Jump to ratings and reviews
Rate this book

মালঞ্চ

Rate this book
Rabindranath Tagore, Novel

60 pages, Hardcover

First published January 1, 1968

6 people are currently reading
93 people want to read

About the author

Rabindranath Tagore

2,587 books4,262 followers
Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."

Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.

The complete works of Rabindranath Tagore (রবীন্দ্র রচনাবলী) in the original Bengali are now available at these third-party websites:
http://www.tagoreweb.in/
http://www.rabindra-rachanabali.nltr....

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
31 (16%)
4 stars
58 (31%)
3 stars
79 (43%)
2 stars
13 (7%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for Aishu Rehman.
1,114 reviews1,089 followers
August 30, 2018
উপন্যাসটি পড়ে আমি মুগ্ধ হলাম।মালঞ্চ শব্দের অর্থ ফুলের বাগান। নীরজা তার সস্নেহে গড়া ফুলের তথা সংসার জীবনের বাগানে অন্য কোন আগন্তুকের অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারেনি। হয়ত সে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ব্যাক্তিগত জীবন আর ঠিক করতে পারেনি । কবিগুরুর অন্যান্য সৃষ্টিকর্মের মত, এতেও প্রকৃতির সাথে মানব চরিত্রের, সম্পর্কের এক চমৎকার মেল বন্ধন রয়েছে।

উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হচ্ছে—নীরজা, আদিত্য, সরলা, রমেন, রোশনী প্রমুখ। অনেকটা ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস বলা চলে। মৃত্যুশয্যাশায়িনী জীবন তৃষিত নীরজার স্বামীর ওপর অধিকার রক্ষার অসহায় সংগ্রাম, স্বামীর প্রতি তার অনুদার সন্দেহ, ফুল বাগানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার করুণ আগ্রহ এবং তার ট্র্যাজিক পরিণতি অঙ্কন এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
পরম সুখে ১০ বছর কেটেছে আদিত্য-নীরজার সংসার। তাদের ভালোবাসা পরস্পরের প্রতি অনুগত ও বিশ্বাসে ভরা ছিল। কিন্তু হঠাৎ নীরজার দুরারোগ্য ব্যাধি তাদের আনন্দ ও জীবনস্রোতে সৃষ্টি করে অসহনীয় যন্ত্রণা। কারণ, সংসারে তখন আদিত্যের দূরসম্পর্কের বোন সরলাকে আনা হয় বাগানের সহযোগিতার জন্য। এ থেকে আদিত্য ও সরলাকে নীরজা সন্দেহ করতে থাকে। যদিও সরলা নিজের সম্পর্কে অটুট, তবুও অসুস্থ নীরজা স্বামীর প্রতিও নানারূপে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগে। মৃত্যুশয্যাশায়িনী নীরজার অক্ষমতা ও অচরিতার্থ জীবনতৃষ্ণা থেকে জন্ম নেয় ঈর্ষা, সন্দেহ। নীরজার নিঃসঙ্গ শূন্য ঘরের একমাত্র সঙ্গী রোশনী, হূদয়ের গুরুভার, ঈর্ষা, সন্দেহ, আত্মযন্ত্রণা হালকা করার একমাত্র স্থল। নীরজার মনে কঠোর দ্বন্দ্ব চলেছে—যে পরাজয়কে সে একান্ত মনে গ্রহণ করতে পারেনি, যে ত্যাগ তার পক্ষে অবশ্যম্ভাবী, তা সহজ করে নিতে সে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে, কিন্তু মৃত্যুর দ্বারেও তার স্বাধিকারসত্তা অটুট ছিল। এ উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠায় বর্ণিত তার মৃত্যুযন্ত্রণা বড় হূদয়বিদারক।

সবকিছু মিলিয়ে পুরো উপন্যাসে কাব্যিকতা, নাটকীয়তা ও সুন্দর উপমার প্রয়োগে উপন্যাসটি সার্থক হয়ে উঠেছে। প্রতিটি চিত্রের মধ্যে রূপ, রস, গন্ধ ও স্পর্শ একীভূত হয়ে আমাদের আবিষ্ট করে।
Profile Image for Arupratan.
236 reviews385 followers
September 6, 2024
ক্ষুদ্রকায় উপন্যাস। গুটিকয় চরিত্র। সীমিত পটভূমি। এই স্বল্প আয়োজনেই বেশ জটিল একটি গল্প বুনেছেন রবীন্দ্রনাথ। বিষয় : দাম্পত্য ঈর্ষা। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, ছোটগল্প রচনায় রবীন্দ্রনাথের যে প্রশ্নহীন সিদ্ধি, উপন্যাসের ক্ষেত্রে কী যেন এক অদ্ভুত কারণে সেই উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি তিনি। এমনকি তাঁর উপন্যাসের গদ্যভাষাও ছোটগল্পের তুলনায় কৃত্রিম। আজকেই বুদ্ধদেব বসুর একটি প্রবন্ধে পড়ছিলাম : রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের “পাত্রপাত্রীরা অবস্থা-নির্বিশেষে সাহিত্যিক ভাষায় কথা বলে”... তাদের “ভাবনার ভাষাও সুগন্ধি ও রাবীন্দ্রিক” (অথচ তাঁর ছোটগল্পের পাত্রপাত্রীদের কথাবার্তা মোটের উপর স্বাভাবিক)। এই উপন্যাসটি পড়েও মনে হয়েছে, মালমশলা সবকিছুই উপস্থিত ছিল, তবু রান্নায় কিছু খামতি রয়ে গেছে। কিন্তু এরই মধ্যে নীরজা চরিত্রটির অসহায় আত্মনিগ্রহের বর্ণনা অনেকদিন মনে থাকবে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, “ভালোবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে”। এই অসুখটির নাম ঈর্ষা।
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
379 reviews279 followers
January 29, 2015
সপ্তম শ্রেণীতে থাকতে এই বইটি প্রথম পড়ছিলাম। সেবার পড়ে কিছুই প্রায় বুঝিনি। এবার পড়ে যে সে সব বুঝে গেছি সে কথা বলা ঠিক হবে না। তবে এটুকু জানি কিছু বই ছিঁড়ে খুড়ে বিশ্লেষণ করতে ইচ্ছে হয় না। এটা এমন একটা বই।

চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। প্রধান চরিত্র নীরজার চরিত্রায়ন বেশ বাস্তব সম্মত। বেশীরভাগ পুরুষ লেখকরা নারীর মনোজগতকে বেশী একটা ঘাটাতে যান না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তো রবীন্দ্রনাথই...বেশীরভাগ সময়েই তাঁর নারী চরিত্রগুলো অনেক বেশী বাস্তব। তবে এখানে আমার রবীন্দ্রনাথকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার আছে। নারী নীরজার যেসব প্রবৃত্তি তিনি বাস্তব সম্মত ভাবে এঁকেছেন, তার মাঝে তার 'পজেসিভনেস' (আমি ঈর্ষা বলবো না) অন্যতম। তিনি এই পজেসিভনেস কে হীন প্রবৃত্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সেটা আমার ভাল লাগেনি। চলৎশক্তিহীন, নিজের আসন অধিকার করতে অক্ষম নীরজার পজেসিভনেস এবং অস্থিরতা আমার কাছে খুব স্বাভাবিক মনে হয়েছে। অসুস্থ মানুষ এমনই হয়,এজন্য তাকে দোষী করা যায় না। নীরজা শারীরিক ভাবে চলৎশক্তিহীন হলেও আমার আদিত্যকে মনে হয়েছে মানসিকভাবে চলৎশক্তিহীন। ভালবাসি কথাটাও বুঝতে হয় অন্যের সাহায্যে। এখানেও লেখক আদিত্যকে আদর্শ বলে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছেন যেন নিত্য ফুলের উপহারেই আদর্শ স্বামী হওয়া যায়। সরলাকে লেখক শেষ পর্যন্ত ইনএক্টিভ করেই রেখেছিলেন। তাই তাকে আর সংক্ষিপ্ত আলোচনা-সমালোচনার অংশ নাই করলাম। তবে কৌতূহল উদ্দীপক ছিলেন রমেন। একই সাথে তিনি নীরজা এবং সরলার প্রতি বিশ্বস্ততা বজায় রেখেছিলেন। সবমিলিয়ে উপন্যাসটি ভাল লেগেছে। তবে ভাল লাগার মাত্রাটা তিন তারা পর্যন্তই।
Profile Image for Omar Faruk.
263 reviews18 followers
May 21, 2023
মোটামুটি ভালো লেগেছে। বেঁচে থাকার, প্রিয় মানুষকে আঁকড়ে থাকার কি যে এক বেদনাবিধুর অনুভূতি, সেটা ভালো করেই উপলব্ধি করলাম।
Profile Image for Sneha Dey.
157 reviews3 followers
March 3, 2025
রাত ৩ টের সময় বইটা শেষ করা ঠিক হয়নি। এতটুকু ছোট্টো একটা বই যে এত ভাবাবে, ভাবিনি।
অতিসাধারণ দাম্পত্য ঈর্ষা নিয়ে লেখা অসাধারণ একটা গল্প এটা। আমি জানিনা, কে ঠিক ছিল, কে ভুল ছিল, বা তাদের জায়গায় থাকলে আমি কি করতাম; কিছুই জানিনা। শুধু জানি যে এই গল্পের শেষটা আমি কখনোই ভুলবোনা।
" আমার এতদিনের আনন্দকে পিছনে ফেলে রেখে হাসিমুখেই চলে যেতে পারতুম। কিন্তু কোনোখানে কি এতটুকু ফাঁক থাকবে না যেখানে আমার জন্যে একটা বিরহের দীপ টিমটিম করেও জ্বলবে? এ কথা ভাবতে গেলে যে মরতেও ইচ্ছে করে না "
Profile Image for Rajeswari Roy.
50 reviews
December 30, 2018
অতি সুন্দর, বাস্তব।দাম্পত্যজীবনের টানপোড়েন,হিংসা খুব সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে।💕
Profile Image for Musharrat Zahin.
415 reviews495 followers
October 15, 2020
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসগুলো পড়ার পর খানিক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দে ভুগি। উনি শুধু উপন্যাসের গল্প নিয়েই না, চরিত্রগুলো নিয়েও খেলা করেন। গভীরভাবে চিন্তা না করলে খেলার জট খোলা যাবে না। পড়া শেষেও অনেকগুলো প্রশ্ন রয়ে যায়।

আদিত্য ও নীরজা দশ বছর ধরে নিজেদের হাতে তিল তিল করে বাগানটা গড়ে তুলছিল। কিন্তু নীরজা অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী হয়ে যাওয়া পুরো বাগানের ভার পড়ে আদিত্যের উপর। তাই আদিত্যের দূরসম্পর্কের বোন সরলা আসে বাগানের কাজে তাকে সাহায্য করতে। এদিকে বাগান ও ব্যবসার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আস্তে আস্তে দূরত্ব তৈরি হয় আদিত্য ও নীরজার মধ্যে। আদিত্যের বিয়ের আগে থেকেই তার আর সরলার মধ্যে অন্যরকমের ভালো লাগার একটা সম্পর্ক ছিল। নানান ব্যস্ততায় সেই সম্পর্ক মাটি চাপা পড়ে গেলেও এখন সেই পুরোনো ব্যথাটা চাড়া দিয়ে উঠছে। এদিকে ঘরে থেকে থেকে নীরজার মনে নানারকমের সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। যেই বাগান আগে ছিল একান্ত তারই, এখন সেখানে অন্য কারো হস্তক্ষেপ তার একদমই সহ্য হয় না। সরলাকে বাগান থেকে সরানোর জন্য নিজের দেবর রমেনের সাথে সরলার বিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে নীরজা। আদিত্যে এই বিয়েতে অমত দেওয়ায় নীরজা তার উপর পরকীয়ার অভিযোগ আনে। এই অভিযোগই আদিত্যকে আরো সরলার কাছে টেনে আনে। ধীরে ধীরে কাহিনী আরো জটিল হতে থাকে।

এই উপন্যাসের শেষাংশটুকু এত জটিল। ক্ষণে ক্ষণে নীরজার মন বদল হয়, রমেন সরলাকে ভালোবাসলেও তাকে সংসারের সুতোয় বাঁধতে চায় না; এদিকে নিজের উপর পরকীয়ার অভিযোগ শুনে ব্যথিত হলেও পরে ঠিকই সরলার কাছে ছুটে যায় আদিত্য।

বেশ ছোট্ট একটা উপন্যাস, কথাগুলোও সুন্দর। তবে পরকীয়া ব্যাপারটা আমার খুব একটা ভালো লাগে না দেখে আমার কাছে এইটা তেমন উপভোগ্য মনে হয়নি। সময় কাটানোর জন্য পড়ে দেখাই যায়।
Profile Image for Md. Jamal Uddin.
81 reviews14 followers
January 26, 2025
প্রেম, সংসার, বিরহ, বিচ্ছেদ, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, পরিবার। গুছিয়ে লিখতে পারছিনা, তবে এগুলো নিয়েই এই গল্প।
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,218 reviews390 followers
March 10, 2025
"আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ"

রবি বাবুর অন্যতম অন্তরঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত উপন্যাস ‘মালঞ্চ’ তাঁর জীবনের শেষপ্রান্তে রচিত। এটি মূলত এক দাম্পত্য জীবনের অন্তঃসারশূন্যতা, মনের অতৃপ্তি এবং প্রকৃতির প্রতি এক অন্তর্দর্শনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হল সুধীর ও নীরজা—এক দম্পতি, যাঁদের বিবাহিত জীবন এক রকম শূন্যতায় ভরে ওঠে।

রবীন্দ্রনাথ এখানে সম্পর্কের ভাঙন, দাম্পত্য জীবনের অনির্দেশ্য সংকট ও নারীর মানসিক জগৎ অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত করেছেন।

"এই লজ্জা এই ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করো ভগবান"

উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নীরজা, যে তার জীবনের এক গভীর শূন্যতা অনুভব করে। গৃহের বদ্ধ পরিবেশ, সন্তানহীনতা ও স্বামীর ব্যস্ততা তাকে নিঃসঙ্গ করে তোলে। তার জীবনের অর্থ যেন প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকে—বাগানই তার একমাত্র আনন্দের স্থান। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, অসুস্থতার কারণে সেই বাগানও তার নাগালের বাইরে চলে যায়। সুধীর, যিনি নীরজার এই মানসিক অবস্থাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন না, তাঁর দুর্বলতা ও ব্যর্থতা উপন্যাসটিকে আরও বেদনাবিধুর করে তোলে।

"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম"

রবীন্দ্রনাথের লেখনীর বিশেষত্ব হলো তাঁর চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। ‘মালঞ্চ’-তে এই দিকটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। নীরজার নৈরাশ্য, তার স্বামীর প্রতি এক নিঃশব্দ অভিমান, আবার তাঁরই প্রতি এক অন্তর্নিহিত ভালোবাসা—সব মিলিয়ে এক জটিল আবেগের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নীরজার একাকিত্ব এবং তার বাগানের প্রতি আকর্ষণ যেন এক প্রতীকী ভাষা হয়ে ওঠে, যেখানে প্রকৃতিই তার আত্মার একমাত্র সঙ্গী।

"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে"

উপন্যাসের এক অনন্য দিক হল রবীন্দ্রনাথের প্রতীকী ভাষা। বাগান এখানে শুধুমাত্র একটি শারীরিক স্থান নয়, বরং এটি নীরজার মানসিক অবস্থার প্রতীক। যখন সে সুস্থ ছিল, তখন বাগান ছিল তার একমাত্র আনন্দের জায়গা, আর যখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন সেই বাগানও তার হাতছাড়া হয়ে যায়। এই বাগানের পতন যেন তার জীবনের আনন্দহীনতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

"আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি"

উপন্যাসটি পড়ে মনে হয়, এটি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিফলন। তাঁর নিজের জীবনে অনেক কাছের মানুষের চলে যাওয়ার বেদনা ছিল, বিশেষ করে মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুর পর তিনি নিঃসঙ্গতা অনুভব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি যেন ‘মালঞ্চ’-র পাতায় ফুটে উঠেছে।

"এসো শ্যামল সুন্দর, এসো মধুর মনোহর"

‘মালঞ্চ’ নিছক একটি দাম্পত্য জীবনের গল্প নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অন্তর্গত সম্পর্কের এক অনুপম উপস্থাপনা। এটি একদিকে যেমন বেদনার, অন্যদিকে মুক্তিরও প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস রবীন্দ্রনাথের শেষদিকের রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা তাঁর জীবনবোধ ও শিল্পীসত্তার গভীরতা বহন করে।

"জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণা ধারা এসো"

‘মালঞ্চ’ উপন্যাসটি পাঠকের হৃদয়ে এক অমোঘ প্রভাব ফেলে। এটি শুধু নীরজার গল্প নয়, এটি আমাদের চারপাশের বহু সম্পর্কের প্রতিফলন। রবীন্দ্রনাথের ভাষা, উপমা ও প্রতীকী ব্যঞ্জনা এই উপন্যাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ‘মালঞ্চ’ কেবল একবার পড়ার জন্য নয়, এটি বারবার ফিরে আসার মতো এক অপূর্ব সৃষ্টি।

আরেকবার পড়ুন। নতুন অর্থ খুঁজে পাবেন।
Profile Image for Nuhash.
223 reviews6 followers
October 23, 2022
'মালঞ্চ'যখন পড়া শুরু করি খুব খারাপ হয়ে যায় মনটা। স্বামীর কাছে স্ত্রী পুরনো হওয়ার মত দুওখ বোধ হয় আর কিছুতে নেই। কোন নারী তার প্রিয় জিনিস সহজে ত্যাগ করতে পারে না, নীরজাও পারে নি। মন কে সারাদিন প্রবোধ দিয়েছে হাসি মুখে স্বামীকে ছেড়ে দিবে কিন্তু সে তা পারে নি।

নীরজাকে আমার সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত নারী মনে হয়েছে স্ত্রী থেকেও। তাই তাকে আমার ভালো লাগে নি।

"আদিত্য আর নীরজার সুখের দশ বছরের সংসার। তাদের হাসি খুশি ভরা ভালবাসার বাগান ছিল। দীর্ঘ সময় পর নীরজা সন্তান সম্ভবা হয়। কিন্তু বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে তার বাচ্চা মারা যায়,সে হয় বিকলাঙ্গ। তখন তার কাজ সামলানোর জন্য সরলাকে আদিত্য নিয়ে আসে। সরলার আবার বাগানে ফুল ফুটাতে থাকে। নারীর যে সৌন্দর্য থাকে সরলার বোধহয় সে সৌন্দর্য বড্ড বেশি ছিল।

নীরজা সরলাকে সন্দেহ করতে থাকে। আদিত্যকে চোখে চোখে রাখা যেন তার প্রধান কর্তব্য হয়ে উঠে। আদিত্য তখন উপলব্ধি করে সরলার প্রতি তার অটল ভালবাসা। কিন্তু তারা পারেনি এক হতে, তাদের মাঝে যেন বিস্তর সেতু অনাচারের।

নীরজা হাসি মুখে দান করতে পারেনি তার স্বামীকে মৃত্যু পথ যাত্রী হয়েও। নারীরা একবার কাউকে মন দিলে তা সম্পূর্ণ করে দেয় নীরজা তার প্রতীক। তার পরশে গড়ে উঠা পুরুষ অন্য কারো ��বে সে চিন্তা করলে তার মৃত্যুতেও অনীহা ধরে।
Profile Image for Nusaiba.
13 reviews1 follower
April 29, 2024
এই বইটা অনেক দিন আমার মাথায় গেঁথে থাকবে। দুজন নারীই তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে ঠিক ছিলেন। তবু জীবনের পথে কত দুঃখই না অপেক্ষা করে! এমন "আহা কী করুণ সুর!" হৃদয়ের গহীনে বাজানো রবি ঠাকুরের পক্ষেই সম্ভব!
Profile Image for Sahassrabdo Saha.
61 reviews
December 14, 2024
When the garden is ravaged, it parallels the fragility of human relationships, hinting at the destruction that emotional neglect and miscommunication can bring.

Typical Tagore <3
Profile Image for Imam Tuheen.
28 reviews
March 17, 2020
গ্রন্থ পরিচয়ঃ “মালঞ্চ” রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।

চরিত্রঃ আদিত্য, নীরজা, সরলা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ
আদিত্য ও নীরজার সংসার ফুলবাগান নিয়ে ভালোই চলছিলো। হঠাৎ নীরজার দূরারোগ্য ব্যাধির কারণে আদিত্যের দূর সম্পর্কের বোন সরলাকে ফুল বাগানে সহযোগিতার জন্য আনা হয়। আদিত্য ও সরলাকে নিয়ে নীরজার সন্দেহ ও অবিশ্বাস বাড়তে থাকে। নীরজার সন্দেহ একসময় দ্বন্ধ ও ঈর্ষায় পরিনত হয়। নীরজা চেষ্টা করে নিজেকে মানিয়ে নিতে কিন্তু সে পারেনি, পারার কথাও নয়। নীরজার হাহাকার ও ব্যাকুলতা কি প্রচন্ড তা ফুটে উঠেছে উপন্যাসে। নীরজা!

বিশেষ লাইনঃ
*** দেবীদের বর্ণনা আরম্ভ পদপল্লব থেকে। (পৃষ্ঠা-৮২৫)
*** ফুল দেয়ার প্রধান মূল্য নিজের হাতে দাওয়া। গঙ্গার জল হলেও নলের ভিতর থেকে তার সার্থকতা থাকে না। (পৃষ্ঠা- ৮১৮)
Profile Image for Sahib.
93 reviews9 followers
March 21, 2020
বইটা মনে ধরে নাই তেমন।
শেষাংশটা হয়তো কোনো রমণীর পক্ষেই বেশি অনুধাবনযোগ্য!
Profile Image for Saimun Siddiq.
191 reviews3 followers
April 9, 2025
সংক্ষিপ্ত উপন্যাস কিন্তু গভীরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সংসার জীবনের গল্প।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.