দেব্রীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (English: Debiprasad Chattopadhyaya) ভারতের কলকাতায় ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন ভারতের একজন প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী দার্শনিক। তিনি প্রাচীন ভারতের দর্শনের বস্তুবাদকে উদ্ঘাটন করেছেন। তাঁর লেখাগুলো একাধারে দর্শন ও বিজ্ঞানের সমন্বয়। এছাড়াও তিনি প্রাচীন ভারতের বিজ্ঞানের ইতিহাস ও বিজ্ঞানের পদ্ধতি সম্পর্কেও গবেষণা করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
সমাজের শুরুটা মায়েদের হাতে গড়া— আদিমকালের কথা বলা হচ্ছে, কৃষি আবিষ্কার এখানে প্রভাবক। পৃথিবীব্যাপীই সভ্যতাগুলোর ভিত গড়ার সময় ছিল নারীদের অগ্রগণ্যতা। প্রায় একই ধরনের কথার উপর বইটি লেখা। সে থেকে আমার উপলব্ধি হচ্ছে— যতটা না মেয়েরা পিছিয়ে আছে, তার চেয়ে বরং মেয়েরা পিছিয়ে গেছে। বিবর্তনীয় সমাজব্যবস্থায়ও আসলে ইতিহাস বা প্রাধান্যের গুরুত্ব প্রধান নয়। সেই এগুবে যে পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে খাপ খায়। নারী প্রধান সমাজ ভালো না পুরুষতান্ত্রিকতা বেধি কাজের তার চেয়ে বড় কথা যুগটা কিসের। সেদিকে অবশ্য আলোচনা গড়ায়নি। ঐতিহাসিক প্রাধান্যতন্ত্রের জানান দেয়া হয়েছে বিভিন্ন ভৌগোলিক সমাজব্যবস্থার।
মানুষকে সভ্যতার উৎকর্ষে নিয়ে যাওয়ার আদি বুনিয়াদ ছিল কৃষি এবং পশুপালন। বল্লম আবিষ্কারের পর পুরুষসদস্যরা বনেবাদাড়ে খাদ্য অন্বেষণে বােড়িয়ে গেলে, দলের তীক্ষ্ণধি মহিলা সদস্যরা তাদের একমাত্র দায়িত্ব শিশুপালনের পাশাপাশি শুরু করেন কৃষিকাজ এবং বহুল বিচিত্র কুটিরশিল্প। কৃষিকাজের উপযোগী কিছু ছোট ছোট সরঞ্জাম তৈরি থেকে শুরু করে মাটির বাসনকোসন, এমনকি ঘরবাড়ি নির্মাণের কৃতিত্বও আমাদের মায়েদেরই। এসব কাজের যেগুলোতে বিজ্ঞান জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ সেসকল কাজেও তারাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবিষ্কারের দাবিদার। আজকের আধুনিক সমাজের বুনিয়াদ সেই কৃষিভিত্তিক সমাজে মায়েরাই বড়, তাদের কাজের ব্যপ্তি, ব্যপকতা এবং বৈজ্ঞানিক কর্মনিপুণতায়। যদিও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নরকম ক্রমবিকাশ দেখা যায়—নারী সদস্যদের কাজে এবং দেখানো পথ অনুসরণ করে ঘরের কাজে, পশুপালন এবং কৃষিতে স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন ঘটতে থাকে পুরুষ সদস্যদের। বইটি এক কথায় অসাধারণ! অনেকদিন পড় এক বসায় (৪৫ মিনিট) একটা বই পড়ে শেষ করলাম।