বাঙালি গল্প শুনতে আর পড়তে ভালোবাসে, সে গল্পে পদ্মা কি গঙ্গার ছোঁয়া থাকুক বা নাই-থাকুক| লালমাটির দেশ বীরভূমের সংস্থা “বিভা পাবলিকেশন” সেই ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে এই বইটি প্রকাশ করেছেন বলে তাঁদের ধন্যবাদ জানাই| আজকের একঝাঁক উদীয়মান গল্পকার-এর ছোট্ট-গল্পের সংকলন এই বইটি হাতে নিয়েই মন ভালো হয়ে গেছিলো| বইটি সুমুদ্রিত, তবে বেশ কিছু বানান-ভুল চোখের পক্ষে বড্ড পীড়াদায়ক লেগেছে| সুচিপত্রে গল্পের নামের পাশে লেখকের নাম নেই; আর লেখক-পরিচিতি বলেও কিচ্ছু নেই, যার ফলে কোনো লেখকের লেখা ভালো লাগলে তাঁদের অন্য লেখার খোঁজ করারও উপায় নেই| ভবিষ্যতে সম্পাদকের তরফে এব্যাপারে আর একটু মনোযোগ এবং শ্রমের আশা রাখি| বইটিতে যেসব গল্প আছে, সেগুলো হলো: - 1. মিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা “রাস্তা”: একটা সহজ (এবং পূর্ণতার পথে কিছুদূর হেঁটে পথ হারানো) প্রেমের গল্প, তবে এতো বেশি আধুনিক কবিতা-ধর্মী ভাষায় লেখা যে শেষে পুরো ব্যাপারটা “ছড়িয়ে লাট” হয়েছে| 2. ডা: সুরাইয়া হেলেন-এর লেখা “জনম জনম তব তরে কাঁদিব”: গল্প নিয়ে কিচ্ছু লিখবো না| এই লেখিকার আরও গল্প ভীষণ-ভীষণ-ভীষণভাবে পড়তে চাই| “কোথায় পাবো তারে”? 3. ঐশিকা বসু-র “এক্সিডেন্ট”: দুঃখ-বিলাসী এবং বেকার গ্যাদগ্যাদানি, যা না লেখা হলেও কারও বিন্দুমাত্র ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না| 4. প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়-এর “স্মৃতিটুকু থাক”: পাকা হাতের পাকা লেখা, যা বেদনাদায়ক সত্যকেও পরম রমণীয় আকারে পেশ করেছে| সেলাম হে লেখক| 5. বীরবাহু সাহা-র “পাগলা”: এ গল্প যে কেন লেখা হলো সেটাই বুঝতে পারছি না| এর তুলনায় আজ থেকে বছর ত্রিশেক আগে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়-এর দ্বারা লিখিত (এবং এখনও বাজারে অতি সহজলভ্য) “রসেবশে”-র যেকোনো একটা লেখা পড়ে নিলেই লেখক অনেক বেশি তৃপ্তি পেতেন| আমরাও রেহাই পেতাম| 6. নাসরিন সুলতানা-র “নিয়তি”: নেহাত সাদামাটা একটা হ্যাপি-এন্ডিং গল্প, তার থেকেও বেশি সাদামাটাভাবে লেখা| ‘সাগরিকা’ আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগেই তো এই গল্প অনেক-অনেক ভালোভাবে বলে গেছে! 7. সমীরণ সরকার-এর “অনেক পরীক্ষা পেরিয়ে”: আবার একটি হ্যাপি-এন্ডিং গল্প, তবে এবারেরটায় মাল-মশলা কিছু বেশি (বাংলা সিনেমা থেকে শরদিন্দু, কিছুই বাদ যায় নি), লেখার বাঁধুনি আর হপ-স্টেপ ব্যাপারটাও বেশ মনোরম| এনার লেখা আরও পড়ার বাসনা রইলো| 8. ঐশিকা বসু-র (হ্যাঁ, আবার-আবার সেই কামানগর্জন-এর মতো ইনি আবার এসেছেন) “বিতৃষ্ণিত”: আর কিছু লিখবো না, তবে জানতে ইচ্ছে করছে যে এই লেখিকা ঠিক কে? 9. বীরবাহু সাহা-র “পেরজাপতি”: এই লেখক কিন্তু দ্বিতীয় বার পাওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করে একটি নিটোল এবং সুলিখিত-সংযত গল্প আমাদের উপহার দিয়েছেন| আরও লিখুন| 10. নয়ন রহমান-এর “স্বপ্নের পথে যাত্রা”: আরও একটি সহজ গল্প, নিতান্ত সহজ ভাষায়, কিন্তু সংযত আকারে লেখা| আরও লিখুন| 11. দেবশ্রী ভট্টাচার্যের “উত্তরণ”: দারুণ! আরও লিখুন প্লিজ! 12. প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়-এর “শোধ”: মন ভারী হলেও যে অনেক সময় ভালো লাগে, একথা জীবন আমাদের প্রতিনিয়ত শেখায়| এই গল্পটা পড়ে ঠিক তেমনই লাগলো| আবারও সেলাম, হে লেখক| 13. প্রতনু ভট্টাচার্য-র “এক অন্য স্বাধীনতা”: ঈশ্বর! কোন পাপে এখনও এসব লেখা পড়তে হয়! 14. কার্তিক মুখোপাধ্যায়-এর “নদীর সাথে চলা”: এর আগের গল্পের প্রসঙ্গে লেখা মন্তব্যটাই যথেষ্ট| আর কিছু বলার নেই|
সামগ্রিক বিচারে এটুকুই বলবো যে প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়, সমীরণ সরকার, বীরবাহু সাহা (আশা আছে) এবং ডা: সুরাইয়া হেলেন-এর আরও লেখা খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হবো, আর বাকিদের থেকে দূ..উ..উ..রে থাকবো|
Merged review:
বাঙালি গল্প শুনতে আর পড়তে ভালোবাসে, সে গল্পে পদ্মা কি গঙ্গার ছোঁয়া থাকুক বা নাই-থাকুক| লালমাটির দেশ বীরভূমের সংস্থা “বিভা পাবলিকেশন” সেই ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়ে এই বইটি প্রকাশ করেছেন বলে তাঁদের ধন্যবাদ জানাই| আজকের একঝাঁক উদীয়মান গল্পকার-এর ছোট্ট-গল্পের সংকলন এই বইটি হাতে নিয়েই মন ভালো হয়ে গেছিলো| বইটি সুমুদ্রিত, তবে বেশ কিছু বানান-ভুল চোখের পক্ষে বড্ড পীড়াদায়ক লেগেছে| সুচিপত্রে গল্পের নামের পাশে লেখকের নাম নেই; আর লেখক-পরিচিতি বলেও কিচ্ছু নেই, যার ফলে কোনো লেখকের লেখা ভালো লাগলে তাঁদের অন্য লেখার খোঁজ করারও উপায় নেই| ভবিষ্যতে সম্পাদকের তরফে এব্যাপারে আর একটু মনোযোগ এবং শ্রমের আশা রাখি| বইটিতে যেসব গল্প আছে, সেগুলো হলো: - 1. মিঙ্কু চট্টোপাধ্যায়-এর লেখা “রাস্তা”: একটা সহজ (এবং পূর্ণতার পথে কিছুদূর হেঁটে পথ হারানো) প্রেমের গল্প, তবে এতো বেশি আধুনিক কবিতা-ধর্মী ভাষায় লেখা যে শেষে পুরো ব্যাপারটা “ছড়িয়ে লাট” হয়েছে| 2. ডা: সুরাইয়া হেলেন-এর লেখা “জনম জনম তব তরে কাঁদিব”: গল্প নিয়ে কিচ্ছু লিখবো না| এই লেখিকার আরও গল্প ভীষণ-ভীষণ-ভীষণভাবে পড়তে চাই| “কোথায় পাবো তারে”? 3. ঐশিকা বসু-র “এক্সিডেন্ট”: দুঃখ-বিলাসী এবং বেকার গ্যাদগ্যাদানি, যা না লেখা হলেও কারও বিন্দুমাত্র ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না| 4. প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়-এর “স্মৃতিটুকু থাক”: পাকা হাতের পাকা লেখা, যা বেদনাদায়ক সত্যকেও পরম রমণীয় আকারে পেশ করেছে| সেলাম হে লেখক| 5. বীরবাহু সাহা-র “পাগলা”: এ গল্প যে কেন লেখা হলো সেটাই বুঝতে পারছি না| এর তুলনায় আজ থেকে বছর ত্রিশেক আগে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়-এর দ্বারা লিখিত (এবং এখনও বাজারে অতি সহজলভ্য) “রসেবশে”-র যেকোনো একটা লেখা পড়ে নিলেই লেখক অনেক বেশি তৃপ্তি পেতেন| আমরাও রেহাই পেতাম| 6. নাসরিন সুলতানা-র “নিয়তি”: নেহাত সাদামাটা একটা হ্যাপি-এন্ডিং গল্প, তার থেকেও বেশি সাদামাটাভাবে লেখা| ‘সাগরিকা’ আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগেই তো এই গল্প অনেক-অনেক ভালোভাবে বলে গেছে! 7. সমীরণ সরকার-এর “অনেক পরীক্ষা পেরিয়ে”: আবার একটি হ্যাপি-এন্ডিং গল্প, তবে এবারেরটায় মাল-মশলা কিছু বেশি (বাংলা সিনেমা থেকে শরদিন্দু, কিছুই বাদ যায় নি), লেখার বাঁধুনি আর হপ-স্টেপ ব্যাপারটাও বেশ মনোরম| এনার লেখা আরও পড়ার বাসনা রইলো| 8. ঐশিকা বসু-র (হ্যাঁ, আবার-আবার সেই কামানগর্জন-এর মতো ইনি আবার এসেছেন) “বিতৃষ্ণিত”: আর কিছু লিখবো না, তবে জানতে ইচ্ছে করছে যে এই লেখিকা ঠিক কে? 9. বীরবাহু সাহা-র “পেরজাপতি”: এই লেখক কিন্তু দ্বিতীয় বার পাওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করে একটি নিটোল এবং সুলিখিত-সংযত গল্প আমাদের উপহার দিয়েছেন| আরও লিখুন| 10. নয়ন রহমান-এর “স্বপ্নের পথে যাত্রা”: আরও একটি সহজ গল্প, নিতান্ত সহজ ভাষায়, কিন্তু সংযত আকারে লেখা| আরও লিখুন| 11. দেবশ্রী ভট্টাচার্যের “উত্তরণ”: দারুণ! আরও লিখুন প্লিজ! 12. প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়-এর “শোধ”: মন ভারী হলেও যে অনেক সময় ভালো লাগে, একথা জীবন আমাদের প্রতিনিয়ত শেখায়| এই গল্পটা পড়ে ঠিক তেমনই লাগলো| আবারও সেলাম, হে লেখক| 13. প্রতনু ভট্টাচার্য-র “এক অন্য স্বাধীনতা”: ঈশ্বর! কোন পাপে এখনও এসব লেখা পড়তে হয়! 14. কার্তিক মুখোপাধ্যায়-এর “নদীর সাথে চলা”: এর আগের গল্পের প্রসঙ্গে লেখা মন্তব্যটাই যথেষ্ট| আর কিছু বলার নেই|
সামগ্রিক বিচারে এটুকুই বলবো যে প্রসেনজিত বন্দোপাধ্যায়, সমীরণ সরকার, বীরবাহু সাহা (আশা আছে) এবং ডা: সুরাইয়া হেলেন-এর আরও লেখা খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হবো, আর বাকিদের থেকে দূ..উ..উ..রে থাকবো|
My review is solely based on the stories by Prosenjit Bandyopadhyay in this book. Both his stories, "Smrituku Thak" and "Shodh" are poles apart from each other. "Smrituku Thak" is of comedic genre and a real fun to read. I specially loved the author's choice of name of the central character, the detailed characterization and the family dynamics in the story. In brief, its a smart, witty and humourous piece of writing.
"Shodh" is a must read for all dog lovers out there. This is a great heartwarming as well as a heartbreaking tale. The narration was exceptionally good again. This story again brings out the difference between man and animals. I recommend this to anyone who needs to think about the simple happiness in life and for anyone who has ever had a fuzzy friend that has changed and enhanced their lives.