বইমেলার পরিচিত প্রান্তরগুলির ভিড় বাদ দিয়ে অন্যান্য জায়গা একটু কালটিভেট করলেই বোঝা যায় যে, এখনও অনেক লুকোনো সম্পদ পাঠকদের অপেক্ষায় থাকে নানা জায়গায়।
ঠিক সেইভাবেই ওয়েস্ট বেঙ্গল প্যাভিলিয়নের ভিতর বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের খোঁজ পেয়ে থাকলে, এই চড়া মূল্যের বাজারেও ৫০ টাকা বা তার কমে "লোমহর্ষক ডিটেকটিভ উপন্যাস" থেকে শুরু করে স্বল্পমূল্যে কমিক্স — সবকিছুরই হদিশ পাওয়া যাবে। দরকার শুধু একটু উদ্যম, এক্সপ্লোর করার চাহিদা।
যাই হোক, বিদেশি সেক্সটন ব্লেকের কাহিনি দীনেন্দ্রকুমারের অনুবাদে রবার্ট ব্লেকের যে রূপ ধারণ করেছিল, এই উপন্যাসটিও সেই "রহস্য লহরী"-র বংশোদ্ভূত। এবং প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, এ-ধরনের "লোমাঞ্চকর রহস্য সন্দর্ভ" কেবলমাত্র মনোরঞ্জনের জন্যই রচিত হয়েছিল। নিজের সুদৃশ্য লাইব্রেরি ঘরে সোনালি ফ্রেমের চশমা চোখে, হাতে একটা হোমস ঘরানার পাইপে গুড়ুক-ভুড়ুক টান দিতে থাকা বিদগ্ধ পাঠকের বহুস্তরীয় সাহিত্যক্ষুধা মেটানোর খোরাক এসব নয়। বরং মুদ্রিত অক্ষরের মাধ্যমে নিজ-নিজ মোটাদাগের অ্যাড্রেনালিন রাশ্ মেটানোর জন্যই এই জাতীয় সাহিত্যের অবতারণা। তাইজন্যই এতে বুদ্ধির জটিল মারপ্যাঁচের বদলে রয়েছে নায়ক-খলনায়কের মধ্যেকার চেজ়িং সিকোয়েন্স। টেনশন বিল্ড-আপ, ড্রাম্যাটিক কনফ্রন্টেশন, জাস্টিস — এই তিনটি সরল স্তম্ভের উপরেই পাল্প-রহস্যের ইমারত টিকে রয়েছে।
আপাতদৃষ্টিতে যা একেবারেই লজিক বহির্ভূত, তা-ই কালে-কালে "mass appeal" বহন করে এসেছে। তখনও তাই, এখনও তাই। বিলেতের রবার্ট ব্লেক ও তার সহকর্মীদের থেকে শুরু করে আমাদের দীপক চ্যাটার্জি অবধি সক্কলেই কমবেশি একই পথের পথিক। বনেদি পাঠকের বইয়ের আলমারির বাইরেও যে সাহিত্যের অবাধ গতি সম্ভব, সেইটুকু বোঝানোই এইসমস্ত গোয়েন্দাদের আসল বাহাদুরি। বাকিটুকু তো সবাই জানে। ... চোখের নিমেষে ছদ্মবেশ বদলে ফেলা থেকে শুরু করে দু'হাতে বন্দুক ও একহাতে টর্চ — টেরিফিক সব ব্যাপারস্যাপার!