বই নেমঃ- নুরজাহান ( তিন খন্ড একত্রে)
লেখকঃ- ইমদাদুল হক মিলন
জনরাঃ- সমকালীন উপন্যাস
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ১২৬১
বিক্রমপুর
বছরের প্রথম উত্তুরে শীতল হাওয়া গতরে লাগতেই দবির গাছির মন আনচান করে ওঠে। অবশেষে সুদিন ফিরে এলো। খাজুর গাছ থেকে রসে টইটুম্বুর মাটির ঠিলা নামিয়ে গুড় বানানোর সময় তার। শিরশির করে ওঠে বউ হামিদার শরীর। অভাবের দিন ফুরোলো অবশেষে। বালিকাচা বের করে দায়ে ধার দিতে বসে দবির গাছি। নুরজাহান গেছে নয়া সড়ক দেখতে।
নুরজাহান, দবির গাছির একমাত্র আদরের মেয়ে। সারাক্ষণ হাসিখুশি পাড়া বেড়ানো মেয়ে নুরজাহান। সেই সাথে প্রচণ্ড প্রতিবাদী মেয়ে। বাপকে দউবরা বলায় মাওলানাকে তুই রাজাকার বলে গালি দেয়া নুরজাহান। নুরজাহানের সারা শরীরে ফুটে ওঠা যৌবনের লক্ষণগুলো দেখে শিহরণ জাগে কন্ট্রাক্টর আলী আমজাদের শরীরে। যে করেই হোক তাকে বিছানায় পেতে চায় আলী আমজাদ। শিহরণ জাগে মজনু মিয়ার শরীরেও।
মজনু, মাতৃহারা ছেলে, বাপ থেকেও নেই। জন্মের পর থেকেই মানুষ বিধবা মরনি খালার কাছে। নিঃসন্তান মরনি মজনুকে কোলেপিঠে করে মানুষ করছে আপন পোলার মতো করে।
ছনুবুড়ির স্বভাব হলো এর ওর বাড়ির বাগান থেকে এটা ওটা চুরি করা আর যারতার নামে কুটনামি করা। পোলার বউ খাওন পরন দেয়না। তাই পেটের জ্বালায় চুরি করে বেড়ায়।
তার মরার পরে জানাজা পড়াতে রাজি নয় মন্নান মাওলানা।
মন্নান মাওলানা, গ্রামের প্রভাবশালী ব্যাক্তি। একাত্তরে ছিলেন রাজাকার আর পুত্র আতাহার চরিত্রহীন মাতাল। মাওলানা চায় নুরজাহানকে ন্যাংটো করে উদোম পাছায় চাবুকপেটা করতে।
তছি পাগলনী, ব্লাউজ পরেনা, গতরের কাপড় ঠিক থাকেনা। যখন দৌড়ায় বুকের কাপড় পড়ে যায়। আশেপাশের পুরুষগুলা হা করে তাকিয়ে থাকে তার উদোম বুকের দিকে। একদিন এক রিকশাওয়ালা তাকে ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে যায় ছাড়াভিটার নির্জন বাগানে।
আদিলউদ্দিন, ছেলেরা বাড়ি থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে। নয়া সড়কে এসেছে মাইট্টাল হইতে। মজনুকে দেখলেই মনটা কেমন উদাস হয়ে যায় তার।
খিদার জ্বালায় স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে আসা কুট্রি আর আলফু জড়িয়ে আছে একে অপরের ভাগ্যের ফেরে।
আজিজ গাওয়াল আর বউ বানেছা। বছর বছর বাচ্চা পয়দা করে কিন্তু বড়ি খেতে চায়না বানেছা, পুরুষ মানুষের পদ্ধতিতেও আপত্তি বানেছার। তাতে করে মজা পাওয়া যায়না।
পারুর সম্পর্ক স্বামীর সাথে যতটা না বেশী, তার চেয়ে বেশী গভীর সম্পর্ক মাতাল দেবর আতাহারের সাথে।
আ মাস্টারক্লাস ক্লাসিক উপন্যাস। প্রেম, ছ্যাঁকা, ধোকা, প্রতিশোধ, দুঃখ, বেদনা, হাসি, কান্না, সব মিলিয়ে প্রায় তেরোশো পৃষ্ঠার এক মহাকাব্যিক আখ্যান।
সত্য ঘটনা নিয়ে লেখা অসাধারন এক বই।
রেটিং ৫/৫