Родился во Владикавказе, потом семья переехала в Москву.
Свой первый рассказ о котёнке, живущем в их коммунальной квартире, Юрий написал в четвёртом классе. Окончив школу, Сотник много путешествовал по России, был фотолаборантом, работал сплавщиком на реке Лене, рыбачил. С увиденного он начал писать рассказы.
В 1938 году вступил в литобъединение при издательстве Советский писатель. Первый напечатанный рассказ «„Архимед“ Вовки Грушина» Сотник выпустил в 1939 году. В этом рассказе Сотник описал, как он в детстве хотел построить подводную лодку. В послевоенные годы он выпускал много рассказов о жизни подростков, которые попадали в разные истории. Многие его герои были пионерами. По сюжету, некоторым его персонажам доводилось попадать в разные приключения, даже сидеть в засаде.
Ряд рассказов 50-60-х годов образует цикл о сыне офицера, школьнике Лёше Тучкове и его соседях по двору, отмеченный характерным для Сотника сочетанием авантюрной интриги, лиризма и юмора.
বইয়ের নাম :- আমাদের পাড়ার টিম লেখক :- য়ুরি সৎনিক অনুবাদ :- ফল্গু কর ধরন :- কিশোর গল্প প্রকাশনী :- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রচ্ছদ :- ধ্রুব এষ পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ১২০ মুদ্রিত মূল্য :- ১৫০৳
রাশিয়ান বইয়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় 'আকার্দি গাইদার' এর লেখা "তিমুর ও তার দলবল" বইয়ের মাধ্যমে। কিশোরদের অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে লেখা দারুন একটা বই এই "তিমুর ও তার দলবল"। সেদিন যখন 'বিসাক' এ বই দেখছিলাম তখন হঠাৎ করেই চোখে পড়ে গেল 'য়ুরি সৎনিক' এর লেখা "আমাদের পাড়ার টিম" বইটা। নেড়েচেড়ে দেখার পর মনে হলো এটাও ছোটবেলায় পড়া সেই "তিমুর ও তার দলবল"এর মতোই একটা বই। আমি ভুল ছিলাম না।
এই বইতে তিনটা ছোট এবং একটা বড় গল্প আছে। সবগুলো গল্পের প্রধান চরিত্র কিশোর কিছু ছেলে মেয়ে এবং তাদের কাঁধে ভর করেই এগিয়ে যায় প্রতিটা গল্প। “তালিমদার” দুই বন্ধুর কুকুর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা। কিভাবে তাঁরা একটা কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে বিপদে পড়ে এবং বিপদ থেকে উদ্ধার হয় সেটাই এই গল্পের বিষয়বস্তু। বেশ মজার একটা গল্প। “আবিস্কারক” একটা ক্লাসের কিছু ছাত্র এবং তাদের শিক্ষককে নিয়ে লেখা। প্রতিটি শিশুর মনেই থাকে অসীম কৌতুহল, আর এই কৌতুহলের মাধ্যমেই তাঁরা নতুন নতুন সব জিনিস আবিস্কার করতে পারে। আর একজন ভালো শিক্ষকের কাজ হলো ছাত্রদের এই কৌতুহলকে শৃঙ্খলার সাথে বজায় রাখতে শিখানো। এটাও বেশ মজার একটা গল্প। “সামন্ত প্রভু” গল্পটাই বইয়ের সবচেয়ে ছোট এবং আমার কাছে সবচেয়ে জটিল গল্প মনে হইছে। এই গল্পে লেখক কিশোরদের মনস্তাত্ত্বিক দিক নিয়ে লিখছে। কিশোর বয়সে একটা ছেলে বা মেয়ের মনে অনেক কিছুই চলতে থাকে। সেসবই লেখক এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। “আমাদের পাড়ার টিম” এই বইয়ের সবচেয়ে বড় এবং মজার গল্প। এটা পাড়ার একটা ফুটবল দল নিয়ে লেখা। কিশোর ছেলেদের নিয়ে তৈরি এই ফুটবল দলের নাম 'বিস্ফোরণ'। তারা নিজেদের অনেক বড় দল ভাবলেও পাশের পাড়ার দল 'ঝঞ্ঝা'র সাথে বারবার হেরে যায়। এদিকে পাড়ায় কোনো মাঠ না থাকার গোলির মধ্যে খেলতে গিয়ে প্রতিবেশীদের জানালার কাচঁ একটাও আস্ত রাখছে না এই 'বিস্ফোরণ' দল। শুরুতে সবাই তাদের নিয়ে বিরক্ত হলেও, এক সময় পুরো পাড়া এক হয়ে এই দলকেই পরিণত করে চ্যাম্পিয়ন দলে। এই গল্পে লেখক দারুন কিছু জিজ্ঞেস তুলে ধরছেন। যারা ভাবত পেশি শক্তির চেয়ে মাথার শক্তি বেশি জরুরি তাঁরা যেমন একসময় নিজের ভুল বুঝতে পারে, তেমনি যারা ভাবত পেশি শক্তিই আসল তাঁরাও নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং পরিবর্তন হয়। সাথে এটাও দেখানো হয়, সবাই একসাথে মিলেমিশে কাজ করলে কিভাবে একটা সমাজ আরো অনেক সুন্দর হতে পারে।
এই বইটা অনুবাদ করছেন "ফল্গু কর"। আমার কাছে এই অনুবাদক নতুন, আগে কখনো উনার বই আমার পড়া হয়নি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বা রাশিয়ার অনুবাদ গুলো সাধারণত বেশ সাবলীল হয়। কিন্তু এই বইয়ের অনুবাদ অন্য বইগুলোর তুলনায় কিছুটা দুর্বল। জানি না লেখকের লেখার ধরনই এমন, নাকি অনুবাদের সমস্যা। কিন্তু আমি আরো ভালো অনুবাদ আশা করছিলাম।
যাই হোক, অনুবাদ কিছুটা দুর্বল হলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না পড়তে। কিশোর পাঠক থেকে শুরু করে আমার মত যারা বুড়া বয়সেও কিশোর উপন্যাস পড়ে মজা পান তারা এই বইটা পড়ে দেখতে পারেন। আশাকরি ভালোই লাগবে।