নারী তুমি দেবী। তুমি যদি কষ্ট দাও, আমরা সহ্য করি। আমাদের সইবার ক্ষমতা অনেক। তোমার শরীরে লেপ্টে থাকা সৌন্দর্য আমাদের দূর্বলতা। নারী তুমি যখন অঙুলি নির্দেশ করে বলবে, চলে যাও। আমরা শত বুকপাঠা কষ্ট হলেও, নিঃর্স্ব হয়ে অজানা পথে পাড়ি দেই। তবুও তোমরা আমাদের বুঝ না।
এই কথা গুলো "মন্দির" উপন্যাসের নায়িকা অর্পণার কাছে আমার নিবেদন। ওগো নারী অমরনাথ মরেছে তোমার অবহেলায়, তোমার সুশোভিত কোমল চোখের শুষ্কতায় মরেছে শক্তিনাথ। তুমি এত পাষাণ ভাবে কেন গড়া? তোমার চোখে জল নামে না, তুমি আকাশে কেন মেঘ বিচালীর পদ্ম দেখ না?
উপন্যাসটির কাহিনী সংক্ষেপ হলো, অর্পণা সারাদিন দেবপূজা করে। তার বিয়ে হয় অমরনাথের সঙ্গে। কিন্তু সে দেবতার পূর্জা ছাড়া যেন অন্য কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে পারে না। তার অবহেলাময় ভালোবাসায় অমরনাথ মারা যায়। অর্পণা বাপের বাড়ি চলে আসে আবার দেবতার পূর্জার জন্য। পুরোহিত শক্তিনাথ তার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে পড়ে। কিন্তু যে নারীর বুকে মরুভূমি সেখানে পানি খুঁজতে গিয়ে শক্তিনাথও মারা যায়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গল্প বলেন, কঠোর ভাষায়। তার প্রতিটি শব্দে নিষ্ঠুর আঘাত করে মানসিকতায়। তিনি শব্দের মাযাজালে সৌন্দর্য দেখেন।