What do you think?


মরচে পড়া স্টেনগান
152 pages, Hardcover
First published February 1, 2008
About the author
Hasnat Abdul Hye
79 books17 followersহাসনাত আব্দুল হাই (English: Hasnat Abdul Hye) একজন বাংলাদেশি লেখক এবং প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক। তিনি ঢাকা, ওয়াশিংটন, লন্ডন ও কেমব্রিজে লেখাপড়া করেন। তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জগদীশ চন্দ্র বসু পুরস্কার, শের-ই-বাংলা পুরস্কার, এস.এম. সুলতান পুরস্কার, শিল্পাচার্য জয়নুল পুরস্কারে ভূষিত হন।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
January 12, 2023
১৬টা গল্পের এই সংকলনটা যেন একটা ক্যালাইডোস্কোপ। আরশিতে আলো পড়ে সবদিকে ঠিকরে বেরিয়েছে আলো- ইতিহাসের একেক অধ্যায়, সমাজবাস্তবতার নানা দিক। পছন্দের গল্পগুলো নিয়ে সংক্ষেপে বলে গেলাম :
১। মরচে পড়া স্টেনগান : রাহুলের বাবার স্মৃতি ঘাঁটতে ট্রাঙ্ক থেকে বেরিয়ে এলো মুক্তিযুদ্ধের এক পুরনো অস্ত্র। ততদিনে যুদ্ধের বহুদিন পেরিয়েছে। এ অস্ত্র কেন এতদিন ধরে রেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা? সে অস্ত্র বেরিয়ে এসে জন্ম দেয় নানান ঘনঘটার, চোখে তুলে ধরে সমাজবাস্তবতার একেকটা দিকের। বেহাত অস্ত্র জমা না দেবার পেছনের পাওয়ার প্লে, আর সেসব অস্ত্র উদ্ধারের তৎপরতার ফাঁকে পুলিশের সুনাম কামানোর ধান্দা, সবের মাঝে, মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রের মূল যে উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মুক্তির যুদ্ধ, তাই কেমন ম্লান হয়ে আসে। আর তাতে হোঁচট খেয়ে চলে স্বচক্ষে মুক্তিযুদ্ধ না দেখা, অথচ যুদ্ধের পরিণতির মুখে এসে পড়া একটা প্রজন্ম।
সে গভীর বোধ ধরে রেখেছে এই গল্পটা, 'মরচে পড়া স্টেনগান।
২। জাবেদালীর ছেলেরা : জাবেদালী পানির ধারে বসে চোখ রাখেন নদীর দিকে, দূরে সাগরের দিকে। যে নদীর পানি ঘোলা করে ঢেউ তোলে মৌসুমের ইলিশের ঝাঁক, যে সাগর একে একে দাবী করেছে তাঁর তিন ছেলেকে। বাকি আছে এক ছেলে, জেলে হওয়া ছাড়া যার নিয়তি নাই। আর আছে জাবেদালীর অভিজ্ঞতার চোখ, অভিজ্ঞতার ভার।
পানির ধারে এক জায়গায় স্থির বসে জাবেদালী, সেটুকু জায়গাতেই হাই-এর লেখায় ব্রাত্যজনের জীবন ফুটেছে নিদারুণ।
৩। ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে : বিখ্যাত ছবিটা মনে আছে, সাঁজোয়া বহরের সামনে একটা শপিং ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়েছে যুবক, ইতস্তত থেমে পড়েছে ট্যাঙ্কের সাড়ি? আচ্ছা, প্রতিবাদের ভাষা জায়গাভেদে অথবা সময়ভেদে পাল্টাতে পারে, কিন্তু দু'পক্ষ যখন সেই অত্যাচারী আর অত্যাচারিত, তখন তার মাঝে কি ঘুরেফিরে একই ছবি ফুটে ওঠে না?
বাংলাদেশের কোনো এক হরতালের প্রেক্ষাপট। একই ছবির পুনরাবৃত্তি। চমৎকার দৃশ্যবর্ণনা।
৪। রাজার ছবি : বাংলাদেশে জেএমবি'র দৌরাত্ন্যের পিঠাপিঠি, সন্ত্রাসী সংহারের সময়টা মনে আছে? পিচ্চি অমুক, হাতকাটা তমুক, কালা অমুক, একে একে সংবাদ হয়ে যাচ্ছে। রাজা, তেমন এক সন্ত্রাসী, তাড়া খেয়ে এসে লুকিয়েছে এক পতিতার ঘরে। দুজন মানুষের সংযোগ, তাঁর মাঝে মৃত্যুদন্ডের আসামীর মনস্তত্ত্বের ভিন্ন দিক খুঁজে ফিরি আমরা, পাঠক।
যৎসামান্য রূপকের ব্যবহার লক্ষণীয়।
৫। বিটোফেনের সিম্ফনি : রূপকের ব্যবহার উপস্থিত এখানেও। যে সময়ে গল্পকথকের জানলার বাইরে মা কাক ডিমে তা দিতে বসেছে, কথকের কন্যাও সন্তানসম্ভবা হয়েছেন। দুটো স্রোতে একই গল্প প্রবাহিত, দু-খানে প্রায় একই সংঘাত। এবং একই টিকে থাকা। সুন্দর একটা গল্প।
৬। কাঙালিনী সুফিয়ার গল্প / এবং / তারামন এবং একটি মিথের গল্প : দুটা গল্পে বাংলাদেশের দুজন স্বল্পালোচিত নারী কিংবদন্তীকে তুলে আনা হয়েছে। যেখান থেকে গল্প দুটো বলা হয়েছে, সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
৭। পানকৌড়ি : লঞ্চডুবি। অব্যাবস্থাপনা। দুর্নীতি। ডেক ভর্তি মৃতদেহ নিয়ে যাত্রা করেছে এমভি পানকৌড়ি, লঞ্চ চালানোর জন্য অবসর থেকে তুলে আনা হয়েছে আবুল সারেং-কে। চাঁদপুর, বরিশাল,... একে একে ঘাটে লাশ পৌঁছে দিতে পানকৌড়ির এই যাত্রা। লাশ ভর্তি লঞ্চটা যেন নিজেই একটা লাশ- সিস্টেমের। জুড়ে থাকা মানুষদের।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, গল্পের আবহ। থমথমে।
হাসনাত আবদুল হাইয়ের গল্পের নির্মাণ আহামরী না। 'স্টোরি'-র চাইতে, ভেতরের চিন্তাটুকু বেশি গুরুতর। এবং গল্পের সংলাপ অথবা ঘটনাবর্ণনা তেমন একটা আকর্ষক মনে হয়নি বেশিরভাগটায়; সেখানে পুষিয়ে দিয়েছে থটস বা চিন্তাগুলো। তাই বলে কিন্তু আবহ নির্মাণে দুর্বলতা নেই, গল্প পড়ার সময়ে তাঁর ছবিটা পরিষ্কার ফুটে ওঠার মতো বর্ণনাভঙ্গি তাঁর।
সবগুলো গল্প মিলিয়ে, 'মরচে পড়া স্টেনগান'-এ হাসনাত আব্দুল হাই যে বাংলাদেশকে তুলে এনেছেন, তা দেখতে পাওয়ার দরকার আছে। আমার মতো যদি "গতকাল অব্দিও বইটার কথা জানতাম না" অবস্থা হয়ে থাকে আপনার, বলি, বইটা পড়ে ফেলুন।
মরচে পড়া স্টেনগান (গল্পসংকলন)
লেখক : হাসনাত আব্দুল হাই
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০০৮
প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৫২
মুদ্রিত মূল্য : ১৮০ টাকা
১। মরচে পড়া স্টেনগান : রাহুলের বাবার স্মৃতি ঘাঁটতে ট্রাঙ্ক থেকে বেরিয়ে এলো মুক্তিযুদ্ধের এক পুরনো অস্ত্র। ততদিনে যুদ্ধের বহুদিন পেরিয়েছে। এ অস্ত্র কেন এতদিন ধরে রেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বাবা? সে অস্ত্র বেরিয়ে এসে জন্ম দেয় নানান ঘনঘটার, চোখে তুলে ধরে সমাজবাস্তবতার একেকটা দিকের। বেহাত অস্ত্র জমা না দেবার পেছনের পাওয়ার প্লে, আর সেসব অস্ত্র উদ্ধারের তৎপরতার ফাঁকে পুলিশের সুনাম কামানোর ধান্দা, সবের মাঝে, মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রের মূল যে উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মুক্তির যুদ্ধ, তাই কেমন ম্লান হয়ে আসে। আর তাতে হোঁচট খেয়ে চলে স্বচক্ষে মুক্তিযুদ্ধ না দেখা, অথচ যুদ্ধের পরিণতির মুখে এসে পড়া একটা প্রজন্ম।
সে গভীর বোধ ধরে রেখেছে এই গল্পটা, 'মরচে পড়া স্টেনগান।
২। জাবেদালীর ছেলেরা : জাবেদালী পানির ধারে বসে চোখ রাখেন নদীর দিকে, দূরে সাগরের দিকে। যে নদীর পানি ঘোলা করে ঢেউ তোলে মৌসুমের ইলিশের ঝাঁক, যে সাগর একে একে দাবী করেছে তাঁর তিন ছেলেকে। বাকি আছে এক ছেলে, জেলে হওয়া ছাড়া যার নিয়তি নাই। আর আছে জাবেদালীর অভিজ্ঞতার চোখ, অভিজ্ঞতার ভার।
পানির ধারে এক জায়গায় স্থির বসে জাবেদালী, সেটুকু জায়গাতেই হাই-এর লেখায় ব্রাত্যজনের জীবন ফুটেছে নিদারুণ।
৩। ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে : বিখ্যাত ছবিটা মনে আছে, সাঁজোয়া বহরের সামনে একটা শপিং ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়েছে যুবক, ইতস্তত থেমে পড়েছে ট্যাঙ্কের সাড়ি? আচ্ছা, প্রতিবাদের ভাষা জায়গাভেদে অথবা সময়ভেদে পাল্টাতে পারে, কিন্তু দু'পক্ষ যখন সেই অত্যাচারী আর অত্যাচারিত, তখন তার মাঝে কি ঘুরেফিরে একই ছবি ফুটে ওঠে না?
বাংলাদেশের কোনো এক হরতালের প্রেক্ষাপট। একই ছবির পুনরাবৃত্তি। চমৎকার দৃশ্যবর্ণনা।
৪। রাজার ছবি : বাংলাদেশে জেএমবি'র দৌরাত্ন্যের পিঠাপিঠি, সন্ত্রাসী সংহারের সময়টা মনে আছে? পিচ্চি অমুক, হাতকাটা তমুক, কালা অমুক, একে একে সংবাদ হয়ে যাচ্ছে। রাজা, তেমন এক সন্ত্রাসী, তাড়া খেয়ে এসে লুকিয়েছে এক পতিতার ঘরে। দুজন মানুষের সংযোগ, তাঁর মাঝে মৃত্যুদন্ডের আসামীর মনস্তত্ত্বের ভিন্ন দিক খুঁজে ফিরি আমরা, পাঠক।
যৎসামান্য রূপকের ব্যবহার লক্ষণীয়।
৫। বিটোফেনের সিম্ফনি : রূপকের ব্যবহার উপস্থিত এখানেও। যে সময়ে গল্পকথকের জানলার বাইরে মা কাক ডিমে তা দিতে বসেছে, কথকের কন্যাও সন্তানসম্ভবা হয়েছেন। দুটো স্রোতে একই গল্প প্রবাহিত, দু-খানে প্রায় একই সংঘাত। এবং একই টিকে থাকা। সুন্দর একটা গল্প।
৬। কাঙালিনী সুফিয়ার গল্প / এবং / তারামন এবং একটি মিথের গল্প : দুটা গল্পে বাংলাদেশের দুজন স্বল্পালোচিত নারী কিংবদন্তীকে তুলে আনা হয়েছে। যেখান থেকে গল্প দুটো বলা হয়েছে, সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
৭। পানকৌড়ি : লঞ্চডুবি। অব্যাবস্থাপনা। দুর্নীতি। ডেক ভর্তি মৃতদেহ নিয়ে যাত্রা করেছে এমভি পানকৌড়ি, লঞ্চ চালানোর জন্য অবসর থেকে তুলে আনা হয়েছে আবুল সারেং-কে। চাঁদপুর, বরিশাল,... একে একে ঘাটে লাশ পৌঁছে দিতে পানকৌড়ির এই যাত্রা। লাশ ভর্তি লঞ্চটা যেন নিজেই একটা লাশ- সিস্টেমের। জুড়ে থাকা মানুষদের।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, গল্পের আবহ। থমথমে।
হাসনাত আবদুল হাইয়ের গল্পের নির্মাণ আহামরী না। 'স্টোরি'-র চাইতে, ভেতরের চিন্তাটুকু বেশি গুরুতর। এবং গল্পের সংলাপ অথবা ঘটনাবর্ণনা তেমন একটা আকর্ষক মনে হয়নি বেশিরভাগটায়; সেখানে পুষিয়ে দিয়েছে থটস বা চিন্তাগুলো। তাই বলে কিন্তু আবহ নির্মাণে দুর্বলতা নেই, গল্প পড়ার সময়ে তাঁর ছবিটা পরিষ্কার ফুটে ওঠার মতো বর্ণনাভঙ্গি তাঁর।
সবগুলো গল্প মিলিয়ে, 'মরচে পড়া স্টেনগান'-এ হাসনাত আব্দুল হাই যে বাংলাদেশকে তুলে এনেছেন, তা দেখতে পাওয়ার দরকার আছে। আমার মতো যদি "গতকাল অব্দিও বইটার কথা জানতাম না" অবস্থা হয়ে থাকে আপনার, বলি, বইটা পড়ে ফেলুন।
মরচে পড়া স্টেনগান (গল্পসংকলন)
লেখক : হাসনাত আব্দুল হাই
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০০৮
প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ১৫২
মুদ্রিত মূল্য : ১৮০ টাকা
July 3, 2026
এই বইটা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়ে না কেন? গুডরিডসে ৫ টা রেটিং মাত্র, রকমারিতে তারও বালাই নেই। অথচ বেশ কয়টা দারুণ ছোটগল্পের সংকলন এই বই।
মোট ষোলোটা গল্পের মাঝে আমার সবচে' ভালো লেগেছে "বিটোফোনের সিম্ফনি"। গল্পের কথাই বলি— গল্পকথকের বসবাস ধানমণ্ডির একাকী বাড়িতে। স্ত্রী গত হয়েছেন, একটাই মেয়ে; যে সংসারী হয়ে থাকছে বারিধারায়। বিপুল অবসরে কথকের কাজ পাখি দেখা। অদূরে তালগাছে বাবুই পাখির বাসা, কিংবা ফ্ল্যাটের সামনের তেঁতুলগাছে কাক-দম্পতির বাস এবং ডিমে তা দেওয়া অথবা তার ব্যালকনির টবের বড় গাছটায় টুনটুনিদের বাসা বানানোর প্রচেষ্টা—সবটাই তিনি দেখেন মন দিয়ে এবং সেগুলি ক্যামেরায় ধারণও করে রাখেন। একবার এক ডেসার ট্রাক এসে তেঁতুল গাছের ডালগুলির বেশ কয়েকটা ছাঁটাই করে দিলো ইলেকট্রিক তারকে যেন তেঁতুলডাল ছুঁতে না পারে, সেই নিমিত্তে। কাকেদের বাসা তাতে পড়লো ভেঙে। সে কী আহাজারি ডিমে তা দেওয়া কাক মায়ের, অন্যান্য কাক সঙ্গীও তীব্র চিৎকারে প্রতিবাদ করলো। কিন্তু মানুষ তারা বোবা প্রাণির বেদনা কী বুঝবে, কাজ শেষ করে ট্রাক নিয়ে ফিরে গেলো তারা তাদের নিরাপদ বাসস্থানে; যে স্থান সহসা অন্যের হস্তক্ষেপে ভেঙে পড়বার সম্ভাবনা নেই!
কাক মায়ের দুঃখ কিছু ছুঁতে পেরেছিলো কথককে। তিনি অতঃপর অপেক্ষা করে গেলেন যতদিন না আবার কাক দম্পতি বাসা বাঁধে কাঁঠালগাছে, যদিও কাকেদের দেখে চিহ্নিত করবার উপায় নেই, তবু
কথকের বিশ্বাস এটি সেই পূর্বের জোড়াটিই!
মা কাক ডিম পাড়ে, পরম মমতায় আগলে রাখে সেগুলি, কথকের দিন কেটে যায় কাকের বাসায় দূরবীনের সাহায্যে উঁকিঝুঁকি দিয়ে। তার মেয়ে পাখিরও এক্ষেত্রে সীমাহীন কৌতূহল, একদিন সে আসে তার বাবাকে সুখবর জানাতে, তার শরীরে এসেছে নূতন প্রাণ! কথক এবং তার মেয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অল্পকথায় লেখক এমন নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এখানে!
তারপর কেটে যায় বেশ কিছু দিন। সবকিছু ভালোই চলছিলো। হঠাৎ আসে এক ঝড়, ওলট পালোট হয়ে যায় কাকের বাসা ফের। সেই সাথে মিসক্যারেজ হয়ে যায় (অথবা ফলস প্রেগনেন্সি, এ জায়গায় ধোঁয়াশা)
কথকের মেয়েরও। বেদনায় ভেঙে পড়া মেয়েকে তার বাসায় গিয়ে সামলান কথক। ঠিক হয় বাপ-বেটি দু'জনে মিলে রাঁধবে স্প্যাগেটি। কিচেন এপ্রোন প্রভৃতি সরঞ্জামাদি আনতে পাখি যায় পাশের ঘরে, এদিকে কথক মিউজিক প্লেয়ারে চালু করেন শিলারের "ওড টু জয়" এর উপর কম্পোজ করা বিটোফেনের নাইনথ সিম্ফনি, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বিজয় সঙ্গীত হিসেবে বানানো হত এই সিম্ফনি। মুহূর্তে বিজয় উল্লাসে ভরে যায় সমস্ত ঘর।
কথকের মনে হলো পাখিকে এখন এই গানই শুনানো যায়!
গল্প শেষ!
গল্পটা যে কী ভীষণ স্নিগ্ধ আশাজাগানিয়ার, আমি পড়ে কতক্ষণ চুপচাপ বসে আকাশ দেখলাম। এতো অল্প কথায় জীবনের এমন চরম মুহূর্ত লেখক তুলে ধরলেন।
বাকি গল্পগুলোর কোনোটিও ফেলবার মতো নয়। গল্পের বিষয়বস্তুগুলোও দারুণ, কোনো গল্পে মুক্তিযুদ্ধ এসেছে, কোনোটিতে এসেছে যুদ্ধ পরবর্তী নৈরাজ্যের গল্প, কোনোটিতে প্রেম, কোনোটিতে দ্রোহ, কোনোটিতে পরাবাস্তবতা, কোনোটিতে দর্পচূর্ণ, কোনোটিতে আবার বিশুদ্ধ বেদনা। সেগুলি নিয়ে এখনই কিছু লিখতে ইচ্ছে করছেনা। পরে কখনো লিখবো (যদি মনে থাকে!)
সবশেষে বলবো, এই বইটা আরো পাঠকের সুনজরে আসার দাবি রাখে।
মোট ষোলোটা গল্পের মাঝে আমার সবচে' ভালো লেগেছে "বিটোফোনের সিম্ফনি"। গল্পের কথাই বলি— গল্পকথকের বসবাস ধানমণ্ডির একাকী বাড়িতে। স্ত্রী গত হয়েছেন, একটাই মেয়ে; যে সংসারী হয়ে থাকছে বারিধারায়। বিপুল অবসরে কথকের কাজ পাখি দেখা। অদূরে তালগাছে বাবুই পাখির বাসা, কিংবা ফ্ল্যাটের সামনের তেঁতুলগাছে কাক-দম্পতির বাস এবং ডিমে তা দেওয়া অথবা তার ব্যালকনির টবের বড় গাছটায় টুনটুনিদের বাসা বানানোর প্রচেষ্টা—সবটাই তিনি দেখেন মন দিয়ে এবং সেগুলি ক্যামেরায় ধারণও করে রাখেন। একবার এক ডেসার ট্রাক এসে তেঁতুল গাছের ডালগুলির বেশ কয়েকটা ছাঁটাই করে দিলো ইলেকট্রিক তারকে যেন তেঁতুলডাল ছুঁতে না পারে, সেই নিমিত্তে। কাকেদের বাসা তাতে পড়লো ভেঙে। সে কী আহাজারি ডিমে তা দেওয়া কাক মায়ের, অন্যান্য কাক সঙ্গীও তীব্র চিৎকারে প্রতিবাদ করলো। কিন্তু মানুষ তারা বোবা প্রাণির বেদনা কী বুঝবে, কাজ শেষ করে ট্রাক নিয়ে ফিরে গেলো তারা তাদের নিরাপদ বাসস্থানে; যে স্থান সহসা অন্যের হস্তক্ষেপে ভেঙে পড়বার সম্ভাবনা নেই!
কাক মায়ের দুঃখ কিছু ছুঁতে পেরেছিলো কথককে। তিনি অতঃপর অপেক্ষা করে গেলেন যতদিন না আবার কাক দম্পতি বাসা বাঁধে কাঁঠালগাছে, যদিও কাকেদের দেখে চিহ্নিত করবার উপায় নেই, তবু
কথকের বিশ্বাস এটি সেই পূর্বের জোড়াটিই!
মা কাক ডিম পাড়ে, পরম মমতায় আগলে রাখে সেগুলি, কথকের দিন কেটে যায় কাকের বাসায় দূরবীনের সাহায্যে উঁকিঝুঁকি দিয়ে। তার মেয়ে পাখিরও এক্ষেত্রে সীমাহীন কৌতূহল, একদিন সে আসে তার বাবাকে সুখবর জানাতে, তার শরীরে এসেছে নূতন প্রাণ! কথক এবং তার মেয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অল্পকথায় লেখক এমন নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এখানে!
তারপর কেটে যায় বেশ কিছু দিন। সবকিছু ভালোই চলছিলো। হঠাৎ আসে এক ঝড়, ওলট পালোট হয়ে যায় কাকের বাসা ফের। সেই সাথে মিসক্যারেজ হয়ে যায় (অথবা ফলস প্রেগনেন্সি, এ জায়গায় ধোঁয়াশা)
কথকের মেয়েরও। বেদনায় ভেঙে পড়া মেয়েকে তার বাসায় গিয়ে সামলান কথক। ঠিক হয় বাপ-বেটি দু'জনে মিলে রাঁধবে স্প্যাগেটি। কিচেন এপ্রোন প্রভৃতি সরঞ্জামাদি আনতে পাখি যায় পাশের ঘরে, এদিকে কথক মিউজিক প্লেয়ারে চালু করেন শিলারের "ওড টু জয়" এর উপর কম্পোজ করা বিটোফেনের নাইনথ সিম্ফনি, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বিজয় সঙ্গীত হিসেবে বানানো হত এই সিম্ফনি। মুহূর্তে বিজয় উল্লাসে ভরে যায় সমস্ত ঘর।
কথকের মনে হলো পাখিকে এখন এই গানই শুনানো যায়!
গল্প শেষ!
গল্পটা যে কী ভীষণ স্নিগ্ধ আশাজাগানিয়ার, আমি পড়ে কতক্ষণ চুপচাপ বসে আকাশ দেখলাম। এতো অল্প কথায় জীবনের এমন চরম মুহূর্ত লেখক তুলে ধরলেন।
বাকি গল্পগুলোর কোনোটিও ফেলবার মতো নয়। গল্পের বিষয়বস্তুগুলোও দারুণ, কোনো গল্পে মুক্তিযুদ্ধ এসেছে, কোনোটিতে এসেছে যুদ্ধ পরবর্তী নৈরাজ্যের গল্প, কোনোটিতে প্রেম, কোনোটিতে দ্রোহ, কোনোটিতে পরাবাস্তবতা, কোনোটিতে দর্পচূর্ণ, কোনোটিতে আবার বিশুদ্ধ বেদনা। সেগুলি নিয়ে এখনই কিছু লিখতে ইচ্ছে করছেনা। পরে কখনো লিখবো (যদি মনে থাকে!)
সবশেষে বলবো, এই বইটা আরো পাঠকের সুনজরে আসার দাবি রাখে।
Displaying 1 - 2 of 2 reviews



