Jasimuddin (Bangla: জসীম উদদীন; full name: Jasimuddin Mollah) was a Bengali poet, songwriter, prose writer, folklore collector and radio personality. He is commonly known in Bangladesh as Polli Kobi (The Rural Poet), for his faithful rendition of Bengali folklore in his works.
He obtained his BA degree in Bengali from the University of Calcutta in 1929 and his MA in 1931. From 1931 to 1937, Jasimuddin worked with Dinesh Chandra Sen as a collector of folk literature. Jasimuddin is one of the compilers of Purbo-Bongo Gitika (Ballads of East Bengal). He collected more than 10,000 folk songs, some of which has been included in his song compilations Jari Gaan and Murshida Gaan. He also wrote voluminously on the interpretation and philosophy of Bengali folklore.
Jasimuddin started writing poems at an early age. As a college student, he wrote the celebrated poem Kabar (The Grave), a very simple tone to obtain family-religion and tragedy. The poem was placed in the entrance Bengali textbook while he was still a student of Calcutta University.
Jasimuddin is noted for his depiction of rural life and nature from the viewpoint of rural people. This had earned him fame as Polli Kobi (the rural poet). The structure and content of his poetry bears a strong flavor of Bengal folklore. His Nokshi Kanthar Maath (Field of the Embroidered Quilt) is considered a masterpiece and has been translated into many different languages.
Jasimuddin also composed numerous songs in the tradition of rural Bengal. His collaboration[4] with Abbas Uddin, the most popular folk singer of Bengal, produced some of the gems of Bengali folk music, especially of Bhatiali genre. Jasimuddin also wrote some modern songs for the radio. He was influenced by his neighbor, poet Golam Mostofa, to write Islamic songs too. Later, during the liberation war of Bangladesh, he wrote some patriotic songs.
Jasimuddin died on 13 March 1976 and was buried near his ancestral home at Gobindapur, Faridpur. A fortnightly festival known as Jasim Mela is observed at Gobindapur each year in January commemorating the birthday of Jasimuddin. A residential hall of the University of Dhaka bears his name.
He was honored with President's Award for Pride of Performance, Pakistan (1958), DLitt. by Rabindra Bharati University, India (1969) Ekushey Padak, Bangladesh (1976), Independence Day Award (1978).
৩.৫/৫ পাকিস্তান আমলে যুগোস্লাভিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলেন জসীম উদদীন। যা দেখেছেন তাতেই মুগ্ধ হয়েছেন। মুগ্ধ হওয়ার ক্ষমতা লেখকের এমনিতেই বেশি, তায় যুগোস্লাভিয়ায় তখন মুগ্ধ হওয়ার মতো উপাদান ছিলো অনেক। সমাজতান্ত্রিক দেশ, সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছিলো সবকিছু, মানুষ ছিলো হাসিখুশি ও সহায়তাপ্রবণ, ছিলো শিশুরাজ্য যেখানে শিশুরাই সকল ধরনের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতো। ঘুরতে যেয়ে লেখকের নির্দোষ একটা প্রেমও হয়ে গিয়েছিলো। জসীম উদদীন অবশ্য কোনো ঘটনার গভীরে প্রবেশ করার ঝামেলায় জড়াননি, যা দেখেছেন সরলভাবে তা-ই লিপিবদ্ধ করেছেন। বইয়ের ছবিগুলো বাড়তি পাওনা।
জসিম উদ্দিনের যুগোস্লাভিয়া ভ্রমণের স্মৃতিকথা।বেশ সহজ সরল গদ্যে হ্নদয় ছুঁয়ে যাওয়া সেইসব মানুষদের স্মৃতিকথা কবি লেখেছেন। জসীম উদ্দিনের লেখায় একটা মায়া আছে।তিনি ঘুরতেন খুব, সারা বাংলা তো বটেই পৃথিবীর নানান দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। মানুষের মাঝের চিরায়ত সার্বজনীন সারল্য আর ভালোবাসা তিনি সবখানেই আবিষ্কার করেছেন।যুগোস্লাভিয়াতে ভ্রমণেও কবি এর নিদর্শন পেয়েছেন। ওখানকার মানুষদের অতিথিপরায়ণতা, শিশুদের রাজ্য আর রুপসী নারীদের গল্প লেখক কখনো ভুলতে পারেননি। লেখকের স্বদেশবাসীদের নিয়ে চিন্তা, যুগোস্লাভিয়ার মতো কেনো তাঁর দেশও আগাচ্ছেনা সেটা নিয়ে আক্ষেপ প্রমান করে যে তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষের কবি।
মূলত য়ুগোস্লাভিয়া ভ্রমণের কাহিনী "হলদে পরীর দেশে"। বলকান এলাকার সুন্দরী তরুণীরাই সম্ভবত হলদে পরী। তবে য়ুগোস্লাভিয়া যাবার পূর্বে কবি ইটালিতে গিয়েছিলেন। রোম দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, রোমের ট্যাক্সি ড্রাইভারের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছিলেন, রোমের পুলিসের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিলেন।
এর আগে পাকিস্তানের করাচিতে শিল্পী এসএম সুলতানের সাথে পরিচয় ও সময় কাটানোর অভিজ্ঞতাও লিখেছেন। ভাগ্যের অনুসন্ধানে সুলতান তখন করাচিতে। সুলতানের জীবনসংগ্রামের একটুকরো কবির অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়।
জসীম উদদীনের চরিত্রের একটা বড় গুণ, স্বল্প সময়ের আলাপেই মানুষের খুব কাছে চলে যেতে পারেন, মানুষ তাঁকে সহজে আপন করে নেয়। সুন্দরী তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক মহিলা সবাই তাঁর সাথে মন খুলে আলাপ করে। শিশুরা তো তাঁকে আরও বেশি পছন্দ করে।
ইটালি থেকে য়ুগোস্লাভিয়া যাবার পথে গাড়িতে এক মা ও ছেলের সাথে পরিচয় হলো কবির। মা ইংরেজি জানেন না, তবে ছেলের অনুবাদে আলাপ জমে গেল। কবিকে নিজ বাড়িতে দাওয়াত করে বসলেন ভদ্রমহিলা। শহরে ঘুুরিয়া আমার দেশের কি জানিবে? আমার গ্রামে বসিয়া ইটালীর অন্তর্দেশ দেখিতে পাইবে। জসীম উদদীনের পক্ষে দাওয়াত কবুল করা সম্ভব ছিল না। যাত্রাশেষে অশ্রুসিক্ত চোখে সেই মা কবিকে বিদায় দিলেন। অল্প পরিচয়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে এমন অশ্রুসজল বিদায়ের ঘটনা জসীম উদদীনের লেখায় অনেকবার পড়ে ফেললাম। কি মায়া তিনি মানুষের মনে সঞ্চারিত করতে পারেন ভেবে অবাক হই।
কবি যখন য়ুগোস্লাভিয়া ভ্রমণ করেছেন তখন কিংবদন্তী একনায়ক মার্শাল টিটো ক্ষমতায়। বেলগ্রেডে তিনি দেখেছেন লেখক, সৈনিক, কৃষক, শিশু কিশোর সবাই মার্শাল টিটোকে ভালোবাসেন। দেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন আছে তাদের নেতার প্রতি। অবশ্য একনায়করা কৃত্রিমভাবে বিদেশিদের সামনে এমন ইমেজ তৈরি করতে পারেন। তবে টিটো মারা গেছেন চল্লিশ বছরেরও বেশি হয়েছে, য়ুগোস্লাভিয়া ভেঙে ৬/৭ টা দেশ হয়েছে (কসোভোকে ধরলে ৭)। এখনও বিংশ শতাব্দীর সেরা নেতাদের একজন হিসেবেই টিটোকে বিবেচনা করা হয়।
কবির একটা ব্যাপার আমার ভালো লাগে না, সুন্দরী মেয়েদের সাথে তাঁর গায়ে পড়া স্বভাব। তবে মেয়েরা বোধহয় ব্যাপরটা পছন্দই করে, বিদেশি মানুষের প্রতি স্বভাবসুলভ কৌতুহল তাদের অবশ্যই আছে; এছাড়া মানুষের সাথে ভাব করতে পারার যে বিরল গুণ জসীম উদদীনের ছিল, সেটা একটু আগেই লিখেছি।
বেলগ্রেড থেকে গিয়েছিলেন সারায়েভোতে। সেখানে বহু মুসলিমের বসবাস। কমিউনিস্ট সরকার মেয়েদের পর্দা করানো অথবা জোরপূর্বক পর্দা করানো নিষিদ্ধ করেছিল। জসীম উদদীন লিখেছেন, সারায়েভোর রাস্তাঘাট মেয়েদের কলগুঞ্জনে মুখর। সারায়েভো বর্তমানে বসনিয়া হার্জেগোভিনার অংশ।
তারপর কবি গেলেন জাগরেব। এখন যেটা ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী। জাগরেব শহরের মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি দেখে কবির ঢাকা শহরের কথা মনে পড়ে যায়- ঢাকায় সব বনভূমি উজাড় করে তৈরি হচ্ছে দালানকোঠা, শিশুদের নেই খেলার মাঠ। এসব ভেবে কবি আফসোস করেন। ঢাকার কমলাপুরে নাকি আমসহ বিভিন্ন ফলের বাগান ছিল! সেই সুস্বাদু আম নাকি সারাদেশে বিখ্যাতও ছিল! জাগরেবের বন দেখে কবির দীর্ঘশ্বাস না আসলে এসব কথা জানতে পারতাম না।
যুগোস্লাভিয়া ঘুরতে গিয়ে সেখানে সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে যেভাবে ফ্লার্ট করেছেন সেটা অকপটে লিখেওছেন। নিজেকে নিয়ে ব্যক্তিগত লেখাগুলোয় উনার এই সারল্যটা ভালো লাগে।
লেখকের তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া (১৯৯১ সালের পর থেকে যা ভেঙ্গে গিয়ে বসনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসভো, মেসিডোনিয়া, মন্তেনিগ্রো, সার্বিয়া আর স্লোভেনিয়া গঠন করে) ভ্রমনের গল্প। লেখক গিয়েছিলেন সেখানকার আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসবে এদেশের প্রতিনিধি হয়ে। যাবার পথে রোমে কয়েকদিন থেকে যান। সে গল্পও আছে।
ভ্রমনের পথে পথে একটা দেশের সংস্কৃতির সাথে যেভাবে পরিচিত হওয়া যায়, নিঃসন্দেহে আর কোনোভাবে এমনটা হওয়া কঠিন। আর লেখক বেড়াতে গিয়ে এদেশের মানুষের সাথে এতো আন্তরিকভাবে মিশেছেন, এতো সুন্দর সব স্মৃতির কথা লিখেছেন যে দেশটাকে আর এতো দূরের বলে মনে হয়না। মনে হয়, এইতো এদেশের কোনো গ্রামে গেলেও তো এরকমই হয়।
দেশটির নানান রকম রীতিনীতি জেনে মুগ্ধ হয়েছি। সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হয়েছি দেশটিকে গড়ে তুলতে সেখানকার মানুষের স্বানন্দ সাবলীল অবদানের কথা পড়ে। শিশুদের প্রতি লেখকের ভালোবাসার কথা আগেও জেনেছি। এবারও দেখলাম। আর একজন মানুষের কবি কীভাবে পথে ঘাটে সব কিছুতেই সুন্দরটুকু খুঁজে পান আর সেই মুহূর্তটাকে নিমিষেই লেখনীতে ধরে রাখতে পারেন তার নিদর্শন দেখলাম। বেশি বলতে গেলে ঘটনার স্বাদটাই চলে যাবে। তাই খুবই ছোট আকারের (১০৯ পৃষ্ঠা) কিন্তু নিঃসন্দেহে মুগ্ধ করার মত বইটা সবাইকে পড়ে দেখার কথাই বলবো :)
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে পল্লীকবি জসীম উদদীন আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীতের মহাসভার অধিবেশনে অংশ নেবার আমন্ত���রণে সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভ্রমণ করেন, এবং সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘হলদে পরীর দেশে’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয় ১৯৬৫ সালে। সেই বই পড়েই মনে হল এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমাদের জানা থাকার দরকার।
বইয়ের প্রথমেই দেখা যায় পল্লীকবি ম্যাপ ও ভূগোলের বই নিয়ে যুগোস্লাভিয়ার অবস্থান সেখানের রাজধানী ও অন্যান্য বড় শহর বন্দর ইত্যাদি খুঁজছেন এবং সেখানে সুন্দর করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অসাড় অবস্থার সমালোচনা করছেন, “ শুধুমাত্র নতুন নতুন নামে ভূগোলের বই ভর্তি। এত সর্বনাম শব্দ মুখস্থ করিতে হইত বলিয়াই ছোটবেলায় ভূগোল বইখানা আমার কাছে মাষ্টার মহাশয়ের কঠিন বেতের চাইতেও ভয়ংকর বলিয়া মনে হইত। দেশের লোকজন কথা বলিয়া, তাহার আবহাওয়ার কাহিনী বর্ণনা করিয়া ভূগোলের বইকে শিশুদের হৃদয়গ্রাহী করিবার ইচ্ছা কোনো পাঠ্যবই-লেখকেরই দেখি না। সে আমাদের দেশের পাঠ্যবইগুলি নতুন করিয়া গড়িয়া তুলিবে?’
যাত্রার প্রথম কবি করাচী যান এবং সেখানে বাংলার যশোর জেলায় বাড়ি এক পাগলা কিসিমের শিল্পীর সাথে তাঁর পরিচয় ও সখ্য ঘটে, শিল্পীর নাম ‘এস এম সুলতান’। করাচীতে সুলতানের বোহেমিয়ান জীবন , তাঁর শিল্প সৃষ্টির প্রেরণা , স্থানীয় বন্ধুজগত ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত বিরল বর্ণনা আমাদের আলোকিত করে এইখানে।
এরপর কবি বিমানে ইতালির রোম যেয়ে সেখানে কদিন থেকে স্থলপথে ভেনিসের কাছের ত্রিয়েস্ত নগরী গমনে করে সেখান থেকে যুগোস্লাভিয়া প্রবেশ করেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ঝরঝরে ভাষায় লোকসঙ্গীতের মহাসভার নানা অনুষ্ঠানের বিবরণ এবং নানা দেশের সঙ্গীতের সাথে বাংলার লোক সঙ্গীতের মিল-অমিল, তুলনামূলক আলোচনা ইত্যাদির আলাপ করে গেছেন কবি। এবং উনার এক ভাষণে তিনি বাংলা নিয়ে বলেন -
“আমাদের পূর্ব বাঙলা। ব্রহ্মদেশ আর ভারতের মাঝখানে সমতল প্রদেশ। নব আকাশের নীলঘন মেঘের সঙ্গে আড়াআড়ি করেই বুঝি এর মাঠগুলি সবুজে সবুজে ছেয়ে ফ্যালে। সেকী অপূর্ব সবুজ, ফিকে সবুজ, গাঢ় সবুজ, সবুজে নীলে মেশা সবুজ, আমপাতা সবুজ, ধানপাতা সবুজ, আসমানি সবুজ, গঙ্গা-যমুনা সবুজ। মাঠের পরে মাঠ, কোথাও সুদূর আসমানের সঙ্গে গিয়ে মিশেছে, কোথাও সবুজ বনানীর মধ্যে যেয়ে পথ হারিয়েছে। সেই নানা বর্ণের সবুজ মাঠের মধ্যে আমাদের গ্রাম্য চাষিদের ছোট ছোট ঘরগুলি। বাড়ির এধারে-ওধারে আম, কাঁঠাল, কলা, নারিকেলের বাগান। তাও আমরা সবুজ করে রেখেছি। সবুজকে আমরা এত ভালোবাসি! আমাদের আকাশে মেঘের সবুজ, বনে-বনে গাছের পাতার সবুজ, মাঠে শস্যক্ষেতের সবুজ, বাড়িতে আম-কাঁঠাল, শাকসবজির সবুজ। সেই সবুজ আমাদের গায়েও মরা কতকটা মেখে নিয়েছি। আমাদের দেশের নায়কের শ্যামল মুখের কতই-না শোভা আমাদের কবি বর্ণনা করেছেন।“
অনুষ্ঠান শেষে কবি রাজধানী বেলগ্রেডে যান, যাত্রাপথের নানা বিবরণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও শিশুদের মনোজগতের প্রতি তাঁর ব্যপক কৌতূহল প্রকাশ পায় নানা প্রশ্ন ও ধারাবিবরণীতে।
বেলগ্রেডে থাকা অবস্থায় কবি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় শিশুদের বেশ কটা স্কুল , শিশু বেটার কেন্দ্র ইত্যাদি ভ্রমণ করেন এবং যুগোস্লাভিয়ার শিশুদের সাথে কাটানো নির্মল অভিজ্ঞতা যে তাকে কী পরিমাণ ঋদ্ধ করেছে তা উল্লেখ করেন। সেই সাথে প্রায়ই উল্লেখ করেন যুগোস্লাভিয়ার কারিগর, প্রবল প্রতাপশালী মার্শাল টিটোর কথা। টিটো যে তখনের যুগোস্লাভিয়ায় কি পরিমাণ জনপ্রিয় এবং গণমানুষের মনে বিশেষ করে দরিদ্রদের মনে তাঁর আসন কতটা দৃঢ় সেই সব অভিজ্ঞতা লিখেছেন উনার অভিজ্ঞতা থেকে। ( যদিও সেগুলো অনেকটায় ভাসা ভাসা মনে হয়েছে, একেবারে প্রান্তিক মানুষের সাথে, বা আমজনতার সাথে কবির সংযোগ ঘটে নি, সরকারি লোকজনের সাথেই থাকতে হয়েছে বা ছিলেন সবসময়ই। সেই সাথে ভাষাগত সমস্যা তো ছিলই।“ )
স্থানীয় তরুণী রডমিলার সাথে মিষ্টি বন্ধুত্ব ও তাকে নিয়ে কবিতা লেখার স্মৃতি বর্ণনা করতে করতে কবি সারায়েভো চলে আসেন প্লেনে চেপে ( বর্তমান বসনিয়া-হারজেগোভিনার রাজধানী) , সেখানে মুসলিম পণ্ডিত ও উলামা সমাজের সাথে পরিচয়ের ঘটনাবলীর পাশাপাশি স্থানীয় অনুবাদকদের সাথে নানা অভিজ্ঞতা বিশেষত তাঁদের ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনির সুন্দর মিশেল দিয়ে কবি ফের বেলগ্রেডে ফিরে যান।
যুগোস্লাভিয়া ভ্রমণের এক ফাঁকে কবিকে দেখা যায় সেখানের চমৎকার নিসর্গবান্ধব নগর পরিকল্পনার সাথে তুলনা করে ঢাকার বিশেষত কমলাপুর অঞ্চলের সুন্দর সবুজ প্রকৃতি ধ্বংস করে যত্রতত্র কুৎসিত ভবন নির্মাণের ও গাছ কাটার সমালোচনা করতে।
বইয়ের শেষাংশে কবি জাগরেবে ( বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী) আসেন, এবং এখানে নানা সমবায় গ্রাম ভ্রমণের সময় স্থানীয় কৃষকদের সাথে মত বিনিময় করে যুগোস্লাভিয়ার এই গ্রাম ব্যবস্থা যে উপমহাদেশের চেয়ে অনেক বেশী জনহিতকর এমন একটা চিন্তার খোরাক তিনি পাঠককে দিয়ে যান আলগোছে। সেখানেও নানা স্থানীয় বন্ধুর সাথে আলাপচারিতার ফাঁকে এক দল জিপসির সাথে তাঁর আলাপ হয়, এমনকি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নেন।
এই সবেরই এক সুন্দর বর্ণনা ১০৯ পাতার ‘হলদে পরীর দেশে’। বইটা প্রকাশ করেছে পলাশ প্রকাশনী, দাম ১৭০ টাকা। বইতে কবির যুগোস্লাভিয়ার কিছু আলোকচিত্রও আছে।
সেই সময়ের অভিজ্ঞতা হিসেবে পড়ে দেখা যায়, খুব গভীরে যাবার মত উপাত্ত নেই, বা নেই স্লাভিক জাতিসত্তা ও তাঁদের সংগ্রামের গল্প বা টিটোর সময়ের আগের যুগোস্লাভিয়ার গল্প। তবুও ১৯৬৫ সালের আগের অভিজ্ঞতা হিসেবে এটি আমাদের ভ্রমণসাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বই বলেই বিবেচিত হবে আমার মনে হয়।
(সেই যুগোস্লাভিয়া আজ ৭ দেশে বিভক্ত- সার্বিয়া, মন্টেনিগ্রা, বসনিয়া-হারজেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া, মেসেডোনিয়া, কসোভো, স্লোভেনিয়া। কবি এখন গেলে সাবেক যুগোস্লাভিয়াকে কিভাবে দেখতেন সেটা নিয়ে চিত্তাশীল আলোচনা করা হতে পারে। উল্লেখ্য বলকানের এই ৭ দেশই নানা পর্যায়ে একাধিক বার করে ভ্রমণ হয়েছিল, সেখানে জনগণ, প্রকৃতি, বন্ধুদের নিয়ে আলাদা ভাবে বই লেখার মৃদু পরিকল্পনা যে নেই তা নয়, কিন্তু ঐ অঞ্চলের চলমান বিভেদ ও যুদ্ধের রাজনীতির গভীরে যেয়ে বলকান অঞ্চলের জনছবি আঁকা বাস্তবিক অনেক বেশী সময় ও পরিশ্রমের কাজ। )
জ্ঞানী গুণীদের ভ্রমন কাহিনী পড়লে সেসব জায়গায় যাবার মত ঘোড়া রোগ এই গরীবের মাথায় চাড়া দিয়ে ওঠে। অগত্যা কিছু করার থাকেনা তাই এড়াইতে চাইলেও লোভ সামলানো দ্বায়। ভ্রমণ কাহিনী খুব বেশি পড়া না হলেও সুনীলের পর এত সরল লেখনি তে যে ভ্রমনকাহিনী বর্ণনা করা যায় তা জসীমউদদীন এর "হলদে পরীর দেশে" না পড়লে জানা হতো না। খুবই সহজ সরল ভাবে বর্ণনা করে গেছেন।
Short, sweet, and melancholic. It’s fascinating to see how simply & sweetly Jasimuddin sees the world. If there were more people like him, there would have been one less war, one less death, and one less loss of faith in humanity.
You wouldn't find Syed Mujtaba Ali’s humorous prose style in this book or Rabindranath Tagore’s penetrating view when he wrote “Letters from Russia” but you’ll find how Jasimuddin is more like us, how innocently he sees the world, and how he navigates through friendships.
কোল্ড ওয়ারের যুগে জসীম উদ্দীনের আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত সম্মেলনে যোগ দিতে যুগোস্লাভিয়া যাবার ভ্রমণকাহিনী।
যুগোস্লাভিয়ায় পৌঁছোনোর আগে কবি গিয়েছিলেন করাচিতে। সেখানে তিনি যুগোস্লাভিয় দূতাবাসের আতিথিয়তায় মুগ্ধ হন। দেখা হয় ভবঘুরে চিত্রশ���ল্পী এস এম সুলতানের সঙ্গে।
রোম হয়ে যুগোস্লাভিয়ায় গিয়েছিলেন। কবি ইমপ্রেস হন সহজেই। বেশিরভাগ সময় তা বেশ নিরীহ। তবে মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়েছি বৈকি। বিশেষত তাঁর শ্বেতাঙ্গ মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়া স্বভাব, মুসোলিনিকে মহাপুরুষ ডাকা, ইতালীয় নারীদের গন্ধে মুগ্ধ হওয়া বা কীভাবে নতুন ফ্যাসিস্ট দল ইতালীর পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে তার বর্ণনা দেয়া।
সম্মেলনে নতুন-পুরাতন, দেশি-বিদেশি নানা বন্ধুদের নিয়ে লিখেছেন। বলকান লোকগীতির সাথে গ্রামবাংলার লোকসঙ্গীতের তুলনা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। সুন্দরী বিদেশিনীদের সাথে কী কথা হলো তার থেকে বিভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পকলা সম্বন্ধে যা দেখলেন তা নিয়ে আরো লিখলে ভালো লাগতো।
ওপাটিয়ায় তিনি বেশকিছু ছোট খোকাখুকিদের সাথে বন্ধুত্ব পাতান। তাদের একজনকে নিয়ে এক কবিতাও লেখেন।
জলের হাসির কলকলানী লেগেই আছে মুখে চাঁদ হাসে তার মুখের হাসির একটুখানি টুকে।
সম্মেলন শেষে অতিথি হয়ে বেলগ্রেড্ ছিলেন বিশ দিন। যুগোস্লাভিয়দের বরাবর খোলা মনের অতিথিপরায়ন মানুষ বলে পরিচয় করিয়েছেন।