What do you think?


মীর বহরের খুন
খুন হয়েছেন মোগল নৌবাহিনীর প্রধান, তদন্তে অবতীর্ণ স্বয়ং শাহজাদা দারা শুকোহ। মোগল-এ-আজমের এই পরিবর্তিত সময়ে সতর্কতা অতীব জরুরি, দরবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির খুন বাইরে চাউর হলে নাজুক সাব্যস্ত হবে বাদশাহী ভিত। দিল্লির খরতপ্ত দিন আর রহস্যময় রাতে বাজার-অলিগলি চড়ে সন্ধানে নিয়োজিত হতে হলো জ্ঞানতাপস শাহজাদাকে; খেয়ালী যুবরাজ কি সিয়াসতের সূক্ষ্ম বুদ্ধির ছাপ দেখাতে পারবেন? চেনা চিত্রের মাঝে খানিক নতুন দারা শুকো-কে খুঁজে পাবেন পাঠক, রহস্যপাঠের স্বাদ নিতে পারবেন এমন এক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, যে সেটাপে থ্রিলার গল্প দুর্লভ।
40 pages, Paperback
Published March 1, 2025
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
May 26, 2025
মোগল আমলের গল্প বলতে কি শুধুই দরবারি জাঁক, মুঘাল-এ-আজম কিংবা বাদশাহ নামদার? অথবা রাজায়-রাজায় যুদ্ধ, 'ভিনদেশী' তাড়াতে মারাঠা আক্রোশের পলিটিকাল ন্যারেটিভ? তৎকালীন দুনিয়ার সবথেকে সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যের প্রেক্ষিতে কেন আরেকটা গেম অব থ্রোন্স অথবা হাউজ অব কার্ডস হতে পারে না? যে সমৃদ্ধির গন্ধে ছোঁক ছোঁক করে জড়ো হচ্ছে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের উচ্চাভিলাষীরা, সে টাইম পিরিয়ড নিয়ে নতুন কোনো পার্সপেক্টিভ থেকে কেন গল্প খোঁজা যায় না?
মোগল দরবার আর গোয়েন্দাগিরি—দুই আপাত বিপরীতমুখী ধারণাকে একজায়গায় মিলতে দেখবেন, ভেবেছিলেন? খুব অবাস্তব না। প্রাসাদ ষড়যন্ত্র তো আর কম হয়নি! তৈমুর বংশের ওয়ারিশদের যখন একে-অন্যের পিঠে ছুরি মারার চল, এদিকে হেরেমের অংশীদাররাও আড়ালে কোন কলকাঠি নাড়ছেন, আর বিদেশীদের কাকেই বা কার থেকে কম সন্দেহ করবো ভাবার অবকাশ নেই—বেশ জমাটি ভজঘট পরিবেশ কিন্ত। রহস্য, তদন্ত, গোয়েন্দাগিরি, তার স্কোপ যে আছে তা বলা বাহুল্য! এই যখন দশা, তার মাঝে খুন হলেন শাহজাহানের নৌ-প্রধান, মীর বহর। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি প্রাসাদের নিরাপত্তার মাঝেই নিহত, এ খবর চাউর হলে সালতানাত টলে যাবে। শুলুক সন্ধান করতে বাদশাহ ঠেলে দেন তাঁর প্রিয় পুত্র দারা-কে, জ্ঞানে যাঁর বিচরণ সর্বজন বিদিত। আগ্রার সূর্যতাপে প্রেমিকার আবেশে হৃদয় জুড়ানো মুলতবি করে দিল্লি ছুটতে হয় শাহজাদাকে, তদন্তের প্রয়োজনে।
বাদবাকি আলাপ :
https://youtu.be/tCEk0kFWiVU?si=kHKmW...
মোগল দরবার আর গোয়েন্দাগিরি—দুই আপাত বিপরীতমুখী ধারণাকে একজায়গায় মিলতে দেখবেন, ভেবেছিলেন? খুব অবাস্তব না। প্রাসাদ ষড়যন্ত্র তো আর কম হয়নি! তৈমুর বংশের ওয়ারিশদের যখন একে-অন্যের পিঠে ছুরি মারার চল, এদিকে হেরেমের অংশীদাররাও আড়ালে কোন কলকাঠি নাড়ছেন, আর বিদেশীদের কাকেই বা কার থেকে কম সন্দেহ করবো ভাবার অবকাশ নেই—বেশ জমাটি ভজঘট পরিবেশ কিন্ত। রহস্য, তদন্ত, গোয়েন্দাগিরি, তার স্কোপ যে আছে তা বলা বাহুল্য! এই যখন দশা, তার মাঝে খুন হলেন শাহজাহানের নৌ-প্রধান, মীর বহর। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি প্রাসাদের নিরাপত্তার মাঝেই নিহত, এ খবর চাউর হলে সালতানাত টলে যাবে। শুলুক সন্ধান করতে বাদশাহ ঠেলে দেন তাঁর প্রিয় পুত্র দারা-কে, জ্ঞানে যাঁর বিচরণ সর্বজন বিদিত। আগ্রার সূর্যতাপে প্রেমিকার আবেশে হৃদয় জুড়ানো মুলতবি করে দিল্লি ছুটতে হয় শাহজাদাকে, তদন্তের প্রয়োজনে।
বাদবাকি আলাপ :
https://youtu.be/tCEk0kFWiVU?si=kHKmW...
Read
June 3, 2025❛পয়সা, যশ, খ্যাতির মোহো এড়ানো কঠিন। তবে এই মোহো যদি লালসায় পরিণত হয় বা সীমা ছাড়িয়ে যায় তখনই পতনের সুর উঠে। পার্থিব এই লালোচের পরিণাম সবসময়ই দুঃখের।❜
মোঘল সালতানাতে তখন সম্রাট শাহজাহান আসীন। দুই শাহজাদা দারা শুকোহ্ এবং আওরঙ্গজেবের সম্পর্ক সুবিধার না। দারা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। এদিকে ভ্রাতার সাথে সম্পর্ক নিয়ে সে সন্দিহান। সিয়াসত সে বুঝলেও তার নজদিক বেশি পুস্তক পাঠ, জ্ঞান আহরণ আর চর্চার দিকেই। নিজের মহলে প্রণয়িনী রাণাদিলের সাথে একান্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
এরমধ্যেই খবর এলো সাম্রাজ্যের মীর বহর (নৌ বাহিনী প্রধান) নিজ মাকানে, নিজ কক্ষে কতল হয়েছেন। এমন খবর দিল্লি সালতানাত এবং শাসনের জন্য বেশ নাজুক। নিরাপত্তা আর ভেতরের অবস্থা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার মতো বিষয়।
রাজ কর্মচারীর আপন কক্ষে প্রায় বন্ধ ঘরে কী করে কেউ তাকে কতল করলো সেটা ধোঁয়াশা।
সন্দেহ যার উপর হয় তাকে সরাসরি দোষী করা সম্ভব না। এখানেও রাজ নিয়মের নানা ব্যাপার আছে। তাই আসা মী সনাক্ত করার দায়িত্ব পড়ে শাহজাদা দারা শুকোহের উপরে।
সন্দেহ, নানা সাজিস, কর্মচারীদের নিয়ম আর তাদের জীবনযাপনের নানা তরিকা জেনে তিনি অবাক হোন। পুচতাছ করতে থাকেন। এরমধ্যেই জানেন মোঘল সাম্রাজ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া দূরদেশী ব্যাপারীদের নিয়েও।
কে কতল করেছিল মীর বহরকে? তার কামরায় কাগজে লেখা ❛ci❜ এর অর্থ কী?
অপ রাধীকে পেলেও সালতানাতের সুরক্ষা, সম্মান রক্ষায় কি সব সত্য প্রকাশ সম্ভব?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝মীর বহরের খু ন❞ মাহমুদুর রহমানের সিল্করুট ঈদসংখ্যা, ২০২৫ এ প্রকাশিত একটি উপন্যাসিকা।
লেখকের লেখা এই প্রথমবার পড়ার সুযোগ হলো। ছোট্ট উপন্যাসের প্লটটা দারুণ আকর্ষণীয়। মোঘল আমলে ঘটে যাওয়া এক হ ত্যা নিয়ে থ্রিলার। যেখানে রহস্য সমাধান করছেন স্বয়ং শাহজাদা।
শুরুটা হয়েছে মোঘল আমলের একটা খন্ড সময়ের বর্ণনা দিয়ে। সেই আমলের সৌন্দর্য, শান, শকাত আর এরমধ্যেই ঘটে যাওয়া এক হ ত্যা রহস্য। যার সমাধানে নিজের বুদ্ধি, বিবেচনা খাটিয়েছেন মোঘল শাহজাদা দারা শুকোহ্। তাকেই এখানে মুখ্য চরিত্র বলা যায়। শাহজাদাকে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক।
পড়তে বেশ লেগেছে। শেষটা চমক ছিল বেশ। কাহিনি, রহস্যের জাল ফেলা থেকে শেষের যবনিকাপাত উপভোগ্য ছিল।
ভাষার ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হয়েছে। মোঘল ধরনের ভাষার ব্যবহার করে লিখেছেন তিনি। পড়তে একটু কষ্ট হলেও ভালো লেগেছে। মোঘল ভাব বজায় ছিল। পড়তে গিয়ে সেই দিল্লি সালতানাতের সময়টা উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
রহস্যের সাথে সম্রাট পরিবারের অন্দরের অবস্থা, পারিবারিক টানাপোড়ন আবার বন্ধন এই ব্যাপারগুলো দারুণ প্রকাশ পেয়েছে।
নিঃসন্দেহে ভিন্ন প্লট এবং দারুণ লেখার ধরনে লেখা উপন্যাসিকাটি উপভোগ্য ছিল। এরকম প্লটের লেখা সামনে পড়তে আগ্রহী।
❛রাজকার্য অনেক বড়ো দায়িত্ব। সেখানে যেমন চৌকষ নীতি লাগে তেমনি লাগে বিচক্ষণতা। চোখ ফাঁকি দিয়ে অনিষ্ট করলেও শাসনের ভিত্তি যদি হয় মজবুত তবে সেখানে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই।❜
মোঘল সালতানাতে তখন সম্রাট শাহজাহান আসীন। দুই শাহজাদা দারা শুকোহ্ এবং আওরঙ্গজেবের সম্পর্ক সুবিধার না। দারা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। এদিকে ভ্রাতার সাথে সম্পর্ক নিয়ে সে সন্দিহান। সিয়াসত সে বুঝলেও তার নজদিক বেশি পুস্তক পাঠ, জ্ঞান আহরণ আর চর্চার দিকেই। নিজের মহলে প্রণয়িনী রাণাদিলের সাথে একান্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি।
এরমধ্যেই খবর এলো সাম্রাজ্যের মীর বহর (নৌ বাহিনী প্রধান) নিজ মাকানে, নিজ কক্ষে কতল হয়েছেন। এমন খবর দিল্লি সালতানাত এবং শাসনের জন্য বেশ নাজুক। নিরাপত্তা আর ভেতরের অবস্থা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার মতো বিষয়।
রাজ কর্মচারীর আপন কক্ষে প্রায় বন্ধ ঘরে কী করে কেউ তাকে কতল করলো সেটা ধোঁয়াশা।
সন্দেহ যার উপর হয় তাকে সরাসরি দোষী করা সম্ভব না। এখানেও রাজ নিয়মের নানা ব্যাপার আছে। তাই আসা মী সনাক্ত করার দায়িত্ব পড়ে শাহজাদা দারা শুকোহের উপরে।
সন্দেহ, নানা সাজিস, কর্মচারীদের নিয়ম আর তাদের জীবনযাপনের নানা তরিকা জেনে তিনি অবাক হোন। পুচতাছ করতে থাকেন। এরমধ্যেই জানেন মোঘল সাম্রাজ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া দূরদেশী ব্যাপারীদের নিয়েও।
কে কতল করেছিল মীর বহরকে? তার কামরায় কাগজে লেখা ❛ci❜ এর অর্থ কী?
অপ রাধীকে পেলেও সালতানাতের সুরক্ষা, সম্মান রক্ষায় কি সব সত্য প্রকাশ সম্ভব?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝মীর বহরের খু ন❞ মাহমুদুর রহমানের সিল্করুট ঈদসংখ্যা, ২০২৫ এ প্রকাশিত একটি উপন্যাসিকা।
লেখকের লেখা এই প্রথমবার পড়ার সুযোগ হলো। ছোট্ট উপন্যাসের প্লটটা দারুণ আকর্ষণীয়। মোঘল আমলে ঘটে যাওয়া এক হ ত্যা নিয়ে থ্রিলার। যেখানে রহস্য সমাধান করছেন স্বয়ং শাহজাদা।
শুরুটা হয়েছে মোঘল আমলের একটা খন্ড সময়ের বর্ণনা দিয়ে। সেই আমলের সৌন্দর্য, শান, শকাত আর এরমধ্যেই ঘটে যাওয়া এক হ ত্যা রহস্য। যার সমাধানে নিজের বুদ্ধি, বিবেচনা খাটিয়েছেন মোঘল শাহজাদা দারা শুকোহ্। তাকেই এখানে মুখ্য চরিত্র বলা যায়। শাহজাদাকে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক।
পড়তে বেশ লেগেছে। শেষটা চমক ছিল বেশ। কাহিনি, রহস্যের জাল ফেলা থেকে শেষের যবনিকাপাত উপভোগ্য ছিল।
ভাষার ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হয়েছে। মোঘল ধরনের ভাষার ব্যবহার করে লিখেছেন তিনি। পড়তে একটু কষ্ট হলেও ভালো লেগেছে। মোঘল ভাব বজায় ছিল। পড়তে গিয়ে সেই দিল্লি সালতানাতের সময়টা উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
রহস্যের সাথে সম্রাট পরিবারের অন্দরের অবস্থা, পারিবারিক টানাপোড়ন আবার বন্ধন এই ব্যাপারগুলো দারুণ প্রকাশ পেয়েছে।
নিঃসন্দেহে ভিন্ন প্লট এবং দারুণ লেখার ধরনে লেখা উপন্যাসিকাটি উপভোগ্য ছিল। এরকম প্লটের লেখা সামনে পড়তে আগ্রহী।
❛রাজকার্য অনেক বড়ো দায়িত্ব। সেখানে যেমন চৌকষ নীতি লাগে তেমনি লাগে বিচক্ষণতা। চোখ ফাঁকি দিয়ে অনিষ্ট করলেও শাসনের ভিত্তি যদি হয় মজবুত তবে সেখানে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই।❜
Displaying 1 - 2 of 2 reviews



