Jump to ratings and reviews
Rate this book

মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী

Rate this book
একটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে ঐ দেশের সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের অবদান থাকে, সকলের অবদানেই তো জন্ম নেয় একটি স্বাধীন দেশ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের অংশ গ্রহণের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করে এদেশের আদিবাসীরাও। অত্যাচার-নির্যাতনের দিক থেকেও আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের মাত্রা কোন অংশে কম ছিল না। মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর বাঙালি জাতির পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সনাতন সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধুনিক মারণাস্ত্রে সজ্জিত সমরদক্ষ পাকিস্তানী সেনাদের সম্মুখে দাঁড়িয়েছে বাঙালি ছাড়াও অর্ধ-শতাধিক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ- সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, মুরং, ত্রিপুরা, গারো, হাজং প্রভৃতি; অসংখ্য আদিবাসী নারী-পুরুষ এদেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিয়েছে প্রত্যক্ষভাবে।

270 pages, Hardcover

First published February 1, 2008

14 people want to read

About the author

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (25%)
4 stars
2 (50%)
3 stars
1 (25%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Emtiaj.
237 reviews86 followers
December 10, 2014
মুক্তিযোদ্ধা তো মুক্তিযোদ্ধাই। তাহলে সেখানে কেন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা, নারী মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধার শেণিবিভাগ? ব্যাপারটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগলেও নিজে নিজে এর একটা উত্তর বের করেছি। ওই যে, সমাজের কিছু মানুষ মনে করে যে, মুক্তিযোদ্ধা মানেই অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা পুরুষ মুক্তিযোদ্ধা। এই কারণেই বুঝি ওসব মানুষকে জ্ঞানদান করানোর জন্যই এসব শ্রেণিকরণ হয়। (আমার জানামতে মুক্তিযোদ্ধার সবচেয়ে দারূণ সংজ্ঞা দিয়েছেন নাট্যকার আবুল হায়াৎ।)

আমি সত্যি আশা করিনি বইটা এতোটা ভালো হবে। এই বই পড়ার আগে আমি আদিবাসীদের মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে কি জানতাম? আদিবাসীদের মধ্যে একজন মাত্র খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আছে আর জানতাম রাজাকার ত্রিদিব রায়ের কথা। ব্যস, এইটুকুই!

নিজের প্রতিই লজ্জা অনুভব হয় যখন দেখি, একজন রাজার যুদ্ধবিরোধিতার কথা জানি কিন্তু জানিনা মং সার্কেলের রাজা মপ্রু সেইনের যুদ্ধ করার কথা! শেইন অন ইউ, ইমতিয়াজ।

ধর কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করল বাংলাদেরশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা। আর ওমনি আমি বলে দিলাম, ২৫ মার্চ আক্রান্ত, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা আর ১৬ ডিসেম্বার চুড়ান্ত বিজয়। মাঝখান দিয়ে বুম, বুম, টিশিয়া, ট্রারা, ট্রারা!! একে কি ইতিহাস বলা বলে?

বইটা আমার এজন্যই ভালো লেগেছে যে, এখানে স্বাধীনতা যুদ্ধে যাওয়ার আগে আরও অনেক কিছু বলা হয়েছে। আদিবাসী বলতে কি বোঝায়, বাংলাদেশে থাকা আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য, জীবনাচরণের বর্ণনা, তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ইতিহাসের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের সংগ্রামের ব্যাপারটা এভাবে আর কোথাও পড়িনি। চমৎকার ছিল পার্টটা। দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের পুরো মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।

বাঙালীত্ববাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও বাঙালী ছাড়াও অন্যান্য জাতির মানুষেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। একথা কেন জানি আমরা ভুলে যাই! এই বইটা পড়লে আশা করি কেউ আর সেটা ভুলবে না।

বাংলাদেশে থাকা আদিবাসীদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে এতে। রয়েছে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রোফাইল ভিত্তিক বর্ণনা। আলাদাভাবে রয়েছে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের কথাও। মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকাও রয়েছে।

প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারটা পড়াকালে কিছু বিরক্ত হয়েছিলাম যখন দেখি রণাঙ্গণের বর্ণনার চেয়ে বেশি অংশ রয়েছে তাঁদের মুক্তিযুদ্ধের আগেরকার কথা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হতাশার কথা। আক্ষেপের কথাগুলো পড়লে যে কি খারাপ লাগে! দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে, অনেকে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিতেন না। হতাশ লাগে যখন দেখি, অনেকেই খেতে পারেন না, ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন কাটান। মাসে ৫০০ টাকার ভাতা দিয়েছে সরকার, এককালে তা ছিল সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনের, যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন বিশিষ্ট রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদ!! (আমার খুব ইচ্ছে আমি পত্রিকায় একটা খবর পড়বো, একজন রাজাকার অসহায় অবস্থায় রয়েছে, ভিক্ষুক সে। আফসোস, তেমনটি যেন হবার নয়)

সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে নবীন মুর্মু, মার্টিন হাঁসদা, ইউ কে চিং মারমা প্রমুখের মুক্তিযুদ্ধের কথা পড়তে। অন্যদেরটা কি ভালো লাগেনি? ওই যে বললাম, কিছুটা বিরক্তবোধ কাজ করছিল। তাছাড়া একই এলাকার, একই পাড়ার সবার মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটা তো একই হবেই :) ইউ কে চিং মারমার সাক্ষাৎকার আলাদাভাবে পুরোটা দেয়ার কোন মানেই ছিল না। কেননা কয়েকজন আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা এই অধ্যায়েই পুরো সাক্ষাৎকারের বর্ণনা ছিল। আলাদাভাবে দেয়াটা বিরক্তির উদ্রেক করেছে।

কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং নিয়েছিলেন ভুটানে। ভুটানের সম্পৃক্ততার ব্যাপারটা তো জানতাম না! নাকি ভুটান নামে ভারতে কোন জায়গা আছে?

সবচেয়ে বিরক্ত হয়েছি এবং যেটা বইয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিয়েছে, সেটা হচ্ছে, বান্দরবানের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের একটা লেখা পড়ে। তুলে দিচ্ছি কিছু অংশ।

পাকিস্তানকে না ভাঙার জন্য ৭০% লোক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল না, পক্ষে ছিল ৩০%। কিন্তু আওয়ামী লীগ বেশি ভোট পেয়ে বেশি আসন দখল করতে পেরেছিল বলে সম্ভব হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হত না। তিনি ১৩ জানুয়ারি রাশিয়া থেকে ভারতে এসেছিলেন। সেদিন তিনি ইন্দিরাকে বলেছিলেন- ইন্দিরা, কবে আপনি আমার দেশ থেকে আপনার সৈন্য সরিয়ে নিবেন..., সেদিনের সেই ইন্দিরাকে মানসিক আঘাত দেয়ার ফলাফল-ই ১৫ আগস্ট তার মৃত্যু।

চীন আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে থাকলেও চীনপন্থী কম্যুনিস্টরা দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সবকিছু করেছে।


আমিঃ বাকহারা!

মাকে বললাম, মা যুদ্ধে যাব। মা বলল, যাও, যুদ্ধে যাও। তবে কোন অন্যায় করবে না। যুদ্ধের পর বিজয় পাওয়ার পর তোমার সাথে দেখা হবে।
- মার্টিন হাঁসদার মা।


প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা, আমরা যেন কখনো তোমাদের না ভুলি।
শত আলোর ভীড়েও
ভুলিনি এ ভাষা
তোমাদের অবদান, ভুলিনি তোমাদের
গড়া ইতিহাস ভুলিনি মাগো আজ
চাপা দীর্ঘশ্বাস..
আজ সব স্মৃতি বুকে নিয়ে
নতুন পথে পৃথিবীর বুকে
আমরা গড়ি নতুন ইতিহাস।

- রণাঙ্গণের ডাকটিকেট, Crematic X

Profile Image for Tanzima Rahman.
94 reviews2 followers
May 20, 2024
একজন ব্যক্তি যিনি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ, শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন ও বর্বর অত্যাচার থেকে মুক্তির লক্ষ্যে যুদ্ধ করেন তিনিই মুক্তিযোদ্ধা। তবে আলাদা করে মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী লেখার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল!?

কারণ যে অসাম্প্রদায়িকতার আকাঙ্ক্ষায় এদেশের জন্ম সেই দেশ আরজ উলটো পথের পথিক। বাংলাদেশে বাঙালি ছাড়াও আরও পঁয়তাল্লিশটি সম্প্রদায়ের বাস। কিন্তু এই অর্ধশতাব্দীর ইতিহাস কেবলই একপেশে।

আইয়ুব হোসেন এবং চারু হক বারোটি সম্প্রদায়ের ( সাঁওতাল, গারো, মণিপুরী, মাহালী, রাজবংশী, মাহাতো, রাখাইন, চাকমা, মারমা, ও মং) মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনা সংযোজন করেছেন। একাত্তরে সহস্রাধিক আদিবাসী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও তাঁরা আজ পরিচয় দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন।

লড়াকু মানবজাতি ইতিহাসের শুরু থেকেই সাম্য, মৈত্রী আর মানবতাবাদের অস্ত্র হৃদয়ে ধারণ করে সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, শোষণ সর্বস্বতা, পুঁজিবাদ আর ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করে গিয়েছে। একাত্তরে পাকিস্তানি বিভৎসতার শিকার হয়েছিলেন আদিবাসীরাও। তাদের অনন্তপ্লাবী অশ্রুস্নানে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামক একটি কদর্য রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন স্বতন্ত্র সার্বভৌম দেশ।

পুরো বইটি আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আবারও নতুন করে ভাবতে শিখছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি বইই এই ভাবনার জন্ম দেয়। তবে পুরো বইতে মুক্তিযোদ্ধা মার্টিন হাঁসদার বলা যে লাইন আমি বার বার পড়েছি:

❝ মাকে বললাম, মা যুদ্ধে যাব
মুক্তিবাহিনীতে লোক নিচ্ছে। ট্রেনিং দেবে অস্ত্র দেবে। মা বলল,
যাও, যুদ্ধে যাও। তবে কোন অন্যায় করবে না যুদ্ধের পর বিজয় পাওয়ার পর তোমার সাথে দেখা হবে। ❞

২,৬৯,০০০ ধর্ষিতা আর লাঞ্ছিতা মায়ের অবদান এই দেশ। দেশটাকে বেঁচার আগে আরেকবার কি ভাবব না?
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.