কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
স্কুল / কলেজ লাইফে পড়লে হয়তোবা ৪ ⭐ দিতাম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেস্কিউ/অ্যাকশন সিন গুলো অতিরিক্ত অবাস্তব লেগেছে, এছাড়া বইটি ছিল অনেক দ্রুতগতির। একবসায় অনায়সে অনেক গুলো পৃষ্ঠা শেষ করা যায়।
রাশার এক দ্বীপ যেন আগাগোড়া জাহান্নাম। ভয়ংকর সব অস্ত্র, দুনিয়া ধ্বংস করার জিনিসপত্র, হিংস্র হাইব্রিড ভালুক- কী নেই সেখানে? সাথে যোগ হলো ভয়ংকর এক সৈন্যদল। সংখ্যায় তারা অনেক। রাশার কাছ থেকে ওরা দ্বীপটা কেড়ে নিয়েছে। দ্বীপবোঝাই বিধ্বংসী জিনিস দিয়ে পৃথিবীতে নামাবে আগুনের বৃষ্টি! আছে উন্মাদ সাইকোপ্যাথিক সোলজার, মিসাইল, আরপিজি লঞ্চার, নজরদারির জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত ক্যামেরা ফিড সহ আরও অনেক অনেক অনেক কিছু! দ্বীপ লক্ষ্য করে অন্যান্য দেশের মিসাইল ছোঁড়া হলেও সেগুলোর গতিপথ পাল্টে দিয়েছে সেই সৈন্যদল, যারা পরিচিত রাফিয়ান আর্মি নামে। তাদের সর্দারের পরিচয় কেউ জানে না! ওদেরকে ঠেকানোয় এখন একমাত্র ভরসা মাসুদ রানা! সাথে আছে বাংলাদেশ আর্মির নিশাত সুলতানা, ফারিয়া নামের এক সিভিলিয়ান, নেভি সিলের কয়েকজন, কুয়াশার সহকারী পবন হায়দার আর কুয়াশার বানানো রোবট "বন্ধু"! স্পিডবোট, উভচর গাড়ি, প্লেন-সবদিক দিয়েই মাসুদ রানাকে খতম করার জোর চেষ্টা চলছে। সাবমেরিনও বা বাদ থাকবে কেন? পানিতে ভেসে উঠল ইয়া বিশাল ফ্রেঞ্চ সাবমেরিন, পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে নামতে শুরু করল ফ্রেঞ্চ কমান্ডোরা! মাসুদ রানার কল্লা না নিয়ে ফ্রান্স ফিরবে না!
উরাধুরা অ্যাকশন, মাথানষ্ট অ্যাকশন, অভিনব অ্যাকশন, অ্যাকশনের উপর অ্যাকশন, প্রাথমিক অ্যাকশন, নিম্ন মাধ্যমিক অ্যাকশন, উচ্চ মাধ্যমিক অ্যাকশন, স্নাতকোত্তর অ্যাকশন, অ্যাকশনে অ্যাকশনে ক্লান্ত হয়ে গেলে তার উপর দিয়ে আরও কয়েক দফা বেশি অ্যাকশন। সব মিলিয়ে মৃত্যুদ্বীপ বইটা যেন অ্যাকশন শব্দেরই সমার্থক। তাই বলে প্লট টুইস্টের কোনও কমতি ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই উরাধুরা কোনও রানা পড়তে চাইলে ডেথ ট্র্যাপ, বাউণ্টি হাণ্টার, কিলার ভাইরাস বা মৃত্যুদ্বীপ নিয়ে বসে যেতে পারেন।