রুদ্ধশ্বাস সাতটি রহস্যঘন গল্পের রসালো সংকলন নিয়ে এই বই। 'দেশ' পত্রিকায় একটি ও 'উনিশ কুড়ি' পত্রিকায় প্রকাশিত চারটি গল্প ছাড়াও এতে রয়েছে আরও দুটি বড় গল্প। কোনওটিতে মিষ্টি প্রেম, কোনওটিতে হালকা হাসি, কোনওটিতে শিহরিত ভয়। কিন্তু সবকটিতেই রয়েছে অকল্পনীয় রোমাঞ্চ আর প্রত্যেকটির শেষেই মোক্ষম এক মোচড়, যা কিছুতেই আগে থেকে আন্দাজ করা সম্ভব নয়। এই রোমাঞ্চ, এই থামতে না পারা, এই অমোঘ মোচড়ের টানেই পড়ে ফেলতে হবে গল্পগুলি।
বাংলা ছোটোগল্পের তরুণ পাঠকদের জন্য অবশ্যপ্রয়োজনীয় ছিল নতুন প্রজন্ম থেকে উঠে আসা লেখকগোষ্ঠীর — যাদের ভাষা, সংলাপ, পারিপার্শ্ব ও মূল্যবোধের সঙ্গে তারা নিজেদের আইডেন্টিফাই করতে পারবে। যেখানে গল্পের ছলে তাদের ‘সংকটময়’ জীবন বা ‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’-এর প্রতি মরাল মেসোমশাইগিরি নেই। সুখের কথা অতি সম্প্রতি খুব কম হলেও অন্তত কয়েকজন তরুণ লেখকের লেখায় এই গুণগুলি দেখতে পাওয়া যায়। প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় তাদেরই একজন।
প্রসেনজিতের গল্পে প্রথমেই চোখে পড়ে বিষয়বৈচিত্র্য। প্রতিটি গল্পই ইউনিক। পুনরাবৃত্তির ঝোঁক নেই। তাঁর গল্পে ঘটনাই নায়ক। তাঁর প্রখরতম মুন্সিয়ানা কিন্তু গল্পের শেষ দিকে। প্রতিটি গল্পেই অভাবিত উপসংহার। ঘটনার দিক পরিবর্তন অদ্ভুত। তাই চমক তাঁর গল্পে নিশ্চিত প্রাপ্তি।
‘দীপান্বিতা’ গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল ‘দেশ’ পত্রিকায় ২০১৩ সালে। ‘নিঠুর হে’ আর ‘প্রেম আমার’ দুটো গল্পই উনিশ-কুড়ি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ননীগোপাল সিরিজেরও দুটি গল্প প্রকাশিত হয়েছিল উনিশ-কুড়ি পত্রিকায়। ‘ননীগোপালের গল্প’ ফ্রেন্ডস এফ এম রেডিও চ্যানেলে সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ভাষ্যপাঠ হিসেবে ‘রহস্য রোমাঞ্চ - আসছে সে আসছে’তে অনেকেই শুনে থাকতে পারেন। অনবদ্য এই গল্পটি প্রথমেই পড়ে ফেললে লেখকের লেখার ধাঁচ সম্বন্ধে একটা ধারণা হয়তো গড়ে উঠবে অবচেতনে, কিন্তু একের পর এক ভিন্নস্বাদের গল্পের বৈচিত্র্যে সে ধারণা বারংবার রিফাইন্ড হতে থাকবেই।
প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই সময়ের অনন্য শক্তিধর গদ্যকারদের মধ্যে একজন। নতুন প্রজন্মের কথা-ভাষা-দৃষ্টিভঙ্গি-হাসি-কান্না-আড্ডা, কয়েকটি নিজগুণে-অনন্য-ছোটোগল্পে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো ব্যবহার করার জন্যও তিনি প্রশংসার্হ।
বইটি মিলবে 'ধ্যানবিন্দু' সহ কলেজ স্ট্রিটের নানা বইয়ের দোকানে। তবে বইটি পাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হল সঙ্গের ছবিতে দেওয়া ফোন নম্বরে (9434343446, 9874458244, 8013245158) ফোন করে ঘরে বসে নিশুল্কে পেয়ে যাওয়া।
বইটি সম্বন্ধে কিছু বলতে গেলে একেবারে নামকরণ থেকে শুরু করতে হয়। সাতটি গল্প, প্রেম, ভয়, রহস্য, মজা, অতিলৌকিক ঘটনা কোথাও একসঙ্গে, কোথাও আলাদাভাবে মিলেমিশে রয়েছে গল্পগুলিতে। ভূমিকায় সোমনাথবাবু যথার্থই বলেছেন, গল্পগুলির পরিণতির বিন্দুমাত্র আভাস প্রকাশ পেয়ে গেলে পাঠের মজাটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। তাই আলোচনা করতে ভয় হয়, তাও আবার অনভ্যস্ত হাতে। তবে এর সঙ্গে আমি আরেকটু যোগ করতে চাই। একবার পড়া হয়ে গেলে এবং অন্তিম পঙক্তির বিস্ময় (last line surprise – যা কিনা বারেবারে সত্যজিৎ রায় ঘরানার লেখন শৈলীর কথা মনে পড়িয়ে দেয়) আবিষ্কার করার পরেও কিন্তু বারবার গল্পগুলি পড়তে ভাল লাগে। তা কেবলমাত্র ভাষা আর প্রকাশভঙ্গীর গুণেই। এছাড়াও যা বিশেষভাবে মুগ্ধ করে তা হল detailing (এর যথার্থ বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজে পেলাম না)। আর ঘটনার যৌক্তিকতা, অর্থাৎ কাহিনী এবং কাহিনীকারের যে গুণের কারণে ভূতের গল্প, রূপকথার গল্প বা হ্যারি পটারের মত সম্পূর্ণ আজগুবি গল্প পাঠ করার সময়ও পাঠকের মনে হয় যেন সত্যি ঘটনা। ননীগোপাল সিরিজের তিনটি গল্প, প্রত্যেকটিই একাকী এক মানুষের কাহিনী যা আবারও মনে করায় সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্পের কথা। তবে এই গল্পগুলিতে ছোটখাটো দু’একটি লাইন বাদ গেলে গল্পের কোন ক্ষতি হত না, কিন্তু গল্পগুলি কিশোরপাঠ্য হতে পারত। আশা করা যায় ভবিষ্যতে ছোটরাও প্রসেনজিতের কলম থেকে বঞ্চিত হবে না। “দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে” পড়ে রাতে একাকী ঘুমোতে গেছিলাম, ভোরের দিকে একটা ভয়ের স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙে যায়, এর জন্য প্রসেনজিতের একটা শাস্তি পাওনা হতেই পারে। মিষ্টি প্রেমের গল্প লিখিয়ে হিসেবে স্মরণজিত চক্রবর্তীকে এক নম্বর নতুন প্রজন্মের লেখক বলে মনে করতাম। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি “প্রেম আমার” আর “নিঠুর হে” যারা পড়েছেন তাঁরা এই প্রবন্দ্যোকেও যে একদম প্রথম সারিতে বসিয়ে দেবেন তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ থাকে না। আর “দ্বীপান্বিতা”কেও অনায়াসে একটি প্রথম সারির রহস্য গল্পের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। হবে নাই বা কেন, “দেশ” এর মত বাংলা সাহিত্যের সর্বোত্তম সাময়িক পত্রে এটিই যে প্রসেনজিতের প্রকাশিত প্রথম ছোটগল্প। আমার এই রিভিউটিকে অনুগ্রহ করে কেউ বন্ধুর পিঠ চাপড়ানো মন্তব্য মনে করবেন না। একদম আনকোরা লেখকের বই গাঁটের কড়ি খরচা করে কেনা অপেক্ষা সেই পয়সায় ফাস্ট ফুড খাওয়াকে আমরা অনেকেই অগ্রাধিকার দেই। আমি নিজেই হয়তো অচেনা লেখকের একটা বই কিনতে গেলে দু’বার ভাবব। তবে আমি বাজে লেখা পড়ার কষ্টের থেকে ভাল লেখা না পড়ার দুর্ভাগ্যকে অনেক বেশী বলেই মনে করি, তাই যারা পড়েন নি তাদের জানানোর জন্যই একদম নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই রিভিউ লিখলাম।
আজকের বাংলায় লেখালেখি করা খুব কঠিন কাজ| একে তো লবি আর রাজনৈতিক আনুগত্য-প্রদর্শনের ঠেলায় ম্যাগাজিনের পাতাগুলো কয়েকজন লেখক নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির মতো করে কুক্ষিগত করে রাখেন| যদি কপালক্রমে কোনো নতুন লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়ও, ক’জন পাঠক যে তা পড়েন তার হদিস পাওয়া কঠিন| ফেসবুক যদিও এক্ষেত্রে তরুণ লেখকের পাঠকমহল-কে একটু বিস্তৃত করেছে, কিন্তু সেই নতুন এবং অনেকাংশে অনামী লেখকের অন্য লেখাও যে আজকের পাঠক খুঁজে নেবেন এবং পড়বেন, তার গ্যারান্টি দেওয়া অসম্ভব| সেই পরিস্থিতিতে বিভা পাবলিকেশন-কে অকুন্ঠ সাধুবাদ দিতে হয় এই জন্যে যে তাঁরা নতুন লেখক প্রসেনজিৎ বন্দোপাধ্যায়-এর প্রথম গল্প-সংকলন প্রকাশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ (অন্য যে কোনো প্রকাশক এই বিশেষণ-ই দেন, কারণ বাংলায় নাকি ছোটগল্পের পাঠক নেই) কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন, এবং গুটি-কয়েক মুদ্রণ-প্রমাদ ছাড়া মোটামুটি ভালোভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করেছেন| এবার আসা যাক আলোচ্য বইটিতে শামিল গল্পগুলোর কথায়| এই বই-এ সোমনাথ দাশগুপ্তের ‘ভূমিকা’-র পর যেসব গল্প আছে, তারা হলো: - (১) ননিগোপালের গল্প (২) প্রেম আমার (৩) দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে (৪) ননিগোপালের সেলফোন (৫) নিঠুর হে (৬) ননিগোপালের বই (৭) দীপান্বিতা মনোযোগী পাঠক এই সপ্তরথীর মধ্যে জনা কয়েক-কে, বিশেষত শেষটিকে সহজেই চিনে নেবেন| তবে আমি এই গল্পগুলোর কোনটারই আলাদা করে বিবরণ দেবো না, কারণ সেটা করলে এই প্রতিভাবান এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় লেখকের সঙ্গে ঘোরতর অবিচার করা হবে| ছকে বাঁধা বাজার-চলতি গতের বদলে একঝাঁক অন্য রকম অনুভবের স্পর্শ দিয়ে গেলো এই সংকলন| আশা রাখবো যে বইটি পাঠকের সমাদর পাবে, যাতে প্রসেনজিৎ তাঁর কুশলী কলম দিয়ে আমাদের আরও অনেক গল্প উপহার দিতে উৎসাহিত বোধ করেন| আর প্রসেনজিৎ-এর লেখার সঙ্গে যদি আপনারা এখনও অপরিচিত থেকে থাকেন, তবে সেই ত্রুটি অবিলম্বে সংশোধন করার প্রয়োজন আছে, এবং সে ব্যাপারে এই বইটির থেকে ভালো উপায় থাকতেই পারে না| শিগগির পড়ে ফেলুন!
In the stunning debut novel, the author uses keen observation and vivid imagery along with brilliant detailing and narration to pull readers into the head of the characters.He layers the tension and intrigue until you are on the edge of your seat. I loved his big reveal in the twist ending tales. It requires sheer brilliance to conjure such mind boggling twists. The book's overall gritty realism will leave readers touched and inspired. Prosenjit Bandyopadhyay is an author to keep an eye on, Rosh Rohosser Satkahan is a brilliant and accomplished debut, I hope he's already working on the next one. Highly recommended to everyone :)
জীবনে কোনোদিন কোন বইয়ের Review লেখা দূরের কথা একটা লাইনও লিখিনি। তাই অনেক ভুলভ্রান্তি থাকবে, আশা করি লেখক মহাশয় নিজগুণে ক্ষমা করে দেবেন। যখন অনেকের পড়া হয়ে গিয়েছে ঠিক সেই সময়ে জানতে পারলাম প্রসেনজিৎবাবুর “রস রহস্যের সাতকাহন” বইটার কথা। বৃথা সময় নষ্ট না করে বইটি সংগ্রহ করেই পড়া শুরু করেছিলাম কালকে সন্ধেবেলা। তারপর শেষ না করে আর থামতে পারিনি। খুবই উপভোগ করেছি প্রতিটি গল্প। বিষয় বৈচিত্র্য, প্রতিটা গল্পের শেষে 'নয়া মোচড়' অসাধারণ। প্রথমেই পড়েছিলাম ‘আমার প্রেম’। লেখকের কাছে শুনেছিলাম এটা ওনার প্রথম দিকের লেখা গল্প, তাই এটা দিয়েই শুরু করেছিলাম। ভীষণ ভাল লেগেছে। টিন এজ প্রেমকাহিনি একদম যথার্থ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এরপর 'দীপান্বিতা'। একটাই কথা --- জাস্ট অসাধারণ। শেষের মোচড়টি দারুণ । শেষ করেও বেশ ঘোরের মধ্যে ছিলাম। এবার ‘নিঠুর হে’। আর একটি টিনএজ প্রেমকাহিনি। যদিও এই গল্পটি আমার কিছুটা predictable লেগেছে। হতে পারে সেটা নামকরণের জন্য। তবে গল্পটি চমৎকার। তারপর পড়েছি ‘দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে’। বেশ রোমহর্ষক গল্প। তবে একটু বেশি paranormal activity আর তার যন্ত্রপাতি নিয়ে মেদবহুল করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এরপর ‘ননিগোপালের গল্প’। কী ভীষণ যে ভাল লেগেছে বলে বোঝাতে পারব না। just mind blowing. তারপর পড়লাম ‘ননিগোপালের সেলফোন’। একটি technology based রহস্য গল্প যা শেষ অব্দি পড়লেই একমাত্র ঠিকঠাক রস আস্বাদন করা সম্ভব। তবে আর একটু অন্য ভাবে রহস্য উদঘাটন করলে আমার আরও ভাল লাগতো। একদম শেষে পরলাম ‘ননিগোপালের বই’। একটা সুন্দর হাসির গল্প দিয়ে শেষ করে মনটা ভীষণ খুশিখুশি হয়ে গেল। আমার তরফ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ Prosenjit Bandyopadhyay কে এতটা ভাললাগা দেওয়ার জন্য। প্রচুর লিখতে থাকুন আর খুব খুব ভাল থাকুন। খুব তাড়াতাড়ি আবার এরকম একগুচ্ছ গল্প সমাহারের অপেক্ষায় থাকলাম। আর তার সঙ্গে উপন্যাসের দাবি না জানিয়ে পারলাম না। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি ইচ্ছে পুরণ হবে আমার।
অনেকদিন পরে আবার এই ধরনের লেখা পড়লাম। বহুদিন আগে প্রায় আট নয় দশকে এই ধরনের লেখা পেতাম। খুব বেশি আহামরি নয়। কিন্তু পড়তে ভালো লাগতো। একটা স্বচ্ছ তরতরে ভাবে গল্পগুলো এগিয়ে যেত। ছোট ছোট গল্প। গল্পের বাধুনি পেশ পোক্ত। আর রহস্যের মোচরটা ভালো, কিন্তু সাংঘাতিক নয়।