Jump to ratings and reviews
Rate this book

আমার স্বামী ওয়ালী

Rate this book
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর স্ত্রী আন মারি ওয়ালিউল্লাহ ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে খুবই অন্তরঙ্গ একটি ছবি এঁকেছেন এই বইয়ে। ওয়ালীউল্লাহর ব্যক্তিজীবন, তাঁর রুচি, পাঠপরিধি, তাঁর চিত্রকর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, সর্বোপরি তাঁর সংবেদনশীল মন সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেয় এ বই। আন মারি এই লেখাটি লিখেছিলেন ওয়ালীউল্লাহর একটি সম্ভাব্য ইংরেজি রচনাবলির ভূমিকা হিসেবে যেটি পরবর্তীতে প্রকাশিত হয়নি।

72 pages, Hardcover

First published December 1, 2012

Loading...
Loading...

About the author

Anne Marie Waliullah

3 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
15 (20%)
4 stars
41 (55%)
3 stars
16 (21%)
2 stars
1 (1%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 23 of 23 reviews
Profile Image for Yeasin Reza.
531 reviews94 followers
March 22, 2022
ওয়ালীউল্লাহ মানুষটির প্রতি একধরণের বিস্ময়বোধ সৃষ্টি হলো সেইসাথে শ্রদ্ধা তো অবশ্যই । আন মারি খুব আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওয়ালীউল্লাহ নামক অপূর্ব লেখক তো বটে, মানুষটির সাথে ও পরিচয় করিয়ে দেন। সেই পরিচয়ের রেশ মনে গভীর দাগ কাটবে।মানুষটি কে খুব আপন মনে হবে যদিও তার ব্যক্তিত্ব সুদূর নক্ষত্রের মতো অভিজাত এবং জ্বলজ্বলে। বইটি এত ছোট্ট ক্যান🙁 ওয়ালীউল্লাহর আকাশের মতোন বিশাল ব্যক্তিত্বের সামান্যতমই আমরা জেনেছি তবু ভাগ্যিস এতটুকু অন্তত যে উনি লিখেছিলেন!
Profile Image for নিশাত জাহান ঊষা.
67 reviews32 followers
July 21, 2025
গুণবান পতিদেবের গুণমুগ্ধ পত্নির অসাধারণ রচনা। আমি গুণহীন পাঠক, পড়া শুরু করে পড়েই গেলাম। কী ভালো লাগলো। যদিও অনুবাদের মান আরেকটু ভালো হলে ভালো হত। সাবলীল, প্রাঞ্জল শব্দগুলো এড়িয়ে কিছু কিছু জায়গায় কাঠখোট্টা আক্ষরিক শব্দের ব্যবহার পড়ার গতি কমিয়েছিলো শুরুর দিকে তবে ধীরে ধীরে তা অনেকটাই কমে এসেছিলো পরের পাতা গুলোয়।

প্রথম যখন লালসালু পড়লাম, শেষ করে আবার পড়েছিলাম। আমার নিজ চোখে দেখা অনেক মজিদ আছে। অনেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল। লোকজনে তাদের নম-নম করে। আর তারা সে কী ডাঁটে ভণ্ডামি চালিয়ে যায়। যারা ভণ্ডামী বুঝে, তারাও কিছু বলতে পারেনা। শক্তি কই? ওয়ালী উল্লাহর ছিলো সে শক্তি। তিনি লিখেছেন।

চাঁদের অমাবস্যা পড়ে জায়গীর থাকা গ্রাম্য শিক্ষক আরেফ এর জন্য বুক চিরে হা-হুতাশ এসেছিলো। কী করবে বেচারা এখন? তার বিপদে আমি নিজে নিদারুণ পীড়ায় ভুগলাম!!

চরিত্রগুলো কী নিখুঁত, যেন ছাঁচে ঢেলে গড়া। 

লেখক নিজে ছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার হাই অফিশিয়াল। উঠা বসা, চলা ফেরা সব উঁচু লোকেদের সঙ্গে এদেশ, বিদেশ জুড়ে। অথচ কী সাবলীলতায় এঁকে ফেলেন বাংলার অজপাড়াগাঁয়ের কোন ভন্ড পীরের ভন্ডামী বা অসহায় দরিদ্র স্কুল মাস্টারের উচাটন। তিনি একই সাথে জ্ঞানী এবং গুণী এ তো জানা কথা।

লেখকের স্ত্রী, আন মারি ওয়ালীউল্লাহ্, কম নন কোন আংশেই। কী ভালোবেসে লিখেছেন প্রতিটা লাইন। কী সুন্দরভাবে প্রেইজ করেছেন স্বামীর দেশপ্রেম-

"বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি খুশি হতো। অথচ বাংলাদেশের জন্মের মাত্র দুইমাস আগে ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়!"

একটা মাত্র লাইনে কী বিষাদ ভরা, না?


জাত-পাত-ধর্মের উর্ধ্বে যেয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবেই বিচার করতেন ওয়ালীউল্লাহ্! ট্রেনে পরিচিতার বাসায় খাবার ঘটনাটা লিখে কী সুন্দর করে বুঝালেন সেটা। কতবার উল্লেখ করেছেন তিনি স্বামীর জ্ঞানের বহরে মুগ্ধ ছিলেন কী পরিমান। কী ভালোবাসলে এতো সুন্দর করে বলা যায়? প্রতিটা লাইনে নিজের প্রিয় মানুষটার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ঠেসে ঠেসে ভরা! অনেক বেশি সুন্দর একটা বই।❤️


মূল বইটা কী ভাষায় লেখা? ইংরেজি? নাকি অন্য কোন ভাষা? ইংরেজি হলে মূল বইটা সংগ্রহ করে ফেলবো অবশ্যই।
Profile Image for তান জীম.
Author 5 books292 followers
January 12, 2022
এত দারুণ বইটা কেন আমি এতদিন পড়িনি ভেবে আফসোস হচ্ছে। তবে সেই সাথে আনন্দও হচ্ছে, বইটা আমি পড়ে ফেলেছি বলে।

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে বইটা কোন প্রেম-বিরহের উপন্যাস নয়। বইটা হতে পারে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ফরাসি স্ত্রী অ্যান ম্যারি ওয়ালীউল্লাহর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থনের কথা মালা।

প্রিয় পাঠক, আপনি যদি বইটিকে শুধুই স্মৃতিমালা ভেবে থাকেন, তবে নিঃসন্দেহে আপনি ভুল করছেন। এটা ওয়ালীউল্লাহর সাথে তার স্ত্রীর আটপৌড়ে কোন সংসারের কথন নয়। হ্যাঁ, এখানে উঠে এসেছে ওয়ালীউল্লাহ দম্পতির সংসারের কথা। তবে সেই সংসারের আসবাবপত্রের ডিজাইন করতে চাওয়া সৃষ্টিশীল ওয়ালিউল্লাহর মানসিকতাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। প্রাধান্য পেয়েছে স্বদেশের বহু দূরে থেকেও একজন স্বদেশপ্রেমী মানুষের মনের আকুলতা, জ্ঞানী প্রজ্ঞাময় একজন মানুষের মানবজাতি নিয়ে চিন্তাভাবনার গ্রাফ। বইয়ের নাম 'আমার স্বামী ওয়ালী' হলেও এখানে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আসলে স্বামী হিসেবে চিত্রিত হননি, হয়েছেন একজন সৃষ্টিশীল, প্রজ্ঞাময়, চিন্তাভাবনায় স্মার্ট মানুষ হিসেবে। তাইতো তিনি লিখতে পেরেছেন, 'আমি তাদের (গ্রামের মানুষ) গোটা জীবন বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে পারি, আর সেটা পারি আমি গ্রামের মানুষ নই এবং গ্রামে বসবাস করি না বলে'।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে আমরা চিনি 'লালসালু'র মত বিখ্যাত গল্প দিয়ে, যেখানে আমরা দেখি মজিদের হঠকারী কর্ম, কিন্তু দেখিনা মজিদের শেষ পর্যন্ত তার আদর্শে অটল থাকার মানসিকতা। হয়তো সেই মানসিকতা অংকন করাটাই ছিলো সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মুখ্য উদ্দেশ্যে। আর এই জন্যেই আমার মনে হয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ স্রেফ 'লালসালু'র লেখকই নন, তিনি তার চাইতেও অনেক বড় কিছু, যেটা খানিকটা ধরা দিয়েছে অ্যান ম্যারি ওয়ালীউল্লাহর 'আমার স্বামী ওয়ালী'তে। তাই পাঠককে বলবো, 'লালসালু' দিয়ে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মত সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একটা মানুষকে পরিমাপ করবেন না। তাকে নিয়ে জানুন, আর জানার এই সিঁড়িতে প্রথম ধাপ হতে পারে, আলোচ্য এ বইটি।

পরিশেষে আরেকটা জিনিস না বললেই নয়, আমার ধারণা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই চিন্তা-ভাবনা আরো বেশি বিস্তৃত হয়েছে তার সহধর্মিনী ফরাসি নাগরিক অ্যান ম্যারি ওয়ালীউল্লাহর সংস্পর্শে এসে। অ্যান ম্যারি সচেতনভাবে তার নিজেকে নিয়ে এই বইতে কিছুই লিখেননি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওয়ালীউল্লাহর চোখে তিনি কেমন সঙ্গী ছিলেন, মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন তা বোঝা যায় নিচের উক্তিটি দেখলেই-

'যখন আমি বলি যে আমি তোমাকে ভালোবাসি, তখন হয়তো কথাটি দিয়ে এই বোঝাতে চাই যে, তোমার কাছে আমি সহজ বোধ করি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমি তোমার কথা ভাবি এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমি ভাবি যে, তোমার সাথে সব কিছু নিয়ে কথা বলা যায়। এটা কি কোন বোঝাপড়া? দুটি মানুষ মানসিকভাবে পরস্পরের কাছে এমন নগ্ন হয়ে ওঠে যে, তারা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায়, মানসিক নগ্নতা থেকে জন্ম নেয় এক ধরণের ঐক্য। আমরা এত সহজে মানসিকভাবে নগ্ন হতে পারিনা...। মনের ওপর একটা পর্দা ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে তোমার পক্ষে নগ্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং সে কারণে ভালোবাসাও সম্ভব নয়।'

একেবারে শেষে, অনুজ রাশেদ স্বপ্নকে ধন্যবাদ, দারুণ এই বইটির সন্ধান দেবার জন্য।
Profile Image for ফারহানা জাহান.
Author 5 books59 followers
June 3, 2022
দুর্ভাগ্যবশত, সদাশয়তা নামক সদগুণটি আজ এমনই মূল্য হারিয়েছে যে, এটি নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামায় না। ... আজ কোথাও কার্যত কোনো ভালো মানুষ নেই।
Profile Image for Shapla.
28 reviews5 followers
August 17, 2022
এতো তাড়াতাড়ি কেন শেষ হয়ে গেলো! সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে এখন মনে হচ্ছে খুব কাছের একজন মানুষ। ভালোবাসা নিয়ে উনার নিজস্ব ধারণাটাও কী দারুণ!
Profile Image for Shotabdi.
847 reviews222 followers
August 15, 2022
কী অদ্ভুত সুন্দর একটা স্মৃতিকথা! ছোট্ট কিন্তু কী গভীর ব্যঞ্জনাময়, প্রেমময়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে চেনার সাথে সাথে একটা মধুর দাম্পত্য জীবনের ছবিও চোখে ভেসে উঠল। আবিষ্কার করলাম যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শিক্ষা, শিল্পবোধ থাকলে সব ধরনের বাধা অতিক্রম করেই একটা সুন্দর মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। শিল্প, সাহিত্য, ভ্রমণ জীবনের সূক্ষ্ণ চেতনা জাগানোর এই বিষয়গুলোতে নারী-পুরুষ আগ্রহী থাকলে, একই সাথে দায়িত্ববোধ, বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা থাকলে আসলে জীবনটা মাধুর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।
আরেকবার অনুভব করলাম পৃথিবীতে কত কী পড়ার, জানার বাকি রয়ে গেছে। সত্যিই, সমুদ্রের কিনারের নুড়ির কাছাকাছিও যেতে আরো দীর্ঘদিন লেগে যাবে।
খুব ভালো অনুবাদ আর সুন্দর সাবলীল ভাষার গুণে স্মৃতিকথাটি ভীষণ মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে। ওয়ালীউল্লাহকে ব্যক্তিগতভাবে জেনে সমৃদ্ধ হলাম।

৪.৫/৫
Profile Image for Ësrât .
519 reviews89 followers
June 1, 2025
ফেসবুকে প্রায়ই বিভিন্ন পেইজে বা প্রোফাইলে কয়েকদিন পরপর এক সুদর্শন পুরুষের ছবি ঘুরতে থাকে বাহারী ক্যাপশন সহিত।ষাটের দশকে হাল ফ্যাশনের চেয়ে অগ্ৰগামী এই যুবক যে কালজয়ী লালসালু বহিপীর বা চাঁদের অমাবস্যা র স্রষ্টা এই সহজ সত্যটি হৃদয়ঙ্গম হয় না অনেকেরই । বিষয়বস্তু অনুসারে ভারিক্কি চালের বয়োবৃদ্ধ কোনো লেখকের আশায় এত সুন্দর এক মানুষের কল্পনা করাটা বেশ শক্তই বলা যায়।

সেই মানুষ ওয়ালীউল্লাহর দৈহিক সৌন্দর্যের ভেতরে তার কালোত্তীর্ণ লেখার বাইরেও, মননে চিন্তায় স্বভাবে কতটা আলাদা নির্মোহ আধুনিক, মার্ক্সবাদী কিন্তু চরমভাবে আশাবাদ নিয়ে বেঁচে থাকা অন্তর্মুখী অন্দরের খবর জানিয়েছেন আন মারি ছোট ছোট শিরোনামে আবদ্ধ লেখাগুলোতে সুনিপুণ করে, সচেতন ভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন নিজের কথাগুলো কিন্তু পরতে পরতে প্রেমময় দাম্পত্য আর ব্যাখ্যাতীত ভালোবাসা পূর্ন বোঝাপড়ার ঝলক ছিল প্রতিটি চিঠি বা ঘটনাতে।

মাত্র ঊনপঞ্চাশে ঝরে পড়া ফুল হয়ে মহাকালের পথে হারিয়ে যাওয়া ওয়ালী কে নিয়ে জানার জন্য খুব কিঞ্চিৎ হলেও একদমই অপ্রতুল নয় লেখাটা।

আফসোস আরো একটু যদি জানতাম তারে,যারে আমি চোখে দেখিনি এই তিন ভুবনের পারে!

রেটিং: ✨🌟⭐💫
১০/০৬/২৪
Profile Image for Titu Acharjee.
261 reviews35 followers
March 27, 2022
একটু অগোছালো হলেও বেশ ভালো, তথ্যবহুল একটা বই। যারা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ব্যাপারে যারা জানতে চান তারা পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for Shifat Mohiuddin .
114 reviews3 followers
March 7, 2020
সুন্দর স্মৃতিচারণা, সুন্দর অনুবাদও! গোগ্রাসে গিলে ফেললাম। ওয়ালিউল্লাহকে জানার পরিধিটাও আরেকটু বড় হলো।

বইয়ের একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় আন মারিকে লেখা ওয়ালিউল্লাহর এই কথাগুলো মনে সবচেয়ে বেশী দাগ কেটেছে:

একেক জনের ভালোবাসার তীব্রতাও একেক রকম। যখন আমি বলি যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তখন হয়তো কথাটি দিয়ে এই বোঝাতে চাই যে , তোমার কাছে আমি সহজ বোধ করি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমি তোমার কথা ভাবি এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ভাবি যে, তোমার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে কথা বলা যায়। এটা কি কোনো বোঝাপড়া: দুটি মানুষ মানসিকভাবে পরষ্পরের কাছে এমন নগ্ন হয়ে ওঠে যে, তারা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায়, মানসিক নগ্নতা থেকে জন্ম নেয় এক ধরণের ঐক্য। আমরা এত সহজে মানসিকভাবে নগ্ন হতে পারি না...। মনের ওপর একটা পর্দা ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে তোমার পক্ষে নগ্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং সে কারণে ভালোও বাসা সম্ভব নয়।

[গুরুত্ব আরোপ ওয়ালীর নিজের। ২৬ অক্টোবর ১৯৫৪।]
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
September 1, 2015
স্মৃতিতে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ বইয়ে আন মারির তিন দিন ধরে নেয়া একটা সাক্ষাৎকার ছিল। ওটাতে এটার চেয়ে সামান্য একটু বেশি তথ্য ছিল। এই বইয়ে আছে ওয়ালীউল্লাহর মামা আন মারিকে নাজনীন বলে ডাকতেন। কেন ডাকতেন তা কিন্তু বলা নেই। ঘটনা হচ্ছে করাচিতে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কারণে মারিকে ধর্মান্তরিত হতে হয়েছিল। তখন তাঁর নাম দেয়া হয়েছিল আজিজা মোসাম্মদ নাসরিন। ঐ বইয়ে নাসরিন নামের কথা বলা আছে, নাজনীন নয়। মামাও তাঁকে এ নামেই ডাকতেন। এরকম আরো কিছু ছোটখাটো বিষয় আছে। আবার এই বইয়ে কিছু কিছু আছে যা ঐ বইয়ে নেই। আর তাছাড়া এটা কিন্তু রচনাবলির ভূমিকা হিসেবে লেখা হয়েছিল। মোটকথা ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহকে জানার জন্য দুইটা বইই পড়া উচিৎ।

বিদ্রঃ আন মারির নাম Anne Marie Thibaud। লালসালুর ফরাসি অনুবাদের প্রচ্ছদে এটাই আছে।

*তুমি সম্বোধন লেখায় অনুবাদককে ধন্যবাদ। সৈয়দ আবুল মকসুদ কেন আপনি সম্বোধন লিখলো সেটা বুঝতে পারলাম না। অস্বাভাবিক।
Profile Image for Ahmed Abrar.
745 reviews12 followers
July 31, 2021
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে জানার জন্য, ঋদ্ধতার সংস্পর্শে আসার জন্য অসাধারণ একটা বই! আর্টসেলের "এত ভিড়েও আমি একা" ঘরানার ব্যক্তি ছিলেন ওয়ালী।
Profile Image for Anwar Shimul.
Author 5 books16 followers
February 13, 2020
সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর ব্যক্তিগত জীবন জানার পড়ার সুযোগ পাইনি আগে। এ বই খুব সংক্ষিপ্ত; একটা রচনাবলীর ভূমিকা হওয়ার কথা ছিল। সে বিচারে, "ঠিক আছে"।
Profile Image for Masud Sojib.
35 reviews44 followers
September 11, 2016
সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ আমার প্রিয় লেখকদের একজন। প্রিয় লেখকের নিজস্ব জীবন যাপন, নিজস্ব চিন্তাধারা সহ সাহিত্যের বাহিরে যে জীবন তাকে জানার আগ্রহ প্রবল ছিলো। সেই আকাঙ্খা থেকেই পড়েছি বইটি। লেখাগুলো খুব বেশি ধারাবাহিক না হলেও ব্যক্তি ওয়ালী উল্লাহ কে জানার জন্য এ বই সত্যি দারুণ। আমাকে মুগ্ধ করেছে লেখকের পড়াশুনার বিস্তৃতি, সেই যুগে বসে তিনি কি পড়েননি। বিশ্ব সাহিত্যের উপর অগাধ জ্ঞান রাখা চারটে খানি কথা নয়। এতো এতো পড়াশুনা আর সবকিছুকে বিশ্লেষনী দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতাই ওয়ালী উল্লাহকে ’অনন্য আসাধারণ’ করেছে। শুধু বইটির একেবারে শেষে ‘ভালোবাসা’ নিয়ে ওয়ালীউল্লাহর নিজস্ব যে দৃষ্টিভঙ্গি সেটিই উল্লেখ করি��

”সত্যি করে বলছি, যখন ভালোবাসার কথা বলি, তখন আমি নিজেই জানি না, আমি কী বোঝাচ্ছি। এটি অপব্যবহারে জীর্ণ এক শব্দ। এটি এমন এক প্রতীক যা আমরা গ্রহণ করে নিই এবং সবাই ব্যবহার করি। সেজন্য এর চেয়ে ভালো কিছু জানা নেই বলে আমিও এটি ব্যবহার করি। কিন্তু কারো ভালোবাসই একরকম নয়। একেক জনের ভালোবাসার প্র্রয়োজন একেক রকম। একেক জনের ভালোবাসার তীব্রতাও একেক রকম। যখন আমি বলি যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তখন হয়তো কথাটি দিয়ে এই বোঝাতে চাই যে, তোমার কাছে আমি সহজ বোধকরি, স্বত:স্ফুর্তভাবে আমি তোমার কথা ভাবি এবং স্বত:স্ফুর্তভাবেই আমি ভাবি যে, তোমার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে কথা বলা যায়।

এটা কি কোন বোঝাপড়া? দুটি মানুষ মানসিকভাবে পরস্পরের কাছে এমন নগ্ন হয়ে ওঠে যে, তারা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য হয়ে যায়, মানসিক নগ্নতা থেকে জন্ম নেয়ে এক ধরণের ঐক্য। আমরা এতো সহজে মানসিকভঅবে নগ্ন হতে পারি না...। মনের ওপর একটা পর্দা ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হলে বুঝতে হবে তোমার পক্ষে নগ্ন হওয়া সম্ভব নয় এবং সে কারনে ভালোাও বাসা সম্ভব নয়। “


এ বইটি পাঠককে মনে করিয়ে দেয় ওয়ালী উল্লাহ শুধু তার সৃষ্ট সাহিত্যে শিল্পী ছিলেন না, জীবন যাপনের প্রতিটি স্তরে তিনি ছিলেন নান্দিক শিল্পী। ওয়ালীউল্লাহর রচনা কে জানতে, বুঝতে আন মারি ওয়ালীউল্লাহর এ স্মৃতিচারণ মূলক বই পাঠককে নিশ্চয় সহায়তা করবে।
Profile Image for Tamanna Binte Rahman.
185 reviews144 followers
July 6, 2021
বইটা পড়বো পড়বো করে পড়া হয়ে উঠছিলোনা। আজ বিকেলের অলস সময়ে ছোট কলেবরের বইটা পড়েই ফেললাম। মূলত স্মৃতিকথামুলক লেখা যেখানে ওয়ালীউল্লাহর প্রতি তার স্ত্রীর মুগ্ধতা, আবেশতা আর স্ত্রীর প্রতি নিস্বংগ ওয়ালীর নির্ভরতা, স্বাচ্ছন্দ্যই ঘুরেফিরে এসেছে। ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে আরো জানার ইচ্ছা আছে। তবে স্ত্রীর বর্ণনায় তাকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে তাতেই ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহকে ভাল লাগবার জন্য যথেষ্ট। যেমন তার বই পড়ার নেশা, ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস, দেশ-বিদেশের নানারকম শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ, ইতিহাস এবং স্থাপত্য বিষয়ে আগ্রহ, মানুষ হিসেবে ধর্মীয় চিন্তাভাবনা, তার দর্শন, সৃজনশীলতা আর ভালবাসা বিষয়ে তার মতবাদ।

"কারো ভালোবাসাই একরকম নয়। একেক জনের ভালোবাসার প্র্রয়োজন একেক রকম। একেক জনের ভালোবাসার তীব্রতাও একেক রকম। যখন আমি বলি যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি, তখন হয়তো কথাটি দিয়ে এই বোঝাতে চাই যে, তোমার কাছে আমি সহজ বোধকরি, স্বত:স্ফুর্তভাবে আমি তোমার কথা ভাবি এবং স্বত:স্ফুর্তভাবেই আমি ভাবি যে, তোমার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে কথা বলা যায়।"

আহা, ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহকে না ভালবেসে উপায় আছে?
ক্ষণজন্মা এই লেখক বাংলাদেশের জন্ম দেখে যেতে পারেননি জেনে আফসোস হল।
Profile Image for Rakibul Islam.
20 reviews4 followers
September 3, 2015
দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় নিয়ে একটানে বসে পড়ে ফেলার মত বই। বড় লেখকদের সমন্ধে জানতে ভালো লাগে। তাদের জীবন যাপন, পড়ার পরিধি, বড় লেখকে পরিনত হবার আগের সময়টা নিয়ে আমার কৌতূহল অপরিসীম। এই বইটি পড়ে আমার সেই কৌতুহল মিটেছে। লাল সালু গল্পটি পড়ে সৈয়দ ওয়ালি উল্লাহর লেখার সাথে আমার পরিচয়, এরপর তার আর কোন লেখা পড়া হয়নি। এই বইটি পড়ে তার লেখা আরো বই পড়তে উদ্বুদ্ধ হলাম। বইটি পড়ে টের পাওয়া যায় ওয়ালি উল্লাহ প্রতি তার স্ত্রীর মুগ্ধতা; আর নিঃসঙ্গ ওয়ালির স্ত্রীর প্রতি একান্ত নির্ভরতা।
Profile Image for Al Faisal Kanon.
166 reviews1 follower
May 23, 2024
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে নিয়ে বইটা লিখেছেন তার স্ত্রী আন ম্যারি ওয়ালীউল্লাহ। পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, স্বামীর মৃত্যুর পর এই বিদেশী নারী তার স্মৃতি-কেই যেন আকড়ে ধরতে চেয়েছেন। তাদের পরিচয়, বিয়ে, সংসার জীবনের কথা উঠে এসেছে। তবে মূল প্রতিপাদ্য ছিল ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহর জীবন। জানলাম কতটা বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যের ধারক ছিলেন। তার নিজের দেশ, ধর্ম, উপমহাদেশের ইতিহাস সব বিষয়েই তার জানাশোনা ছিল। এছাড়া ইউরোপের ইতিহাস, বিশেষত ফরাসি সাহিত্যেও ছিল অগাধ দখল। প্র...চু...উ...উ...র বই পড়তেন তিনি। লিও তলস্তয়, গোর্কি, পুশকিন, দস্তয়ভস্কি-সবার বই তার পড়া ছিল। কার্ল মার্ক্স, এঙ্গেলস, টয়েনবি, কাফকা, লোরকা - তাদের বই পড়তেও পছন্দ করতেন। সংগীতের প্রতি আলাদা টান ছিল। পছন্দ করতেন শুভার্টের অসমাপ্ত সিমফনি আর চাইকভস্কির 'প্যাথেটিক সিম্ফনি'। আমাদের চট্টগ্রামের মানুষ বলে পছন্দ করতেন পুরি, সুজি৷ চাপাতির মতো সাধারণ খাবার। দেশের বাইরে কাটিয়েছেন দীর্ঘসসময় কিন্তু দেশকে সবসময় ধারণ করতেন নিজের মধ্যে। জাকার্তা, প্যারিসে থাকাকালীন বাড়িতে লুঙ্গি পরতেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুলের গিট গুণতেন। বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে কখনো সিগারেট খেতেন না। শেষের একটা উক্তি ভালো লেগেছে, "আমি একজন মুক্ত মানুষ। জগৎ আমাকে গ্রহণ করুল আর নাই করুক, পুরো জগৎটাই আমার"। দেখেন কত সুন্দর চিন্তন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে একান্ত কাছের দৃষ্টি থেকে জানার সুযোগ করে দিবে এই বইটা। লেখিকাকে ধন্যবাদ এই স্মৃতিগুলো শেয়ার করার জন্য। বারবার মনে হয়েছে এই পার্থীব সম্পর্কগুলিও কত অদ্ভুত! মানুষ চলে যায়, স্মৃতিগুলো থাকে অমলিন হয়ে।
Profile Image for Rashik Reza Nahiyen.
110 reviews14 followers
March 11, 2020
আজ থেকে সতেরো বছর আগে এটা পড়েছিলাম! ভাবা যায়!

২০০৩ সালের ঈদ সংখ্যায় এটা পড়েছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই কিছুই বুঝি নি তখন। বাংলা সাহিত্যে ওয়ালিঊল্লাহকে তেমন কোন আলোচনা দেখি না, কী কারণ জানা নেই। আমার ওয়ালীউল্লাহর লেখা পড়ার সময় শুধু মনে হয়, হাজার মাইল দূরে বসে এক বঙ্গসন্তান তার বুকে বাংলাকে ধারণ করে লিখে যাচ্ছেন। পেছনে এক ফরাসী তরুনী মুগ্ধ নয়নে সেই লেখককে দেখছেন!
Profile Image for Abid.
140 reviews24 followers
August 21, 2024
এই বই আপনার ভালো লাগবে কিনা জানিনা তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে বলতে পারি, বইটি পড়ার পর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে ভালো লাগবে। বইটিতে ম্যারি অ্যান তার স্বামী ওয়ালী সাহেবকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিগাথা ও সর্বোপরি তার চিন্তা সম্পর্কে এমনভাবে লিখেছেন, যা প্রগাঢ় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছাড়া সম্ভব না।
Profile Image for Niaz Choyon.
7 reviews
May 20, 2025
আমরা শুধু লেখক ওয়ালীউল্লাহ কে জানতাম বা তার উপন্যাস,নাটক,ছোট গল্প পড়ার মাধ্যমে তাকে চিনেছি জেনেছি।এই বইয়ের মাধ্যমে ব্যাক্তি ওয়ালীউল্লাহ,একজন স্বামী, একজন পিতা,একজন সাহিত্য-শিক্ষা অনুরাগী,বন্ধু বৎসল,দেশপ্রেমিক ওয়ালীউল্লাহ কে জানা যায়।
Profile Image for Neela.
91 reviews54 followers
November 11, 2025
৩.৫ । এই বইকে তো আর সাহিত্যগুণে বিচার করা যাবে না। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কে নিয়ে জানার জন্য যথেষ্ট ভালো বই, লেখাগুলো একটু অগোছালো যদিও।
Profile Image for Ashiqur Rahman.
9 reviews1 follower
May 14, 2022
ব্যক্তি ওয়ালীকে জানার জন্য অনেকটা হেল্পফুল হবে এটা। তাঁর কিছু ভাবনা, একপ্রকার অস্থিরতা, লেখালেখির পরিকল্পনা নিয়েও জানা যায়। ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী বই।
Profile Image for Tahmin Sitab.
5 reviews4 followers
January 31, 2015
আন মারির লেখাকে ঠিক স্মৃতিচারন বলা চলে না, তার চেয়ে বরং ঘোরগ্রস্থ কোন আবেশে বলা চলা সৈয়দ ওয়ালীয়ল্লাহ সম্পর্কে। একটু আলাদাভাবে যেন চিনতে শেখায় ওয়ালীয়ল্লাহকে।
Displaying 1 - 23 of 23 reviews