এর পর আরও কয়েক জন ওই কাশির শব্দ শুনল এবং তারাও নানাভাবে মারা পড়ল। গ্রামের পুরোহিতমশাই বললেন, এ হল শ্বশানকোকিলের ডাক। এ ব্লাক যে শোনে সে আর ফেরে না। আমি শ্মশানকোকিলের কথা শুনেছিলুম অনেক আগে। অশানকোকিল পানি নাং, আসলে দুষ্ট আস্থা। পাণির থেক ধরে থাকে। ভেবেছিলুম গল্পকথা। কিন্তু এখন দেখছি, নির্মলা সত্যি। একটা যখন এসেছে, টানে টানে আরও আসবে। শ্বশানকোকিলে ভরে যাবে জায়গাটা। বাঁচতে চাও তো কেউ ওই শ্মশানের বার মাড়িও না। খুব সাবধান। সেই থেকেই পরিতাক্ত হয়ে গেল শ্বশানটা। এমনিতেই শ্বাশান মশান নিম্নন জায়গা। তার ওপর লোক চলাচল বন্ধ হতে পামে চলার পথটাও মুমে গেল। হাঁটু সমান বুনোমাস আর ফোরকান গতিয়েছে। বড় বড় কাজল, শিরিষ, কুল, বাবলা, তেঁতুল, আর মহানিম গাছগুলো জড়ামড়ি করে যেন আরও ওপসি করে তুলেছে জায়গাটাকে।
ভালো লাগলো না গল্পগুলো। প্লট বা লিখনশৈলী কোনোটাই টানার মতো নয়। ২/৩ টা ভালো গল্প ছিল, তবে ১৪ টা গল্পের মধ্যে ২/৩ ভালো গল্প দিয়ে পুষিয়ে দেয়া যায় না।
এই বইতে ১৪টি ছোটগল্প আছে। বইয়ের ভূমিকায় লেখক বলেছেন , তিনি অলৌকিক এবং প্রেম এর মিশ্রণ ঘটেছে এই গল্পগুলোতে। যদিও অলৌকিকতা খুব বেশি নেই গল্পগুলোতে। প্রেম আছে বটে, তবে শুধু নারী পুরুষের প্রেম নয়, বরং নানারকম বৈচিত্র্যময় প্রেমের সমাহার। শ্মশানকোকিলের ডাক, হিরেগাছ, মুনিয়া এবং রানি, দশমীর সন্ধে, চন্দ্রগুপ্ত, ঘটু, অর্ধসত্য গল্পগুলো ভালো লেগেছে। লকডাউনের মেছোভূত, শশাঙ্কবাবু ও শ্যামাপোকা গল্পদুটো ভালো লাগেনি। বাকি গল্পগুলো মোটামুটি মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩.৫ তারা রেটিং দিলাম। সৌভিক চক্রবর্তীর লেখা এই প্রথম পড়লাম, আরো পড়ার ইচ্ছা রইলো।
হরর জনরা ভেবেই বইটা শুরু করেছিলাম। লেখক নিজেও ভূমিকাতে বলেছেন, ' এই বইতে আমার বিভিন্ন সময়ে লেখা চোদ্দোটা ছোটগল্প আছে৷ আমার প্রিয় বিষয় অলৌকিক আর প্রেম৷ তাই এই গল্পগুলোতে প্রেম আর অলৌকিক মিশে যায়৷ ' কিন্তু পড়ার পর আমি যারপরনাই নিরাশ হয়েছি। নামগল্প 'শ্মশানকোকিলের ডাক' ব্যতীত বাকিসবগুলি গল্পই আহামরি কিছু না। অতিপ্রাকৃতগুলি বাচ্চাদের ভুতের গল্প। খুব বেশি থ্রিল বা হরর ভেবে পড়লে হতাশ হতে হবে আর যদি ট্যুরের লম্বা জার্নিতে টাইমপাস করার জন্য পড়তে চান তাহলে ঠিক আছে...