১৩ পার্বণ ছোটোদের তেরোটি গল্পের সংকলন। ঝিকাইয়ের কেন রূপসীর উপর রাগ? কীভাবে লাটিমের দুষ্টুমি ওকেই শায়েস্তা করে দেয়? কখন চোর কৈলাসও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে? বাবলি কি মাকে খুঁজে পায় ? ভূত কীভাবে কবি চুনিলালের বন্ধু হয়ে যায়? প্রবোধস্যারকে তাঁর ছাত্র কী পারে গুরুদক্ষিণা দিতে? ছোটোদের নিজস্ব যে কল্প ও বাস্তব জগৎ তার মধ্যেই গল্পগুলির উত্তর লুকিয়ে আছে।
এই বছরের প্রথম দিন 'চক্রবর্তী-চ্যাটার্জী'র কলেজস্ট্রীট শাখা থেকে মেয়ে এই বইটি কেনে, নিজের জন্যেই অবশ্য। স্বীকার করি, তনুশ্রী দাসের নাম এর আগে আমি কোনোদিন শুনিনি। বাড়ি ফিরে, মেয়ে আমাকে এই বইয়ের প্রথম গল্পটা পড়ে শোনায়।
'ঝিকাইদের গল্প' শুনতে শুনতে এক অদ্ভুত ভাললাগায় আমার মনটা ভরে যায়। গল্প-বলার ধরণটা বেশ ভাল তো! সঙ্গে লেখার হাতটাও বেশ ঝরঝরে। মেয়েকে দ্বিতীয় গল্পটাও পড়ে শোনাতে বলি। সেটাও বেশ ভাল লাগে। লাটিমের মনের পরিবর্তনের মধ্যে যে সারল্যটা আছে, সেটা আমাকে বেশ তৃপ্তি দেয়।
তারপর, অল্পে অল্পে, মেয়ের আগেই, আমি বইটা শেষ করে ফেললাম। তেরোটা গল্পই বেশ ভাল - বিষয়ে এবং বৈচিত্র্যে। গল্প বলার ধরণটাও ভারী সুন্দর। ছোটদের জন্যে হলেও, গল্পগুলোর মধ্যে কিন্তু জ্ঞান দেওয়ার ভাবটা নেই, বরং খুব সাদামাটাভাবে অনেক গভীর কথা বোঝানো হয়েছে গল্পগুলোর মাধ্যমে। এই ধেড়ে বয়েসে পৌঁছেও, গল্পগুলো পড়ে অনাবিল আনন্দ পেলাম।
'মন্তাজ' খুব যত্ন করে পরিবেশন করেছেন বইটি, সেজন্য তাঁদের ধন্যবাদ। সঞ্জীবন বসুর অলংকরণগুলিও ভারী সুন্দর।