What do you think?


মতিচূর
- GenresNonfictionFeminism
Unknown Binding
About the author
Rokeya Sakhawat Hossain
46 books125 followersBegum Roquia Sakhawat Hussain, popularly known as Begum Rokeya, was born in 1880 in the village of Pairabondh, Mithapukur, Rangpur, in what was then the British Indian Empire and is now Bangladesh.
Begum Rokeya was an inspiring figure who contributed much to the struggle to liberate women from the bondage of social malaises. Her life can be seen in the context of other social reformers within what was then India. To raise popular consciousness, especially among women, she wrote a number of articles, stories and novels, mostly in Bengali.
Rokeya used humor, irony, and satire to focus attention on the injustices faced by Bengali-speaking Muslim women. She criticized oppressive social customs forced upon women that were based upon a corrupted version of Islam, asserting that women fulfilling their potential as human beings could best display the glory of Lord. She wrote courageously against restrictions on women in order to promote their emancipation, which, she believed, would come about by breaking the gender division of labor. She rejected discrimination for women in the public arena and believed that discrimination would cease only when women were able to undertake whatever profession they chose. In 1926, Begum strongly condemned men for withholding education from women in name of religion as she addressed the bengal women's education conference:
"The opponents of the female education say that women will be unruly...fie !they call themselves muslims and yet go against the basic tenet of islam which gives equal right to education. If men are not led astray once educated, why should women?"
Begum Rokeya was an inspiring figure who contributed much to the struggle to liberate women from the bondage of social malaises. Her life can be seen in the context of other social reformers within what was then India. To raise popular consciousness, especially among women, she wrote a number of articles, stories and novels, mostly in Bengali.
Rokeya used humor, irony, and satire to focus attention on the injustices faced by Bengali-speaking Muslim women. She criticized oppressive social customs forced upon women that were based upon a corrupted version of Islam, asserting that women fulfilling their potential as human beings could best display the glory of Lord. She wrote courageously against restrictions on women in order to promote their emancipation, which, she believed, would come about by breaking the gender division of labor. She rejected discrimination for women in the public arena and believed that discrimination would cease only when women were able to undertake whatever profession they chose. In 1926, Begum strongly condemned men for withholding education from women in name of religion as she addressed the bengal women's education conference:
"The opponents of the female education say that women will be unruly...fie !they call themselves muslims and yet go against the basic tenet of islam which gives equal right to education. If men are not led astray once educated, why should women?"
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 10 of 10 reviews
October 5, 2017
যুগের চেয়ে এগিয়ে থাকলে ভবিষ্যত দেখা যায়। বেগম রোকেয়া ভবিষ্যত বদলাতে চেয়েছিলেন তার বর্তমানের প্রতিকার করে। এখনো নারীরা পিছিয়ে, তবে আশার কথা বাধা ডিঙানোর সংগ্রাম চলছে।
তিনি যে নারীসমাজের আলস্যের কথা, চিন্তার সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন তা তখনও সত্য ছিল এখনও সত্য। তখনের হিসেবে তখনকার সত্য আর এখনো সত্য আজকের দিনের স্ট্যান্ডার্ডে। আমার বান্ধবীরা আমার বন্ধুদের মত পিয়াসী নয়, তাদের স্বপ্ন আমার বন্ধুদের মত কঠিন ও রঙিন নয়। রঙ তাদের স্বপ্নে আছে, কিন্তু তাদের যেটুকু আমরা 'স্বপ্ন' গুণতে দেখি সেটা আমাদের কাছে চাওয়া-বাস্তবতা- ইচ্ছার মত, স্বপ্ন নয়।
পরিশ্রমের যে দশা বেগম রোকেয়া বলেছেন তা কেবল সে সমাজের তথাকথিত অভিজাত সমাজের প্রতিফলন বলে মনে হয়। এর বিপরীত চিত্র আমরা আমাদের গ্রামীণ সমাজের নারীদের শ্রমের ব্যাপারে বলতে পারি। পরিশ্রমের কথা ভাবলে আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতির ভেতর থেকে সাধারণ নারী পুরুষদের আলাদা করতে পারি না, কিন্তু পরিশ্রমের ক্ষেত্র বিবেচনায় আনলে বৈষম্য চলে আসে। এ বৈষম্যের পিছনের কারণ খুঁজে দেখলে তখন নারীর শিক্ষার সংকট, পুরুষের নারীর উপর প্রভুত্বের আকাঙ্ক্ষা সমস্যা হিসেবে চলে আসে।
নারীদের চিন্তার সংকট বাঙালি জাতিকেও যে মানসিক সংকটে রেখেছে এ তার একটি লদ্ধি। নারীর হাতে শিশুদের জন্ম- সে শিশুও ছোটবেলা থেকে যে আদর, রক্ষণাত্মক স্নেহে, নিভু নিভু সাহস নিয়ে বেড়ে ওঠে তার প্রতিকারেও পরোক্ষভাবে নারীর বিবিধ বিকাশের দাবি চলে আসে। এ দাবি সমাজের কাছে যেমন, নারীদের নিজের কাছেও তেমনটা দরকার অনুভব করা চাই।
তিনি যে নারীসমাজের আলস্যের কথা, চিন্তার সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন তা তখনও সত্য ছিল এখনও সত্য। তখনের হিসেবে তখনকার সত্য আর এখনো সত্য আজকের দিনের স্ট্যান্ডার্ডে। আমার বান্ধবীরা আমার বন্ধুদের মত পিয়াসী নয়, তাদের স্বপ্ন আমার বন্ধুদের মত কঠিন ও রঙিন নয়। রঙ তাদের স্বপ্নে আছে, কিন্তু তাদের যেটুকু আমরা 'স্বপ্ন' গুণতে দেখি সেটা আমাদের কাছে চাওয়া-বাস্তবতা- ইচ্ছার মত, স্বপ্ন নয়।
পরিশ্রমের যে দশা বেগম রোকেয়া বলেছেন তা কেবল সে সমাজের তথাকথিত অভিজাত সমাজের প্রতিফলন বলে মনে হয়। এর বিপরীত চিত্র আমরা আমাদের গ্রামীণ সমাজের নারীদের শ্রমের ব্যাপারে বলতে পারি। পরিশ্রমের কথা ভাবলে আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতির ভেতর থেকে সাধারণ নারী পুরুষদের আলাদা করতে পারি না, কিন্তু পরিশ্রমের ক্ষেত্র বিবেচনায় আনলে বৈষম্য চলে আসে। এ বৈষম্যের পিছনের কারণ খুঁজে দেখলে তখন নারীর শিক্ষার সংকট, পুরুষের নারীর উপর প্রভুত্বের আকাঙ্ক্ষা সমস্যা হিসেবে চলে আসে।
নারীদের চিন্তার সংকট বাঙালি জাতিকেও যে মানসিক সংকটে রেখেছে এ তার একটি লদ্ধি। নারীর হাতে শিশুদের জন্ম- সে শিশুও ছোটবেলা থেকে যে আদর, রক্ষণাত্মক স্নেহে, নিভু নিভু সাহস নিয়ে বেড়ে ওঠে তার প্রতিকারেও পরোক্ষভাবে নারীর বিবিধ বিকাশের দাবি চলে আসে। এ দাবি সমাজের কাছে যেমন, নারীদের নিজের কাছেও তেমনটা দরকার অনুভব করা চাই।
Read
June 28, 2025২৪ বছর বয়সে, ১৯০৪ সালে বেগম রোকেয়া যখন "মতিচূর" লিখছেন তখন বাংলাদেশের নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোষণীয়। তৎকালীন মুসলমান সমাজে নারীদের শিক্ষালাভ ছিল কার্যত অসম্ভব, আয়-রোজগারের সুযোগ ছিল না — মূলত তারা ছিল জেন্ডার রোলের রোলারে পিষ্ট হতে থাকা চার দেয়ালে বন্দী অদ্ভুত কিছু 'জীব' — নমনীয়, কমনীয়, অবলা থাকা ছিল 'আদর্শ' নারীত্বের সূচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আজন্ম নারীদের এভাবেই গড়ে তোলা হতো; বাবা-স্বামী-পুত্রের ঘরে গোটা জীবন যারা কাটিয়ে ফেলতো কিন্ত নিজের ঘর, নিজের সিদ্বান্ত বলে কখনো কিছু পায়নি।
মতিচূরের মধ্যে দিয়ে রোকেয়া এসকল স্টেরিওটাইপ ভাঙতে চেয়েছেন — না, নারীকে তিনি বলেননি সমাজ-রীতিনীতি-পরিবার ভেঙেচুরে মুক্ত হতে; বরং তিনি চেয়েছেন নারীরা যেন আরেকটু শিক্ষিত-সচেতন হয় — নিজেদের উপর হওয়া শোষণ-বঞ্চনার কারণ-ইতিহাস-জটিলতা-একপাক্ষিকতা যেন তারা বুঝতে পারে।
একবিংশ শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ পার হওয়ার পরেও বাংলাদেশের পাবলিক স্ফিয়ারে যারা রোকেয়াকে পুরুষবিদ্বেষী ট্যাগ লাগাতে চায়, এবং যারা তা বিশ্বাসও করে (এমন মানুষের সংখ্যাও কি কম?) — হলফ করে বলতে পারি তারা কখনো দুপাতা রোকেয়া পড়ে দেখেনি; ফেসবুকীয় 'সর্বজান্তা' পোস্টমর্ডানিস্ট জমানায় রোকেয়াকে পুরুষবিদ্বেষী বলা সহজ বিধায় তাতেই তাদের আসক্তি।
পুরুষ ধর্ষককে ধর্ষক বলাতে যদি কেউ পুরুষবিদ্বেষী না হয়, তবে নিপীড়ককে নিপীড়ক বলে নিপীড়িতকে বাঁচাতে চাওয়া কিভাবে পুরুষবিদ্বেষী হয়? উল্টো চালে তহ এই বলা যায় যে যারা এমনটা বলে, তাদের ডেফিনিশনে নিপীড়ক এবং পুরুষ শব্দজোড় সমার্থক।
রোকেয়া কখনোই নারী-পুরুষের মাঝে 'প্রতিযোগিতা' তৈরি করতে চাননি; বরং সমাজে জেন্ডার রোলের কারণে যে ভীত-অশিক্ষিত-দুর্বল-অবলা নারীশ্রেণি প্রস্তত হচ্ছিলো তা নিয়ে তার আপত্তি ছিল। তিনি চেয়েছেন এই নারীরা শিক্ষিত হোক, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুক, নিয়মিত শরীরচর্চা করুক, অন্তপুরীতে গয়না পড়ে পুতুল সেজে বসে না থেকে নিজ হাতে সংসার সামলাক, গার্হস্থ্যবিদ্যা-অর্থবিদ্যা জানুক, সম্পত্তিসহ অন্যান্য ব্যাপারে অন্ততঃ নিজেদের অধিকারটা ধর্মসম্মতভাবে আদায় করে নিক। প্রতিযোগিতা নয়, প্রাপ্য আদায় এবং সমতা ছিল তার ভিশন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০২৫ এর বাংলাদেশে ডিগ্রিধারী শিক্ষিত নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম না হলেও (যেহেতু পুঁজিবাদে অনবরত শ্রমিকের দরকার থাকে) — রোকেয়ার সময় থেকে বাস্তবে কতটুক পরিবর্তন বর্তমানে আপনি দেখতে পান? নারীরা কি এখনো পুরুষতান্ত্রিক বলয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছে, নাকি রঙ পাল্টালেও কুমড়োর ভেতরটা রয়ে গেছে কাঁচা?
মতিচূরের মধ্যে দিয়ে রোকেয়া এসকল স্টেরিওটাইপ ভাঙতে চেয়েছেন — না, নারীকে তিনি বলেননি সমাজ-রীতিনীতি-পরিবার ভেঙেচুরে মুক্ত হতে; বরং তিনি চেয়েছেন নারীরা যেন আরেকটু শিক্ষিত-সচেতন হয় — নিজেদের উপর হওয়া শোষণ-বঞ্চনার কারণ-ইতিহাস-জটিলতা-একপাক্ষিকতা যেন তারা বুঝতে পারে।
একবিংশ শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশ পার হওয়ার পরেও বাংলাদেশের পাবলিক স্ফিয়ারে যারা রোকেয়াকে পুরুষবিদ্বেষী ট্যাগ লাগাতে চায়, এবং যারা তা বিশ্বাসও করে (এমন মানুষের সংখ্যাও কি কম?) — হলফ করে বলতে পারি তারা কখনো দুপাতা রোকেয়া পড়ে দেখেনি; ফেসবুকীয় 'সর্বজান্তা' পোস্টমর্ডানিস্ট জমানায় রোকেয়াকে পুরুষবিদ্বেষী বলা সহজ বিধায় তাতেই তাদের আসক্তি।
পুরুষ ধর্ষককে ধর্ষক বলাতে যদি কেউ পুরুষবিদ্বেষী না হয়, তবে নিপীড়ককে নিপীড়ক বলে নিপীড়িতকে বাঁচাতে চাওয়া কিভাবে পুরুষবিদ্বেষী হয়? উল্টো চালে তহ এই বলা যায় যে যারা এমনটা বলে, তাদের ডেফিনিশনে নিপীড়ক এবং পুরুষ শব্দজোড় সমার্থক।
রোকেয়া কখনোই নারী-পুরুষের মাঝে 'প্রতিযোগিতা' তৈরি করতে চাননি; বরং সমাজে জেন্ডার রোলের কারণে যে ভীত-অশিক্ষিত-দুর্বল-অবলা নারীশ্রেণি প্রস্তত হচ্ছিলো তা নিয়ে তার আপত্তি ছিল। তিনি চেয়েছেন এই নারীরা শিক্ষিত হোক, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুক, নিয়মিত শরীরচর্চা করুক, অন্তপুরীতে গয়না পড়ে পুতুল সেজে বসে না থেকে নিজ হাতে সংসার সামলাক, গার্হস্থ্যবিদ্যা-অর্থবিদ্যা জানুক, সম্পত্তিসহ অন্যান্য ব্যাপারে অন্ততঃ নিজেদের অধিকারটা ধর্মসম্মতভাবে আদায় করে নিক। প্রতিযোগিতা নয়, প্রাপ্য আদায় এবং সমতা ছিল তার ভিশন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০২৫ এর বাংলাদেশে ডিগ্রিধারী শিক্ষিত নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম না হলেও (যেহেতু পুঁজিবাদে অনবরত শ্রমিকের দরকার থাকে) — রোকেয়ার সময় থেকে বাস্তবে কতটুক পরিবর্তন বর্তমানে আপনি দেখতে পান? নারীরা কি এখনো পুরুষতান্ত্রিক বলয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে পেরেছে, নাকি রঙ পাল্টালেও কুমড়োর ভেতরটা রয়ে গেছে কাঁচা?
April 3, 2015
বেগম রোকেয়া সময়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন জানি, কিন্তু কতখানি জানতাম না। এই বইতা পড়ার পর বুঝলাম তিনি আমাদের সময়ের চেয়েও এগিয়ে আছেন। এই যুগের মেয়েরাও এখনো তার সমানে চিন্তা করতে পারে না।
তবে সবচে মুগ্ধ করেছে সমাজ সংস্কারে তার এপ্রোচ। তিনি বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছেন। আদর্শিক কল্পনা করে নিয়ে তার পক্ষে জোর গলায় অধিকার ফলাতে চেষ্টা করেননি। তার দূরদর্শী লক্ষ্য ছিল, কিন্তু বাস্তবে ঐ সময়ের প্রেক্ষিতে কতখানি সম্ভব তাও ধারনা ছিল, ফলে যতটুকু করা সম্ভব সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে সোজা সাপ্টা ভাষায় সমাজের প্রচলিত চলগুলোকে চপেটাঘাত করে বিনয়ের অবতার সেজে নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি উল্লেখ করে ক্ষমাপূর্বক দৃষ্টিতে দেখার আহবান। কারণ যেতা বলতে চেয়েছিলেন মুখের বলে দেয়া সারা, কিন্তু যে পক্ষ চপেটাঘাত খেলো তারা ঐ বিনয়ের মুখে আর পালাটা আক্রমণ করে হালে পানি পায় না। কেবল চড়ের জ্বালা নিয়ে গজ গজ করা ছাড়া উপয়ায় নেই। দারুন বুদ্ধি, তাকে ঐ সমাজে টিকে থাকতে হবে তো যদি সমাজকে বদলাতে হয়।
" ভ্রাতাদের সমীপে নিবেদন এই যে, তাহারা যে টাকার শ্রাদ্ধ করিয়া কন্যাকে জড় স্বর্ণ মুক্তার অলংকারে সজ্জিত করেন, ঐ টাকা দ্বারা তাহাদিগকে জ্ঞান ভূষণে অলংকৃতা করিতে চেষ্টা করিবেন। একখানা জ্ঞানগর্ভ পুস্তক পাঠে যে অনির্ব্বচনীয় সুখ লাভ হয়, দশখানা অলংকার পরিলে তাহার শতাংশের একাংশ সুখও পাওয়া যায় না"।
১/ গয়না পরে সুখ লাভ মহিলার অধিকার, রোকেয়ার ভাল্লাগে না বলে যে অন্যদেরও তাই এইটা বলে আপ্পিনুভূতিতে আঘাত করা গলাকাটা সম পাপ। - আপ্পি যুক্তি।
২/ আগে টেকাটুকা থাকলে একগাদা সোনার গয়না পরে ফুটানি মারত। এখন ছিন্তাইকারীর ভয়ে সোনার গয়না পরে ফুটানি মারা অসুবিধা, তাই টেকাটুকা সব মেকাপ আর কাপড়ের পিছে ঢালা হয়। মুখে দামী মেকাপ মেখে টেকার গরম দেখায় আপ্পিরা। আর কাপড় চোপড়ের দাম যদি হিসেবে রাখত ছিন্তাইকারীরা, আপ্পিদের কাপড় খুলে নিয়ে গিয়ে আরেক ফেবু পেইজে 'রিজনেবল দামে' বেচে দিত।
তবে সবচে মুগ্ধ করেছে সমাজ সংস্কারে তার এপ্রোচ। তিনি বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করেছেন। আদর্শিক কল্পনা করে নিয়ে তার পক্ষে জোর গলায় অধিকার ফলাতে চেষ্টা করেননি। তার দূরদর্শী লক্ষ্য ছিল, কিন্তু বাস্তবে ঐ সময়ের প্রেক্ষিতে কতখানি সম্ভব তাও ধারনা ছিল, ফলে যতটুকু করা সম্ভব সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে সোজা সাপ্টা ভাষায় সমাজের প্রচলিত চলগুলোকে চপেটাঘাত করে বিনয়ের অবতার সেজে নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি উল্লেখ করে ক্ষমাপূর্বক দৃষ্টিতে দেখার আহবান। কারণ যেতা বলতে চেয়েছিলেন মুখের বলে দেয়া সারা, কিন্তু যে পক্ষ চপেটাঘাত খেলো তারা ঐ বিনয়ের মুখে আর পালাটা আক্রমণ করে হালে পানি পায় না। কেবল চড়ের জ্বালা নিয়ে গজ গজ করা ছাড়া উপয়ায় নেই। দারুন বুদ্ধি, তাকে ঐ সমাজে টিকে থাকতে হবে তো যদি সমাজকে বদলাতে হয়।
" ভ্রাতাদের সমীপে নিবেদন এই যে, তাহারা যে টাকার শ্রাদ্ধ করিয়া কন্যাকে জড় স্বর্ণ মুক্তার অলংকারে সজ্জিত করেন, ঐ টাকা দ্বারা তাহাদিগকে জ্ঞান ভূষণে অলংকৃতা করিতে চেষ্টা করিবেন। একখানা জ্ঞানগর্ভ পুস্তক পাঠে যে অনির্ব্বচনীয় সুখ লাভ হয়, দশখানা অলংকার পরিলে তাহার শতাংশের একাংশ সুখও পাওয়া যায় না"।
১/ গয়না পরে সুখ লাভ মহিলার অধিকার, রোকেয়ার ভাল্লাগে না বলে যে অন্যদেরও তাই এইটা বলে আপ্পিনুভূতিতে আঘাত করা গলাকাটা সম পাপ। - আপ্পি যুক্তি।
২/ আগে টেকাটুকা থাকলে একগাদা সোনার গয়না পরে ফুটানি মারত। এখন ছিন্তাইকারীর ভয়ে সোনার গয়না পরে ফুটানি মারা অসুবিধা, তাই টেকাটুকা সব মেকাপ আর কাপড়ের পিছে ঢালা হয়। মুখে দামী মেকাপ মেখে টেকার গরম দেখায় আপ্পিরা। আর কাপড় চোপড়ের দাম যদি হিসেবে রাখত ছিন্তাইকারীরা, আপ্পিদের কাপড় খুলে নিয়ে গিয়ে আরেক ফেবু পেইজে 'রিজনেবল দামে' বেচে দিত।
Read
June 16, 2022তাঁর নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে সাড়ে ৩ বছর কাটিয়ে দিলাম,অথচ সেই মহীয়সীর সৃষ্টিকর্মের সাথে এখনো ঠিকঠাক জানাশোনাই হয়ে উঠল না! অভাগা পাঠক আর কাকে বলে!
লজ্জা! লজ্জা হওয়া উচিত আমার, আর সত্যি বলতে, হচ্ছেও! এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াই কিন্তু নিজের ঘরের খবরই জানিনা!!
কথায় বলে, 'বেটার লেইট দ্যান নেভার!'
তাই দেরিতে হলেও শুরু করেছি...
কবে আবার পুরো ক্যাম্পাস চষে বেড়ানো হবে, জানিনা। যাবার আগে দেখি ক'টা বই শেষ করা যায়!
তবে এরপরে যখনই "বেগম রোকেয়া" নামটা চোখে পড়বে, প্রতিবারই আমার অন্যরকম গর্ব হবে, মানুষটার কথা ভেবেই।
পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম; অমন একটা সময়ে বাস করে, তিনি এভাবে লিখলেন কীভাবে? ভাবতে পারলেনই বা কীভাবে? আর এত সাহস ই বা পেলেন কোথায়? সত্যিই অবাক হতে হয় বৈকি!
রোকেয়ার লেখা প্রসঙ্গে কিছু বোদ্ধাদের বলতে শুনি, এখন তো সময় পাল্টেছে অনেক, মেয়েরা অনেক স্বাধীন জীবনযাপন করে। বইগুলি কি আর অতটা প্রাসঙ্গিক?
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে, হ্যাঁ, প্রাসঙ্গিক। খুব বেশিই প্রাসঙ্গিক। এখনকার সময়েও।
বাহ্যিক লেবাসের কড়াকড়ি উঠে গেলেও, মনের আবরণ কি কেটেছে? কতটুকু স্বাধীন আমরা? চিন্তায়-চেতনায়, বুদ্ধি-বিবেচনায় এগিয়েছি কতটুকু? একটু গভীরভাবে ভাবলেই পার্থক্যটা ঠিকই চোখে পড়বে।
"জাগো গো ভগিনী" আহ্বানে তিনি আমাদের যে ঘুম থেকে জাগাতে চেয়েছিলেন, এত বছর পরেও কি আমরা জাগতে পেরেছি? জেগেছি কি? নাকি ঘুমিয়েও জাগার ভাণ করছি? অথবা জেগে থেকেও ঘুমিয়ে?
ভাবছি...
লজ্জা! লজ্জা হওয়া উচিত আমার, আর সত্যি বলতে, হচ্ছেও! এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াই কিন্তু নিজের ঘরের খবরই জানিনা!!
কথায় বলে, 'বেটার লেইট দ্যান নেভার!'
তাই দেরিতে হলেও শুরু করেছি...
কবে আবার পুরো ক্যাম্পাস চষে বেড়ানো হবে, জানিনা। যাবার আগে দেখি ক'টা বই শেষ করা যায়!
তবে এরপরে যখনই "বেগম রোকেয়া" নামটা চোখে পড়বে, প্রতিবারই আমার অন্যরকম গর্ব হবে, মানুষটার কথা ভেবেই।
পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম; অমন একটা সময়ে বাস করে, তিনি এভাবে লিখলেন কীভাবে? ভাবতে পারলেনই বা কীভাবে? আর এত সাহস ই বা পেলেন কোথায়? সত্যিই অবাক হতে হয় বৈকি!
রোকেয়ার লেখা প্রসঙ্গে কিছু বোদ্ধাদের বলতে শুনি, এখন তো সময় পাল্টেছে অনেক, মেয়েরা অনেক স্বাধীন জীবনযাপন করে। বইগুলি কি আর অতটা প্রাসঙ্গিক?
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে, হ্যাঁ, প্রাসঙ্গিক। খুব বেশিই প্রাসঙ্গিক। এখনকার সময়েও।
বাহ্যিক লেবাসের কড়াকড়ি উঠে গেলেও, মনের আবরণ কি কেটেছে? কতটুকু স্বাধীন আমরা? চিন্তায়-চেতনায়, বুদ্ধি-বিবেচনায় এগিয়েছি কতটুকু? একটু গভীরভাবে ভাবলেই পার্থক্যটা ঠিকই চোখে পড়বে।
"জাগো গো ভগিনী" আহ্বানে তিনি আমাদের যে ঘুম থেকে জাগাতে চেয়েছিলেন, এত বছর পরেও কি আমরা জাগতে পেরেছি? জেগেছি কি? নাকি ঘুমিয়েও জাগার ভাণ করছি? অথবা জেগে থেকেও ঘুমিয়ে?
ভাবছি...
June 9, 2023
'পুষ্পের সৌন্দর্য-বন্ধনের নিমিত্ত অলঙ্কারের প্রয়োজন হয় না।'
মতিচূর প্রবন্ধটি দু'টি খন্ডে বিভক্ত। যেখানে প্রথম খন্ডটি ১৯০৪ সালে, এবং দ্বিতীয় খন্ডটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
নারীবাদী লেখকিা হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া, মতিচূর গ্রন্থটিতেও প্রতিটি প্রবন্ধের মধ্যে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা, শিক্ষা, জীবনযাপন এবং সমাজে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ দ্বারা কতটা অবহেলিত ইত্যাদি বিষয়াবলি নিয়ে ১৮৯ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটির মধ্যে বিস্তর আলোচনা করেন।
বিশেষত নারীদেরকে, তাঁদের অধিকার নিয়ে সচেতন হওয়ার জন্য শিক্ষা যে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, এবং সঠিক শিক্ষা ছাড়া যে তাঁরা তাঁদের অধিকার আদায় হতে শুরু করে, সন্তান পালন, স্বাভাবিক জীবনযাপন অর্থাৎ কোনটা তাঁদের করা উচিৎ কিংবা উচিৎ না সেটা চিনতে পারবেন না ইত্যাদি বিশ্লেষণ করেন।
'সুলতানার স্বপ্ন', 'ডেলিশিয়া হত্যা', 'অর্ধাঙ্গী', 'সৌরজগৎ', 'নার্স নেলী' প্রবন্ধগুলো বিশেষত উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনো গ্রাম্য কিছু কিছু সমাজের সাথে অনেকটাই সম্পর্কিত ভাব দেখা যায়।
নারীরা এখনো কিভাবে অবহেলিত অর্থাৎ এখনো নারী শিক্ষাকে অর্থ অপচয় মনে করা, স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্ককে 'প্রভু-দাসী' মনে করা, ধর্মীয় কুসংস্কার ইত্যাদি দিকগুলো প্রায় একশো বছর আগেরকার ঘটনার সাথে অনেকটাই সম্পর্কিত। আমাদের আশেপাশের গ্রামাঞ্চল গুলোতে এখনো এগুলোর চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া যাবে।
বেগম রোকেয়াকে, যদিও অনেকে কয়েকটি ছোট ছোট উক্তির মধ্য দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতে দেখা যায়! মনে হয়না, তারা যদি মতিচূর গ্রন্থটি ঠিক ভালোভাবে পড়ে, এবং বিশেষ উক্তিগুলোর ফুটনোটসহ পড়ে, তাহলে নারী শিক্ষা যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবে।
গ্রামের বেশ কয়েকজনকে বইটি উপহার দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা পড়ার সময়ই ঠিক করা হয়ে গেছে।
হ্যাপি রিডিং!
মতিচূর প্রবন্ধটি দু'টি খন্ডে বিভক্ত। যেখানে প্রথম খন্ডটি ১৯০৪ সালে, এবং দ্বিতীয় খন্ডটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
নারীবাদী লেখকিা হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়া, মতিচূর গ্রন্থটিতেও প্রতিটি প্রবন্ধের মধ্যে নারীর অধিকার, স্বাধীনতা, শিক্ষা, জীবনযাপন এবং সমাজে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ দ্বারা কতটা অবহেলিত ইত্যাদি বিষয়াবলি নিয়ে ১৮৯ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটির মধ্যে বিস্তর আলোচনা করেন।
বিশেষত নারীদেরকে, তাঁদের অধিকার নিয়ে সচেতন হওয়ার জন্য শিক্ষা যে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, এবং সঠিক শিক্ষা ছাড়া যে তাঁরা তাঁদের অধিকার আদায় হতে শুরু করে, সন্তান পালন, স্বাভাবিক জীবনযাপন অর্থাৎ কোনটা তাঁদের করা উচিৎ কিংবা উচিৎ না সেটা চিনতে পারবেন না ইত্যাদি বিশ্লেষণ করেন।
'সুলতানার স্বপ্ন', 'ডেলিশিয়া হত্যা', 'অর্ধাঙ্গী', 'সৌরজগৎ', 'নার্স নেলী' প্রবন্ধগুলো বিশেষত উল্লেখযোগ্যভাবে, এখনো গ্রাম্য কিছু কিছু সমাজের সাথে অনেকটাই সম্পর্কিত ভাব দেখা যায়।
নারীরা এখনো কিভাবে অবহেলিত অর্থাৎ এখনো নারী শিক্ষাকে অর্থ অপচয় মনে করা, স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্ককে 'প্রভু-দাসী' মনে করা, ধর্মীয় কুসংস্কার ইত্যাদি দিকগুলো প্রায় একশো বছর আগেরকার ঘটনার সাথে অনেকটাই সম্পর্কিত। আমাদের আশেপাশের গ্রামাঞ্চল গুলোতে এখনো এগুলোর চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া যাবে।
বেগম রোকেয়াকে, যদিও অনেকে কয়েকটি ছোট ছোট উক্তির মধ্য দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতে দেখা যায়! মনে হয়না, তারা যদি মতিচূর গ্রন্থটি ঠিক ভালোভাবে পড়ে, এবং বিশেষ উক্তিগুলোর ফুটনোটসহ পড়ে, তাহলে নারী শিক্ষা যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ তা ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবে।
গ্রামের বেশ কয়েকজনকে বইটি উপহার দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা পড়ার সময়ই ঠিক করা হয়ে গেছে।
হ্যাপি রিডিং!
September 21, 2020
'সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা'(being ahead of their time) ব্যাপারটার স্বরূপ বোধহয় এর আগে কোন লেখকের লেখাতেই এত গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ হয় নি।
রোকেয়ার যত প্রশংসা শুনি তা 'নারীবাদী লেখক' বা 'নারী লেখক' হিসেবেই শুনি, কিন্তু সত্যি বলতে এইরকম সূক্ষ্ম রসবোধসম্পন্ন, বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় যে বিষয় নিয়েই লেখা হোক না কেন, এমনকি পুরুষতন্ত্র রক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলেও আমি মনে হয় ভালোই পড়ে যেতে পারতাম - শুধুই 'লেখক' তথা ভাষার একজন কারিগর হিসেবে তার আরও বেশি প্রশংসা শুনতে চাই।
শত বছরের পুরোনো কোন লেখা থেকে নারীর সম-অধিকার আন্দোলন নিয়ে নতুন কিছু পাব এমন কোন আশা রাখি নি, কিন্তু বেশ কটি বিষয়ে রোকেয়ার স্পষ্ট যুক্তি আমাকে বেশ ভাবালো। যেমন নারীকে পুরুষের সমকক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার দাবি জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন এই 'সমকক্ষতা' কেবল ভাবার্থে বা আদর্শ অবস্থা বুঝাবার সুবিধার্থেই - সত্যি সত্যি নারীরা পুরুষের জায়গা কেন নিতে যাবে বা সবক্ষেত্রে তাদের সমকক্ষ হবার জন্য যুদ্ধে কেন নামবে? বরং তাদের স্বীয় গুণে নারীরা সমৃদ্ধির এমন সব জায়গায় পৌঁছাবে, সভ্যতাকেও সাথে করে নিয়ে যাবে যা যুগের পর যুগ নারীসুলভ স্বাভাবিক গুণগুলো দমিয়ে রাখার ফলে মানবের কল্পনারও বাইরে চলে গেছে! আরেকটা উদাহরণ হতে পারে পর্দাপ্রথার সাথে প্রাইভেসির(privacy) যেভাবে তিনি তুলনা দিয়েছেন অমন করেও কখনো ঠিক ভেবে দেখা হয় নি।
মতিচূর গ্রন্থের প্রথম খণ্ডেই মূলত 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি'র ন্যায় রোকেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬-৭টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। শুধু প্রথম খণ্ড বিবেচনায় নিলে নির্দ্বিধায় পাঁচ তারকা দিতাম। দ্বিতীয় খণ্ডে প্রাধান্য পেয়েছে গল্প। রোকেয়ার নিজস্ব ভঙ্গিতে ইংরেজ ঔপন্যাসিক মেরি কলেরির 'Murder of Delicia' এর ভাবানুবাদ বেশ ভালো লাগলো। 'নার্স নেলী' গল্পটার পরিসর ছোট্ট হলেও অনেক কিছু ভাবালো। অন্যদিকে 'সৌরজগৎ' গল্পটা কেমন গল্প বলে মনেই হচ্ছিলো না, আর 'মুক্তিফল' যে কী পড়লাম কিছুই বুঝলাম না। প্রথম খণ্ডের সাথে বেশ বেমানান। কথাসাহিত্যের চেয়ে প্রবন্ধসাহিত্যেই অনুমান করছি রোকেয়া অনেক বেশি উজ্জ্বল। এই রিভিউয়ের শুরুতে ভাবছিলাম কেন রোকেয়ার লেখার হাতের আরো বেশি প্রশংসা শুনি নি। এটাই হতে পারে কারণ। তবে 'পদ্মরাগ' না পড়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
রোকেয়ার যত প্রশংসা শুনি তা 'নারীবাদী লেখক' বা 'নারী লেখক' হিসেবেই শুনি, কিন্তু সত্যি বলতে এইরকম সূক্ষ্ম রসবোধসম্পন্ন, বুদ্ধিদীপ্ত ভাষায় যে বিষয় নিয়েই লেখা হোক না কেন, এমনকি পুরুষতন্ত্র রক্ষার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলেও আমি মনে হয় ভালোই পড়ে যেতে পারতাম - শুধুই 'লেখক' তথা ভাষার একজন কারিগর হিসেবে তার আরও বেশি প্রশংসা শুনতে চাই।
শত বছরের পুরোনো কোন লেখা থেকে নারীর সম-অধিকার আন্দোলন নিয়ে নতুন কিছু পাব এমন কোন আশা রাখি নি, কিন্তু বেশ কটি বিষয়ে রোকেয়ার স্পষ্ট যুক্তি আমাকে বেশ ভাবালো। যেমন নারীকে পুরুষের সমকক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার দাবি জানানোর পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন এই 'সমকক্ষতা' কেবল ভাবার্থে বা আদর্শ অবস্থা বুঝাবার সুবিধার্থেই - সত্যি সত্যি নারীরা পুরুষের জায়গা কেন নিতে যাবে বা সবক্ষেত্রে তাদের সমকক্ষ হবার জন্য যুদ্ধে কেন নামবে? বরং তাদের স্বীয় গুণে নারীরা সমৃদ্ধির এমন সব জায়গায় পৌঁছাবে, সভ্যতাকেও সাথে করে নিয়ে যাবে যা যুগের পর যুগ নারীসুলভ স্বাভাবিক গুণগুলো দমিয়ে রাখার ফলে মানবের কল্পনারও বাইরে চলে গেছে! আরেকটা উদাহরণ হতে পারে পর্দাপ্রথার সাথে প্রাইভেসির(privacy) যেভাবে তিনি তুলনা দিয়েছেন অমন করেও কখনো ঠিক ভেবে দেখা হয় নি।
মতিচূর গ্রন্থের প্রথম খণ্ডেই মূলত 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি'র ন্যায় রোকেয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬-৭টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। শুধু প্রথম খণ্ড বিবেচনায় নিলে নির্দ্বিধায় পাঁচ তারকা দিতাম। দ্বিতীয় খণ্ডে প্রাধান্য পেয়েছে গল্প। রোকেয়ার নিজস্ব ভঙ্গিতে ইংরেজ ঔপন্যাসিক মেরি কলেরির 'Murder of Delicia' এর ভাবানুবাদ বেশ ভালো লাগলো। 'নার্স নেলী' গল্পটার পরিসর ছোট্ট হলেও অনেক কিছু ভাবালো। অন্যদিকে 'সৌরজগৎ' গল্পটা কেমন গল্প বলে মনেই হচ্ছিলো না, আর 'মুক্তিফল' যে কী পড়লাম কিছুই বুঝলাম না। প্রথম খণ্ডের সাথে বেশ বেমানান। কথাসাহিত্যের চেয়ে প্রবন্ধসাহিত্যেই অনুমান করছি রোকেয়া অনেক বেশি উজ্জ্বল। এই রিভিউয়ের শুরুতে ভাবছিলাম কেন রোকেয়ার লেখার হাতের আরো বেশি প্রশংসা শুনি নি। এটাই হতে পারে কারণ। তবে 'পদ্মরাগ' না পড়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
January 13, 2018
পড়ে শেষ করেছি বছরখানেক আগে। পুরো রচনাসমগ্রই পড়েছি (অবরোধবাসিনী বাদে)। 'মতিচূর' বেগম রোকেয়ার প্রবন্ধ সংকলন। বিখ্যাত 'সুলতানার স্বপ্ন' এই সংকলনেই আছে। প্রায় একশ বছর আগে বেগম রোকেয়া যেরকম আধুনিকা ছিলেন, এ যুগেও তার মত আধুনিকা খুব বেশি পাওয়া যাবে না বোধ করি। ইতিহাস, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা সহ আরো অনেক বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের পরিধি অবাক করার মত। দুই দশকেরও বেশি সময় কাজ করেছেন সে যুগে নারী-শিক্ষা নিয়ে, প্রায় একক ইচ্ছাশক্তিতে। তার লেখা সকল বাঙ্গালীর জন্য 'অবশ্য পাঠ্য' বলে মনে করি।
August 23, 2019
Vigorous words!
July 22, 2025
Every girl should dive into this – it's a must-read that you won't want to miss!
December 21, 2017
খুবই চমৎকার একটা বই। কিছু অধ্যায় পড়তে গিয়ে খুবই অবাক হয়েছি। লেখিকার চিন্তা শক্তি অসাধারণ। বোধ হয় নারীবাদী অনেকেই মনে হয় ওনার এই বই পড়েন নাই। মুখে রোকেয়ার কথা বলা হইলেও অন্তরে উনি নাই। ওনার কথার ধরণ বুঝিতে অনেকেই ব্যার্থ।
Displaying 1 - 10 of 10 reviews











