ধূলি-ধূসর আর রক্তমাখা জমিনে, একটুখানি সুখের স্বপ্ন দেখার দুঃসাহস করেছিলেন একজন। রোডস শহরকে একেবারে ধূলিকণা থেকে গড়েছেন কর্নেল এবারডিন এ ফিনিগান। অ্যারিজোনার গভীরে, রুক্ষ এই বিরানভূমিতে শহর গড়তে ঝরেছে ঘাম, বয়েছে রক্ত, দৃঢ় হয়েছে আত্মসম্মান। কিন্তু নিজ হাতে গড়া এই শহরে একদিন হানা দিল বিশ্বাসঘাতক। নীতি-নৈতিকতাহীন একদল লোক বস্তা বস্তা টাকা আর বন্দুকের নলের জোরে কেড়ে নিতে চায় রোডস। ফিনিগানকে রুখে দাঁড়াতে হবে, বিশ্বস্ত কিছু সঙ্গীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে হবে অন্তিম লড়াই। এ লড়াই গৌরব অর্জনের নয়-এই লড়াই রোডসের মুক্তির।
গৃহযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু তার রেশ রয়ে গেছে মানুষের শিরায়-উপশিরায়। খন্ড খন্ড বিরোধের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে এখানে ওখানে। এমনই এক প্রেক্ষাপটে লেখা ফাহাদ আল আবদুল্লাহ‘র মৌলিক ওয়েস্টার্ন “বুলেট কিংবা ভালোবাসায়”। এক লক্ষের অধিক শব্দের বিশাল সমারোহে শোনা যাবে মুহুর্মুহু শার্প শ্যুটারের লক্ষভেদের প্রতিধ্বনি।
অ্যারিজোনার ট্রেডিং পোস্ট রোডস এর ল্যান্ড অ্যান্ড ক্যাটল ওভারশিয়ার কর্নেল ফিনিগান; সাগরেদদের নিয়ে আগলে রেখেছেন সব দিক। শার্প শ্যুটার ডয়েল ব্রাদার্স, ঘরছাড়া নাভাহো যোদ্ধা সোল-লেকস, বাপ হারানো কৃষ্ণাঙ্গ স্যাম ডেভিস; এদের নিয়ে কর্নেল সাহেব ভেস্তে দিয়েছেন একের পর এক শয়তানদের কূটচাল। নৈতিকতার বিচারে দন্ডিত ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য যখন এক হয়ে যায়; রোডস শহরের বুকে নেমে আসে ঘনঘোর বিপদ। চলে একের পর এক নির্মম কুটনৈতিক অ্যামবুশ, কখনোবা সরাসরি যুদ্ধের দামামা। ক্ষুরধার জিহ্বার সাথে অস্ত্রের শোনিত অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ বেরডন রেজিমেন্টের মধ্যবয়সী সাবেক কর্নেল; রোডস শহরকে আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানের মতো। ক্ষমতালোভী শকুনিদের করেছেন ঝেটিয়ে বিদায়। জমি বা ক্ষমতার লোভে মানুষ যে কতটা অন্ধ হতে পারে, তারই স্বরূপ ফুটে উঠেছে গল্পের বাঁকে বাঁকে।
অসীম এই যুদ্ধের ময়দানে থেকে থেকে ফুটে উঠেছে প্রচ্ছন্ন ভালোবাসার ধূসর ছায়া। কখনও তা ফুটে উঠেছে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা নতুন করে পাওয়ার মধ্য দিয়ে, কখনও বহুদিনের চেনা মানুষকে নতুন করে চেনার ছলে; কখনওবা প্রথম পলকেই প্রেমের উদ্বেলিত উত্থানে। শত কর্তব্যের ভীড়েও, ভালোবাসা তার স্থান ঠিকই খুজে নিয়েছে। ধূলিময় মরুর বুকে মাথা তুলে দাড়িয়েছে এক গুচ্ছ বেয়াড়া মেসকিটের ঝোপের মতন।
পিস্তলবাজি, র্যাঞ্চ-ওয়ার, ট্রেন-ধাওয়া, বার-ফাইট, ক্যাম্পিং, শ্বাপদ শিকার, স্ট্যাম্পিড, ডুয়েল; ওয়েস্টার্ন গল্পের প্রায় সব উপকরণই এই বইয়ে বিদ্যমান। খুব আমুদে গল্পের ঢঙ্গে অল্প বিস্তর ইতিহাসও জানা হয়ে গেছে বই শেষ করার পর। (অল্প বিস্তর বললে লেখকের প্রতি অবিচার করা হবে, তারপরও কথার কথা আরকি।) লেখক বেশ মুন্সিয়ানার সাথে ক্যারেক্টার বিল্ড করেছেন, সাথে মনোমুগ্ধকর ডায়ালগ। উত্তর-প্রত্যুত্তরের খেলায় ক্যারেক্টারগুলো হয়ে উঠেছিলো প্রানবন্ত। কাহিনী এগিয়েছে দুলকি চালে, কিন্তু পদে পদে ছিলো অ্যাকশনের ছায়া। লেখকের পূর্ববর্তী ওয়েস্টার্ন “কাসা দিয়াবলো” থেকে অনেক পরিপক্ক হয়েছে গল্প বলার গতি। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই গতিবেগ বই পড়ায় আলাদা শান্তি এনে দিয়েছে। প্রতিটা চরিত্রের সূচনা থেকে পরিণতি পর্যন্ত ছিলো অসাধারন পরিপূর্নতা। এতগুলো ক্যারেক্টারের প্রতি সুবিচার করে গল্প গুছিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তো আর মুখের কথা না।
খারাপ লাগা বলতে গেলে বলতে হয়, বেশ কিছু জায়গায় বানান ভূল, যা পাঠক হিসেবে বিরক্তির উদ্রেক করে। প্রুফরিডিং এ আরো মনোযোগ দিলে বই পড়ার অভিজ্ঞতা আরো মসৃন হবে।
সব মিলে বহুদিন অপেক্ষার পর হাতে পাওয়া বিশাল পরিসরের মৌলিক ওয়েস্টার্ন “বুলেট কিংবা ভালোবাসায়” একদমই হতাশ করেনি বরং প্রতীক্ষার প্রহরগুলোকে করেছে মধুময়। লেখক ফাহাদ আল আবদুল্লাহ পরবর্তী ওয়েস্টার্নের অপেক্ষায় থাকলাম।
মানুষের জীবনের বৈচিত্র এবং জীবনের চলার ধরন এক নয়। যুগের সাথে এগিয়ে চলা হচ্ছে জীবনের নীতি। তবে এই নীতিতে কিছু কিছু সময় পরিবর্তন আনতে হয়। পরিবর্তন হয়। পরিবেশ সমাজ মানুষের জীবন ধারণের অবস্থান সব কিছুতেই পরিবর্তন আসে। আনা জরুরী। তবে সেটা যেন মানুষ এবং সমাজের জন্য কল্যান বয়ে আনে, অন্ধকার নয়। যখনই অন্ধকার ছেয়ে আসে, তখনই কেউ না কেউ সামনে এসে দাঁড়ায়। হাতে নিয়ে আলোকবর্তিকা। যেন তার অপেক্ষায় ছিল সময়। এভাবেই যুগ আর সময় এগিয়ে চলে।
রুক্ষ মরুর বুকে ভালবাসার ফুল ফোটানো অনেক কষ্টসাধ্য। তবুও কিছু মানুষ আকড়ে ধরে থাকে। জীবনের শুষ্ক দিন শেষ হয়ে সুন্দরতম দিনের অপেক্ষায়। মরুর বুকে এক ফোটা বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেয়, ঠিক তেমন কেউ কেউ আছে যার ছায়াতলে মানুষ তার শেষ আশ্রয় খুজে চলে। যুদ্ধ, প্রেম, মায়া, বিবেক, রাজনীতি, সততা এবং ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই। আলো এবং অন্ধকারের খেলা। শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে।
এরিজোনার একটি ছোট শহর রোডস। গৃহযুদ্ধ শেষ হবার পর এখানে কিছু মানুষ তার আশার আলো খুজে পায়। শহরটাকে নিজেদের মত করে সাজিয়ে নেয়। যুদ্ধ শেষ হলেও তার রেশ ঠিক রয়ে যায়। কেউ কেউ যুদ্ধের ধারা নিজের ভেতরে ধরে রাখে। খন্ড খন্ড বিরোধের আর গন্ডোগোল এর খবর পাওয়া যায়। কেউ কেউ বাচার আশায় ছুটে চলে অজানায়। শহর থেকে শহরে ছুটে বেড়ায়, একটু জীবনের খোজে। সবার আগে বাচতে হবে। এটাই যেন মুলমন্ত্র। সবাই শুধু ছুটে চলেছে, যেন জীবন এখানে থেমে নেই। একটু আশ্রয় আর বাচার তাগিদে সবাই একটা শীতল ছায়া খুজে চলেছে। আর সেই ছায়া তল হচ্ছে কর্নেল এবারডিন ফিনিগান।
কর্নেল, তার শার্প শ্যুটার শিষ্য ডয়েল ব্রাদার্স, নাভোহা যোদ্ধা সোল-লেকস, পিতা হারা স্যাম ডেভিস সহ তারা ছোট রোডস শহর কে আগলে রেখেছেন। কর্নেল এই শহরের ল্যান্ড এবং ক্যাটল ওভারশিয়ার। তার কাছেই সরকারি ভাবে সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ রয়েছেন। প্রচন্ড নীতিবান একজন মানুষ। যার কাছে শত্রুও সম্মান পায়। যেখানে তিনি ন্যায় এবং অন্যায়কে সমান ভাবে পরিমাপ করেন। ন্যায়ের জায়গা থেকে তাকে কেউ একচুল নড়াতে পারে না। কিন্তু তবুও কোথায় যেন একটা কিন্তু থেকে যায়। হয়ত এটাই জীবন।
রাজনীতি, যুদ্ধ, ধোকা, প্রেম, মায়া, আর ভালবাসার অপূর্ব সব সংমিশ্রণ। সব কিছু ছাপিয়ে শত্রুর কূটচালকে ভেস্তে দিয়েছে দৃঢ়তার সাথে। আপনজনের ধোকা, অপমান এবং অসম্মানকে ন্যায় ও নীতির বিচারে নিয়ে এসেছেন। সেখানেও তিনি দেখিয়েছেন সম্মান। তার কাছ থেকে শেখা সব কিছু তার শিষ্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের দামাম আবার অভিজ্ঞতার ক্ষুরধার বাক্যবান সব কিছু সামলিয়েছেন শক্ত হাতে। শত্রুর ছুড়ে দেয়া এক একটা কূটচাল ভেস্তে দিয়েছেন কঠোরভাবে। ক্ষমতালোভী, কূটনীতি, আর ধোকার জবাবটাও কর্নেল দিয়েছেন তার নীতি থেকে।
এই কঠোরতার মাঝেও ভালবাসার পরশ, এক পশলা বৃষ্টি হয়ে নেমে এসেছে। হারিয়ে যাওয়া ভালবাসাকে খুজে পাওয়া। কখনও বা নতুন করে কারো বাচার স্বপ্ন হয়ে ওঠা। বহুদিনের চেনা মানুষের কাছে নতুন ভাবে প্রেম এবং ভালবাসা সংজ্ঞাকে নতুন ভাবে চেনা। এত কিছু, দায়িত্ব এবং কর্তব্যের মাঝেও ভালবাসা ঠিকই খুজে নিয়েছে। মরুর বুকে যেন ফুটে কোন অজানা ফুল।
বন্দুক, পিস্তল, স্পার বুট, কাউবয় হ্যাট আর ঘোড়ার অবস্মরনীয় কৃতি সবকিছুই জীবন্ত। র্যাঞ্চ, ট্রেন-ধাওয়া, বার-ফাইট, ডুয়েল, ক্যাম্পিং, শিকার এবং স্ট্যাম্পিড সহ সব কিছুই উঠে এসেছে। যেন চোখের সামনে ঘটে যাওয়া কোন ওয়েস্টার্ন সময়।
“বুলেট কিংবা ভালোবাসায়” মৌলিক ওয়েস্টার্নটি ফাহাদ আল আবদুল্লাহ এর লেখা একটা বিশাল ওয়েস্টার্ন এডভেঞ্চার থ্রিলার। মুলত একটি ছোট্ট শহর কে ঘিরে উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে। যেখানে ন্যায় নীতি সততা রয়েছে, রয়েছে ভালোবাসা আর প্রেম। সেই সাথে রয়েছে ধোকা এবং ক্ষমতার লিপ্সা।
লেখক খুব সুন্দর ভাবে প্রতি চরিত্র, প্রতিটি ঘটনা সুন্দর ভাবে লেখনিতে তুলে ধরেছেন। বিশাল কলবরে লেখা হলেও প্রতিটি ঘটনার সুবিস্তার গল্পটিকে আরও চকমপ্রদ করে তুলেছে। এর সাথে সাথে ওয়েস্টার্ন ইতিহাস থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তি পরিস্থিতকে লেখক দারূণ ভাবে বর্ণনা করেছেন। সুক্ষ্মভাবে তুলে এনেছেন সাদা কালোর পার্থক্য। কালোদের নির্যাতন এবং কষ্টের কথা। প্রতিটি ঘটনা, সংলাপ, থেকে শুরু করে সব কিছু সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন।
এখানে কথা হচ্ছে যারা ওয়েস্টার্ন পরে অভ্যস্ত নয় বইটি আসলে তাদের জন্য নয়। কারণ বইটি শুরুর দিকে কিছুটা ধীর গতির। ওয়েস্টার্নের মুলত বৈশিষ্ট্য এমন ই। কাহিনীর শুরুটা খুব ধীর গতিতেই হয়। গল্পের কাহিনীর জন্য ঘটনা ও বর্ণনা কিছুটা বিস্তারিত হয়ে থাকে। এটা সবার পছন্দ নাও হতে পারে। তাই বইটি পড়ার জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। একবার কাহিনীর সাথে জড়িয়ে গেলে তখন বইটি আর না শেষ করে ওঠা যায় না।
পরিশেষে বলা যায় মৌলিক ওয়েস্টার্ন হিসেবে লেখক ফাহাদ আল আবদুল্লাহ দারূণ করেছেন। তবে বইটির কিছু কিছু জায়গাতে কাহিনী একটু মন্থর হয়ে গিয়েছিল, এছাড়া প্রুফ রিডিং করা দরকার ছিল বানানের ভুল গুলো একটু চোখে পরেছে।
বইটির শেষ বা শুরু পুরোটাই একটা দারূণ আবহ তৈরি করে। যারা ওয়েস্টার্ন প্রেমী তাদের কাছে আশা করি বইটি ভাল লাগবে।
৬০৮ পৃষ্ঠার ওয়েস্টার্ন, তা-ও আবার "মৌলিক"। বই হাতে পেয়ে চমৎকার প্রচ্ছদ আর নধর স্বাস্থ্যের মুগ্ধতা কাটার পরে প্রথমেই মাথায় যে চিন্তাটা আসে, "এত বড় বই, মাঝখানে ঘেঁটে যাবে না তো!"
তিনদিন একটানা পড়ার মধ্যেও বারবার আশঙ্কা হচ্ছিলো, এই বুঝি ঝুলে গেলো। আবার সেটা সত্যি না হওয়ায় বারবার কেমন একটা স্বস্তিও বোধ করছিলাম। এবং শেষ করে মোটামুটি স্বস্তির শ্বাস ছাড়লাম, যাক, প্রচেষ্টাটা (লেখক ও পাঠক হিসেবে আমার) বৃথা গেলো না।
লেখকের প্রথম ওয়েস্টার্ন "কাসা দিয়াবালো" নিয়ে আমার বিস্তর অভিযোগ ছিলো, ছিলো অতৃপ্তি। সেই শোধই বোধহয় ভদ্রলোক তুললেন "বুলেট কিংবা ভালোবাসায়", অভিযোগ তোলার সামান্যতম ফাঁক না রেখে৷ বিশাল কলেবরে লেখক যে গল্প ফেঁদেছেন, প্রতিটা চরিত্র যেভাবে নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, আর সবচেয়ে বড় কথা এত বৃহদায়তন একটা বইকে যেভাবে সামান্যতম বিরক্তিকর হয়ে উঠা থেকে বাঁচিয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়। প্রধান চরিত্র হিসেবে কর্ণেল এ ফিনিগানের পাশাপাশি ডয়েলরা দুই ভাই, ছোট স্যাম, বনি, কালাহান... অসংখ্য ভালোলাগার চরিত্র, ভালোবাসার মুহুর্ত।
কাহিনির পাশাপাশি খুব করে চোখে পরেছে এ বইয়ে লেখকের ভাষাগত মুন্সিয়ানা। লাইনে লাইনে মরুভূমি আর বুনো পশ্চিমের যে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন, যে কাউকে তা পশ্চিমের রোমান্টিকতার আক্রান্ত করবে। পাশাপাশি চমৎকার পরিমিত হিউমারের প্রয়োগ আরও উপভোগ্য করে তুলেছে বইটিকে।
মৌলিক বই হিসেবে ভাবতে গেলে বারবার অবাক হয়েছি পশ্চিমের ইতিহাস নিয়ে কতটা ঘাটাঘাটি করতে হয়েছে লেখককে, এটা বুঝতে পেরে। আমেরিকান গৃহযুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি, কুটিল রাজনীতি আর ঔপনিবেশিক শোষণের এত স্পষ্ট চিত্র আর কোন ওয়েস্টার্নে আমি এখনো পাই নি। সবচেয়ে চমৎকৃত হয়েছি মূল ভিলেন, বৃটিশ লেফটেন্যান্টের মোটিভের মাধ্যমে গল্পটাকে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের সাথে কানেক্ট করায়। গল্পটা অনেকে বেশি আপন হয়ে দাঁড়িয়েছে সিপাহী বিদ্রোহের প্রসঙ্গের সাথে মিলিয়ে দেওয়ায়।
রাজনৈতিক কূটচাল, দারুণ সব চরিত্র, শক্ত প্রতিপক্ষ, পাতায় পাতায় উত্তেজনা, বন্দুক যুদ্ধ, মরু আর বুনো পশ্চিমের দারুণ রোমান্টিক বর্ণনা, প্রেম, আর প্রিয় চরিত্রদের অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু অপ্রত্যাশিত বিদায়... দুর্দান্ত একটা ওয়েস্টার্ন হতে আর কী লাগে!
পুরো বই জুড়ে কেবল ছোট একটা যায়গায়ই সামান্য খাপছাড়া লেগেছে। লেবোস্কি ফার্মে আক্রমণের অংশটুকু আরেকটু ভালো ভাবে এক্সিকিউট করার সুযোগ ছিলো। এখানে রোয়ান আর রুনির নামও কয়েকবার অদলবদল হয়ে গিয়েছে। লেবোস্কিদের বিশাল ফ্যামিলির কথা বারবার আসলেও আসলে অ্যান, বুড়ি লেবোস্কি ছাড়া বাকি সবারই উপস্থিতি অস্পষ্ট। অ্যানের মা, আর দুই কিশোরের উপস্থিতি কেবল সামান্য আঁচ করা যায়। যে পরিবারটা পুরো বইয়ের কাহিনিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে, তাদের আরেকটু স্পেস দেওয়া প্রয়োজন ছিলো মনে হয়েছে। ছোট্ট আরও দুটো পরিবারকে, কিংবা রেল রোডের ম্যানেজারের চরিত্র নির্মানে যেখানে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, সেখানে লেবোস্কিরা আরও পাঁচ-দশ লাইনের গুরুত্ব দাবী করতেই পারতো।
এইটুকু ঠিক থাকলে আমি পাঁচ তারকা রিভিউই দিতাম। কিন্তু এবারের মত ৪.৮ থাকলো "বুলেট কিংবা ভালোবাসায়"র জন্য৷