ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় লেখকের ছদ্মনাম। তাঁর প্রকৃত নাম তারাদাস। জন্ম ১৯০৪ সালের ৭ মার্চ এবং মৃত্যু ১৯৭৫ সালের ২৫ এপ্রিল। বঙ্গলক্ষ্মী মাসিকপত্রের সম্পাদকীয় বিভাগে তিনি কাজ করতেন।
তাঁর উপন্যাস পড়েই সাহিত্যপাঠের সূচনা হয়েছিল অনেকের। তাঁর উপন্যাস এতোই জনপ্রিয় ছিল যে চলচ্চিত্রের কাহিনী হিসেবেও সমাদৃত হয়েছিল। 'চিতা বহ্নিমান' এবং 'শাপমোচন' এর জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে। পাঠকসৃষ্টিতে তিনি একটা বড় ভূমিকা পালন করেছেন।
'আকাশ বনানী জাগে' (১৯৪৩), 'আশার ছলনে ভুলি' (১৯৫০), 'বহ্নিকন্যা' (১৯৫১), 'ভাগীরথী বহে ধীরে' (১৯৫১), 'মন ও ময়ূরী' (১৯৫২), 'জলে জাগে ঢেউ' (১৯৫৪), 'মীরার বধূয়া' (১৯৫৬), 'স্বাক্ষর' (১৯৫৭), 'চরণ দিলাম রাঙায়ে' (১৯৬৬) তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। 'হিঙ্গুল নদীর কূলে' (১৯৩৫) এবং 'কাশবনের কন্যা' (১৯৩৮) তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ।
কিছু বই আছে যেগুলোর কোন রিভিউ হয়না, ভালমন্দ কিছু বলা যায় না। পড়ার পর শুধু স্তব্ধ করে দেয়, বিষন্ন করে দেয়, কথা কেড়ে নেয়! এই বই-ও ঠিক তেমন.....
এটা শুধু বিরহের প্রেমের গল্প নয়! এটাতে ছিল জীবনমুখী গভীর চিন্তাভাবনা! এত গভীর কিছু শব্দযোগে বাক্য ছিল যে, আমার বইটা রেখে কিছুক্ষণ ভাবতে হয়েছে, বলতে হয় ভাবতে বাধ্য করেছে... লেখকের এত গভীর চিন্তাভাবনা দেখে অবাক হতে হয়েছে...
শেষদিকে টপটপ করে খানিকটা অশ্রু বিসর্জনের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বাদ দিলে পুরো বইটা আহামরি কিছু ভালো লাগেনি। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে লেখক যে আসলে লেখিকা নন, এই তথ্যটা আগে জানা ছিল না। অবশ্য নিজের নামের অর্থ শান্তি হলেও শান্তির ছিটেফোঁটা তো নাই কোথাও, ফাল্গুনী নামখানা আর এমন কী!
উত্তম আর সুচিত্রার ছবিটা দেখা হয়নি। ক্লাসিক ম্যাটিনি মুভির ট্রাজিক প্লট ধরে এগোতে এগোতে আমার চোখে বরং ভেসে উঠছিলো পরবর্তী প্রজন্মের দুই তারকা— প্রসেনজিৎ আর ঋতুপর্ণার চেহারা। ফিরে গেছি শৈশবের সেপিয়া-টোনঅলা দুপুরে, যেখানে এন্টেনা নিয়ে কিছুক্ষণ ঘাঁটাঘাঁটি করার পর রঙিন আলোর প্রাণভোমরা ফিরে পেতো বোকাবাক্স; পানের খিলি মুখে পুরে নানি স্থির চোখে চেয়ে রইতেন বাক্সের দিকে, ম্যাটিনি শো হচ্ছে: অটিস্টিক ছেলে প্রসেনজিৎ খাবার প্লেটের আশেপাশে দুমদাম পিটছে আর মা-কে বলছে, ‘মা... আমি মাছি মেরেছি! আমি বীরপুরুষ!’ নানি হাঁ করে চেয়ে চেয়ে দেখতেন। শতভাঁজ চামড়ার কষ বেয়ে তার বেয়ে পড়ছে পানের লাল; সাক্ষাৎ ড্রাকুলার চাঁদের-বুড়ি ভার্সন যেন।
আমি তখন রতন জদ্দার কৌটা থেকে নিষিদ্ধ স্বাদ নিতে ব্যস্ত।
এই স্মৃতিগুলোই সম্বল, কারণ গল্প নিয়ে তেমন কিছু বলার নেই। ক্লিশে। একটু আপত্তি আছে— সম্পাদনা নিয়ে। সম্মানিত সম্পাদকের রসদে মনে হয় কমা দাড়ি কোলনের আকাল ছিল প্রকট, বিরামচিহ্নের মঙ্গা চোখে লেগেছে বারবার। বিরক্তি এসেছে পাঠে। এই কারণেই এক একক কমে গেলো রেটিং।
দুই তারা।
(ও, হঠাৎ মনে হলো। ‘জাড় লাগছে’ - কথাটা ছাপার অক্ষরে অনেকদিন পর দেখলাম)
উপন্যাসখান টিনেজ বয়সে দুইবার পড়ছিলাম, নাকের পানি আর চোখের পানি এক হয়া গেছিল। এরপর এত বছরে আর একবারও প্রিয়তম এই উপন্যাসটা পড়ি নাই - কি জানি যদি সেই ফ্যাসিনেশনটা কইমা যায়! সেই বয়সে পড়ার পর যে আবেগ হইছিল সেটা আসলে বইলা বুঝান যাইব না! সেই আবেগের রিখটার স্কেলে ইমোশনটার মাত্রা একটু নিচে নাইমা যাওয়ার ডরে এত্ত প্রিয় বইটা আর হাতে নেওয়ার সাহসই করতে পারি নাই! :3
"মাধুরী চলে গেল, মহেন্দ্র দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো, বাষ্প যতক্ষণ বাষ্প থাকে, ততক্ষণ ভেসে থাকে আকাশে, কিন্তু শীতলতার সান্নিধ্যে এলেই তাকে পড়তে হয় এসে সে সবুজ ঘাসে তা তপ্ত বালিতেও তো সে পড়তে পারে-..."⠀ ⠀ নাম: শাপমোচন ⠀ লেখক: ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় ⠀ জনরা: ট্র্যাজেডি⠀ রেটিং: ৪.২⭐/৫⭐⠀ ⠀ ⠀ 🌻 সার-সংক্ষেপ:⠀ ⠀ ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ার পর একমাত্র ভাই দেবেন্দ্র ও বৌদি অপর্ণা কাছেই মানুষ হয়েছে মহেন্দ্র। মহেন্দ্রের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকলেও নানান জটিলতায় তাদের পারিবারিক অবস্থা এখন বেশ শোচনীয়।অর্থাভাবে শুধু মেট্রিক পাশটাই করতে পারে সে। তার উপর বসন্তের কারণে নিজের চোখ দুটো হারিয়ে ফেলে দেবেন্দ্র৷ অন্ধ দাদা, বৌদি আর দাদার ছেলে খোকনের ভরণপোষণের জন্য বিজয়া দশমীর দিন মহেন্দ্র পাড়ি জমায় কলকাতায়, পিতৃবন্ধু উমেশ ভট্রাচার্যের কাছে। উমেশবাবু বেশ ধনবান ব্যক্তি, তার কাছে চাকরি লাভের কারণেই যাওয়া। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় উমেশবাবুর একমাত্র মেয়ে মাধুরীর সাথে। বড়লোক বাবার একমাত্র কন্যা আর তিন ভাইয়ের একমাত্র আদরের বোন মাধুরী শ'খানেক গুণে গুণান্বিত। আপাদমস্তক আধুনিকা, মেধা-রূপে অদ্বিতীয়া। এই মাধুরীকে মালা পরানোর জন্য মালা গাঁথে মডার্ন সমাজের অসংখ্য তরুণ, বাদ যায়নি জমিদারপুত্রও। কিন্তু মাধুরী তার মালা দিয়ে দেয় সামান্য মাইনের কেরানী মহেন্দ্রের গলায়৷ মহেনকে ঘষেমেজে সভ্য সমাজের উপযোগী করে তোলার দায়িত্ব নেয় সে নিজেই৷ কিন্তু মহেন্দ্র দানের টাকা না, নিজের উপার্জিত টাকা দাদার হাতে তুলে দিতে চায়। সেজন্য উমেশবাবুর বিলাসবহুল ছেড়ে সে চলে যায় এক মেসে। হয়তোবা সে মাধুরীর থেকেও দূরে সরে যেতে চেয়েছিল। তবুও মাধুরী তাকে আঁকড়ে ধরে রাখে৷ ⠀ ⠀ পুঁথিগত বিদ্যা মহেন্দ্রের বিশেষ একটা না থাকলেও, তার আচার-আচরণ, কথাবার্তায় ছিল বেশ গভীর কাব্যিকতার ছোঁয়া। আর সাহিত্য ও গানের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। মাধুরী মহেন্দ্রর আর্থিক অবস্থা জানার পরেও সব ত্যাগ করে তাকে প্রচন্ডভাবে নিজের করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু মহেন্দ্র মাধুরীর সেই ডাকে সাড়া দেয়নি, বরঞ্চ নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নেয় মাধুরীর থেকে৷ কিন্তু কেন সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়? তাদের কি শেষমেশ মিলন ঘটে?⠀ ⠀ ⠀ 🌻 পাঠ-প্রতিক্রিয়া: ⠀ ⠀ ৬০-৭০ দশকের খুবই সাদামাটা একটা প্লট। কাহিনীদশকের খুবই সাদামাটা একটা প্লট। কাহিনীর শেষের টুইস্ট বাদে পুরো বইয়ে এক ফোঁটাও টুইস্ট নেই। শুরুর ৫০-৬০ পৃষ্ঠা পড়ে মনে হচ্ছিল ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের ট্রেন ছুটে যাচ্ছে, এত দ্রুত সব আগাচ্ছিল। আরে ভাই, কোনো কিছু ঘটার জন্য তো একটু সময় দিতে হবে, নাকি?
এই মাধুরী মহেনকে নিয়ে এখানে-সেখানে বেড়িয়ে পড়ছে, গঙ্গার ধারে চলে যাচ্ছে, গানের আসর বসাচ্ছে। প্লট সাদামাটা হলেও মুখ্য দুই চরিত্রের ডায়ালগগুলো অসাধারণ ফিলোসোফি দিয়ে ভরপুর। দুইজনই দুইজনকে ভালোবাসে, তবুও নিজেদের মধ্যে কেমন জানি এক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। সব প্রেমই যে পূর্ণতা পায় না, এই বই তার একটা উদাহরণ। মাঝে মাঝে মনে হয় কিছু কিছু মানুষ ভুল সময়ে ভুল মানুষের প্রেমে পড়ে৷ আর বিয়ে না হলেও কিন্তু মানুষ বাঁচে, নিজেকে শাপ দিয়ে সেই শাপমোচনের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু সব অপেক্ষা মধুর হয় না। কিছু কিছু অ���েক্ষা শুধুই বেদনা বাড়ায়। বইটা পড়ে নাকি প্রায় সবাই-ই হাউমাউ করে কেঁদেছে৷ সত্যি বলতে, আমার এক ফোঁটাও কান্না পায়নি। কেন জানি চরিত্রগুলোর মধ্যে ঢুকতে পারছিলাম না। হয়তো এখন আর নিজের মধ্যে অত আবেগ কাজ করে না। শেষ হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম 'দূরবীন' পড়ে৷ উফফফ... সে কী কান্না... ক্লাস টেনে একদম আবেগে টইটম্বুর ছিলাম, রেমির জন্য ভয়াবহ খারাপ লাগছিল। আপনারা পড়ে দেখতে পারেন, খারাপ লাগবে না।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফ্যাসিনেশান কমে যায়। ভালাবাসা তখন ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ । যেবার প্রথম চিতাবহ্নিমান পড়েছিলাম সে কেদে কেটে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম।সেই বয়স এখন আর নেই, চোখে জল আসে না তবে হ্রদয়ে ব্যাথা হয়। নারীকুলের এত আবেদন, অনুরাগ,ভালবাসা অভিমান সব পুরুষের বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। একজন পুরুষ হয়েও তিনি কিভাবে মানবী মনের এত গহীনে বিচরন করেছেন তা এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
পুরো উপন্যাস জুড়েই মহেন্দ্র- মাধুরীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দেখানো হয়েছে। তবে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে মাধুরীর প্রতি তার পরিবারের ভালোবাসা ও সমর্থন। এমন পরিবার কি আদোও হয়?
পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে দুর্ভাগা তরুণ, মহেন্দ্র কলকাতায় আসে। কিন্তু কে জানতো জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ ও দুর্ভোগ এখানেই পাবে! সারাজীবন কষ্ট পেয়ে গেলে একসময় কষ্টই সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কষ্টের পর যখন স্বর্গীয় সুখ আসে তারপর নিদারুণ যন্ত্রণা তখন?
বিরহ প্রেমের মিষ্টি একটা বই। শেষে একবার মনে হচ্ছিল খোকন সত্যটা বলে দিক তো আবার কখনও মনে হচ্ছিল না, থাক না যেমন চলছে তেমনই। কিছু জায়গায় মাধুরীকে অনেক কঠিন মনে হয়েছে তো আবার বিরক্তও হয়েছি। তবে শেষটার জন্য করুণা হয়। কিছু জায়গায় লেখা জটিল মনে হয়েছে। সম্ভবত এমন লেখনশৈলীর সাথে পরিচিতি কম বলেই।
গতবছর মজার একটা ঘটনা ঘটেছে। একটা ফেসবুক পোস্টে দেখি ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় লেখিকা না, লেখক। গুগল করে দেখি আরে তাই তো।
I would never fall unless it’s you I fall into- this line is for মাধুরী-মহীন 💔
তোমার কাকুকে একবার আসতে বলো খোকন, বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে। বলো যে "মধু জমলে মোম হয় তখন আর গড়িয়ে যায় না" হাসছে মাধুরী। -ওটা তোমার কাকুর জন্য, ও তোমার বুঝে কাজ নেই। আসতে বলো তাকে একবার- -ওকে একটিবার আসতে বলো খোকন-মাধুরীর কন্ঠ ঝংকার দিল আবার।😭
-না, বলা হলো না-বলতে পারল না খোকন, কাকু নেই। কাকু যে ওঁর কাছে আছেন, ওঁর অন্তরে কাকু যে আজো জীবিত । মোড়ের মাথায় এসে খোকন তাকাল একবার। মাধুরী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, হাত তুলে বললেন- কাকুর সঙ্গে আবার এসো খোকন।
মহেন্দ্র আর মাধবী; ভবিষ্যৎ স্বর্গ এনে দেয়া এক সম্পর্কের অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার আখ্যান শাপমোচন। ইহাকে শুধুমাত্র একটা বই বা উপন্যাস হিসেবে জ্ঞান করলে শুধু এদের সাহিত্য রস আস্বাদন করাই হবে৷ জীবন দর্শনের যেই পাঠা ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় দিয়েছেন, সেটায় একটু নজর বোলানো দরকা।
দিগন্ত জোড়া ঐশ্বর্য আর সুখ কখনো কখনো ত্যাগ করতে করতে হয়, বেঁচে থাকার জন্য। বিরহ মেনে নিতে হয় অনিবার্য পতন ঠেকাতে। মহেন্দ্র দেখিয়ে দিলো 'জীবনে কোথায় থামতে হবে, সেটা বুঝতে পারাই মানব ধর্মের একমাত্র তপস্যা।'
শুরুর দিকটা একটু ধীরগতিতে গেলেও শেষে আমার বেশ ভালোই লেগেছিল। মাধুর অবিরাম চিঠি পাঠিয়ে যাওয়াটা কেমন এক অদ্ভুত কষ্টের জন্ম দিয়েছিল মনে। যাই হোক,বইটা পড়ে ভালো লেগেছে অনেক। ফাহরিয়ালের সাথে বাড়িতে গেলেই buddy reads কে মনে হয় সিরিয়াসলি নেওয়া হয়😂
# আপনি নিজে দরিদ্র হতে পারেন কিন্তু আপনার পছন্দকে দরিদ্র করবেন না।।
# মানুষ ততক্ষণ ছেলে মানুষ থাকে যতক্ষণ সে জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না।।
# বিয়ের ব্যাপারটা আমার কাছে একটা পুরুষের সঙ্গে একটা মেয়ের জীবন বেধে দেবার চুক্তিপত্র নয়, আমার কাছে ওর অর্থ আত্নার সঙ্গে আত্নার অখন্ড মিলন। শোলার টোপর আর শাখের বাদ্য না হলেও সেটা হতে পারে।।
# মেয়েরা দুই জাতের হয়, প্রণয়নী স্বভাবা আর এক মাতৃরূপী।।
# মানুষের জীবনে মর্মান্তিক দুঃখ যেমন আছে, মর্মান্তিক সুখও তেমন কম নাই।।
# সোনা যতক্ষণ ক্ষনিতে থাকে, তাকে খুজতে যায় কম লোকে; আবার সে যখন গিনি হয়ে গয়না হয়ে মনিকারের শো-কেসে বসে তখন রাস্তার পথচারীরাও তাকে দেখতে দাড়িয়ে যায়, তাতে খনির সোনার দাম কমে না মাধুরী। দাম কথাটি আপেক্ষিক মহিনদা, মানুষের চাহিদা হিসেবে ওর মূল্য; কুকুরের কাছে হিরার দাম কতটুকু!!
# প্রেম যদি সত্য হয় তাহলে তার চেয়ে বড় কিছু নাই মাধুরী, সে অন্তরের লীলা বিলাসের চারণভূমি। সে প্রেম দুর্লভ সে প্রেম সুপ্ত সে প্রেম খনির সোনা তাকে হাটে বাজারে পাওয়া যায় না। আর মাতৃরূপ পৃথিবীতে দরকার।।
# মহেন্দ্র যেন বাতাসে উড়ে আসা একটা ঘুড়ি, এই বাড়ির ছাদের কুর্নিশে তার সুতোটা আটকে গেছে তাই ও এখানে উড়ছে কিন্তু ও জানে ঐ ক্ষীণ সুতোটা ছিড়ে যাবে আর ও গিয়ে পড়বে আকাশে।।
# পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যের বন্ধন রজ্জুটা চোখে দেখা না গেলেও ওদের প্রেমের সত্যটা মলিন হয় না মহিনদা। সূর্যের কত তাপ আছে আর সূর্য কত দুরে আছে পৃথিবী নাইবা জানলো, ওর আলোতে উত্তাপে তো পৃথিবী ফুলে ফলে জীবনে পরিপূর্ণ হচ্ছে, এটা কি যথেষ্ট নয় ?
# অম্লান হাসি ওর মুখে, অমলিন ওর হৃদয়, ভাবলো বিয়ে না হলে কি বাঁচে না মানুষ? খুব বাঁচে, আরো ভালভাবে বাঁচে। এই যে স্মৃতি অমৃত এই যে আলো স্পর্শ এ কি তুচ্ছ, মূল্যহীন??
# তোমার কাকুকে একবার আসতে বলো খোকন, বড্ড দেখতে ইচ্ছে করে। বলো যে পৃথিবীর আদিম দিন আর নাই, সে এখন ফুলে ফুলে ভর্তি, অগন্য তার সন্তান, সূর্য এখন মেঘের আড়াল থেকে বেরুতে পারে। কিন্তু খোকন কি করে বলবে যে তার কাকু আর বেঁচে নেই; ১০ বছর আগেই সে মারা গেছে। কিন্তু মাধুরীর মধ্যেই তার কাকু এখনও বেঁচে আছে, মেঘে ঢাকা সূর্যের ন্যায়। বলতে পারলো না খোকন যে কাকু নেই। কাকু যে মাধুরীর কাছে আছে এখনও। ওর অন্তরে যে কাকু এখন জীবিত।।
এই বইখানার পাঠ অনুভূতি জানানোর মত অবস্থায় নেই আমি। শুরুতে কি সুন্দর নিটোল ভালোবাসাময় অনুভূতি। কিন্তু শেষটায় এসে একদম স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই বইয়ের রেশ অনেকদিন রয়ে যাবে আমার অন্তরে।
মন ভরে কান্নাকাটি করলাম । তবে সুন্দর বা আবেগী শেষের জন্য বই এর মাঝে অনেক অপ্রয়োজনীয় অতিরঞ্জন সহ্য করতে হয়েছে। ৩.৫ স্টার দেওয়া উচিৎ । তবে শেষ টার জন্য ৪ ।
নওরিনের এর সাথে বাডিরিডস গুলো সবসময় ইংলিশ বই গুলোই করা হয়, এবার তাই নওরিন স্রেফ বলে দিল, বাংলা বই পড়ব! অত:পর সখীর কথামতে বুকশেলফ এর ধুলোবালি মুছে এই বই বের করা।
প্রথম অর্ধাংশ বড্ড স্লো ছিল, একসাথে পড়ব বলে ধরেছি দেখেই হয়ত পড়ে চলেছিলাম, না হয় বোধহয় আবার ও শেল্ফ এ পুরান অবস্থান এ ফেরত পাঠাতাম😅 তবে ভাগ্যিস তা হয়নি! শেষাংশ পড়ে আগের অর্ধাংশের সংগ্রাম আর খুব একটা কাঁটা হয়ে বিঁধে না,তাই ৪ তারা!
গল্পের নায়ক মহেন্দ্র, অন্ধ দাদা, বৌদি এবং ভাইপো খোকন ই তার জীবন। একসময়ের সচ্ছল পরিবার নিয়তির পরিহাসে দারিদ্র্যতায় রূপ নেয়, আর্থিক অনটনে পড়ে পড়াশোনা টাও মাঝপথে বন্ধ করে দিতে হয় মহেন্দ্রর। একমাত্র প্রাণপ্রিয় ভাইপো খোকন কে মানুষ করার চিন্তায়, রোজগারের আশায় পাড়ি জমায় কলকাতায় বাবার বন্ধু উমেশবাবুর বাড়িতে। সেখানেই তার পরিচয় হয় উমেশবাবুর আদরের কন্যা গল্পের নায়িকা মাধুরীর সাথে। বাড়ির সকলের আদরের মাধুরি, কখনো কোনোকিছুর অভাব টের পায় নি। তারপর তথাকথিত ভাবেই যা হবার তা হয়, দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলে৷ কিন্তু অপ্রকাশিত। তবুও বাইরের সকলেই সেটা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারে। মাধুরির ধনাঢ্য পরিবার মাধুরির সুখেই সুখী। তাদের ও কোনো আপত্তি ছিল না এতে। কিন্তু তবুও তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেল না। পালিয়ে গেল মহেন্দ্র! কিন্তু তারপর কী হলো? এতো ভালোবেসেও কেনো পালিয়ে গেল মহেন্দ্র! জানতে হলে পড়ুন। বইটা না পড়া থাকলে এবং হাতে সময় থাকলে পড়ে ফেলুন। বইটা মাধুরী এবং মহেন্দ্রর এক অপ্রকাশিত প্রেমের অপূর্ণতায় মোড়ানো গল্প। যে প্রেম হৃদয়ের গভীর তম কুঠুরি তে শত সহস্র তালা দিয়েও আটকে রাখা গেল না৷ কিন্তু কেন পূর্ণতা পেল না! সে কি শুধুই নিয়তি নাকি জটিল কোনো অঙ্ক যার সমাধান আদোও সম্ভব নয়! সহজ সরল ভাষায় লেখা সুন্দর একখান বই। কী গভীরভাবে প্রেমকে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। মাঝে মাঝে ভাবি আমি যদি মাধুরীর জায়গায় থাকতাম কী করতাম! নিজেকে মাধুরী পর্যন্ত বসাই কিন্তু তারপর আর ভাবতে পারি না, ভাবনা গুলো বন্ধ হয়ে যায়, গলা ধরে আসে। বাস্তবে কি একটা মানুষ কখনো কাউকে এতো গভীর ভাবে ভালোবাসতে পারে! হয়তো পারে, ভালোবাসার পরিধি হয়তো অত্যন্ত গভীর। কী জানি অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু খুব করে চাই পৃথিবীতে ভালোবাসা আসুক, গভীর ভাবে আসুক। ভালোবাসা বেঁচে থাকুক। মানুষের ভালোবাসা দেখাও একটা আনন্দময় বিষয়, ভালোলাগার ব্যাপার । সেই আনন্দ, ভালোলাগা থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।
মার্ক টোয়েন বলতেন, জীবন নাটকের চাইতে নাটকীয়। তবে বাস্তবের জীবনে নাটকের কিছু গণ্ডি থাকলেও থাকতে পারে। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাসে সেই সীমাটুকুও নেই। তাই ধনীর দুলালি মাধুরী ও গরিবের ছেলে 'আবদুল' ওরফে মহেন্দ্রের ভালোবাসাটুকু পূর্ণতা পেল না।
বাংলা উপন্যাসে রোমান্টিক জনারাকে কেন যেন অত্যন্ত দীনহীন মনে হয়। বেশির ভাগ পাঠকপ্রিয় রোমান্টিক উপন্যাসগুলোর সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। আর, থাকলে তা সামান্যই। যেন মনে হয় ঔপন্যাসিক সিনেমার জন্য চিত্রনাট্য লিখতে বসে ভুলবশত উপন্যাস লিখে ফেলেছেন। এমনই একখান নজির 'শাপমোচন'। দরিদ্র তবে সুদর্শন তবে বুদ্ধিদীপ্ত তবে গান গাইতে পারে তবে লিখতে পারে তবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন তবে পরিবারের জন্য সব ছাড়তে পারে - এমনই সর্বগুণসম্পন্ন ছেলে মহেন্দ্র। অন্ধ ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে ধনী পিতৃবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় আসে মহেন্দ্র। সেখানে দেখা পায় পরিবারের ছোটো সন্তান চপলা তরুণী মাধুরীর। যে সবার হৃদয়ের রানি। মহেন্দ্র কী পারবে পরিবারকে ঠেলে ধনীর দুলালি মাধুরীকে গ্রহণ করতে?
বইয়ের রিভিউটা গানে গানে দিয়ে দিই। মহেন্দ্র এর থিম সং হতে পারে। জেমসের সেই বিখ্যাত গানঃ "তুমি জানলে না আমার হাসির আড়ালে কত যন্ত্রণা, কত বেদনা কত যে দুঃখ বোনা তুমি জানলে না" আর মাধুরীর মনে যে কী চলছে, হুম তার ও একটা থিম সং আছে, মান্না দে এর বিখ্যাত সেই গান যদিও গানটা নায়কের গলায়, নায়কের ভাব নিয়ে। তারপরো প্রাসঙ্গিক ব জানতে ইচ্ছে করে খুব জানতে ইচ্ছে করে তুমি কি সেই আগের মতই আছ নাকি অনেকখানি বদলে গেছ।
এখনো কি প্রথম সকাল হলে স্নানটি সেরে পূজার ফুল তুলে পূজার ছলে আমারই কথা ভাব বসে ঠাকুর ঘরে জানতে ইচ্ছে করে।
ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস 'শাপমোচন'; সন্দেহ নেই। সংকটাপন্ন জীবনের নানান প্রতিচ্ছবি সুনিপুণ আঁচড়ে গোটা উপন্যাসে চিত্রিত করেছেন তিনি। দৃঢ় মনোবল, আত্মসংযম, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, ��ৃতজ্ঞতা, অস্ফুট ভালোবাসার নিশ্চুপ কোলাহল, নাড়ীর তরে তীব্র আকর্ষণ, প্রকৃত প্রেমের প্রকৃষ্ট নজরানা—কী নেই শাপমোচনে! 'শবনম', 'আনোয়ারা' ও 'চলনবিলের পদাবলি' উপন্যাসত্রয়ের সকল পাঠকের নিকটে 'শাপমোচন' একটি মাইলফলক হয়ে রবে; দ্বিধাহীন বলা যায়।
মাধুরী; তোমার মতো কাউকে না পেলে আমাকে হয়তো একাকিত্বের পাষাণসম যাতনা বইতে হবে চিরকাল।
কিন্তু এই বইটা মন ছুঁয়ে গেলো। এতো সুন্দর বর্ণনা, শব্দচয়ন, বাক্যবিন্যাস! শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হলো ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় সহ সকল লেখকদের প্রতি যারা বাংলা সাহিত্যে এমন সার্থক প্রেমের উপন্যাস সৃষ্টি করেছেন!
বইটি পড়ে ভালো লেগেছে। সুন্দর, সহজ, সাবলীল বাংলায় লেখক বলে গেছেন দরিদ্র পরিবারের একজন তরুণের কথা। শুধু তাই নয়, লেখক উপন্যাসটিতে উচ্চবিত্ত একজন তরুণীর মনোবিশ্লেষণ করেছেন অসাধারণ নিপুণতায়। সমানতালে দুই পরিবারের কথাও বলা হয়েছে এখানে। সবমিলিয়ে উপন্যাসটি উপভোগ্য।
ভালোবাসলেই যে পেতে হবে এমন কথা নেই। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব ছাড়াও ভালোবাসা আমাদের উত্তম করে তুলতে পারে, ভালোবাসা হতে পারে সার্থক। লেখক হয়তো এমনটিই বলতে চেয়েছেন উপন্যাসটির মাধ্যমে।
সব সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না। প্রতিশ্রুতিহীন সম্পর্ককে সহজ সমীকরণে মেলানো যায় না। এটি অনেক রকম জটিলতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ডেকে আনে। উচ্চবিত্তের পরিবারের মেয়ে যখন নিম্নবিত্তের ছেলেকে ভালবাসে তখন নিম্নবিত্তের ছেলেটি দোটানায় পড়ে। সে ভালবাসতে চাইলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পাহাড় সমান বাঁধা। ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির যুগলবন্দীতে একটি সম্পর্ক পূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হতে পারে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি দিতে গেলেও একটা বেঁচে থাকার মাধ্যম লাগে।
শাপমোচন বইটির কাহিনী আহামরী কিছু না, সেই ৬০-৭০ এর দশকের আধুনিক নাগরিক জীবন যাপন উঠে এসেছে। তার মাঝে আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে অনিন্দ্যসুন্দর এক প্রেম কাহিনী। লেখকও এর পাতায় পাতায় এমন ভাবে কলম চালিয়েছেন যে পড়তে গেলে চরিত্র গুলো যখন হেঁসে উঠবে তখন আপনি ও হেঁসে উঠবেন। আবার চরিত্র গুলো যখন কাঁদবে তখন আপনার ও চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু জল জমবেই?
অন্ধ দাদা, বউদি আর স্নেহের খোকনের ভরনপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কোন এক দূর্গা পূজার নবমীর দিন গ্রাম ছেড়ে কলকাতা শহরে পাড়ি জমান মহেন্দ্র। উদ্দেশ্য তার পিতার বাল্যবন্ধু উমেচন্দ্রের বাড়িতে যোগাযোগ করা এবং একটা চাকরীর ব্যবস্থা করা। মহেন্দ্র এর পিতা এক সময় স্বচ্ছল থাকলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা অভাবে পড়ে। মহেন্দ্র এর বাবাই উমেশচন্দ্রকে এক সময় কঠিন রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। সেই জন্য বন্ধুত্বের সেবার দায় নিয়ে মহেন্দ্র উমেশবাবুর বাড়ি পৌঁছায় এবং সকলের দ্বারা বিশেষ করে উমেশ চন্দ্র ও তার মেয়ে মাধুরীর দ্বারা পরম যত্ন লাভ করে। এক সময় বাড়ির সকলে মহেন্দ্র কে পছন্দ করতে এবং ভালবাসতে শুরু করে। কিন্তু মহেন্দ্র সহ্য করতে পারে না সে সব। কিন্তু কেন? কারন- "মহেন্দ্র যেন বাতাসে উড়ে আসা একটা ঘুড়ি, এই উচ্চবিত্তের বাড়ির ছাদের কুর্নিশে তার সুতোটা আটকে গেছে তাই ও এখানে উড়ছে কিন্তু ও জানে ঐ ক্ষীণ সুতোটা ছিড়ে যাবে আর ও গিয়ে পড়বে আকাশে"।।
বড়লোক বাবার একমাত্র কন্যা আর তিন ভাইয়ের একমাত্র আদরের বোন মাধুরী। রূপে, গুনে, মেধায় আর বাকপটুতায় অদ্বিতীয়। তার সাথে কথায় পেরে উঠবে এমন লোক পাওয়া দায়। এই অষ্টাদশী তরুনীকে জয় করার জন্য কতজনের কতরকম চেষ্টা।কিন্তু মাধুরীকে যে জয় করে নিয়েছে এক "ষাট টাকার কেরানী"! হ্যাঁ কেরানী তো বটে, তবে কেন সে জয় করতে পারলো মাধুরীর মন? সে তো চাই নি কখনো উচ্চবিত্তের ছোঁয়া তবে কেন মাধুরী এলো জীবনে।
পিতৃঋন শোধ করতে মাধুরী নিজেই মহেন্দ্রকে দেখাশুনার দায়িত্ব নেয়।সভ্য সমাজের উপযোগী করে গড়ে তুলে তাকে। মাধুরীর স্পর্শে নিজেকে নতুন ভাবে আবিস্কার করে মহেন্দ্র। শৈল্পিক মন জেগে উঠে আবার। একদিকে যেমন চলতে থাকে সঙ্গীত আর সাহিত্যচর্চা তেমনি অন্যদিকে চলতে থাকে টাইপ রাইটিং আর চাকরী খোজা। ভদ্র সমাজে নিজ মেধা গুণেই সমাদৃত হতে থাকে সে। এভাবেই এক সময় মহেন্দ্রের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলে মাধুরী।
ওদিকে একটা চাকুরী পেয়ে মাধুরীদের বাসা ছেড়ে মেসে উঠে মহেন্দ্র।সেখানেও মাধুরীর ছোয়ায় আরো আলোকিত হয়ে উঠে সে।একটা সময় মাধুরী থেকে পালিয়ে যেতে থাকে সে। যেন মহাকালের মাঝে হারিয়ে যেতে চায় সে। এক বিজয়াতে মহেন্দ্র তাদের বাড়িতে এসেছিল। এখন প্রত্যেকটি বিজয়ার দিনেই মহেন্দ্র কে চিঠি লেখে মাধুরী, কিন্তু কোন উত্তর আর আসে না। জানতে ইচ্ছে করে না, কি সে কারন? মহেন্দ্রর প্রতি মাধরীর ভালবাসার তীব্রতা বোঝাতে এ কবিতাটা অবলিলায় বলা চলে- সেই তোমাকে তবুও ভাবি ভেবে ভেবে জাগি ক্রমশঃ দীর্ঘ করে তুলি তিমির-রজনী স্বপ্ন আসে স্বপ্ন যায় তুমি আসেনা বিরহ কষ্টে কেঁদে উঠে প্রেম-ধমনী সেই তোমাকে তবুও ভালবাসি ভালবেসে কাঁদি ক্রমশঃ ভারি করে তুলি পৃথিবীর বাতাস দিন যায় রাত যায় তুমি আসেনা আমার কষ্টে কেঁদে উঠে কালের আকাশ।
শাপমোচন কথাটার অর্থ জানেন তো? বইটাতে কে কার শাপমোচন করেছে মাধুরী না মহেন্দ্র তা জানতে চাইলে পড়ুন বইটি??
ব্যক্তিগত মতামতঃ কিছু লেখা আছে যা আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে। এ বইটা আমার কাছে তেমন ই মনে হয়েছে। কখনও হেসেছি, কখনো কেঁদেছি আফসোসও হয়েছে সময় সময়। জীবনে কোন মাধুরীর ছোয়া না পাওয়ার আক্ষেপও বেড়েছে কিছুটা! আবার শেষ দিকে এসে না চাইলেও বুকটা টন টন করে উঠলো, চোখের কোনায় জল জমে গেল।কিছু সম্পর্ককে নতুন করে চিনতে শিখলাম,নতুন করে ভালোবাসার এক অনিন্দ্য সুন্দর সংজ্ঞা পেলাম।
উপন্যাসে কে যে বেশি প্রাধান্য বিস্তার করেছে মহেন্দ্র নাকি মাধুরী? তা বোঝা সত্যি কঠিন। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়েছে লেখক মাধুরী চরিত্রে জোর দিয়েছেন আবার মনে হয়েছে মহেন্দ্র কে নিখুত করেছেন। বইয়ের বর্ণনার ভাষা কেমন জানি নেশা ধরানো। চরিত্রের ডায়ালগ গুলো অদ্ভুত সুন্দর। এত জটিল প্রেমের উপাখ্যান, উভয় চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ, তারপরেও তা সুমধুর তারপরেও তা বারবার পড়ার যোগ্য। মাধুরীর কথা মনে পড়লেই কেমন একটা শুন্যতা সৃষ্টি হয়ে যায়। এ শূন্যতার ঘোর থাকবে আজীবন। কেননা বইটা সেরা।
সব সময় মানুষ তার জীবনে কিছু না কিছু বই পড়ে যা তার মন ছুয়ে যায়, অস্তিত্বে নাড়া দেয়। পড়া শেষ হওয়ার পর ঘোরের মধ্যে চলে যেতে হয়। কারন বইয়ের লেখনী এরকম। আপনাকে একদম মর্মমূলে আঘাত করবে। কিছু সম্পর্ক কে নতুন করে চিনাবে। কিছু চরিত্রকে আজীবন ভালবাসতে শেখাবে। বইয়ের চরিত্রের সাথে আপনিও কাদবেন, আবার সেই চরিত্রের সাথে আপনিও হাসবেন। এমন ধরনের গল্প গুলো আসলে তখন বইয়ের সাদা কাগজে আবদ্ধ থাকেনা। তখন তা জীবন্ত হয়ে যায়। আমার মনে পরেনা, কতগুলো বই পড়ে এমন ফিলোসোফিকাল অনূভুতি হয়েছে। আরো অনেক বাংলা বই পড়েছি, অনেক গুলো ভালো লেগেছে। অনেক গুলো ভালো লাগেনাই, আবার অনেক গুলো পড়ে আলাদা অনুভুতি এসেছে। কিন্তু মনে পড়েনা আর কোন বই পড়ে এমন সব অনুভূতি কে ছাপিয়ে কেমন একটা শান্ত স্নিগ্ধ ভাব এসেছে কিনা। এ অনুভুতি বিশেষ কিছু গল্প বা উপন্যাস পড়লে আসে। তেমন একটি বই শাপমোচন। বাংলা সাহিত্যে যেসব অমর শিল্প সৃষ্টি হয়েছে সুনীল, সমরেশ, সুচিত্রা, শরৎ, রবীন্দ্রনাথ এর মাধ্যমে তার পাশে এ বইটি অবশ্যই স্থান করে নিবে। এগুলো আমাদের অস্তিত্বের বই। এগুলো না পড়লে আমার মনে হয় অস্তিত্ব রক্ষা হবে না। বইয়ের প্রেক্ষাপট খুব একটা বিশেষ না কিন্তু আবার অনেক সুন্দর। সেই ৬০-৭০ এর দশকের আধুনিক নাগরিক জীবন যাপন উঠে এসেছে। তার মাঝে আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে অনিন্দ্যসুন্দর এক প্রেম কাহিনী। প্রধান চরিত্র দুইজন। মহেন্দ্র আর মাধুরী। দুইটা চরিত্রকে এমন মহৎ ভাবে লেখিকা উপস্থাপন করেছেন মাঝে মাঝে ভাবি কে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে উপন্যাসে মহেন্দ্র নাকি মাধুরী। বর্ণনার ভাষা কেমন জানি নেশা ধরানো। চরিত্রের ডায়ালগ গুলো অদ্ভুত সুন্দর। ভাষার ব্যবহার আমাকে বাংলা ভাষাকে নতুন করে ভালবাসতে শিখিয়েছে। এক কথায় বইটা না পড়লে এটার মাধুর্য, চরিত্রের গুণমুগ্ধতা বোঝা সম্ভব নয়। বইয়ের পরিনতি আপনাকে চরিত্রের সাথে এক সুরে কাদাবে। এত জটিল প্রেমের উপাখ্যান, উভয় চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ, তারপরেও তা সুমধুর তারপরেও তা বারবার পড়ার যোগ্য। এই নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার বইটি পড়লাম। তো যারা পড়েন নাই তারা যদি পারেন বইটি পড়ে দেখবেন। আশা করি বাংলা সাহিত্য যে কি, তার রত্নভাণ্ডার যে কত সমৃদ্ধ তা আরেকবার বুঝতে পারবেন। বইয়ের রেটিং ৫/৫ দিলাম। যদিও কিন্তু আমি মনে করি এ বইয়ের রেটিং দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। কিছু বই রেটিং এর উর্দ্ধে। রেটিং এসব বইয়ের জন্য সৃষ্টি হয়নাই।
রাত আড়াইটার সময় চোখের পানি নাকের পানি একসাথ করে কান্না করলে, কেউ কী বিশ্বাস করবে যে বই পড়ে কান্না করেছি?
এ বছর দুইটা বই পড়ে আমি খুব কান্না করেছি- ১. অপরাজিত! ২. শাপমোচন!
মানুষের জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয়, কথাটা কেমন কঠিন লাগতো আগে আমার কাছে। এখন বুঝতে পারি, আসলে কথাটার মানে কী।
মাধুরী চরিত্রটা আমার এতো ভালো লাগে যে, বইটা পড়ার সময় নিজেকে কয়েকবার মাধুরীর জায়গায় রাখতে দ্বিধা করি নি। কিছু আচরণ আমার সাথে মিলার কারণেই কী না, তা বুঝতে পারছি না। আর রইলো,মহেশ! লেখিকা শেষে দিয়ে এভাবে না কাঁদালেও পারতো। হয়তো, এভাবে না কাঁদালে বইটার কথা মনেও থাকতো না।
কিছু কথা এতো সুন্দর, কিন্তু ভার অনেক বেশী। মুগ্ধ হয়েছি, আর বারবার পড়েছি লাইনগুলো।
▪জীবন থেকে কাব্য জন্মায়, কাব্য থেকে জীবন জন্মায় না।কবিতা জীবনে ভোজ্য, জীবন তো কবিতার ভোজ্য নয়! ______শাপমোচন
কারো প্রস্থানে জীবন থমকে থাকে না,থাকবে ও না।হুট করে আমাদের জীবন থেকে কেউ চলে গেলে- তার উপর রাগ হয়,অভিমান হয়,অভিযোগ জমে।তার চলে যাওয়ার পিছনে কারণটা কী তা জানার চেষ্টা করি না বা নিজের মনগড়া একটা কারণ গড়ে তুলি
তবুও এটি কালজয়ী উপন্যাস হয়ে ঠায় দাড়িয়ে আছে ও থাকবে সম্ভবত এর শেষ অংশের জন্য। এই জায়গার লেখনী এককথায় অনবদ্য। বাকি পুরো উপন্যাসের ভাষা থিয়েটারী। পড়লে মনে হয় বইখানা লেখা হয়েছিল থিয়েটারের চিত্রনাট্য হিসেবে কিন্তু ছাপানো হয়েছে উপন্যাস হিসেবে।
লেখক, পাঠককে সবকিছু মুখে তুলে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আরোপিত বর্ণনার আতিশয্যে দাড়ানোই মুশকিল! কিছু বিষয় একদম ভেঙে না বলে পাঠকের কল্পনার উপরে ছেড়ে দিলেই বেশী লাগসই হতো।
লেখক; মহেন্দ্র, মাধুরী, দেবেন্দ্র এর মত অসাধারণ সব শক্তিশালী চরিত্র তৈরি করেছেন কিন্তু ব্যাবহার করেননি। যদি সেই সময়ের ক্লিশে অতি নাটুকেপনা থেকে বেরিয়ে এসে একই চরিত্র ব্যাবহার করে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতেন তাহলে এটি সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হতো।
তবুও এটি টিকে থাকবে ওই শেষ কটা পাতার জন্যই, ওই কটা পাতায় যতটা সাবলীল মনে হয়েছে লেখককে পুরো বইয়ে তেমন লেখনী পড়তে পারলে বেশ লাগতো!