Jump to ratings and reviews
Rate this book

মহাতীর্থের শেষ যাত্রী

Rate this book
১৯৫৬ সালে, বিদেশীদের জন্য তিব্বতের দরজা তখন প্রায় বন্ধ, রাজনৈতিক কারণে ভারতের সঙ্গে তিব্বতের সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন, সেই সময় কোন রকম প্রস্তুতি না নিয়েই একদল নেপালী তীর্থযাত্রীর সাথে বিমল দে বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে যান সুদূর লাসায়। তাঁর বয়স তখন মাত্র পনের। যাত্রীদের মধ্যে তিনি ছিলেন নবীন মৌনী-বাবা, তারপর লাসা থেকে সেই দল ছেড়ে যান কৈলাসখন্ডেঃ তারই বিশদ বিবরণে ভরা এই 'মহাতীর্থের শেষ যাত্রী'। বিমল দে নিজেই বলেছেন যে এটা একটা ভিখিরীর ডায়েরী। কিন্তু এই বইটির মধ্যে পাওয়া যাবে তিব্বতের দৈনন্দিন জীবন আর মহাতীর্থের পূর্ণ বিবরণ।

407 pages, Hardcover

First published January 1, 1982

23 people are currently reading
263 people want to read

About the author

Bimal Dey

10 books14 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
43 (70%)
4 stars
10 (16%)
3 stars
6 (9%)
2 stars
0 (0%)
1 star
2 (3%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,669 reviews440 followers
September 28, 2023
অতুলনীয়!

তিব্বত ভ্রমণ নিয়ে এমন বই সম্ভবত আর লেখা সম্ভব হবে না। ভ্রমণকাহিনি পড়ার জন্য বইটা হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু এতো ঠিক চিরাচরিত ভ্রমণ নয়, রীতিমতো রুদ্ধশ্বাস অভিযান! কিশোর বয়সে সন্ন্যাসীদের দলে মৌনীবাবা হয়ে, পায়ে হেঁটে লাসা - কৈলাস - মানস সরোবর ভ্রমণ করেছিলেন বিমল দে। পদে পদে ছিলো চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়ার ভয়, পায়ে হাঁটার কষ্ট, নির্মম শীত, অচেনা অজানাকে আবিষ্কারের তুমুল রোমাঞ্চ; সাথে তিব্বতের সাধারণ মানুষ আর দেশের রক্তাক্ত ইতিহাস। বিমল দে সরল ও বিশ্বাসী মানুষ। তিনি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিভিন্ন ঘটনা সরল বিশ্বাসে বর্ণনা করেছেন ( সেগুলোর লৌকিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়তো অসম্ভব নয়)কিন্তু লেখককে সব জায়গায় খুব সৎ ও অকপট মনে হয়েছে। বাঙালিদের দুঃসাহসী অভিযানে যাওয়া খুব একটা দুর্লভ ব্যাপার নয়। তারপরও ১৬/১৭ বছর বয়সে এই দুর্গম গিরি কান্তার মরু পাড়ি দেওয়া একটি অনন্য ঘটনা। কী পরিমাণ মনের জোর থাকলে হাজার হাজার কিলোমিটার পাহাড়ি বিপদসংকুল রাস্তা কপর্দকহীন অবস্থায় প্রায় হাসিমুখে পার হওয়া সম্ভব তা আমার কল্পনাতেও আনা দুঃসাধ্য। পুরো বই-ই অত্যন্ত সুখপাঠ্য। রুক্ষ শীতল তিব্বতকে তার চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের সামনে হাজির করেছেন লেখক। সেই তিব্বত এখন আর নেই। ১৯৫৯ সালে চীন তিব্বত দখল করে নেওয়ার পর পাল্টে গেছে তিব্বতের রাজনৈতিক পটভূমি, রক্তাক্ত হয়েছে এর শুভ্র পদতল, গড়ে উঠেছে বহু বিলাসবহুল হোটেল আর আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা। তীর্থে যাওয়ার পথও হয়ে গেছে সহজ। সেই হিসেবে ১৯৫৬ সালে বিমল দে ছিলেন মহাতীর্থের শেষ যাত্রীদের একজন। এ যাত্রা স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাঙালি পাঠকের মনে।
Profile Image for Onu Tareq.
29 reviews212 followers
September 22, 2022
বাঙালির লেখা সেরা তিব্বত অভিযানের বইটা মনে হয় পড়েই ফেল্লাম, সময় ঘুরে ঘুরে উড়ে উড়ে বেড়িয়েছি ঊষর ভূখণ্ড স্বপ্নের দেশ তিব্বতে।

লেখক মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক সাধুবাবার ভক্ত হয়ে তাঁর পিছু পিছু পায়ে হেঁটেই সিকিম দিয়ে লাসা চলে যান ছদ্মবেশী মৌনী সাধু হয়ে। পরে একাকী রওনা দেন কৈলাস তীর্থ ও মানস সরোবর এবং রাক্ষস হ্রদ দেখার জন্য। রূপকথাকে হার মানায় তাঁর এই সত্য কাহিনী-

“চারদিকে ছোটখাট পাহাড় উপত্যকা, আর বরফ গলে সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ি নদী। ঠাণ্ডা বাতাস দিনের বেলা সূর্যের তাপে একটু দূরে গিয়ে অপেক্ষা করে, সন্ধ্যে হলেই সে আবার নেমে আসে। রাতের ঠাণ্ডা এখানে ভয়ংকর। তিব্বত এক অদ্ভুত দেশ। তার দক্ষিণে হিমালয় পর্বতশ্রেণী আর উত্তরে কুয়েন লুন পর্বতশ্রেণী। এই দুই পর্বত প্রাচীরের মাঝে লুকিয়ে আছে এই ভীষণ ঠাণ্ডার দেশ, যার উচ্চতা গড়ে প্রায় তেরো থেকে পনের হাজার ফুট আর তাপমাত্রা ওঠে একশ পাঁচ ডিগ্রি পর্যন্ত আর নামে শূন্যের থেকেও পয়তাল্লিশ ডিগ্রি নীচে।"

বাংলায় তিব্বত নিয়ে এমন বই আর দু’টি আছে কিনা সেই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তো আছেই, সত্যি কথা হচ্ছে ১৯৫৬ সালে উনার সেই অভিযানের দুর্গম তিব্বতের এমন সব জায়গার এত নিখুঁত ও বিস্তারিত বর্ণনা আছে যে তার জুড়ি বিশ্বেও বিরল। পরে দেখি বইখানা ইংরেজিতেও অনূদিত হয়েছে, একটু খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে সে তিব্বতপ্রেমী পশ্চিমা সমাজে এই বইটা কতখানি সমাদৃত।

তিব্বতের ভূপ্রকৃতির সাথে সাথে সেখানের মানুষদের ছবিও তিনি এঁকেছেন নিখুঁত ভাবে-

‘পৃথিবীর এই ছাদে প্রকৃতির কোলে এই শিশুদের দেখে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তাদের চোখে দেখছি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার জ্যোতি, মুখে সরল ও পবিত্রভাব। এখানকার লোকদের মুখেও সেই পবিত্রভাবটা কেউ গোপন করতে পারবে না। এই নিষ্কলঙ্ক স্বর্গভূমিতে এখনও মনে হয় পাপের হাওয়া লাগেনি। হিমালয়ের এই উঁচু বেড়া ডিঙ্গিয়ে মনে হয় পাপ এখানে প্রবেশ করতে পারে না। জীবনযাত্রা এদের যে রকমই হোক না কেন, পোশাকে এরা যতই ভিখিরি হোক না কেন, এদের মধ্যেই আমি দেখতে পাচ্ছি সত্য-শিব ও সুন্দরের প্রকাশ। এদের মত এত মনখোলা হাসি বোধহয় জগতের আর কোন জাতিই হাসতে পারে না।‘

৪০০ পাতার প্রমাণ আকারের বই, খুব উপভোগ করলাম। এবং বইটি বার বার ফিরিয়ে নিয়ে আসছিল আমাদের ২০০৯ সালে তিব্বত ভ্রমণের স্মৃতি। কিন্তু কৈলাস আজও অদেখা, মানস সরোবর ছোঁয়া আজও বাকী, এখন নতুন করে উৎসাহ পাচ্ছি আবার ভ্রমণ পরিকল্পনার।

বিমল দে বাল্যকাল থেকে সাধু ঘেঁষা ছিলেন, নানা বইতে, সে ভারত হোক বা পেরু, তাঁর স্পিরিচুয়াল যাত্রার একটা ঝোঁক সবসময়ই প্রকাশ পেয়ে যায়। তো কৈলাসের কাছে এক সাক্ষাৎ শিবের মত নাঙ্গা সাধু তাঁর জীবন রক্ষা করে, ও আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে লেখক সেই সাধুকে আর দেখেন নি, কিন্তু তাঁর খোঁজে তিব্বতে আবার গিয়েছিলেন ৫০ বছর পরে! অবশেষে প্রথম দেখা হবার ৫৩ বছর পর সেই কৈলাসবাবাকে নিয়ে ফের আবিষ্কার করলেন ভারতে, প্রচ্ছদে যার ছবি আছে, সেই কাহিনী নিয়েই ২০১৫ সালে প্রকাশিত হত ‘মহাতীর্থে কৈলাসবাবার সন্ধানে’। এটি প্রথম বইয়ের মত অত সুখপাঠ্য ও শ্বাসরুদ্ধকর নয়, কিন্তু চীনা দখলদারিত্বের পর তিব্বতের ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বইটা, যে কোন তিব্বত নিয়ে আগ্রহী, হিমালয়প্রেমী, অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীর জন্য অবশ্য অবশ্য পাঠ্য, একেবারে দশে দশ। এমন বই আর নেই।
( বাংলাটা পড়ে লেখা প্রতিক্রিয়া)
Profile Image for Anjuman  Layla Nawshin.
86 reviews147 followers
October 18, 2020
অভিযাত্রীর ‘অ তে অভিযান’র পাঠচক্রে দেয়া বইগুলোতে অনেকদিন ধরেই তেমন একটা মন বসাতে পারছিলাম না। গত মাসের পাঠচক্রের বই ছিল এই মহাতীর্থের শেষ যাত্রী। পড়তে পারিনি। এমাসে অনেকটা জোরাজুরির মাঝে পিডিএফ খুলে বসে পড়লাম। ভূমিকাসহ ৪৪৬ পৃষ্ঠার বই। পড়ে শেষ করতে পারবো কিনা জানি না। কিন্তু প্রথম পেইজ থেকেই অদ্ভুত এক চুম্বকীয় ক্ষমতায় আকড়ে ধরল সাদাকালো এই পৃষ্ঠাগুলো। ভূমিকা পড়া দিয়েই শুরু করেছিলাম। ভূমিকা পড়েই পুরো বইটি পড়ার আগ্রহ আরো বেড়ে গেল।
১৯৫৬ সাল। বিদেশিদের জন্য নিষিদ্ধ দেশ তিব্বতের দরজা তখন প্রায় বন্ধ। ভারতীয় দের জন্য তো পুরোপুরিই নিষিদ্ধ। নেপাল সরকার সেবছর তাদের একদল সাধু তীর্থযাত্রী বা লামার জন্য অনুমতি সংগ্রহ করেছিল। সেই তীর্থযাত্রা তারপর প্রায় ৪০ বছরের জন্য শেষ তীর্থ যাত্রা ছিল।
বিমল দে তখন ১৫ বছরের কিশোর। বাড়ি থেকে পালিয়ে গয়াতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই দেখা হয় নেপালী এক সাধুবাবার সাথে। হয় সখ্যতা। সেই সাধুবাবার পথ ধরেই একা একা ছুটে চলেন সিকিম-গ্যাংটক। এক পোশাক, এক চাদড়। আর কিছু নেই। সাধুবাবা তার দল নিয়ে যাবেন মহাতীর্থে। সেই দলে যোগ দিলেন বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা ছোট্ট বালক বিমল দে। ভারতীয় বাঙালি বালক। তিব্বত ভ্রমণ নিষিদ্ধ তাদের জন্য। সাধুবাবা বালককে দিলেন মৌনতার দীক্ষা আর পরিচয় দিলেন নেপালী নাগরিক হিসেবে। দলে থাকতে হলে পুরো পথ কথা বলা যাবে না। অবশেষে মৌনিবাবা হয়েই তীর্থযাত্রীদের সাথে পারি দিলেন মহাতীর্থের পথ। তিব্বতের বরফ শীত, অল্প কাপড়, দুর্গম পথ , তিব্বতী আর্মি - মাসের পর মাস ১৫ বছরের মৌনিবাবার সেই পথ ধরে চলার অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে এই বইতে। কেমন ছিল সেসময় তিব্বতের রাজনৈতিক অবস্থা, কেমন ছিল সেখানকার মানুষ, নদী ও গ্রামগুলো। আর একটার পর একটা গুম্ফা, মাখন মেশানো চা, মন্ত্রপাঠ, আলাপ, বুদ্ধপ্র���ম আর হিমালয়ের অসীমতা কীভাবে এক বালককে করে তুললো মহাতীর্থের এক সফল যাত্রী তা বিস্তারিত উঠে এসেছে বইতে। তিব্বতের সকাল, সন্ধ্যা, হিমালয়ের অপরূপ রূপ অদ্ভুত এক মাদকতায় পার করে নিয়ে যায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা।
মহাতীর্থ লাসায় পৌছোনোর পর পুরো লামার দল যখন থেমে যায় তখন ঘর পালানো এই বালক একাই যাত্রা শুরু করে কৈলাস ও মানস সরোবরের পথে। আছে সেই যাত্রার অসাধারণ সব চিত্র। মহাতীর্থ থেকে ফিরে ধীরে ধীরে সেই বালক হয়েছেন ভূপর্যটক। ঘুরেছেন উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু। গিয়েছেন ইউরোপ, অ্যামেরিকার বিভিন্ন পর্বতে। কিন্তু বালক বয়সে হিমালয়ের যে রূপসূধা দেখেছেন সেই রূপের আর দেখা মেলেনি পৃথিবীর অন্য কোন উপত্যকায়।
এরপর তো ১৯৫৯ সাল থেকে বিদেশীদের জন্য তিব্বত ভ্রমণ একেবারে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তারপর বহু বছর আর কেউ তিব্বতে যেতে পারে নি। তীর্থযাত্রীরাও না। পরে অনেক কাঠখোর পেরিয়ে নব্বইয়ের দশকে পর্যটকদের জন্য আবারো খুলে যায় তিব্বতের দুয়ার। ১৯৫৬ সালের ১৫ বছরের সেই মৌনিবাবা তখন মধ্যবয়সে। পুরোনো সেই পথের খোঁজে প্রায় ৪০ বছর পর আবার যান লাসায়। কিন্তু কোথায় সেই তীর্থভূমি? কোথায় সেই লাসা? এতবছর পর লাসার এক বাণিজ্যিক রূপ দেখে শিউড়ে ওঠেন তিনি। চিনতে পারেন নি বালকবেলার সেই পথগুলো। সব বদলে গেছে। লাসা জুড়ে বাণিজ্য। চীনা আধিপত্যের জোরে হারিয়ে যেতে বসেছে বহু বছরের তিব্বতি সেই সংস্কৃতি।
এখন অনেকে তিব্বত- লাসা-কৈলাস-মানস সরোবরের দিকে যায় ট্রেকিংএর জন্য। কিন্তু তীর্থযাত্রার যে বোধ তা আর কয়জনই বা হিমালয় থেকে নিতে পারেন?
এই বই পড়ে পৃধিবীর ছাদ তিব্বত, লাসা,সেই ‍গুম্ফাগুলো, সেই কৈলাস, মানস সরোবর কিংবা আমাদের ব্রহ্মপূত্রের সেই উৎসের পথে চলার স্বপ্ন জেগে উঠেছে নতুন করে। খুব করে যেতে চাই মৌনিবাবা ও গুরুজির সেই পথ ধরে। তবে পর্যটক বা ট্রেকার হিসেবে নয়, তাদের মতোই একজন তীর্থযাত্রী হয়ে।

আসলে এই বইটি যারা পড়বে, আমার মনে হয় তাদের সকলের মনেই তীর্থ যাত্রী হয়ে তিব্বত, লাসা, কৈলাস- মানস সরোবরে যাওয়ার ইচ্ছে তৈরী হবে।

কিন্তু ১৫ বছরের সেই মৌনিবালক, সেই গেশে রেপতেন আর তিব্বতের সেই পথ কী আর আছে!!

#হ্যাপি_রিডিং
Profile Image for Neela.
83 reviews55 followers
January 3, 2023
১৫ বছরের পিতা-মাতাহীন এক কিশোর বাসা থেকে পালিয়ে যায়, বুদ্ধগয়ায় তার দেখা হয় এক এক বৌদ্ধ সাধুর সঙ্গে। সাধুবাবার পিছু নিয়ে সে পৌছায় গ্যাংটক। সাধুবাবার চ্যালা হিসেবে সাধু ও তার তীর্থদলের সঙ্গে এক দীর্ঘ যাত্রায় বের হয় এই কিশোর; গ্যাংটক থেকে তিব্বতের রাজধানী লাসায়। লাসা থেকে সম্পূর্ন একা সে আবারো যাত্রা করে প্রায় ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশী দূরে অবস্থিত হিন্দুদের মহাতীর্থ কৈলাসনাথ পাহাড় ও মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে, কৈলাস থেকে আবার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পেরিয়ে আলমোড়া, সব মিলিয়ে প্রায় ২০০০ কি.মি. পথ! সবে শৈশব পেরুনো এক কিশোর, তিব্বতের ভাষা সম্পর্কে যার নেই কোন জ্ঞান, হিমালয়ের গা ঘেঁষে চলা এই দুর্গম রাস্তায় তীব্র শীতে সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে কী অসীম সাহসিকতার সাথে এই পথ পাড়ি দিয়েছিলো তার বর্ণনা রয়েছে এই বইতে। ভ্রমণ বর্ণনার পাশাপাশি তিব্বতের রাজনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান, তিব্বতের রাজনীতিতে চীনের প্রভাব ও তিব্বতের সাধারন মানুষদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির বিশদ বর্ণনা আছে এই বইতে। আমার মতো, তিব্বত বা তিব্বতের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে যাদের তেমন কোন ধারনাই নেই তাদের জন্য বেশ উপকারী হতে পারে এই বইটি। কিশোর বিমল দে তার যাত্রাপথের চারপাশ পর্ববেক্ষন করেছেন দারুণ কৌতুহল নিয়ে! তাঁর কৌতুহলী স্বভাব আর সাধুবাবার বদান্যতায় কিশোর বিমল দে দেখা করতে পেরছেন তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা চতুর্দশ মহামান্য দালাই লামার সাথে (দালাই লামা তখন বিমল দে’র চেয়ে মাত্র ৫ বছরের বড়), তিনি দেখা করেছেন পাঞ্চেন লামার সাথেও। পাঞ্চেন লামা তিব্বতের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন ধর্মীয় নেতা ও সীগাতসে নামক তিব্বতের বিখ্যাত একটি শহরের শাসক (যদিও পরবর্তীতে দালাই লামাকেই পুরো তিব্বতের শাসক হিসেবে ঘোষনা করা হয়)। দালাই লামা ও পাঞ্চেন লামা দুটোই ধর্মীয় পদবী, এই দুই পদের উত্তরাধিকার কে হবেন সেটা নির্ধারন করার প্রক্রিয়াটাও বেশ অভিনব এবং এই বইয়ে এর বিস্তারিত বর্ণনা আছে। তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্ম অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ধর্ম থেকে খানিকটা আলাদা, বৌদ্ধ ধর্মের সাথে ভারতীয় তন্ত্র শাস্ত্রের সম্মিলনে তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি। তিব্বতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় রয়েছে (অনেকটা আমাদের শিয়া ও সুন্নী’র মত), তাদের মধ্যে গেলুক’পা সম্প্রদায় হচ্ছে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও অভিজাত; এই গেলুক’পা সম্প্রদায় থেকেই ভবিষ্যত দালাই লামা কে নির্বাচন করা হয়। জেনে খুব অবাক হয়েছি যে, বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেয়া বৌদ্ধ ধর্মীয় পন্ডিত অতীশ দীপংকর হচ্ছেন এই গেলুক’পা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা!
বিমল দে যেসময়ে সাধুবাবার সাথে তিব্বত যাত্রা করেন, অর্থাৎ ১৯৫৬ সালে, তখন ভারতীয়দের তিব্বতে প্রবেশ ছিলো সম্পূর্ণ নিষেধ। তিব্বতের প্রতিটি শহরে ও গ্রামে চীনা সৈন্যরা পাহারায় থাকত, সাধারন ভারতীয় ছাড়াও ব্যাবসায়ী বা তীর্থযাত্রী ভারতীয়রাও তিব্বত যেতে পারতেন না। সেই কঠিন সময়ে নেপালি মৌনীবাবা (যে সাধু মৌনব্রত গ্রহণ করেছেন, গুরু বা সিনিয়র লামা ছাড়া কারো সামনে কথা বলতেন না, পরে অবশ্য বিমল দে বৌদ্ধ ধর্মমন্ত্রে দীক্ষীত হয়েছিলেন এবং নিজেকে ত্রাপা বা নবীশ সন্যাসী হিসেবে পরিচয় দিতেন) সেজে তিব্বতে যাত্রা করা বিশাল সাহসের একটি বিষয় ছিলো। লাসা যাওয়ার পথে তিব্বতের বিভিন্ন গ্রামে, গুম্ফায়, মন্যাস্ট্রিতে তাদের রাত্রিযাপনের অভিজ্ঞতা ও সেইসব গুম্ফা সম্পর্কে বর্ণনা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। পঞ্চাশের দশক থেকেই তিব্বতে চীনা প্রভাব বাড়তে থাকে এবং আস্তে আস্তে তিব্বত চীনের নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে। বিমল দে’র তিব্বত ভ্রমণের মাত্র বছর দুয়েক পরে অর্থাৎ ১৯৫৮ এর শেষের দিকে চতুর্দশ দালাই লামা তিব্বত থেকে সদলবলে পালিয়ে এসে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করেন।
তিব্বত সম্পর্কে এমন বিশদ বর্ণনা সম্বলিত আর কোন ভ্রমণকাহিনী বইতে পাইনি। তিব্বত নিয়ে আরো জানার আগ্রহ বাড়লো।
Profile Image for Shuk Pakhi.
514 reviews316 followers
November 26, 2024
১৯৫৬ সাল বিমল দে তখন সবে ১৫/১৬ বছরের বালক। পিতৃ-মাতৃহীন বিমল দে বড় হচ্ছিলেন দাদা-বৌদির সংসারে, ঠাকুমার ছত্রছায়ায়। কিন্তু উনার ছিল ঘর পালানো রোগ। এবার পালিয়ে চলে গেলেন গয়ায়। সেখানে জুটে গেল এক সাধুবাবা। একদিন হঠাৎ সাধুবাবা উনাকে বিদায় জানিয়ে রওনা হয়ে গেলেন গ্যাংটকের পথে।

বিমল দে ভাবলেন সাধু আমাকে ছাড়লেও আমি সাধুকে ছাড়বো না। তিনিও চলে গেলেন গ্যাংটক। সেখানে খোঁজে পেলেন সাধুবাবাকে। আর জানতে পারলেন বাবাজী বিরাট একদল বৌদ্ধ তীর্থযাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছেন তিব্বতের লাসায়।
বিমলবাবুও সঙ্গে যাওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া। কিন্তু সেই সময়ে তিব্বতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ভারত-চীনের সম্পর্কে চলছে টানাপোড়েন। চীন কোনভাবেই ভারতীয়দের তীব্বতে যাওয়ার পারমিশন দিবে না।

সাধুবাবা বৌদ্ধমতে বিমলবাবুকে দীক্ষা দিলেন। মৌনি লামার বেশে বিমলবাবু পা র���খলেন তিব্বতের মাটিতে। সে এক কষ্টকর পদযাত্রা আর পদে পদে ভয় কখন না জানি চীনা সৈন্যরা বিমলবাবুকে ধরে ফেলে। নানান ঘটনার শেষে পৌঁছান লাসায়। সেখানে দেখা পান দালাই লামার। সবাই যখন ফিরছে বিমলবাবুর মনে হলো এতটা যখন এলাম তবে কৈলাসনাথ দর্শন করে মানস সরোবরে একটা ডুব দেয়া আর বাকি রাখি কেন। তিনি দল থেকে আলাদা হয়ে একাই রওনা হলেন। পথে কতবার যে মরতে মরতে বেঁচেছেন গিয়েছেন!
লাসা থেকে কৈলাস ১২৮৫ কি.মি. পাহাড়ী সঙ্কুলপথ তারওপরে আছে শীতের মরণকামড়। অসম্ভব মনের বল থাকলেই কেবল এই পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব!

অসাধারণ বই! মন্ত্রমুগ্ধের মতন পড়ে গিয়েছি। বিমলবাবুর গদ্য যেমন চমৎকার তেমনী চমৎকার উদার তার মন মানসিকতা। বইতে একজন তীর্থযাত্রীর ভ্রমণকাহিনী উঠে এসেছে, সেই সাথে ছোট্ট করে তিব্বতের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভূ-রাজনৈতিক অবস্থা, ধর্ম সবই আলোচনায় এসেছে।
এবছরে পড়া সেরা বইগুলোর একটা এই বই।
Profile Image for Nipu.
65 reviews3 followers
May 10, 2023
এত প্রানবন্ত আর সহজ করে লেখা ভ্রমণ কাহিনি শেষ করার অনুভূতি আসলেই সুন্দর।

তিব্বত আর বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
Profile Image for Dev D..
171 reviews26 followers
January 22, 2020
বিমল দে তিব্বত ঘুরে এসেছিলেন সেই ১৯৫৬ সালে। তখন তার বয়স মাত্র ১৫। তার তিব্বত যাওয়া একেবারেই আকস্মিক। বাপ মা মরা বিমল এর মন বাড়িতে টিকতো না, চিরকালই তিনি ঘর পালানো ছেলে।ঘর থেকে পালিয়ে তিনি গিয়েছিলেন গয়ায়। সেখানে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। অসুস্থ সন্ন্যাসীটিকে সেবা শুশ্রুষা করে তিনি সুস্থ করে তুলেছিলেন। কিন্তু সন্ন্যাসীদের তো কারো প্রতি আসক্তি থাকে না, তাই কিশোর বিমল এর প্রতি স্নেহশীল এই প্রৌঢ় হঠাৎই বিমলকে রেখে গয়ায় তার সাথে দেখা করতে আসা একদল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সাথে গয়া ছাড়লেন, যাওয়ার আগে কেবল বলে গেলেন গ্যাংটক যাচ্ছেন। বিমল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীটির সাথে নিজের মনকে বেধে ফেলেছিলেন, একা একা গয়ায় আর তার মন টিকলো না, বাড়িও ফিরলেন না, পাড়ি জমালেন গ্যাংটকেই।তখন সিকিম ভারতের অর্ন্তভুক্ত না হলেও ভারতের আশ্রিত রাজ্যই বলা চলে। তাই সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে পৌছতে সমস্যা হলো না। সেখান থেকে কিভাবে তার পূর্ব পরিচিত বৌদ্ধ সন্ন্যাসীটিকে খুঁজে বের করে, তার সঙ্গে থাকা সন্ন্যাসী দলের সাথে পাড়ি জমালেন তিব্বতে, তিব্বতের বিভিন্ন শহরে, গুম্ফায় তার কি কি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো। তারপর সেই দলকে ছেড়ে একা একাই হিন্দুদের পবিত্র তীর্থ কৈলাস পর্বত আর মানস সরোবর ঘুরে এলেন তা নিয়েই এই বই।কৈলাস আর মানস সরোবরকেই লেখক অভিহিত করেছেন মহাতীর্থ হিসেবে, তিব্বতে চীন অধিকারের পর এরপর দীর্ঘদিন ভারত থেকে তিব্বতে তীর্থযাত্রী যাওয়া বন্ধ ছিলো বলে তিনি নিজেকে অভিহিত করেছেন মহাতীর্থের শেষ যাত্রী হিসেবে। কৈলাশ পর্বতশৃঙ্গ আর মানস সরোবর দুটোই হিন্দুদের জন্য মহা পবিত্র স্থান। কৈলাসে শিব আর পার্বতী বাস করেন বলে পুরাণে উল্লেখ আছে। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে কৈলাস আর মানস সরোবর উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। প্রতি বছর ভারত থেকে প্রচুর তীর্থযাত্রী এই দুটি তীর্থ দর্শনে যেতেন। বৌদ্ধদের কাছেও এই দুটো তীর্থ সম্মানীয় হলেও তাদের কাছে বেশি পবিত্র তিব্বতের রাজধানী লাসায় দালাই লামার পোতলা প্রাসাদটি এবং আরও অনেক বৌদ্ধ মন্দির বা গুম্ফা। ভারত থেকে তিব্বতে তীর্থযাত্রীরা যেতেন মূলত আলমোড়া থেকে গার্বিয়াং হয়ে লিপুলেখ পাস হয়ে তিব্বতের তাকলাকোটের পথে। কিন্তু বিমল দে’রা পাড়ি দিয়েছেন অন্য পথে, গ্যাংটক হয়ে। তীর্থযাত্রীর দলটি ছিলো মূলত নেপালের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের।ভারত হতে চীনে তখন তীর্থযাত্রী যাতায়াত বন্ধ ছিলো। নেপাল থেকে তীর্থযাত্রী যাওয়ার ব্যাপারে এই নিষেধাজ্ঞা ছিলো না।বিমল দে কেও নেপালী বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হিসেবে তীর্থযাত্রীর দলে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। চীন যদিও তখন তিব্বতের শাসনযন্ত্র পুরোপুরি দখল করে নি, তবুও মোটামুটি পুরো শাসন ব্যবস্থা ছিলো চীনের দখলেই। অনেক সন্দেহ, সাক্ষাতকার এর মুখোমুখি হয়েও কোনক্রমে বিমল তিব্বতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার বৌদ্ধ সন্ন্যাসী গুরুদেব এর বুদ্ধিমতো তিনি ছিলেন মৌনী সন্ন্যাসীর ভূমিকায়, অর্থাৎ যে সন্ন্যাসী নিজ গুরু বা অন্য কোন বড় লামার সামনে ছাড়া মুখ খোলেন না। পরে অবশ্য তাকে একটি বৌদ্ধ গুম্ফায় বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষাও দেয়া হয়, তিনি পরিচিত হন একজন শিক্ষার্থী সন্ন্যাসী বা ত্রাপা হিসেবে। তারপর তিব্বতের নানা শহরে, গ্রামে গুম্ফায় ঘুরে তারা পাড়ি দেন রাজধানী লাসায়। সেখানে কয়েকদিন কাটিয়ে সন্ন্যাসীদলটি ফেরার পথ ধরে। তিব্বতের প্রধান লামা মূলত দালাই লামা, তখনও পর্যন্ত তিব্বতের বেশিরভাগ অংশের শাসনযন্ত্রের ভার ছিলো দালাই লামার হাতে, যদিও চীন তখনই তিব্বতের শাসন ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে। আর পাঞ্চেন লামার অধীনে ছিলো গীয়াৎসে, সীয়াৎসে প্রভৃতি শহর ও এলাকা। এই দুই প্রধান লামা ও তিব্বতের আরও অনেক প্রধান লামার নির্বাচন পদ্ধতি অভিনব, তিব্বতিদের বিশ্বাস এনারা বারবার পুর্নজন্ম নেন তিব্বতে, কখনো মৃত্যুর পূর্বে ভূতপূর্ব লামা বলে যান তিনি এরপর কোথায় জন্মাবেন অথবা তার মৃত্যুর পর অন্য লামারা খুঁজে বের করেন কোথায় তার পুর্নজন্ম হলো, এটা করতে করতে বেশ কয়েকবছরও চলে যেতে পারে। তিব্বতের চতুর্দশ দালাই লামা তখন ছিলেন বিশ বাইশ বছরের তরুণ, অন্য প্রধান লামারা তাকে শাসনকাজে সহায়তা করতেন। লাসায় তার রাজপ্রাসাদ পোতলা কিংবা গ্রীষ্মাবাসে গিয়ে একাধিকবার তাকে দেখার সুযোগ কিশোর বিমলের হয়, যদিও কথা হয় নি। পরবর্তীতে পাঞ্চেন লামার দেখাও পান তিনি। দালাই লামা ১৯৫৮ সালে সদলবলে ভারতে পালিয়ে আসেন। সঙ্গী তীর্থযাত্রীদের যাত্রা শেষ হলেও বিমল একাই পাড়ি দেন কৈলাস আর মানস সরোবরের পথে। পথে দেখা পান তীব্বতী এক বিচিত্র ওঝা বা যাদুকরের, এক জ্ঞানী বৃদ্ধের আর শেষে এক ভারতীয় হিন্দু সন্ন্যাসী এমনি অনেক মানুষের। বিশেষত ভারতীয় হিন্দু সন্ন্যাসীটি তার মতে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং তার নিরাপদে কৈলাস ও মানস সরোবর ভ্রমণ ও ভারতে ফিরে আসার পিছনে এনার যথেষ্ঠ ভূমিকা আছে। কিভাবে অনেক বিপদের মুখেও অসমসাহসী বিমল সেই দুর্গম পথে বৈরী আবহাওয়ার তিব্বতে তার যাত্রা শেষ করেন তার বর্ণনা আছে এই বইয়ে। তিব্বতের ইতিহাস, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানুষ নিয়ে অনেক বিশদ বিবরণ পাওয়া যাবে এই বইয়ে যা আগের কোন কৈলাস ভ্রমণ কাহিনীতে পাই নি। বইয়ের পরিশিষ্টে লেখক ২০০০ সালে তার লাসা ভ্রমণের বর্ণনা লিখেছেন, সেই ১৯৫৬ সালের লাসা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমানে চীন সরকারের সাথে যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়ে ভারত থেকে তীর্থযাত্রীরা কৈলাস ও মানসে যেতে পারে এটাও ঠিক কিন্তু বর্তমানের ভ্রমণ কাহিনীতে তিব্বতের এতো বিশদ বিবরণ পাওয়া যাবে না যা আছে মহাতীর্থের শেষ যাত্রী বইটিতে। তিব্বত ভ্রমণ নিয়ে আমার পড়া সবচেয়ে বিশদ ও তথ্যবহুল বই এটি।
Profile Image for SH Sanowar.
118 reviews29 followers
January 5, 2024
সাধারণত ভ্রমণ করার চেয়ে ভ্রমণকাহিনী পড়াতেই আমার বেশি আনন্দ। এর কারণ বোধহয় দুটো। এক, ছোটবেলা থেকে আমি ঘরকুনো মান���ষ। নিজের রুমের মধ্যেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, বাইরে বলতে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে সান্ধ্য আড্ডা। দুই, অন্যের মুখে ঝাল খাওয়ার সুবিধা এই যে এতে রস থেকে বঞ্চিত হতে হয় না, অথচ রসনাও লাঞ্চিত হয় না! দুধের স্বাদ ঘুলে মিটানো!? হয়তোবা। তবে, অন্যের ভ্রমণকাহিনীতে আমরা ততটুকুই পাই, যা হৃদয়গ্রাহী, যা পড়ে আমাদের চিত্ত চঞ্চল হয়ে উঠে। দীর্ঘ নিঃসীম ক্লান্তিকর জার্নিটা আমাদের ভোগ করতে হয় না, ভ্রমণ শেষে সাতদিনের যে সর্দি কাশি ও গা মেড়মেড়ে ব্যাথা-তাও না! সেই হিসেবে বিমল দে'র "মহাতীর্থের শেষ যাত্রী" নিছক কোনো ভ্রমণকাহিনী নয়। ঘর পালানো এক কিশোরের অভিযানের গল্প। বিমুগ্ধ দৃষ্টিতে সৌন্দর্য আবিষ্কারের গল্প। জগতের সব হিংসা, দ্বেষ, হানাহানি থেকে অনেক অনেক দূরে, যাদের হৃদয়ে অপরিসীম ভক্তি ও অদ্ভুত এক সারল্য আছে তাদের গল্প শুনিয়েছেন আমাদের। (বইটার মাঝখানের অংশে বিরক্ত হয়েছি। পড়ার সময় মনোযোগ বিঘ্নিত হয়েছে দুয়েকবার। তার কারণ বোধহয় বিমল দে'র একই কথা, একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি।) পেজা তুলোর মতোন জমাট সাদা মেঘগুলি যখন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছিল কিংবা প্রথমবার কাঞ্চনজঙ্ঘা, লাসা ও কৈলাসনাথ দেখার পর তার সৌন্দর্য যেভাবে বিমূর্ত, বাকরহিত ও অভিভূত করে ফেলছিল লেখককে— তা আমিও উপলব্ধি করেছি। আবার, টানা একদিন দুইরাত হাঁটার পর উনুনের পাশে সামান্য আশ্রয়ে যেভাবে টলে পড়েছিল, কম্বল মুড়ি দিয়ে সমস্ত অবসাদে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল— পড়তে পড়তে আমিও বই বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েছি। ক্লান্তিতে, অবসাদে। ছোটবেলায় এই বই পড়লে কতটা বুঝতাম জানিনা, কিন্তু এটা জানি আমি হয়তো অনেকবারই ঘর ছেড়ে পালাতাম।
Profile Image for Kazi.
159 reviews20 followers
April 29, 2021
সেই ১৯৫৬ সালে চীন যখন মাত্রই তিব্বতে ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে, সেই সময় এক বাঙালি কিশোর নেপালী সাধুদের অভিযাত্রী দলের সাথে সিকিম হয়ে তিব্বতে ঢুকে দেখে আসলো দেশটাকে। পায়ে হেঁটে গ্যাংটক থেকে লাসা, লাসা থেকে সাংপোর পাড় ধরে মানস সরোবর, এরপর আবার সেখান থেকে ভারতে প্রবেশ- পুরো সময়টার বর্ণনা পড়লে রুক্ষ সুন্দর প্রকৃতির কোলে তিব্বতবাসীদের শান্ত নিস্তরঙ্গ জীবনের সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়, যে জীবনে ওতপ্রেতভাবে জড়িয়ে আছে ধর্ম আর তন্ত্রমন্ত্র।
Profile Image for Habib.
43 reviews1 follower
May 13, 2025
বিস্তারিত ভ্রমণ সাহিত্য!
সত্যিই অনন্য।

দুই দিন আগে শেষ হয়েছে পড়া, কিন্তু এখনো মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। মনে হচ্ছিলো আমিই তিব্বতের আনাছে কানাছে ঘুরছি। চোখের সামনে স্পষ্ট তিব্বত দেখতে পাচ্ছি। আহ!
ভ্রমণ সাহিত্যেরর পাশাপাশি কিছু কিছু দার্শনিক মতবাদ আমাকে বেশ আকৃষ্ট করেছে। লেখককে অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ।
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews3 followers
November 1, 2025
বই: মহাতীর্থের শেষ যাত্রী
লেখক: বিমল দে
প্রকাশনী: দে পাবলিকেশনস
মূল্য: ৫২৫ রূপী

লাসায় পোতালা প্রাসাদের (তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দলাই লামার বাসস্থান) মধ্যভাগে রয়েছে ৩৫টি ছোট ছোট মন্দির। যার মধ্যে অসংখ্য সমাধির বেদী, মূর্তি নির্ভেজাল সোনার তৈরী। ১ টন স্বর্ন দিয়ে শুধুমাত্র ত্রয়োদশ দালাই লামার বেদী ও মূর্তিটা তৈরী।

আজকের তারিখে ১ ভরি স্বর্নের দাম ২০০,০৯৬ টাকা। ১ টন = ৮৫৭৬৩.২৯ ভরি। তাহলে, মূতিটার মূল্য দাঁড়ায় (এন্টিক মূল্য বাদ দিয়েই) ৮৫৭৬৩.২৯ * ২০০,০৯৬ = ১৬,৯৬০,৭৯৫,২৭৫.৮ টাকা।

যাক, আদার ব্যাপারী জাহাজের আলাপ করে লাভ নেই। প্রেমাঙ্কুর আতর্থীর "মহাস্থরিব জাতক" পড়ার পরে ছিল অসম্ভব তৃষ্ণা এবং একটি প্রশ্ন যে, এরূপ বই আর কি পাবো? বিমল দে এর "মহাতীর্থের শেষ যাত্রী" আমার সেই তৃষ্ণার অনেকটাই মিটিয়েছে। পার্থক্য করতে গেলে হয়তো ১৮/২০ হবে - যদিও মহাস্থবির জাতক আমার কাছে একটু এগিয়ে থাকবে পারসোনাল চয়েসে। কিন্ত সময় এবং মুডের উপর ডিপেন্ড করে "মশেযা" ও সেটাকে টপকে যেতে পারে।

যে স্বর্নের মূল্যের অবান্তর আলাপ দিয়ে শুরু করেছিলাম লেখা - "মশেযা" কোন অংশেই সেই স্বর্ণের মূল্যর থেকে কম না; বরং এর স্বর্নালী আভা, এর মূল্য লেখকের অসাধারন যাত্রা, তার বর্ননা এবং বইয়ের বিষয়বস্তুতে। এই বইয়ের প্রতিটা অক্ষর সেই স্বর্নের স্বরূপ, যার রঙ কালো; সোনালী না। স্বর্নালী আভাটা ধরা পড়তে অনুভবে। উপভোগে। এবং তৃপ্তিতে।

এই বইয়ের আলাদা করে রিভিউয়ের কোন প্রয়োজনও নেই। বইয়ের প্রতি একটাই অভিযোগ, ৪০০ পাতা না হয়ে ১৪০০ পাতা যদি হতো! যদি মাসের পর মাস বসে থাকা যেত এমন একটা জার্নির শাব্দিক ভ্রমনে - ক্লান্তি আসতো না একবিন্দুও।
তাই আলাপ আর না বাড়িয়ে বইয়ের মধ্য থেকে অসংখ্য উজ্জ্বল অংশের একটা ছোট অংশ তুলে ধরে শেষ করি।

["দালাই লামা" অধ্যায় থেকে]

দালাই লামা অমর তিনি এ পৃথিবীতে কর্ম করেও করেন না, তিনি স্বয়ং বুদ্ধাবতার। তাই তিনি প্রজাপালনের জন্য বার বার জন্ম নেন। দালাই লামা তিব্বতের প্রধান পুরোহিত এবং শাসক। তিনি একাই সমস্ত তিব্বতের মালিক। তিনি মানুষরূপে সাক্ষাৎ দেবতা। পঞ্চম লামার আমল থেকেই অর্থাৎ ১৬৪১ খৃঃ থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে।

দালাই লামার মৃত্যুর পর তাঁর আত্মা যে কোন একটি পবিত্র বংশে জন্মগ্রহণ করে। তিনিই যে আদি দালাই লামা তার বহু প্রমাণ এই নতুন শিশুকে দিতে হয়। সাধারণতঃ মৃত্যুর পূর্বে বৃদ্ধ দালাই লামা তার পারিপার্শ্বিক অতি নিকট জনদের কাছে বলেন যে তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন। সরাসরি না বলে তিনি অনেক সময় পরোক্ষভাবে তাঁর অভিপ্রায় জানিয়ে দেন। তাতে ভবিষ্যৎ দালাই লামাকে খুঁজে বার করতে সুবিধা হয়। তবে এই ব্যাপারটা খুবই জটিল-মৃত্যু শয্যায় অথবা বৃদ্ধ দালাই লামাকে কেউ সাহস করে জিজ্ঞাসা করতে পারে না তাঁর ভবিষ্যৎ জন্ম কোথায় হবে বলে। অনেকের মতে তাতে তিনি ভাবতে পারেন যে তাঁর উপস্থিতি হয়তো এরা আর চায় না। যে কোন কারণেই হোক তিনি যদি মৃত্যুর পূর্বে তার পরবর্তী জন্মস্থানে ঠিকানা না দিয়ে থাকেন তাহলে দেশের অগণিত নতুন শিশুদের মধ্যে মহামান্য দালাই লামা কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন বা করবেন তার দায়িত্ব পড়ে দেশের বিজ্ঞ লামা ও গণতকারদের উপরে। অবশ্য তিব্বতে শুধু দালাই লামাই নন, উচ্চ পর্যায়ের বহু লামাই এই ধরনের পুনর্জন্ম নিয়ে থাকেন।

দালাই লামার মৃত্যুর পর নবজাত দালাই লামাকে খুঁজে বার করবাার দায়িত্ব পড়ে প্রধানতঃ রাজ্যের মন্ত্রী ও তিন গুম্ফার প্রধান পুরোহিতদের উপর। তিন গুম্ফার (দ্রেপুং, সেরা, গান্দেন) পুরোহিতরা একত্র মিলিত হয়ে রাজ্যের সেরা গণৎকারদের সাথে পরামর্শ করেন। দালাই লামার মৃত্যুক্ষণ ও আবহাওয়া বিচার করে গণৎকাররা বিরাট পুজার্চনা করে ধ্যানে বসেন। সেই ধ্যানে বসে অথবা দৈববাণীর মাধ্যমে অথবা স্বপ্নে তার ভবিষ্যৎ দালাই লামা কোথায় জন্ম নিচ্ছেন তা জানতে পারেন। রাজ্যের মুখ্য গণৎকার সেই গুপ্ত সংবাদটি জানান রাজ্যের মন্ত্রী ও তিন গুম্ফার প্রধানদের। মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী এই সময় স্থাপিত হয় অনুসন্ধান সমিতি। রাজ্যের সেরা লামাগণ নিয়োজিত হন এই অনুসন্ধান সমিতিতে। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে গণৎকারের নির্দেশানুযায়ী ছড়িয়ে পড়েন সম্পূর্ণ তিব্বতে। এই ভাবেই শুর��� হয় দালাই লামার মৃত্যুর পর তাঁর নবজন্মের সন্ধান।

মন্ত্রীপরিষদ দালাই লামার সিংহাসনকে উপলক্ষ্য করে তাঁর প্রতিনিধি হয়ে এই রাজ্য শাসন করতে থাকেন। সামিয়ে গুম্ফার গণৎকার ও জ্যোতিষিদের নাম সর্বত্র বিদিত। তারা নবজাতক দেহে কোন কোন চিহ্ন নিয়ে জন্মগ্রহণ করবেন সেটা পর্যন্ত নিখুঁতভাবে বলে দিতে পারেন। দালাই লামা পুরোনো দেহ ছেড়ে আত্মা কোন পথে কোথায় গিয়ে আবার নতুন দেহ ধারণ করেছেন তা সামিয়ে গুম্ফার জ্যোতিষিরা ভালোভাবে লক্ষ্য করে থাকেন। তান্ত্রিক সাধুরাও এ বিষয়ে খুব বিজ্ঞ। লাসার প্রধান গণৎকারের নাম নেচুং। নবজাতক প্রাক্তন দালাই লামার অনেক চিহ্ন ও স্বভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। যেমন, পায়ে ব্যাঘ্র-চর্মের চিহ্ন, চক্ষু ও ভূ উপরের দিকে টানা, কান দুটো সাধারণ শিশুর কানের থেকে অনেক বড়, কাঁধে তীর চিহ্ন, হাতের মধ্যে শঙ্খ অথবা বজ্র চিহ্ন। প্রত্যেক দালাই লামার দেহে এই সবগুলো চিহ্ন না থাকলেও এরকম তিন চারটে চিহ্ন পাওয়া যাবেই।

নবজাতক শিশুর দেহে এইসব চিহ্ন ও তার স্বভাব-চরিত্র যাচাই করে যখন বোঝা যাবে যে সে-ই দালাই লামার উপযোগী তখন প্রাক্তন দালাই লামার ব্যবহৃত কিছু জিনসপত্রের সাথে অন্যান্য লোকের জিনিসপত্র মিশিয়ে শিশুর সামনে ধরা হয়। শিশুটি সাধারণতঃ ঠিক মতোই দালাই লামার জিনিসপত্রে হাত দেয়, অন্যান্য জিনিসে সে মোটেই উৎসাহ দেখায় না। শিশু ত্রয়োদশ দালাই লামা বেছে নিয়েছিলেন বজ্র। শিশুকে যখন প্রাসাদে আনা হয় তখন সে অনায়াসে তার জিনিসপত্রগুলো দেখে চিনতে পারে। চার-পাঁচ বছরের শিশু হলেও সে অনেক সময় তার প্রিয় ধর্মগ্রন্থটি বেছে নিয়ে পড়তে শুরু করে। এইসব প্রমাণের পর আর কিছুতেই সন্দেহ থাকে না যে এই শিশুটির মাধ্যমেই আসল দালাই লামার পুনর্জন্ম হয়েছে। এবার আসা যাক বর্তমান অর্থাৎ চতুর্দশ দালাই লামা কিভাবে মনোনীত হয়েছেন সেই গল্পে। ঘটনাটা বর্তমান জগতের বিজ্ঞানীদের কাছে অদ্ভুত শোনাবে। বিজ্ঞানীরা আধ্যাত্মিক জগতের কার্য-কারণ জানেন না। তাই তাদের যান্ত্রিক বিদ্যার মধ্যে এই ঘটনাকে এনে যাচাই করবার ক্ষমতা তাদের নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটা সত্য।
Profile Image for Taru.
1 review2 followers
April 15, 2012
A must read!!!
4 reviews1 follower
April 24, 2020
Author Bimal Dey had created a clear picture of ancient Tibbe, surrounded by mighty Himalaya, full of mythology and ministry. I had a long-cherished dream of visiting Tibbrt, reading the books it feels like I am seeing Tibbet. The storytelling skill of the author is truly amazing. On negative sites, it seems the description goes a little faster after reaching Lhasa. In the last part the author also added a modern picture of Tibbet which kind of breaks the expectation of me. I was expecting to see the mystic Tibbet with my own eyes which is not possible due to geopolitical issues. However, I think readers can have the taste of true Tibbet by reading this book.
Profile Image for Noor Kutub.
39 reviews
June 13, 2024
আমি একটু বেশি ভ্রমণ আর একটু কম রিলিজিয়াস কথাবার্তা আশা করছিলাম, যদিও বইয়ের নামেই 'মহাতীর্থ' আছে।
Profile Image for Tanvir Rahman.
19 reviews1 follower
August 29, 2024
তিব্বত নিয়ে জানার জন্য অসাধারণ একটা বই।
Profile Image for Rafiqunnabi Nayan.
10 reviews
August 9, 2021
গত একটি মাস মোহাবিষ্ট হয়ে পড়ে ফেললাম। এই বই কোন সাধারণ ভ্রমণ কাহিনী নয়, ১৬ বছর বয়েসে ঘর থেকে পালানো এক কিশোরের সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে ভারত থেকে তিব্বত ঘুরে আসার রোমাঞ্চকর এডভেঞ্চার। আবার প্রচলিত এডভেঞ্চার বলতে আমরা যা বুঝি সেরকম কিছুও নয়। এখানে আছে একদল বৌদ্ধ লামার সাথে অত্যন্ত দূর্গম পথে ঘুরে ঘুরে বেড়ানো, তাদের জীবনাদর্শনের নিখুঁত বর্ণনা, লেখকের দর্শন, তৎকালীন তিব্বতের সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, জীবনধারা ও প্রকৃতির বর্ণণা। একরাতের জন্যও হোটেলে থাকেন নি, অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছেন। কখনো চায়ের দোকানে, রাস্তার পাশের ভাঙা পরিত্যক্ত ঘরে, প্রার্থনালয়ে থেকেছেন আবার কখনো রাত কাটানোর জায়গা না পেয়ে সারারাত হেঁটেছেন। প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে মিশেছেন, কাছ থেকে দেখেছেন তাদের জীবন আর তাই চমৎকার ভাবে তুলে এনেছেন এই বইয়ের পাতায় পাতায়।

এত কিছু বিষয় চমৎকার গল্পের মতো অতি প্রাঞ্জল ভাষায় লেখক বলে গেছেন - পড়তে পড়তে পাঠক মনেও পরিস্কার ভেসে উঠবে প্রতিটি বর্ণনা, মনে হবে বইয়ের পাতায় নয়, নিজ চোখেই তিব্বতকে দেখে নিলাম, অনুভব করলাম এর অপরূপ সৌন্দর্য।

যদিও রিভিও দিচ্ছি ইংরেজী বইয়ের, তবে আমি বাংলা বইটাই পড়েছি।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.