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে ভারতে আসেন এবং যুদ্ধে যোগদান করে অপারেশন জ্যাকপটের মতো বিরাট একটি অপারেশন সফল করেন। অন্যদিকে ভাঙাচোরা মাত্র দুইটি বিমান এবং একটি হেলিকপ্টার নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। আধুনিক ফিচার ছিল না বিমানে। প্রশিক্ষণ ও অপারেশন দুইই করতে হতো রাতের অন্ধকারে। শুধু অনুমান এবং নিজের দক্ষতার উপর নির্ভর করে অপারেশন করেও সফল হয় তারা। এই ঘটনাগুলো আমাদের যোদ্ধাদের অদম্য সাহসেরই প্রতিফলন।
৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে হামলা চালালে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। অবশ্য যুদ্ধ ঘোষণার পূর্বে সেই রাতেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনী নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামে অপারেশন সফল করে। মুক্তিযুদ্ধের যৌথ কমান্ডে ভারতীয় কর্মকর্তারা ছিল সিনিয়র। ফলে বাঙালি কর্মকর্তারা তাদের অধীনে কাজ করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট হয়। তবে বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে তারা অদম্য সাহসে যুদ্ধ এগিয়ে নিয়ে যান। অবশেষে আসে কাঙ্খিত বিজয়। তবে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান সেনাপতির অনুপস্থিতি পীড়াদায়ক ছিল। সেখানে লেখক ছিলেন প্রতিনিধি হিসেবে। যুদ্ধের পরে বীরত্বসূচক খেতাব নিয়েও জলঘোলা কম হয় নি। অনেকেই শুধু কলকাতায় বসেই খেতাব পেয়েছেন আবার অনেকে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েও খেতাব পান নি। তবে কয়েকজন সেক্টর কমান্ডার খেতাব শুধু সামরিক ব্যক্তিদেরই দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। যুদ্ধের পরে সবকিছু ছিল অগোছালো। পূর্ণাঙ্গ তালিকাও ছিল না বিধায় সেই সীমাবদ্ধতাকেই কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন লেখক। এমনকি লেখকের খেতাব নিয়েও বিতর্ক হয়। লেখক মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তবে বইটিতে যেন নিজেকে একটু বেশি ফোকাসড রাখার চেষ্টা করেছেন।
লেখক ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা। যুদ্ধের সময় ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধের প্রক্রিয়া দেখেছেন একেবারে নিকট হতে। তাই অনেক ব্যাপারেই ছিলেন ওয়াকিবহাল। আবার নেতৃত্বের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও মেনে নিয়েছেন নীরবে। সবসময় চেয়েছেন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে। বইটি আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে প্রকাশিত হলে ব্যপক বিতর্কের শুরু হয়। বিশেষ করে লেখক যখন ৭ ই মার্চের ভাষণে জয় পাকিস্তান শব্দটি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সরকারের ভাষ্যের বিপরীতে বক্তব্য দেন। এছাড়া যুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বের দূরদর্শিতার কড়া সমালোচনা করেছেন লেখক। তাই আওয়ামীলীগ সরকারের এক সময়ের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও শুধু বিপরীত বক্তব্যের কারণে মামলা হওয়া ও সংবাদ সম্মেলন ডেকে ক্ষমা চাইতেও হয়েছে তাঁকে। যুদ্ধের সময়ে সেক্টর কমান্ডারদের হঠকারি সিদ্ধান্ত, কয়েকটি অপারেশনের বর্ননাসহ নানাবিধ তথ্য উঠে এসেছে এই বইটিতে। মুক্তিযুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দৃষ্টিকোণকে জানার জন্য দারুণ একটি বই। মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল বইটি। ইতিহাস আগ্রহী পাঠকের জন্য অবশ্যপাঠ্য। হ্যাপি রিডিং।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ বাহিনীর ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এর লেখায় বারবার উঠে এসেছে যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কথা, ব্যক্তিগত পাওয়া না পাওয়ার হিসাব, সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে থেকেও গণমানুষের সাথে যুদ্ধে মিলে যাবার এক দ্বান্দিক অবস্থান, সেক্টর কমান্ড ফোর্স সমূহ গঠন, বাংলাদেশ বাহিনির উচ্চপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের মতাদর্শগত বিপরীত অবস্থান, নৌ কমান্ডোদের ফ্রান্সের সাবমেরিন থেকে পালিয়ে আসার বিশদ বিবরণ, বিমান বাহিনি গঠন কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বার্থের তোয়াক্কা করতে না পারা মানুষদের সম্পর্কে শুনে আসা সেই একই ধরনের অভিযোগগুলো।
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনি (বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনি) সহ এর সাথে আরো অনেক বাহিনির গঠনকালীন দর্শন, কাঠামো কিংবা পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে যারা জানতে আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
বিজয় অর্জনের গর্বের সাথে সাথে বিজয় অর্জনের বিলম্বের কারণ, অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির কারণ, টেকনিক্যাল ভুল এসব খোঁজা ও বিট্রেয়ার চেনা ও তাদের মুখোশ উন্মোচন অত্যন্ত জরুরি। কারণ স্বাধীনতা তো শুধু একবারই অর্জিত হয় না, যুদ্ধ তো শুধু একবার করলেই হয় না!
এ কে খন্দকারের এই বইটা সেই ন্যারেটিভের বই। একেবারে ছোট বই না হলেও একবসায় পড়া যেতে পারে। যদিও ১ম ইডিশনটা কালেক্ট করতে পারিনি, তবে ২য় ইডিশনও অনেক কিছু জানার দিয়েছে।
বইটা পড়ার পড়ে মনে মনে আসা কিছু প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে, বিশেষত মুক্তিযুদ্ধ কালে রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তিযুদ্ধের উপরে প্রভাব ও তাদের ভুমিকা নিয়ে। যেখানে স্বাধীনতা চাইই আমরা সেখানে ৭ মার্চের পরেও ১৯ দিন কেটে গিয়ে পুরো মার্চজুড়ে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ট্রুপ, ব্যাটালিয়ন এনে হামলা করে যুদ্ধ শুরু করার আগ পর্যন্ত আমাদের পূর্বপাকিস্তানি নেতারদের পক্ষ থেকে কোন রোডম্যাপ, কোন ঘোষণা আসেনি কেন?কেন কেউ লিডিং নেয়নি?কেন শেখ মুজিব গ্রেপ্তার হওয়ার আগমূহুর্তেও তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ স্বত্তেও কোন রোডম্যাপ, ও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি? এই সব প্রশ্ন ও তার ছায়া উত্তর, সরাসরি উত্তর বইটাতে পাবেন।
আরও পাবেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যুব শিবির থেকে পলিটিক্যাল পার্শিয়ালিটিতে মুক্তিযোদ্ধা রিক্রুটের ইতিহাস, ইনিশিয়ালি মুক্তিযুদ্ধে সফলতা না পাবার কারণ, গেরিলাবাহীনির প্রাথমিক ব্যর্থতার কারণ, বিহারীদের মত বাঙালিদের লুটপাটেরও তথ্য, মুজিব বাহিনী গঠনের মূল উদ্দেশ্য,ভারতীয়দের মুক্তিযুদ্ধে আধিপত্যের কারণ, জেনারেল ওসমানীর সামরিক চারিত্রের বর্ণনা, মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে সফলতায় এত দেরি হবার ও এত হতাহতের কারণ, নৌ কমান্ডো গঠনের থ্রিলিং কাহিনী, বিমানবাহিনী গঠন ও অপারেশন "কিলো ফাইট" এর বর্ণণা ইত্যাদি।
লেখক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মোস্ট সিনিয়র মিলিটারি পার্সনেল হওয়াতেই শেখ মুজিবের তার ৭ মার্চ ভাষণের শেষে বলা "জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান " লাইনটার কথা দৃঢ়গণ্ঠে,স্পষ্ট ভাবে বইতে লিখতে পেরেছেন।
এই বই থেকেই Bittersweet victory বইটার নাম জানলাম, পড়ে ফেলব ইনশা আল্লাহ।
*মাস্টরিড বই* ব্যক্তিগত ভাবে ৫★ দিতাম কিন্তু ২টা কারণে ১★ কম দিচ্ছি।
১। কিছু পয়েন্টে লেখক যুক্তি প্রমাণে জোর দিতে গিয়ে একই কথা একাধিক বলেছেন।
২। বইয়ের ঠিক মাঝ বরাবর বর্ণনার ফ্লো একেবারে কমে গিয়েছে, ফলে ঐ জায়গায় পার করতে কষ্ট হয়।
গতকাল ভারতের বিভিন্ন আর্টিকেল পড়তে যেয়ে দেখি সেখানে আত্মসমর্পনের যে ছবি দেখানো হয় সেখানে বাংলাদেশের কেউ নেই। বাংলাদেশে আমরা যে ছবি দেখি সেখানে দেখা যায় একমাত্র বাংলাদেশের এ কে খন্দকারকে। তাই সিদ্ধান্ত নেই একে খন্দকারের বহুল আলোচিত সমালোচিত বইটি পড়ার।
বইটির প্রথমাংশ পড়তে বসেই উপলব্ধি করি কেন এই বইয়ের এত সমালোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অপরিনামদর্শী ও অবিবেচক আচরণের জন্য সমালোচনা করে। নেতৃবৃন্দের সমন্বয়হীনতা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তও বেশ বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বই থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তাজউদ্দীন আহমেদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কথা জানা যায়। ওসমানী ও একে খন্দকার নিয়েও বেশ ভাল একটা ধারণা পাওয়া যায়।
নৌ কমান্ডো ও বিমান বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক ও সামরিক ভাবে বাংলাদেশ বাহিনীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও পদক্ষেপ গুলির ব্যাপারে বিস্তারিত জানা গেল।
ভারতের সাহায্য সহযোগিতা, অসহযোগিতা, ভুল পদক্ষেপ সবকিছু সম্পর্কেই লেখক বলেছেন। নিঃসন্দেহে এই বইটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
আমি লেখকের কাছে আরও বর্ণনামূলক কিছু আশা করেছিলাম। তাই ৪ স্টার দিলাম।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং যুদ্ধের কোনো সরাসরি নির্দেশ দেয়া নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ব্যর্থা নিয়ে আলোচনা করেছে। যুদ্ধে যখন নানা পেশার মানুষের যোগ দিতে ভারত গেলে ট্রেনিং এর জন্য। তখন শুরু আওয়ামিলীগ সাপোর্টদারীদের যুদ্ধ করার জন্য দিতো (প্রথম দিকে)। মুজিব বাহিনী, নৌবাহিনী,বিমানবাহিনী গঠন সহ অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা করে।
লেখক হলো বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, পাকিস্তান যখন আত্মসমর্পণ করে, তখন তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেব উপস্থিত ছিলেন।
বইয়ের নাম :- ১৯৭১: ভেতরে বাইরে লেখকের নাম : এ কে খন্দকার ধরন : স্মৃতিচারন (মুক্তিযুদ্ধকালিন) প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী প্রকাশনীর নাম : প্রথমা প্রথম প্রকাশ : আগষ্ট ২০১৪ মুদ্রিত মুল্য: ৪৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৩২ ISBN: 978 984 90747 4 8
বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খুব বেশী দিনের না হলেও এর প্রকৃত ইতিহাস খুব অল্প কিছু বইয়ে পাওয়া যায়। যার পরিমান খুবই কম, অধিকাংশই অসত্যে ভরপুর। ফলে কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা এ নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক মহলে প্রায় সময় বেশ উচ্চারিত হয়। তবে আমি বলছি না যে “১৯৭১: ভেতরে বাইরে” উল্লিখিত তথ্য গুলো ধ্রুব সত্য। তবে ইতিহাস রচনার যে দুটি ভিত্তি তার একটি দলিল দস্তাবেজ আর অন্যটি হল প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষী/ বয়ান। আর এই বইটি হল একজন মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতা, অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। লেখক যেহেতু একজন সামরিক নেতা, ফলে বইটি সামরিক দৃষ্টিকোন থেকেই লেখা হয়েছে। লেখক স্বাধীনতা যুদ্ধে ডেপুটি চিপ অফ স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে, অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠন, প্রবাসী সরকারের কর্মকান্ড, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের দিকনির্দেষনা, ভারত সরকার ও বহিঃ বিশ্বের অন্যান্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ, এবং অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের মধ্যে কিছু বিরোধ তুলে ধরেছেন।
মুক্তিবাহিনী গঠন, মুজিব বাহিনী গঠন, মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ‘কে’ ফোর্স, মেজর কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে ‘এস’ ফোর্স, মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ‘জেড’ ফোর্স, নৌ-কমান্ড, বিমান বাহিনী, যৌথ নেতৃত্ব গঠন, মুক্তিযুদ্ধকালিন রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্তহীনতা, বিজয় অর্জন বিলম্ভিত হবার কারন, বীরত্বসূচক খেতাব, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্ম সমর্পন এককটি অধ্যায়ে এর ভেতরকার কথা গুলো তুলে ধরেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়কার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রশঙ্গীক আটটি দলিল যোগ করেছেন। যা বইটির গ্রহণ যোগ্যতা আরো একধাপ এগিয়েছে।
আমর কাছে সবচেয়ে ভাল লেগেছে নয়জন জন বাঙালি পাকিস্তান নৌ বাহিনীর সাবমেরিনার ছিল। তাদের মধ্যে আটজন সাবমেরিনার ফ্রান্সে একটি সাবমেরিনে কর্মরত ছিল। সেখানে দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি শুনতে পেরে ফ্রান্স থেকে স্পেন হয়ে ভারতীয় দুতাবাসের মাধ্যমে জেনেভা থেকে অবশেষে ভারত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যা আমার কাছে রীতিমত অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। এ চৌকস অফিসারদের নিয়ে নৌ বাহিনী গঠিত হয়। এছাড়া নৌ বাহিনীর অপারেশনের যে বর্ণনা লেখক দিয়েছেন, মনে হয়েছে প্রতিটি অপারেশন চোখের সামনে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
লেখক তাজউদ্দীন আহমদের অবদান উল্লেখ করেন, তাজউদ্দীন আহমদের দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তার ফলে স্বাধীনতার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদ সাহেব যে ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, তা করা হয় নি।
স্মৃতিচারণ ইতিহাস রচনায় সামান্য তথ্যের যোগান দেন মাত্র। স্মৃতিচারণ কখনই ইতিহাস নয়। স্মৃতিগ্রন্থে লেখক অনেক ক্ষেত্রে আবেগের বশবতী হয়ে, নিজের হতাশা থেকে লেখেন। তাছড়া স্মৃতিচারণ মুলক গ্রন্থ ঘটনার বেশ কয়েক বছর পরে রচিত হয়, সেক্ষেত্রে লেখকের স্মৃতিশক্তি ঘটতি থেকে যেতে পারে, তাছাড়া এই ধরনের গ্রন্থে লেখকের সম্মুখে ঘটে যাওয়ার বিবরন দিয়ে থাকে কিন্তু এর পিছনকার কথা সেভাবে ফুটে ওঠে না। তবুও মুক্তিযুদ্ধের বেতরকার অনেক নাজানা ঘটনা জাতির জানার সুযোগ হয়েছে এই বইয়ের মাধ্যমে।
As this book created controversy in the country after publication I got interested to read this. I am very fond of the political and historical book so I suggest people interested about Bangladesh should collect this book. Summary : A K khandaker played an important role in our liberation war in 171 against Pakistan. He was in Pakistan Airforce. After our liberation war broke out he flew from Pakistan air force and joined Muktibahini. In this book, he tried to explain our liberation war from an Army person's point of view. Mostly about the strategical sides of the war and the events like operations, planning, recruitment of Muktibahini etc. My Reaction : As it was contr9oversial I set myself neutral to read this book and started going through it. What I understand after half of book is as he was a military person he judged the situation and activity of the political leader from a military point of view. To me, the political view may not be correct from a military view. The writer tried to balance his writing by giving note that might be his own view, they(political leaders) may have a different way of working. I read the 2nd edition of this book that is different from the 1st edition so I can't say about that edition. To me, the writer may be right from his view. I didn't find any disrespectful thing in his writings to any person. I like the way the writer gave reference to important information that makes the book more reliable. my rating is 4. I cut one star because the book is divided into many chapters that weren't very charming for me.
It is not a very well written book, it needed editing to rid itself of constant repetition. However, it is an important book to shed light on the nine months of the freedom struggle that culminated in the birth of a nation. It is also important that the writer was one of the most senior non-civilian persons, an air force officer who later became the first chief of the newly formed Bangladesh Air Force, a man who was trusted implicitly, it seems, by the prime minister, Tajuddin Ahmed and was close to Colonel Osmany. Also, A K Khandaker was very critical of the Awami League leaders who were part of the government in exile and also was none too pleased by the formation of the Mujib Bahini and the activities of its 10000-strong members. His candid remarks on why Sheikh Mujib 'embraced' arrest on the fateful night of 25th March would definitely give rise to controversy among people who are unwilling to patronize any criticism on the leader's motives and actions. He seems rather skeptical about the much spread 'theory' that it was Bangabandhu who gave written orders on the night of his arrest for Bangalees to start an armed struggle for all-out independence. He, however, is not the only one who has grumbled about many issues that started from the beginning of March of 1971 and the goings-on in exile in India of the provisional government and its leaders and various infighting among them.
At a time boring ও লেগেছে পড়তে পড়তে, তাই সময় নিয়েই বইটা শেষ করলাম। এই বই পড়ে মনে হলো কতো কী আমরা জানার কখনো চেষ্টাই করি নি! মনে হলো আমি মুক্তিযুদ্ধ নামটাই শুধু জানতাম, এর পিছনের কোন জ্ঞানই আমার ছিলো না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কে যারা রাজনৈতীক Agenda বানিয়ে এতোদিন Sympathy নিয়েছে, তাদের কোন অবদানই আমি পেলাম না পুরো বইটাতে। এই বই আমার পড়ার দরকার ছিলো খুব। আমরা স্বাধীনচেতা জাতি, আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসটা না জানা থাকা উচিৎ নাহ। It was a good read, and a big shoutout to the writer who took the brave initiative to write everything from a neutral POV.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার জানাশোনা কিংবা পড়াশোনা হিসেব করতে গেলে এক হাতের আঙ্গুল গুনে শেষ করার আগেই থমকে দাড়াতে হয়। অনেক ব্যাপারগুলো শুধু বইয়ের দেয়া দু একটা সাধারণ জ্ঞান হিসেবে জানতাম কিন্তু এই বইয়ের কল্যাণে বিশদভাবে জানতে পারলাম, অপারেশন জ্যাকপট বা নৌ কমান্ডোদের সে কাহিনী অন্যতম। এছাড়াও প্রচলিত অনেক সংশয়ের ব্যাখ্যা বইয়ে আছে, আছে রাজনৈতিক অদূরদর্শী লোকদের কাজকর্ম, আছে সমালোচনা। সব মিলিয়ে বইটাকে ৪ তারা দেয়া যায় নিঃসন্দেহে। অবশ্যপাঠ্য বই। হ্যাপি রিডিং 💙
A Magnificent book if one wants to learn about the liberation war from a top brass perspective It has included nearly all of the major events Further also showed how the mismanagement of the Indians cost us men and support of ppl in some places Also it has shown the flaw with recruiting of soldiers Also by reading this book my respect for Tajuddin Ahmed had got doubled due to his bold moves and sacrifices
সম্পূর্ণ সামরিক দৃষ্টিভঙ্গীতে লেখা মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকার ও মুক্তিবাহিনীর কর্মকান্ড নিয়ে। যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনী চিফ অব স্টাফ এ,কে খন্দকার এই বইয়ে কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন,বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালে সর্বাধিনায়ক এম,এ,জি ওসমানীর অদূরদর্শীতা ও অবিচক্ষণতা, তাজউদ্দীন আহমেদের বিচক্ষণতা ও সরকার চালানোর বিভিন্ন কৌশল,যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতের সহায়তা, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যাত্রা, অপারেশন জ্যাকপটের বর্ণনা ও তার পিছনে নৌ কমান্ডো গঠনের কাহিনী, ব্রিগেড গঠনের যৌক্তিকতা, গেরিলা যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে সামরিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করেছেন লেখক। বলেছেন মুজিব বাহিনীর কর্মকান্ড নিয়েও। তবে লেখক পরিচিতি পড়ে আমার কৌতূহল জেগেছে যে, যে ব্যক্তি ১৯৭৫ সালে মুজিব হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন, সেই ব্যক্তি কিভাবে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দূতাবাসে যোগদান করেন?
৭ মার্চের আগে আগে ভাবলাম এই বই টার রিভিউ দিই..বই টা অনেক দিন নিষিদ্ধ ছিল,কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অনেক দিক জানার জন্য অবশ্যপাঠ্য বই ১ টা...
- এই বই টা যিনি লিখেছেন তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চীফ অফ স্টাফ আর কর্ণেল ওসমানীর সহযোগী.. মুক্তিযুদ্ধের নীতিনির্ধারণী র জন্য ঠিক কি কি করতে হয়েছিল, কি কি সমস্যা ছিল,কি প্রতিকূলতা ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল নীতিনির্ধারক দের,তার ১ টা বিস্তারিত বর্ণনা আছে এখানে..
- মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র গেরিলাযুদ্ধ.. সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবদান,পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যুদ্ধের হাল ধরা- এ সব কিছুর খুব ডিটেইলস আছে এই বই টায়
- মুক্তিযুদ্ধ কালীন নৌ বাহিনী ও বিমানবাহিনী আর সেই সাথে তাদের অপারেশন এর বর্ণণা,অপারেশন জ্যাকপট এর পূর্বাপর,না জানা " কিলো ফ্লাইট " এর কথা,যাত্রী বিমান কে যুদ্ধ বিমান এ পরিণত করে প্রতিপক্ষের চোখ এড়িয়ে করা ফ্লাইট এর বেশ কিছু তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে
-ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ' র' এর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা মুজিববাহিনীর বিতর্কিত কাজকর্ম আর মুক্তিবাহিনী র সংে তাদের বিবাদের কারণ সম্পর্কে জানা যাবে
সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের হর্তাকর্তা দের অনেকের স্বার্থান্বেষী আচরণ, অনেকের ত্যাগ আর বিতর্কিত বেশ কিছু তথ্য নিয়ে লেখা এই বই টা..লেখক অনেক বার সিদ্ধান্তহীনতার জন্য আওয়ামী লীগের প্রবল সমালোচনা করেছেন, যার জন্য খেদের মধ্যে পড়তে হয় তাকে.. মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাস নিয়ে জানতে বই টা পড়া উচিত বলে মনে হয় আমার..
মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অফ স্ট্যাফ হিসেবে রচয়িতা যা লিখেছেন তার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার দাবি রাখে। বেশ কিছু বিষয় এখানে controversial। অবশ্য পাঠ্য।