"পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্তে জল ছলছল করে
নৌকোর গলুই ভেঙে উঠে আসে কৃষ্ণা প্রতিপদ
জলজ গুল্মের ভারে ভরে আছে সমস্ত শরীর
আমার অতীত নেই, ভবিষ্যৎও নেই কোনোখানে।"
সবগুলোই চার লাইনে কবিতা। মোট ৬৪টি কবিতা আছে। এখানের প্রতিটি কবিতায় কবির তুমুল মগ্ন চৈতন্যের প্রবাহমানতার ভাঙা গড়া খেলা।
শঙ্খ ঘোষ সত্তা ও সত্তাগত সংকট, একাকীত্ব, অস্তিত্বের ফুঁড়ে উত্থিত প্রশ্ন, কবির অন্তঃ দাহ চৈতন্যের অনলে দগ্ধ হবার সব বয়ান 'পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ'
কিছু ভালো লাগা কবিতা —
১৩.
আমি আছি, এই শুধু। আমার কি কথা ছিল কোনো?
যতদূর ফিরে চাই আদি থেকে উপান্ত অবধি
কথা নয়, বাঁচা দিয়ে সমূহ প্রবাহ পাব ব'লে
এই দুই অন্ধ চোখ ভিজিয়ে নিয়েছি অন্ধকারে।
১৭.
এইসব যাওয়া আসা কিছু কষ্ট রেখে যায় শ্যামবিকাশের অন্য পারে
কোথায় চলেছি আমি? পৃথিবী বা কতদূরে যাবে?
আমারই নিজের হাতে নষ্ট করে দিয়েছি এ ঘর
হৃৎপিণ্ডে অন্ধকার ঢেলে এই দুই হাত বাড়িয়ে বলেছি: পান করো।'
২২.
আর কোনো শব্দ নেই, দৃশ্যে ধুয়ে গেছে রাত্রিবেলা
নীলাভ রুপোলি শূন্য ভেদ ক'রে পরিত্রাণহীন
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে আমরা চলেছি সারি সারি
চন্দ্রকিরণের নীচে, খড় নিয়ে, গোরুর গাড়িতে।
২১.
তোমাদের মুখে আমি হাত রেখে বলিনি কখনো
'এখন কেমন আছো?বেঁচে আছো নিজের নিয়মে? '
শীতের পাহাড়তলি আগুন জ্বালিয়ে রেখেছিলো
তোমাদের মুখে আজ ছুঁতে চাই সমস্ত মানুষ।
২৬.
জীবন যখন ছিল হাতে ছুঁয়ে দেখিনি কখনো
আজ ঘুরে মরি শুধু সমতল পাহাড়ের চূড়া
শুনেছি বনের পাশে পড়ে আছে শ্যামারূপা গড়
মেলা নয় মধ্যরাতে পার হব জয়দেব, আজয়।