২.৫/৫
কবি'র শেষ বয়সের সরল ভাব প্রকাশের মাধ্যম ছিলো তার কবিতা। বেশিরভাগই গড়মানের কিন্তু প্রতিভার ঝলক, বিদ্রুপ ধরা পড়ে কিছু কবিতায়। সেসব কবিতার লোভে পড়বো না পড়বো না করে পুরো বই-ই পড়ে ফেললাম। বই থেকে পছন্দের দুটি কবিতা -
১. "বয়স হয়েছে, তাই তাঁর
ঘুম ভাঙতে এখন একটু দেরি হয়।
তারপরে আবার
ঘুম ভাঙবার পরেও চট করে
ঠাহর হয় না যে,
সত্যিই এখন ভোরবেলা না রাত-দুপুর।
শুধুই কি বাড়ির লোক, পাড়ার পরিচিতরাও
তাই নিয়ে খুব
হাসাহাসি করেন। বলেন,
"সকালকে রাত ভাবছেন? হোহো!"
বুড়ো মানুষটি যে তা শোনেন না, তা নয়।
শোনেন, কিন্তু হাসেন না।
কেনই বা হাসবেন?
অনেক দেখেছেন, অনেক শুনেছেন, দেখেশুনে বুঝেছেনও নেহাত কম নয়।
সবচেয়ে বেশি করে বুঝেছেন যে,
দিন যতই ঘনিয়ে উঠুক,
এ-দেশে রাত কখনওই ফুরোয় না।"
২. "মধ্যরাতে
ঘুম ভেঙে যায়।
একটা কোনো জরুরি খবর
কাউকে জানাবার ছিল, তবু
জানানো হয়নি।
বাকি রাতটা জেগে কেটে যায়।
অনুশোচনায়
আর ঘুম আসে না।
মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়।
মনে হয়,
কারও দিকে বাড়িয়ে দেবার কথা ছিল
আমার হাতখানা, কিন্তু আমি
বাড়িয়ে দিইনি
বাকি রাতটা সম্পূর্ণ বিনিদ্র কেটে যায়।
অনুশোচনায়
আর ঘুম আসে না।"