মৌমাছির মস্তিষ্কের আকার খুবই ছোট, মাত্র দুই কিউবিক মিলিমিটার। অথচ ছোট্ট এই মগজের সাহায্যেই তারা নাবিকদের মত রাস্তা খুঁজে বের করতে পারে। সমুদ্রে নাবিকরা দিক নির্ণয় করতে ধ্রুব তারাকে ব্যবহার করে, আর মৌমাছিরা ব্যবহার করে সূর্যকে। তবে মৌমাছিরা এক্ষেত্রে নাবিকদের থেকেও অনেক বেশি দক্ষ। মেঘলা দিনে আকাশে সূর্য না থাকলেও শুধুমাত্র সূর্যের আলোর ধরন দেখেই মৌমাছিরা দিক নির্ণয়ের কাজটি করতে পারে। শুধু তাই না, একটি এলাকায় কোথায় কোথায় ফুল আছে, কোথায় মধু আছে, কোথায় তাদের চাক, এসব কিছুই থাকে মৌমাছিদের একদম নখদর্পণে। অর্থাৎ মস্তিষ্ক ছোট হলেও তাদের স্মৃতিশক্তি দারুণ। তবে শুধু মৌমাছিরাই নয়, প্রানীজগতের অনেক প্রাণীরাই অসম্ভব বুদ্ধিমান, তাদের রয়েছে বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা। একটা সময় বিজ্ঞানীরা অক্টোপাসদের খুবই নিম্নস্তরের বুদ্ধিমান বলে ভাবতেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে যে অক্টোপাসরা আসলে অসম্ভব বুদ্ধিমান প্রাণী, তারা এমনকি জটিল সব পাজলও সমাধান করতে পারে!
আমাদের এই পৃথিবীর জীবজগত শুধুমাত্র বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেই চমকপ্রদ নয়। জীবজগতের অনেককিছুই আসলে অবাক হওয়ার মত। পৃথিবীর ইতিহাসে কত লক্ষ লক্ষ প্রজাতির জীব যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে তার সঠিক সংখ্যা আজ আর হিসাব করাও সম্ভব না। যেমন ডাইনোসর। আজ থেকে ৬৫ লক্ষ বছর আগে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ছিল জীবজগতের খুবই নগণ্য এক সদস্য। তখন দানব আকারের ডাইনৈসরেরাই ছিল পৃথিবীর রাজা। ডাইনোসরদের গল্প যেমন অবাক হওয়ার মত তেমনি জীবজগতের অনেককিছুই আমাদের অবাক করে। এই বইতে জীবজগতের কিছু অবাক করা ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। জীবজগত নিয়ে আগ্রহী যে কারওই বইটি ভাল লাগবে।
তেমন ভালো লাগেনি। এর একটা কারণ হতে পারে বইয়ের তথ্যগুলি কেমন যেন ছন্নছাড়া। লেখক একগাদা তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন পূর্বপরিচয় ছাড়া, আবার দ্রুত এক টপিক থেকে অন্য টপিকে সুইচ করছেন। একই কথা বারবার বলা তো আছেই। মানে লেখকের বিজ্ঞানী সত্তা যতটা স্ট্রং, সাহিত্যিক সত্তা ততটাই উইক। মোটকথা লেখা একটু আগালেই আগ্রহ চলে যায়। কিছু জায়গায় তো শুরু আর শেষে মিলও পাইনি। যেমন ‘মানুষ কেন বিড়াল পুষে’ এই লেখায় বিড়ালের ইতিহাস, স্বভাব, কান্ডকারখানা সবই আনা হয়েছে খালি ‘মানুষ কেন বিড়াল পুষে’ - এই প্রশ্নের উত্তর ছাড়া!
তবে লেখক নবীন, বয়সও কম। আর বাংলা সাহিত্যে ওয়াইল্ডলাইফ নিয়ে লেখাও কম। অবহেলিত চাপ্টার বলা যেতে পারে। বিজ্ঞান মানে এখন শুধু রিলেটিভিটি আর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স। নারায়ণ সান্যালই যা একটু কাজ করে গেছেন।
তাই নবযাত্রা হিসেবে উৎসাহ দেয়ার জন্য হলেও সুজয় কুমার দাশের লেখা ‘জীবজগতের অজানা গল্প'-কে তিন তারা দিলাম। শুভকামনা।
The presentation lacked coherence, with excessive information presented without clear context. The writing felt dry and overly academic, which made it unengaging to read.