What do you think?


Feluda #11
ছিন্নমস্তার অভিশাপ
হাজারিবাগ শহরের পটভূমিকায় গড়ে-ওঠা এই দুরন্ত রহস্য-কাহিনীতে একদিকে একটি সার্কাস থেকে বাঘ পালানোর ঘটনা, অন্যদিকে ছিন্নমস্তার অভিশাপে এক হেঁয়ালিপ্রবণ বৃদ্ধের রহস্যময় মৃত্যু। সূত্র বলতে, মৃত মহেশ চৌধুরীর কয়েকটি ডায়েরি, যার মধ্যে রয়েছে হেঁয়ালি-ভরা ভাষায় লেখা কিছু অদ্ভুত সংকেত। আর, শেষ প্রহরে মৃত্যুপথযাত্রীর ফেলুদাকে দিয়ে-যাওয়া রহস্যে-ভরা কিছু ইঙ্গিত। এই সংকেত আর এই ইঙ্গিত থেকেই কী প্রখর বিশ্লেষণ এবং তুখোড় বুদ্ধি দিয়ে দুর্দান্ত সমাধানে পৌঁছলেন ফেলুদা, তাই নিয়েই এই অসাধারণ উপন্যাস ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’। ভিতরে সত্যজিৎ রায়ের আঁকা চোখ-জুড়োনো বিস্তর ইলাস্ট্রেশন এবং নানারঙ প্রচ্ছদপটে।
76 pages, Hardcover
First published January 1, 1978
About the author
Satyajit Ray
693 books1,596 followersSatyajit Ray (Bengali: সত্যজিৎ রায়) was an Indian filmmaker and author of Bengali fiction and regarded as one of the greatest auteurs of world cinema. Ray was born in the city of Calcutta into a Bengali family prominent in the world of arts and literature. Starting his career as a commercial artist, Ray was drawn into independent filmmaking after meeting French filmmaker Jean Renoir and watching Vittorio De Sica's Italian neorealist 1948 film, Bicycle Thieves.
Ray directed 36 films, including feature films, documentaries and shorts. He was also a fiction writer, publisher, illustrator, calligrapher, graphic designer and film critic. He authored several short stories and novels, primarily aimed at children and adolescents.
Ray's first film, Pather Panchali (1955), won eleven international prizes, including Best Human Documentary at the Cannes Film Festival. This film, Aparajito (1956) and Apur Sansar (1959) form The Apu Trilogy. Ray did the scripting, casting, scoring, and editing, and designed his own credit titles and publicity material. Ray received many major awards in his career, including 32 Indian National Film Awards, a number of awards at international film festivals and award ceremonies, and an Academy Award in 1992. The Government of India honoured him with the Bharat Ratna in 1992.
Early Life and Background:
Ray's grandfather, Upendrakishore Ray Chowdhury was a writer, illustrator, philosopher, publisher, amateur astronomer and a leader of the Brahmo Samaj, a religious and social movement in nineteenth century Bengal. Sukumar Ray, Upendrakishore's son and father of Satyajit, was a pioneering Bengali author and poet of nonsense rhyme and children's literature, an illustrator and a critic. Ray was born to Sukumar and Suprabha Ray in Calcutta.
Ray completed his B.A. (Hons.) in Economics at Presidency College of the University of Calcutta, though his interest was always in Fine Arts. In 1940, he went to study in Santiniketan where Ray came to appreciate Oriental Art. In 1949, Ray married Bijoya Das and the couple had a son, Sandip ray, who is now a famous film director.
Literary Works:
Ray created two of the most famous fictional characters ever in Bengali children's literature—Feluda, a sleuth in Holmesian tradition, and Professor Shonku, a genius scientist. Ray also wrote many short stories mostly centered on Macabre, Thriller and Paranormal which were published as collections of 12 stories. Ray wrote an autobiography about his childhood years, Jakhan Choto Chilam (1982). He also wrote essays on film, published as the collections: Our Films, Their Films (1976), Bishoy Chalachchitra (1976), and Ekei Bole Shooting (1979).
Awards, Honors and Recognitions:
Ray received many awards, including 32 National Film Awards by the Government of India. At the Moscow Film Festival in 1979, he was awarded for the contribution to cinema. At the Berlin Film Festival, he was one of only three to win the Silver Bear for Best Director more than once and holds the record for the most Golden Bear nominations, with seven. At the Venice Film Festival, he won a Golden Lion for Aparajito(1956), and awarded the Golden Lion Honorary Award in 1982. In 1992 he was posthumously awarded the Akira Kurosawa Award for Lifetime Achievement in Directing at the San Francisco International Film Festival.
Ray directed 36 films, including feature films, documentaries and shorts. He was also a fiction writer, publisher, illustrator, calligrapher, graphic designer and film critic. He authored several short stories and novels, primarily aimed at children and adolescents.
Ray's first film, Pather Panchali (1955), won eleven international prizes, including Best Human Documentary at the Cannes Film Festival. This film, Aparajito (1956) and Apur Sansar (1959) form The Apu Trilogy. Ray did the scripting, casting, scoring, and editing, and designed his own credit titles and publicity material. Ray received many major awards in his career, including 32 Indian National Film Awards, a number of awards at international film festivals and award ceremonies, and an Academy Award in 1992. The Government of India honoured him with the Bharat Ratna in 1992.
Early Life and Background:
Ray's grandfather, Upendrakishore Ray Chowdhury was a writer, illustrator, philosopher, publisher, amateur astronomer and a leader of the Brahmo Samaj, a religious and social movement in nineteenth century Bengal. Sukumar Ray, Upendrakishore's son and father of Satyajit, was a pioneering Bengali author and poet of nonsense rhyme and children's literature, an illustrator and a critic. Ray was born to Sukumar and Suprabha Ray in Calcutta.
Ray completed his B.A. (Hons.) in Economics at Presidency College of the University of Calcutta, though his interest was always in Fine Arts. In 1940, he went to study in Santiniketan where Ray came to appreciate Oriental Art. In 1949, Ray married Bijoya Das and the couple had a son, Sandip ray, who is now a famous film director.
Literary Works:
Ray created two of the most famous fictional characters ever in Bengali children's literature—Feluda, a sleuth in Holmesian tradition, and Professor Shonku, a genius scientist. Ray also wrote many short stories mostly centered on Macabre, Thriller and Paranormal which were published as collections of 12 stories. Ray wrote an autobiography about his childhood years, Jakhan Choto Chilam (1982). He also wrote essays on film, published as the collections: Our Films, Their Films (1976), Bishoy Chalachchitra (1976), and Ekei Bole Shooting (1979).
Awards, Honors and Recognitions:
Ray received many awards, including 32 National Film Awards by the Government of India. At the Moscow Film Festival in 1979, he was awarded for the contribution to cinema. At the Berlin Film Festival, he was one of only three to win the Silver Bear for Best Director more than once and holds the record for the most Golden Bear nominations, with seven. At the Venice Film Festival, he won a Golden Lion for Aparajito(1956), and awarded the Golden Lion Honorary Award in 1982. In 1992 he was posthumously awarded the Akira Kurosawa Award for Lifetime Achievement in Directing at the San Francisco International Film Festival.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 61 reviews
June 24, 2018
Circus, Ring master, Tiger, six cardinal passions, three ( + 1 – 1 ) sons, 2 murders, and an old riddler – yes, Feluda again. But an overdose of the character? Not at all. Chinnamastar Abhishap is only a fitting addition to me.
June 1, 2021
হেঁয়ালি ও শব্দের খেলাগুলো দারুণ ছিল। ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি নিয়ে কিছুই বলছি না। তবে জটায়ু ও ফেলুদার রসবোধ খুবই উপভোগ্য। শুরু থেকেই দারুণভাবে রহস্যের জাল বিছিয়ে কাহিনীর শুরু। শেষে এসে সুনিপুণভাবে গুঁটিয়ে নেয়া হয়েছে জাল। মিলিয়ে দেয়া হয়েছে দুটো বিচ্ছিন্ন প্রেক্ষাপট। ভেবেছিলাম প্রথম টুইস্টটা জটিল কিছু হবে, ফলাফল যাকে গোনায় ধরিনি সে-ই খুনি। হার মানতে হল প্রিয় রায় বাবুর কাছে। হার মেনেছি বলেই পাঁচ তারকা দিলাম।
আর সর্বশেষ টুইস্টটা ধারণার-ই বাইরে। এটা চমক ছিল।
বর্তমানে মডার্ন অনেক ক্রাইম রাইটার সর্বশেষ টুইস্টটার আদলে কাহিনী গড়েন। কিন্তু প্রিয় সত্যজিৎ রায় ১৯৭৮ এ এমনটা করে দেখিয়েছেন।
ফেলুদার সাথে এই জার্নিটা দারুণ ছিল।
আর সর্বশেষ টুইস্টটা ধারণার-ই বাইরে। এটা চমক ছিল।
বর্তমানে মডার্ন অনেক ক্রাইম রাইটার সর্বশেষ টুইস্টটার আদলে কাহিনী গড়েন। কিন্তু প্রিয় সত্যজিৎ রায় ১৯৭৮ এ এমনটা করে দেখিয়েছেন।
ফেলুদার সাথে এই জার্নিটা দারুণ ছিল।
December 8, 2025
খুব পছন্দের বই।
কিন্তু বাঙালির সার্কাসে যে কর্ণেল সুরেশ বিশ্বাস সিংহের মুখের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিতেন এমন কোন তথ্য তো নেই!
অবশ্য অন্য কোথাও থেকে হয়তো নিয়েছেন!
যা হোক, সব মিলিয়ে এটা একটা জমজমাট রহস্য-অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস।
কিন্তু বাঙালির সার্কাসে যে কর্ণেল সুরেশ বিশ্বাস সিংহের মুখের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিতেন এমন কোন তথ্য তো নেই!
অবশ্য অন্য কোথাও থেকে হয়তো নিয়েছেন!
যা হোক, সব মিলিয়ে এটা একটা জমজমাট রহস্য-অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস।
May 8, 2022
বছরে দু-একখানা ম্যান্ডেটরি ফেলুপাঠ না হলে বইপড়া জমে ওঠে না। এ জিনিস ক্লাসিক, পড়তে পড়তে কখন পুরনো হবার নয়। এহেন দারুণ উপন্যাস থেকে যে অমন মধ্যমানের সিরিজ তৈরি করা যায়, সেটা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের বদান্যতায় বছরখানেক আগে দেখবার সৌভাগ্য হয়েছে। তাই বলছি মশাই, ছাড়ুন ওসব। আর ও পাড়া মারাবেন না, ওখানে আড্ডাও হয় না, টাইম খানাও নষ্ট। পারলে এটাকেই আরো দুশোবার পড়ে ফেলুন। যতই হোক, ফেলু মিত্তির নেভার ফেইলস।
June 7, 2026
মহেশবাবু,তার তিন ছেলে, পালকপুত্র আর শব্দের খেলা। যদিও কিছুটা অনুমান করতে পেরেছিলাম তবুও বেশ লেগেছে। এতকাল আগে রায়বাবু এমন কিছু লিখে ফেলেছেন ভাবা যায়!!
July 28, 2026
দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যবশত সেলুলয়েডের পর্দায় "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" আগেই দেখে ফেলেছিলাম। তবুও ফেলু মিত্তিরের রহস্য উদঘাটনের মধ্যে আলাদা একটা ইয়ে মানে রোমাঞ্চ আছে.. রহস্য, হেয়ালি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা(যেটা বরাবর সিরিজের বাকি বইয়েও পাওয়া যায়) আর একটুখানি ইতিহাস। এইসব মিলিয়েই ফেলুদা।
হ্যাপি রিডিং💙
হ্যাপি রিডিং💙
March 17, 2021
এটার উপর ই সম্প্রতি একটা সিরিজ বানানো হয়েছে।শব্দ নিয়ে হেয়ালি ও গল্পের মোড় গুলো বেশ উপভোগ্য ছিল।এর ই মাধ্যমে শেষ করলাম ফেলুদা সমগ্র ১।
December 4, 2022
ফেলুদা কোথাও যাবে কিন্তু রহস্য থাকবে না তা কি হয়? ছিন্নমস্তায় ছুটি কাটাতে যেয়ে অজানা রহস্যে জড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর আগে মহেশ বাবুকে কথা দেয় ফেলুদা পূরণ হবে শেষ ইচ্ছে। সার্কাস থেকে পালিয়ে যায় বাঘ, যার ভয়ে তটস্থ সবাই। কিছু হেঁয়ালি কিন্তু যার পিছে লুকিয়ে আছে অজানা কালো অতীত!
ফেলুদা শুনলেই মনের কল্পপটে ফুটে ওঠে বুদ্ধিদীপ্ত একজোড়া চোখ যা রহস্য ভেদে পটু। সাথে তোপসের জবানীতে ঝরঝরে কাহিনী, লালমোহন বাবুর হাস্যরসাত্মক কার্যকলাপ। ফেলুদা সিরিজের প্রিয় বইগুলোর মধ্যে ❝ছিন্নমস্তার অভিশাপ❞ থাকবে সবসময়ই। হেঁয়ালি শব্দের খেলা, সবুজ বন, বন্য প্রকৃতি, সার্কাসের খেলা সাথে যুক্ত হয়েছে সাবলীল লেখনশৈলী ও বর্ণনা। শেষটা চমকে দিয়েছে। কম সন্দেহ যার উপর ছিল সেই খুনি! আগেও পড়েছি কিন্তু আবার পড়েও মজা পেয়েছি।
ফেলুদা শুনলেই মনের কল্পপটে ফুটে ওঠে বুদ্ধিদীপ্ত একজোড়া চোখ যা রহস্য ভেদে পটু। সাথে তোপসের জবানীতে ঝরঝরে কাহিনী, লালমোহন বাবুর হাস্যরসাত্মক কার্যকলাপ। ফেলুদা সিরিজের প্রিয় বইগুলোর মধ্যে ❝ছিন্নমস্তার অভিশাপ❞ থাকবে সবসময়ই। হেঁয়ালি শব্দের খেলা, সবুজ বন, বন্য প্রকৃতি, সার্কাসের খেলা সাথে যুক্ত হয়েছে সাবলীল লেখনশৈলী ও বর্ণনা। শেষটা চমকে দিয়েছে। কম সন্দেহ যার উপর ছিল সেই খুনি! আগেও পড়েছি কিন্তু আবার পড়েও মজা পেয়েছি।
April 6, 2024
This was an amazing story. The reveal was extremely obvious but journey is more important than the destination, am I right? Initially it seemed like the story was going in a thousand different directions but it definitely got together in the end. Each character was loveable and unique. Definitely a fun ride!
August 2, 2021
ফেলুদা সিরিজের যত গল্প আছে তার ভিতর একদম সেরাগুলোর তালিকা করলে সেখানে "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" এর স্থান পাওয়া উচিত।
June 13, 2026
জার্নিতে গোয়েন্দা গল্প পড়াটা অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। এবারে পড়লাম সত্যাজিৎ রায়ের "ছিন্নমস্তার অভিশাপ"। সার্কাস থেকে বাঘ হারিয়ে যাওয়া দিয়ে কাহিনীর শুরু। ধীরে ধীরে ফেলুদার সাথে পরিচয় হয় মহেশ বাবু ও তার ছেলেদের। মহেশ বাবুর মেজো ছেলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে তিনি ভেঙে পড়েন। অনেক বছর অপেক্ষা করার পরও যখন ছেলে ফিরে আসেনি তখন তিনি তার প্রথম উইল পরিবর্তন করেন।
একদিন পিকনিকে মহেশ বাবুর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। সবশেষে ফেলু মিত্তির তার ক্ষুরধার বুদ্ধির সাহায্যে আরোও একবার বাজিমাত করল।
একদিন পিকনিকে মহেশ বাবুর আকস্মিক মৃত্যু ঘটলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। সবশেষে ফেলু মিত্তির তার ক্ষুরধার বুদ্ধির সাহায্যে আরোও একবার বাজিমাত করল।
August 15, 2023
ফেলুদা সমগ্র প্রথম খন্ডের শেষ গল্প। কথায় আছে না, ঢেঁকি সর্গে গেলেও ধান ভাণে। সে কথার প্রমাণ করতেই হাজারিবাগে ছুটি কাটাতে গিয়ে আরেক রহস্যে জড়িয়ে পড়লেন ফেলুদা। হেয়ালিগুলো দারুণ ছিল। আর শেষের টুইস্টটাও অসাধারণ। হার মানতেই হলো রায়সাহেবের কাছে। সার্কাস, বাঘ, ইতিহাস, হেঁয়ালি,দুটো খুন সবই আছে গল্পটাতে।
December 27, 2018
This book has it all. Murder, curse, circus and Tiger!
If I have to give Stars to Feluda Series I have to give hundred stars.
Undoubtedly, Feluda is the best Bengali detective series. Satyajit Ray is an honor to the whole Bengal. I cannot praise his creation enough.
"Chinnomostar Ovishap" is one of the best stories of Feluda. In this book, we met two other brilliant characters (Mahesh and Karandikaur) who were a match to the great Bengali detective.
Laal Mohan with his usual charm filled the book with humor, which took the book to a whole new level.
It is a book full of romance, suspense and excitement!
If I have to give Stars to Feluda Series I have to give hundred stars.
Undoubtedly, Feluda is the best Bengali detective series. Satyajit Ray is an honor to the whole Bengal. I cannot praise his creation enough.
"Chinnomostar Ovishap" is one of the best stories of Feluda. In this book, we met two other brilliant characters (Mahesh and Karandikaur) who were a match to the great Bengali detective.
Laal Mohan with his usual charm filled the book with humor, which took the book to a whole new level.
It is a book full of romance, suspense and excitement!
Read
January 5, 2022"শের তো ভাগা, বাট হাউ?" 😋
November 28, 2025
বইয়ে ফেলুদার বুদ্ধির খেলা কিছুটা কম, তবে জটায়ুর সেই লেভেলের মজার কান্ডকারখানা, জমাট রহস্য, দুর্দান্ত ইলাস্ট্রেশন সবমিলিয়ে একেবারে ক্লাসিক ফেলুদা।
July 10, 2021
Impactful. Mystery. Humor. Adventure. All in One. What more you need?
January 31, 2021
গ্রেট ম্যাজেস্টিক সার্কাসের বাঘ সুলতান আর মহেশ বাবুর রহস্যময় জীবন— দুই মিলে পুরো জমজমাটি!
লালমোহন বাবু তো ছিলেনই। তার উপস্থিতি ছাড়া ফেলুদার গল্পে কি-যেন-নেই কি-যেন-নেই মনে হয়। অডিওবই এর দরুন তার 'মশাইইইইই' বলে হাঁক দেওয়াটা শুনতে পেলুম। বাহ্হ্হ্...
জটায়ুর হিন্দি ভাষায় পারদর্শীতা (!) বরাবরই হাস্যরসের খোরাক দেয়। না বললেই নয়, আমার নিজের হিন্দির দৌড়ও ওই পর্যন্তই।
গল্প নিয়ে নাই বললাম। বই পড়ে বা শুনে নেবেন!
লালমোহন বাবু তো ছিলেনই। তার উপস্থিতি ছাড়া ফেলুদার গল্পে কি-যেন-নেই কি-যেন-নেই মনে হয়। অডিওবই এর দরুন তার 'মশাইইইইই' বলে হাঁক দেওয়াটা শুনতে পেলুম। বাহ্হ্হ্...
জটায়ুর হিন্দি ভাষায় পারদর্শীতা (!) বরাবরই হাস্যরসের খোরাক দেয়। না বললেই নয়, আমার নিজের হিন্দির দৌড়ও ওই পর্যন্তই।
গল্প নিয়ে নাই বললাম। বই পড়ে বা শুনে নেবেন!
November 23, 2015
শের তো ভাগা, বাট হাউ?
February 2, 2025
Priorities of all bengalis (in descending order):
- Tagore
- Satyajit
- Fish
A murder mystery usually focuses on one mystery but this somehow focused on 5-6 at the same time. All fitting all that in just 100 pages is so impressive.
Feluda was a such common name growing up that it felt nice to understand why bengalis are so obsessed with the character. Also felt so nice to discuss stuff about Feluda stories (both books and movies) with my parents and grandparents who have read basically all feluda stories out there (including all other Ray books and films).
That being said, Lal Mohan babu is so so funny. My parents said his portrayal in the movies is just hilarious so can't wait to watch a feluda movie soon. Ofc bc of the characters but also because I've never watched a Ray film before.
Despite this glorious review, I wasn't a big fan of the number of characters in the plot. Sure, that's needed to make the story interesting but too many, too fast.
- Tagore
- Satyajit
- Fish
A murder mystery usually focuses on one mystery but this somehow focused on 5-6 at the same time. All fitting all that in just 100 pages is so impressive.
Feluda was a such common name growing up that it felt nice to understand why bengalis are so obsessed with the character. Also felt so nice to discuss stuff about Feluda stories (both books and movies) with my parents and grandparents who have read basically all feluda stories out there (including all other Ray books and films).
That being said, Lal Mohan babu is so so funny. My parents said his portrayal in the movies is just hilarious so can't wait to watch a feluda movie soon. Ofc bc of the characters but also because I've never watched a Ray film before.
Despite this glorious review, I wasn't a big fan of the number of characters in the plot. Sure, that's needed to make the story interesting but too many, too fast.
January 2, 2021
ফেলুদা ফেরত সিজন-১ সত্যজিৎ রায়ের এই গল্প অবলম্বনেই নির্মিত, তাই ভাবলুম একটু পড়ে নেয়া যাক।
যেমন কথা তেমন কাজ, সকাল থেকে এখনের মধ্যে গল্পটা পড়ে নিলাম।
ফেলুদার দল, মহেশ বাবুর কালেকশন, কথার খেলা, সার্কাস, রিং মাস্টার সব মিলিয়ে দারুন কারসাজি!
এই বই পড়ে এক পুরাতন বইয়ের সন্ধান পেলাম। 'বাঙ্গালির সার্কাস'৷ বইটিও পড়ব।
যেমন কথা তেমন কাজ, সকাল থেকে এখনের মধ্যে গল্পটা পড়ে নিলাম।
ফেলুদার দল, মহেশ বাবুর কালেকশন, কথার খেলা, সার্কাস, রিং মাস্টার সব মিলিয়ে দারুন কারসাজি!
এই বই পড়ে এক পুরাতন বইয়ের সন্ধান পেলাম। 'বাঙ্গালির সার্কাস'৷ বইটিও পড়ব।
April 28, 2021
আমার পড়া ফেলুদা’র সবগুলো কাহিনীর মধ্যে এই গল্পটি সবচেয়ে রহস্যজনক লেগেছে, কারণ হাজারীবাগের গ্রেট ম্যাজেস্টিক সার্কাসের বাঘের মুখের ভেতর মাথা ঢুকিয়ে খেলা দেখানো থেকে শুরু করে মহেশ বাবুর বাক্যের খেলাগুলো অসম্ভব অসাধারণ ছিল যেটা আসলেই বোঝা খুবই কঠিন। তবুও ফেলুদা তার চমৎকার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে এক-একটি শব্দকে খুব সুন্দর করে মিলিয়ে তার আসল পরিচয়ের নাম দিতে পেরেছে। এবং শেষ পর্যন্ত বীরেন বাবুর পরিচয়টাও দক্ষতার সাথে খুঁজে বের করে। সত্যি আসলেই ফেলুদা’র বুদ্ধির কোনো জবাব নেই।
September 28, 2020
Expect the unexpected in the end. Feluda's adventures would keep you engrossed through out, they would make you think and guess who the real culprit is till the end, something else only would come out, that's the trademark of Feluda's adventures.
June 9, 2026
অনেকদিন আগের পড়া ছিল, প্রায় সব ই ভুলে গেছিলাম! অডিও বুক শুনতে শুনতে আস্তে আস্তে অনেক কিছু মনে পরতেছিল! শব্দের খেলাগুলা মজা ছিল অনেক! লাস্টের টুইস্ট ও ভালো ছিল!
"বাংলা গোয়েন্দা গল্প" নামে চ্যানেলে শুনছি অডিও বুকটা! ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব ভালো, মনে হয় যে ম্যুভি দেখতেছি! কিন্তু ভয়েস মডুলেশন টা একটু প্যারা লাগে!
"বাংলা গোয়েন্দা গল্প" নামে চ্যানেলে শুনছি অডিও বুকটা! ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক খুব ভালো, মনে হয় যে ম্যুভি দেখতেছি! কিন্তু ভয়েস মডুলেশন টা একটু প্যারা লাগে!
May 2, 2022
যদিও শব্দ শুনে পড়া হলো পুড়োটা, সানডে সাসপেন্সে। বইটার নাম, কাভার, অলংকরণ আর লেখক যখন সত্যজিৎ রায়—তখন বোঝাই যায় এতে ক্লাস বলে একটা ব্যাপার রয়েছে। সেই ক্লাসিক ফেলুদা, তোপসে এন্ড জটায়ু। এই সিরিজের রহস্যময়তার বিচারে, সেরাদের একটা ছিলো বলতে হবে।
আর সানডে সাসপেন্স?
বাংলা সাহিত্যভুক্ত বুকিশদের জন্য ইহা নিসন্দেহে একটি আশীর্বাদমূলক পণ্য।
আর সানডে সাসপেন্স?
বাংলা সাহিত্যভুক্ত বুকিশদের জন্য ইহা নিসন্দেহে একটি আশীর্বাদমূলক পণ্য।
June 27, 2026
এটা চমৎকার লেগেছে। হেয়ালিগুলো দারুণ ছিল।
November 23, 2014
Once i got lucky in finding Felu Da in english then there is no stopping! So finished the second book and enjoyed every bit of it.
Slowly his unique style is getting familiar to me and growing on me as well :-)
I read and got to know that Satyajit Ray had deep interests in crime fiction and he read all Sherlock Holmes fictions in his school days and when Ray himself started writing crime fictions, unsurprisingly, the character Sherlock Holmes inspired his writings. Feluda's character resembles Sherlock Holmes and Tapesh/Topshe's character resembles Dr. Watson so now I know :-)
Go for it.
Slowly his unique style is getting familiar to me and growing on me as well :-)
I read and got to know that Satyajit Ray had deep interests in crime fiction and he read all Sherlock Holmes fictions in his school days and when Ray himself started writing crime fictions, unsurprisingly, the character Sherlock Holmes inspired his writings. Feluda's character resembles Sherlock Holmes and Tapesh/Topshe's character resembles Dr. Watson so now I know :-)
Go for it.
March 14, 2025
ওয়ার্ডপ্লে দারুণ ছিল, কিন্তু রহস্যটা ছিমছাম। মনে ধরেনি সেটা বলছিনা, ফেলু মিত্তির সবসময় উপভোগ্য — অ্যাডভেঞ্চারস — এতদিন পরে আবার পড়ে শেষের টুইস্ট প্রথমবারের মতোই ধাক্কা দিল। আর জটায়ুর হিন্দি ইংরেজি মিশিয়ে গন্ডগোল পাকানো শুনলেই বলতে হয় “ আপনি হিন্দি চালিয়ে যেতে পারেন, বেশ লাগছে “ (রেফ:সোনার কেল্লা)। মধু মধু মধু
December 9, 2016
The mystery/Detective works of Satyajit Ray are delightful treat for the readers. I am no exception. I enjoyed all his his stories. This one that deals with the mystery solving regarding the lost son of a father.
January 4, 2022
Nice, the plot is very twisted, the Although too much attention has been given to circus tiger which found to be no significance, also the title of story is not justifiable, but this book will keeps you engaged.
May 18, 2022
অনেকসময়-ই মস্তিষ্কের মধ্যে বসে থাকে ফেলুদা ও তার দল। তাদের চলাচল, ভাবভঙ্গি যেন মুখস্ত হয়ে যায়। গল্পের লাইন মাথায় গেঁথে যায়। সাথে যাত্রা হয় বুদ্ধিদীপ্ত রহস্য সমাধানের এক অসাধারণ গোলকধাঁধায়। ফেলুদার এবারের যাত্রা রাঁচিতে।
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
একটি তদন্ত শেষ করে ফেলুদার ফিরে এলেন। মক্কেল খুশি হয়ে দিন দশকের জন্য তার হাজারিবাগের বাড়ি প্রস্তাব দিলে ফেলুদা সানন্দে তা গ্রহণ করেন। ঘোরাও হবে, ছুটি কাটানোও হবে। কিন্তু ফেলুদা যেখানে যায়, ছুটির চেয়ে রহস্য দ্রুত ছুটে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এর রহস্য সমাধান করতে আবারও মগজাস্ত্রের খেল দেখাতে শুরু করলেন।
দ্য গ্রেট ম্যাজিস্টিক সার্কাসের পোস্টারে ছেয়ে আছে চারিপাশ। জমকালো এ আয়োজনে হুট করেই নেমে এসেছে ভীতির কালো ছায়া। সার্কাসের বাঘ পালিয়েছে। এমন খবরে তটস্থ জনসাধারণ। কৌতূহলবশত ফেলুদা খোঁজখবর করছেন। দেখা হলো রিং মাস্টার বা বাঘ ট্রেনার কারাণ্ডিকারের সাথে। বাঘ ধরার তোরজোড় শুরু হয়েছে চারিদিক। ধরতে না পারলে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না বন বিভাগের লোকজন। কারাণ্ডিকার তা মেনে নিতে পারেন না। নিজের হাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া বাঘকে বাঁচাতে হবে। যে করেই হোক।
হাজারিবাগ যাওয়ার পথে ফেলুদার পরিচয় হয় প্রীতীন্দ্রবাবুর সাথে। তার সূত্র ধরে পরিচয় মহেশ চৌধুরীর সাথে। তারা ফেলুদার প্রস্তাব দেন ওদের সাথে পিকনিকে যাওয়ার। সানন্দে রাজি হয়ে তোপসে আর জটায়ুকে নিয়ে যুক্ত হন সবার সাথে। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ছিন্নমস্তার মন্দিরের কাছাকাছি জায়গায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন মহেশবাবু। পাথরের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ফেলুদাকে কয়েকটি দায়িত্ব দিয়ে যান। এই দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার শপথ নেন ফেলুদা। যত বাঁধা-ই আসুক, পেছনে ফেরা চলবে না।
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
ফেলুদা সিরিজের আমার অন্যতম প্রিয় বই "ছিন্নমস্তার অভিশাপ"। কেননা বইটিতে মস্তিষ্ক কাজে লাগানোর অনেক উপকরণ আছে। হেঁয়ালির ছলে রহস্যের সমাধানে আমার বেশ পুরোনো আকর্ষণ আছে। আর তা যদি হয় সত্যজিৎ রায়ের মাথা থেকে বের হওয়া, তাহলে তো আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। শব্দ দিয়ে কতভাবে খেলা যায়, তা সত্যজিৎ রায় "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন। এসবে মুগ্ধ হবে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
সত্যজিৎ রায়ের লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শক্তিশালী বর্ণনা। তিনি যেভাবে বর্ণনা দেন, মনে হয় পুরো প্রকৃতি যেন চোখের সামনে ফুটে উঠছে। চারদেয়ালের এই বদ্ধ ঘরে থেকেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বাদ নেওয়া যায়। মনে হয়, আমাকেই ঘিরে আছে সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল। দূরের সুউচ্চ পাহাড় চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়। কিংবা নদীর স্রোতের কলকল শব্দ কানে শ্রুতিমধুর হয়ে বাজে। এমন বর্ণনায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে যায়। দূরদেশে না গিয়েও তার ওপর সৌন্দর্য্য অবলোকন করা যায়।
ফেলুদার গল্পগুলোতে গল্পের ছলে ছোটোখাটো শিক্ষণীয় বিষয় উঠে আসে। শুধু রহস্য না, এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছোটো ছোটো শিক্ষার উপকরণ ছড়িয়ে থাকে। "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইয়ে ষড়রিপু সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি। তার কিছু বর্ণনা আমি আমার অন্যান্য রিভিউতে দিয়েছি। এছাড়া বাঘ কখন গর্জন করে, কখন তা গোঙানিতে পরিণত হয়, তার ইংরেজি নাম কী; এমন সূক্ষ্ম জিনিস জানা যায়। এছাড়া শব্দ নিয়ে খেলা সব পাঠককেই মুগ্ধ করবে।
সত্যজিৎ রায়ের আরও একটি গুণ বাহুল্য বর্জনতা। খুব অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার দক্ষতা সবার থাকে না। আমার কাছে ফেলুদা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রহস্যের সামান্য আবহ তৈরি করে খুব দ্রুত ও সাবলীলভাবে রহস্যে শেষ সীমানায় পৌঁছে যাওয়া আমার খুব ভালো লাগে। "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল টুইস্ট। শেষে সাদামাটাভাবে রহস্য উন্মোচন হলেও, দোষী কে হবে আগে থেকে আন্দাজ করা যায়নি। এই দিক থেকে লেখক যেভাবে ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছেন, প্রশংসা করার মতো।
▪️ চরিত্রায়ন ;
ফেলুদা গল্পে প্রধান তিন চরিত্র ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু। তাদের নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ভারতীয় লেখকদের ক্ষেত্রে, তাদের প্রধান চরিত্রকে অতিমানবীয় করার ক্ষমতা হরহামেশাই দেখি। সব কিছুতে দক্ষ হওয়ার সুপার পাওয়ার তাদের থাকে। ফেলুদাও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেলুদা মারামারি পারে, পিস্তল চালাতে পারে, শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ডরহীন নির্ভার থাকতে, বুদ্ধিতে সবাইকে কাবু করতে পারে। আবার হেঁয়ালি পেলে তা দ্রুত সবার আগে সমাধান করতে পারে। এমন চরিত্র অন্য জায়গায় দেখলে বিরক্তির উদ্রেক হলেও, ফেলুদার ক্ষেত্রে তা মোটেও হয় না। মনে হয়, এমন চরিত্র যেন ফেলুদার জন্মগত। আর এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা। লেখক সুপার হিউম্যান হিসেবই ফেলুদাকে তৈরি করলেও, তা নজরে আসবে খুব সামান্যই।
"ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পটাও তোপসের জবানীতে পাওয়া যায়। ফেলুদার সাগরেদ হিসেবে একটু একটু করে পরিণত হচ্ছে। ছোটোখাটো হেঁয়ালি সমাধান করা তার কাছে কঠিন কিছু নয়। জটায়ু যথারীতি হাস্যরস তৈরি করতে মশগুল। বাঘকে নিয়ে তার ভয়, তার অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা সবই যেন চোখের সামনে দেখতে পারছিলাম। আর ঠোঁটের কোণা প্রসারিত হয়ে হাসি আটকানো দুঃসাধ্য ব্যাপার।
এই গল্পের আকর্ষণীয় চরিত্র মহেশ চৌধুরী। শব্দ নিয়ে খেলা করায় আর জুড়ি নেই। আর সেটা জানান দেয় তার বুদ্ধিমত্তার। নিজের প্রিয় নাতনী জোড়া মৌমাছির সাথেও এমন খেলায় মেতে উঠেন। গল্পে খুব সামান্য পরিমাণ থাকলেও যেন পুরোটা সময় ছিল তার বিচরণ। এছাড়া প্রীতীন্দ্রবাবু ছিলেন নিজের সম্পর্কে বাড়িয়ে বলা লোক। অন্যদিকে অরুণবাবু লোভে পড়ে সর্বস্ব প্রায় খুইয়ে ফেলেছেন। নীলিমা দেবী শক্তসমর্থ মহিলা ফেলুদাকে সর্বশেষ সাহায্য করেন। রিং মাস্টার কারাণ্ডিকারকেও ফেলে দেওয়া উচিত হবে না। তার পেছনের অতীত তাকে ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো ঠিকানায়।
মোদ্দাকথা, "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পে সকল চরিত্র সমান গুরুত্ব পেয়েছে। কেউ বেশি বা কম নয়।
▪️পরিশেষে, "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইটি মস্তিষ্ক শান দেওয়ার জন্য অসাধারণ। ফেলুদা সিরিজে আমার প্রিয় পাঁচ গল্পের একটি। যতবার পড়ি, মনে হয় এবারই প্রথম। একইভাবে আকৃষ্ট হই, একইভাবে মুগ্ধ হই।
▪️বই : ছিন্নমস্তার অভিশাপ
▪️লেখক : সত্যজিৎ রায়
▪️প্রকাশনী : আনন্দ পাবলিশার্স
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
▪️কাহিনি সংক্ষেপ :
একটি তদন্ত শেষ করে ফেলুদার ফিরে এলেন। মক্কেল খুশি হয়ে দিন দশকের জন্য তার হাজারিবাগের বাড়ি প্রস্তাব দিলে ফেলুদা সানন্দে তা গ্রহণ করেন। ঘোরাও হবে, ছুটি কাটানোও হবে। কিন্তু ফেলুদা যেখানে যায়, ছুটির চেয়ে রহস্য দ্রুত ছুটে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। আর এর রহস্য সমাধান করতে আবারও মগজাস্ত্রের খেল দেখাতে শুরু করলেন।
দ্য গ্রেট ম্যাজিস্টিক সার্কাসের পোস্টারে ছেয়ে আছে চারিপাশ। জমকালো এ আয়োজনে হুট করেই নেমে এসেছে ভীতির কালো ছায়া। সার্কাসের বাঘ পালিয়েছে। এমন খবরে তটস্থ জনসাধারণ। কৌতূহলবশত ফেলুদা খোঁজখবর করছেন। দেখা হলো রিং মাস্টার বা বাঘ ট্রেনার কারাণ্ডিকারের সাথে। বাঘ ধরার তোরজোড় শুরু হয়েছে চারিদিক। ধরতে না পারলে মেরে ফেলতেও দ্বিধা করবে না বন বিভাগের লোকজন। কারাণ্ডিকার তা মেনে নিতে পারেন না। নিজের হাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া বাঘকে বাঁচাতে হবে। যে করেই হোক।
হাজারিবাগ যাওয়ার পথে ফেলুদার পরিচয় হয় প্রীতীন্দ্রবাবুর সাথে। তার সূত্র ধরে পরিচয় মহেশ চৌধুরীর সাথে। তারা ফেলুদার প্রস্তাব দেন ওদের সাথে পিকনিকে যাওয়ার। সানন্দে রাজি হয়ে তোপসে আর জটায়ুকে নিয়ে যুক্ত হন সবার সাথে। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। ছিন্নমস্তার মন্দিরের কাছাকাছি জায়গায় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন মহেশবাবু। পাথরের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ফেলুদাকে কয়েকটি দায়িত্ব দিয়ে যান। এই দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার শপথ নেন ফেলুদা। যত বাঁধা-ই আসুক, পেছনে ফেরা চলবে না।
▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :
ফেলুদা সিরিজের আমার অন্যতম প্রিয় বই "ছিন্নমস্তার অভিশাপ"। কেননা বইটিতে মস্তিষ্ক কাজে লাগানোর অনেক উপকরণ আছে। হেঁয়ালির ছলে রহস্যের সমাধানে আমার বেশ পুরোনো আকর্ষণ আছে। আর তা যদি হয় সত্যজিৎ রায়ের মাথা থেকে বের হওয়া, তাহলে তো আকর্ষণ বহুগুণ বেড়ে যায়। শব্দ দিয়ে কতভাবে খেলা যায়, তা সত্যজিৎ রায় "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেখিয়েছেন। এসবে মুগ্ধ হবে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
সত্যজিৎ রায়ের লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে শক্তিশালী বর্ণনা। তিনি যেভাবে বর্ণনা দেন, মনে হয় পুরো প্রকৃতি যেন চোখের সামনে ফুটে উঠছে। চারদেয়ালের এই বদ্ধ ঘরে থেকেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের স্বাদ নেওয়া যায়। মনে হয়, আমাকেই ঘিরে আছে সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল। দূরের সুউচ্চ পাহাড় চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়। কিংবা নদীর স্রোতের কলকল শব্দ কানে শ্রুতিমধুর হয়ে বাজে। এমন বর্ণনায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে যায়। দূরদেশে না গিয়েও তার ওপর সৌন্দর্য্য অবলোকন করা যায়।
ফেলুদার গল্পগুলোতে গল্পের ছলে ছোটোখাটো শিক্ষণীয় বিষয় উঠে আসে। শুধু রহস্য না, এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছোটো ছোটো শিক্ষার উপকরণ ছড়িয়ে থাকে। "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইয়ে ষড়রিপু সম্পর্কে প্রথম জানতে পারি। তার কিছু বর্ণনা আমি আমার অন্যান্য রিভিউতে দিয়েছি। এছাড়া বাঘ কখন গর্জন করে, কখন তা গোঙানিতে পরিণত হয়, তার ইংরেজি নাম কী; এমন সূক্ষ্ম জিনিস জানা যায়। এছাড়া শব্দ নিয়ে খেলা সব পাঠককেই মুগ্ধ করবে।
সত্যজিৎ রায়ের আরও একটি গুণ বাহুল্য বর্জনতা। খুব অল্প কথায় অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার দক্ষতা সবার থাকে না। আমার কাছে ফেলুদা জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রহস্যের সামান্য আবহ তৈরি করে খুব দ্রুত ও সাবলীলভাবে রহস্যে শেষ সীমানায় পৌঁছে যাওয়া আমার খুব ভালো লাগে। "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল টুইস্ট। শেষে সাদামাটাভাবে রহস্য উন্মোচন হলেও, দোষী কে হবে আগে থেকে আন্দাজ করা যায়নি। এই দিক থেকে লেখক যেভাবে ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছেন, প্রশংসা করার মতো।
▪️ চরিত্রায়ন ;
ফেলুদা গল্পে প্রধান তিন চরিত্র ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ু। তাদের নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ভারতীয় লেখকদের ক্ষেত্রে, তাদের প্রধান চরিত্রকে অতিমানবীয় করার ক্ষমতা হরহামেশাই দেখি। সব কিছুতে দক্ষ হওয়ার সুপার পাওয়ার তাদের থাকে। ফেলুদাও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেলুদা মারামারি পারে, পিস্তল চালাতে পারে, শত্রুর সামনে দাঁড়িয়ে ভয়ডরহীন নির্ভার থাকতে, বুদ্ধিতে সবাইকে কাবু করতে পারে। আবার হেঁয়ালি পেলে তা দ্রুত সবার আগে সমাধান করতে পারে। এমন চরিত্র অন্য জায়গায় দেখলে বিরক্তির উদ্রেক হলেও, ফেলুদার ক্ষেত্রে তা মোটেও হয় না। মনে হয়, এমন চরিত্র যেন ফেলুদার জন্মগত। আর এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা। লেখক সুপার হিউম্যান হিসেবই ফেলুদাকে তৈরি করলেও, তা নজরে আসবে খুব সামান্যই।
"ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পটাও তোপসের জবানীতে পাওয়া যায়। ফেলুদার সাগরেদ হিসেবে একটু একটু করে পরিণত হচ্ছে। ছোটোখাটো হেঁয়ালি সমাধান করা তার কাছে কঠিন কিছু নয়। জটায়ু যথারীতি হাস্যরস তৈরি করতে মশগুল। বাঘকে নিয়ে তার ভয়, তার অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা সবই যেন চোখের সামনে দেখতে পারছিলাম। আর ঠোঁটের কোণা প্রসারিত হয়ে হাসি আটকানো দুঃসাধ্য ব্যাপার।
এই গল্পের আকর্ষণীয় চরিত্র মহেশ চৌধুরী। শব্দ নিয়ে খেলা করায় আর জুড়ি নেই। আর সেটা জানান দেয় তার বুদ্ধিমত্তার। নিজের প্রিয় নাতনী জোড়া মৌমাছির সাথেও এমন খেলায় মেতে উঠেন। গল্পে খুব সামান্য পরিমাণ থাকলেও যেন পুরোটা সময় ছিল তার বিচরণ। এছাড়া প্রীতীন্দ্রবাবু ছিলেন নিজের সম্পর্কে বাড়িয়ে বলা লোক। অন্যদিকে অরুণবাবু লোভে পড়ে সর্বস্ব প্রায় খুইয়ে ফেলেছেন। নীলিমা দেবী শক্তসমর্থ মহিলা ফেলুদাকে সর্বশেষ সাহায্য করেন। রিং মাস্টার কারাণ্ডিকারকেও ফেলে দেওয়া উচিত হবে না। তার পেছনের অতীত তাকে ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো ঠিকানায়।
মোদ্দাকথা, "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" গল্পে সকল চরিত্র সমান গুরুত্ব পেয়েছে। কেউ বেশি বা কম নয়।
▪️পরিশেষে, "ছিন্নমস্তার অভিশাপ" বইটি মস্তিষ্ক শান দেওয়ার জন্য অসাধারণ। ফেলুদা সিরিজে আমার প্রিয় পাঁচ গল্পের একটি। যতবার পড়ি, মনে হয় এবারই প্রথম। একইভাবে আকৃষ্ট হই, একইভাবে মুগ্ধ হই।
▪️বই : ছিন্নমস্তার অভিশাপ
▪️লেখক : সত্যজিৎ রায়
▪️প্রকাশনী : আনন্দ পাবলিশার্স
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪/৫
Displaying 1 - 30 of 61 reviews





























