Abu Zafar Obaidullah (Bengali: আবু জাফর ওবায়েদুল্লাহ 1934–2001), a career civil servant by profession, was a first-rank poet of Bangladesh. Two of his long poems, namely, 'Aami-Kingbodontir-Kathaa Bolchi' and 'Bristi O Shahosi Purush-er Jonyo Pranthona' have gained legendary renowence since their first publication in late 1970s.
' আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ' মূল কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। গতবছর ২০২৪ এ ঐতিহ্য নতুন করে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করে। ঐতিহ্যের নতুন সংস্করণে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহের আরেকটি বিখ্যাত দীর্ঘ কবিতা ' বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা' সংযোজিত করা হয়েছে। বর্তমান গ্রন্থে কবির বিখ্যাত দুইটি দীর্ঘ কবিতার সাথে কতিপয় নাতিদীর্ঘ কবিতা রয়েছে।
এমনিতেই কবিতা কম পড়ি। এখনো বড় বড় দীর্ঘ কবিতা পড়তে যাবার মতো কবিতা-পাগল হইনি। তবে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ এর উক্ত দুটো দীর্ঘ কবিতা পড়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন রকম ছিলো। " আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি" এবং " বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ' কবিতা দুটো যেন বাংলাদেশের মানুষের যাপিত জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতির যৌথ চেতনার স্বগতোক্তি। প্রকৃত কবি নিজের কবিতায় নিজ সময় ও জাতির আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-সাধ আর জীবন পরিক্রমার স্মারকচিহ্ন ভাস্কর্যের মতো ফুটিয়ে তোলেন। কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ উক্ত কর্ম সফলভাবে করতে পেরেছেন।
কাব্যগ্রন্থটির বাকি কবিতাগুলো খুব ছোট ছোট। কোন একটা বোধ বা অনুভূতি বা ছবি প্রচলিত সরল ছন্দে উঠে এসেছে। বিশেষ কিছু নয় তবে কবির দীর্ঘ কবিতা দ্বয়ের সাথে এই কবিতাগুলোর রচনাশৈলীর পার্থক্য ইন্টারেস্টিং!
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কাব্যগ্রন্থে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাঙালিদের হাজার বছরের সংগ্রামের কথা বলেন; কবি দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা। কবি পুনরায় বলেন, যে কবিতা শুনতে জানে না, সে বাংলার মাটি, মানুষ, ঐতিহ্য—সব কিছু থেকে বঞ্চিত। কবি এখানে রূপকার্থে বোঝান—যারা সত্য ধারণ করে না, বুঝতে পারে না; তারা কখনো স্বাধীনতার স্বাদ পাবে না। কবি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ভালোবাসা ছাড়া আমরা কখনো পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাবো না। ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতা শুধু একজন বাঙালীর আবেগ নয়; ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযু*দ্ধের ঐতিহ্যকে ধারণ করার জন্য হলেও একবার পড়া উচিত।
🖍️১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ .
★আমি বাংলার কথা বলছি★
আমি পূর্ব বাংলার বীরত্বগাথা বলছি, আমি আমার হারানো ভাইদের স্মরণ করছি। তাদের পদতলে পিচঢালা ধূসর রাস্তা ছিল, তাদের ধমনীর কৃষ্ণচূড়া-রঙ শুকিয়ে সে পথ কালচে হয়েছিল। আমি বলছি একুশের ভোরের কথা, আমি বলছি রক্তে লেখা মাত্রাযুক্ত বর্ণমালার কথা, যখন ‘মা’ শব্দ উচ্চারণ করতে গিয়ে ছেলেরা বুক পেতেছিল বুলেটের সামনে। তারা জানত—যে মাতৃভাষা জীবন্ত থাকে না, তারা জানত—সে জাতিও বেঁচে থাকে না।
আমি আমার হারানো ভাইদের স্মরণ করছি, আমি ঊনসত্তরের উত্তাল রাজপথের কথা বলছি, যখন ছাত্রদের কণ্ঠে কেঁপেছিল শাসকের দেয়াল। যখন ‘গণঅভ্যুত্থান’ মানে ছিল ভয়কে অস্বীকার করার সাহস। আর বাঙালির স্বপ্ন মানে ছিল— চৈত্রের ঝলসানো রোদে নতুন ফসল বোনা। তারা জানত—যে মাটি উর্বর থাকে না, তারা জানত—সে মাটিতে প্রাণ থাকে না।
আমি আমার হারানো ভাইদের স্মরণ করছি, আমি জলসুখার দাসেদের গল্প বলছি, আমি জগতজ্যোতির মগজে বিদ্ধ বুলেটের চিহ্ন বলছি। আমি বলছি বাহাত্তর–পঁচাত্তর তমসা যুগের ইতিহাস, যখন চেতনার লেলিহান শিখায় মরিচাপড়া আমাদের সদ্য স্বাধীনতা। তারা জানত—যে মাটিতে রক্ত ঝরে না, তারা জানত—সে মাটিতে শহীদরা ঘুমায় না।
আমি আমার হারানো ভাইদের স্মরণ করছি, আমি নব্বইয়ের বিস্ফোরিত স্মৃতিকথা বলছি, আমি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কথা বলছি। যখন এরশাদ-পতনের আওয়াজে শহর থেকে গ্রাম— সবখানে জেগেছিল দুর্বার আশা। সেদিন মানুষ শিখেছিল— ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, জনতার জাগরণে ইতিহাস বদলায়।
আমি আমার হারানো ভাইদের স্মরণ করছি, আমি চব্বিশের মৃতদের কথা বলছি, আমি রিকশা-প্যাডেলের সমান্তরালে দোলা সচল-অচল পদতলকে স্মরণ করছি। যখন ফ্যাসিবাদের মুখোশ খুলে পড়ে, যখন হাসিনার শাসনের ভারে গুম, খুন আর ফাহাদের ফর্দ লম্বা হয়। সেদিন ছেড়াফাঁটা গ্রাফিতিরা দেয়াল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে, আবছা ঘনঘোরে মশাল জ্বেলে মুণ্ডুহীন মহারাজেরা এবার প্রশ্ন তোলে— ‘এই দেশ কার? এই রাষ্ট্র কাদের জন্য?’ আমি জানি, এখানেই সুশীলেরা নীরবে প্রস্থান নেবে। এই কবিতা অনেকেই পড়তে চাইবে না, তারা বলবে—চুপ থাকো। কিন্তু যে কবি চুপ থাকে, তার কবিতা কবিতা থাকে না।
আমি পূর্ব–পশ্চিম বাংলার লোকগাথা বলছি, আমি সাকরাইনের ঘুড়িতে উড়ে তোমাদের দেখছি, আমি মঙ্গলযাত্রার রথে চড়ে তোমাদের পথে চলছি। আমি মধ্যযুগের গীতিকবিতা শুনছি, আমি পুব–দখিনে লোকসংগীতের বন্দনা করছি, কারণ এই উৎসব–কবিতা–গান শুধু ভাষা নয়— এই ভাষা রক্ত, এই ভাষা প্রতিবাদ, এই ভাষা মাথা না নোয়াবার ইতিহাস। আমি জানি, এখানেই ধরমবীরেরা খড়গ তুলে নেবে। এই কবিতা অনেকেই বুঝতে চাইবে না, তারা বলবে—চুপ থাকো। কিন্তু যে কবি জবান বন্ধ রাখে, তার এলোমেলো শব্দেরা আর কবিতা হয় না।
আমি পূর্ব বাংলার শোকগাথা বলছি, আমি বিদ্রোহী হৃদয়ের অবিচল বীরত্বগাথা বলছি, আমি বিপ্লবী মঞ্চের তলে জমা হাড়মাংসে পোষা শকুনের ঠোকর দেখছি, আমি নব্য স্বৈরাচারের আঘাতে বিদীর্ণ সংগ্রামী জবানের হাহাকার শুনছি, আমি নিষ্পেষিত গণমানুষের অগ্নিসাক্ষ্য স্মরণ করছি। কারণ তারা হারায়নি— তারা বেঁচে আছে, তারা ফিরে আসবে, প্রতিটি সংগ্রামী মিছিলে, প্রতিটি বাংলা স্লোগানে, প্রতিটি সত্য উচ্চারণে। . নোট: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতার ধাঁচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ বলার চেষ্টা করেছি। যেখানে আবু জাফর শেষ করেছেন, আমি সেখান থেকে শুরু করেছি। এই কবিতা শেষ হবার নয়। এই বাংলার দূর্দশার কি শেষ আছে?
ঠিক জমল না, পাঠ্য বইয়ের মতই কোন ফিলিংস আনে না। 'আমি ভাত খাব' কবিতায় রফিক আজাদের উপর চড়াও হলেন কেন বুঝতে পারলাম না। ঘেঁটে দেখতে হবে.. একটা লাইন বেশ ভাল লেগেছে ~ "যখন মানুষ মানুষকে ভালবাসবে তখন প্রত্যেকে কবি।"