এই কিশোরোপন্যাসটা নাকি তৎকালীন ক্লাস টেনে পড়া এক কিশোরের লেখা। তাও আবার পুরোদস্তুর মৌলিক! এমন মাথা চুলকানো দুর্বোধ্য গুপ্তধনের ধাঁধা, অমন পাহাড় আর গুহার ভেতরকার বিস্তারিত প্রাকৃতিক বর্ণনা, গহীন অন্ধকার সুড়ঙ্গের মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, আমেরিকার পটভূমিতে শহর আর শহরতলীর পাহাড়-জঙ্গল এলাকায় দৌড়াদৌড়ি করা টানটান উত্তেজনার রোমাঞ্চ-অ্যাডভেঞ্চার - একটা বাংলাদেশে বাস করা স্কুল ছাত্রের মাথা থেকে বের হওয়া, কিভাবে সম্ভব?!! ওয়াও। (ক্লাস টেন তো আমিও এককালে পার করছিলাম, নাকি? একের পর এক পরীক্ষায় ধরা খাওয়া আর একের পর এক মাসুদ রানা গলদঘরণ করা ছাড়া আর কিছু করতে পারছিলাম বলে তো মনে পড়তেছে না।)
১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত উপন্যাসটিকে ইসমাইল আরমানের বিশ বছর পরের লেখনির সাথে তুলনা করলে হয়ত প্রথমজীবনের প্রথম লেখা হিসেবে একটু কাঁচা হাতের ছাপ পাওয়া যেতে পারে, তাও সেটা শুধুমাত্র আতস কাঁচের নিচে ফেলে স্ট্রিক্টলি তাঁর বয়সকালের লেখনির সাথে তুলনামূলক বিচার করলেই। এমনিতে পড়ার সময় লিটারেলি একবারের জন্যও মনে হয়নি এটা কোন পরিণত হাতের লেখা নয়। কাহিনিতে রহস্য বলতে প্রায় পুরোটাই ব্যাংক ডাকাতি করে লুকিয়ে রাখা দুই মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করা নিয়ে, দুর্গম পাহাড় জঙ্গল থেকে যার সন্ধান বের করতে হলে কয়েকজন দুঃসাহসী কিশোরের সমাধান করতে হবে প্রায় অসম্ভব জটিল কিছু ধাঁধার, এদিকে পেছনে লেগে আছে ভয়ঙ্কর দুই খুনে ব্যাংক ডাকাত আর একদল মাস্তান। সহজসরল সুখপাঠ্য, আরামদায়ক ঝরঝরে সাবলীল ভাষা, বুড়োবয়সের পাকা চোখে অনেকটা অনুমেয় হলেও মেদহীন দুরন্ত গতির নাটকীয়তাপূর্ণ একটানে পড়ে ফেলার মতো উপভোগ্য কিশোর অ্যাডভেঞ্চার... অন্তত এই একটা ক্ষেত্রে যা বেরিয়েছিল একজন কিশোরের মস্তিষ্ক থেকেই! ব্রাভো, ইসমাইল আরমান ভাই।