প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার এবং শান্তি অবতীর্ণ হোক রাসূল-এর প্রতি। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে ছোটবেলা থেকেই আমার সবচেয়ে বেশি আগ্রহের জায়গা ইতিহাস ও সমসাময়িক বিষয়ে পড়া ও লেখা। এই আগ্রহ থেকেই বহু লেখনী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৯ সালে পিলখানা ট্র্যাজেডির মাত্র দুই-একদিনের মধ্যেই আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়, যা তৎকালীন পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে পাকিস্তান, মিশর, বাংলাদেশ, সিরিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে আমি নিয়মিত লিখেছি। ফালিল্লাহিল হামদ!
যার সর্বশেষ লেখনী ছিল জেরুযালেম ও ফিলিস্তীন কেন্দ্রিক, যা মূলত আমার তিন পর্বের একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ। লেখাটির ব্যাপক চাহিদার কারণে সাধারণ ছাত্র-জনতা লেখাটি বই হিসেবে প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারও নিকট অতীতে আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিষয়ে আমার বক্তব্য ও তার লেখ্যরূপ জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। সেগুলোও প্রকাশ করার ব্যাপক চাহিদা ছিল। পাশাপাশি ছাত্র-জনতার বিজয়ে পিলখানা কেন্দ্রিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক আলোচনায় পিলখানা লেখাটির প্রাসঙ্গিকতাও চলে আসে। সবকিছু মিলিয়ে মাসিক আল-ইতিছাম গবেষণা পর্ষদের পরামর্শক্রমে আমার অতীতে প্রকাশিত সকল সমসাময়িক লেখনীকে একত্রিত করে এই বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উক্ত বইটি যেমন আমার অতীতের স্মৃতিচারণ, তেমনি কিশোর ও তরুণ বয়সে বিভিন্ন আবেগ ও অনুভূতির সংমিশ্রণ। বয়সে অপরিপক্কতার কারণে অথবা তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে বিশ্লেষণে কোনো ভুল মনে হলে অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাদেরকে সরাসরি জানানোর চেষ্টা করবেন। আমরা সকল সংশোধনযোগ্য ভুল সংশোধন করে নিব, ইনশা- আল্লাহ।
আমরা বিশ্বাস করি বইটি অধ্যয়নে আপনি যেমন সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে চিন্তার খোরাক পাবেন, তেমনি ভবিষ্যতেও কোনো ইস্যু তৈরি হলে সেগুলো বিশ্লেষণ করাও শিখতে পারবেন। পাশাপাশি কিশোর ও তরুণেরা অল্প বয়সে লেখালেখির অনুপ্রেরণাও পাবে, ইনশা- আল্লাহ।
আমরা দু\'আ করি মহান আল্লাহ যেন এই বইটিকে আমার ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে চিন্তার মেলবন্ধন তৈরির ওসীলা হিসেবে কবুল করেন! আমরা যেন আরো চিন্তা করতে পারি, আরো শিখতে পারি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের লেখনীকে কাজে লাগাতে পারি- আমীন! ইয়া রাব্ব!