কয়েক সাইকো মিলে প্রেম, বিরহ, কবিতা, অংক, গান, জীবন, বিজ্ঞান নিয়ে মতবিনিময় করলে তাকে হয়তো বলা হবে সাইকোদের মতবিনিময় সভা। সেক্ষেত্রে জয়ন্ত এবং দীপার কথোপকথনে এরকম আবেশ আছে। প্রিয় পাঠক, আপনাকে এ সভায় আমন্ত্রণ।
বাহারী নাম আর প্রচ্ছদ দেখে কি ধরাটাই না খেলাম! বলছি মদিনা জাহান রিমি'র লেখা 'সাইকোদের মতবিনিময় সভা'-র কথা। সেদিন বাতিঘরে গিয়েছিলাম। বইটার প্রচ্ছদ বেশ ভালো লেগেছিলো। সাথে নামটাও নজরকাড়া। নাম শুনে ভেবেছিলাম বেশ জম্পেশ কিছু হবে হয়তো। তাই সাত পাঁচ না ভেবে কিনে ফেললাম। এখন শেষ করে পুরাই হতাশ।
কাহিনী জয়ন্তকে ঘিরে৷ বিদেশে থাকে, মেধাবী আর অন্তর্মুখী স্বভাবের ছেলে। সবার সাথে ইচ্ছাকৃতই দূরত্ব রাখে। শুধুমাত্র দীপা বাদে। দীপা তার বয়সে বড়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কে কোনো বাঁধা সৃষ্টি করেনি। না, না। প্রেম ভালোবাসা না। এ এক ভালো বন্ধুত্ব। তাদের বন্ডিংটা অমায়িক। হঠাৎ করে দীপা হারিয়ে যায়। আর সব সন্দেহ গিয়ে পড়ে জয়ন্তের উপর। কি হয় তারপর? কোথায় গেলো দীপা? জয়ন্ত কি তবে বিপদে পড়বে? জানতে হলে পড়তে পারেন বইখানা।
প্লট শুনে ভালো লাগলেও লাগতে পারে। তবে পড়ার পরেই বুঝতে পারবেন কি পড়ছেন। আমার কাছে খুবই বাজে লেগেছে। ভিতরে কিছুই নাই। সংলাপে কোনো ইমোশন নাই। চরিত্রগুলার মানসিক গভীরতা বলে কিচ্ছু নাই।
লেখার ভাষা সহজ তবে অন্ত:সারশূণ্য। মনে করিয়ে দেয় সেই বিখ্যাত 'সুইসাইড নোট'-এর কথা। এক্সিকিউশনের কোনো ইচ্ছাই নেই। শুধু জোর জবরদস্তি সাইকোপনা দেখাতে হবে। এই আর কি!
সবমিলিয়ে, আমার দিক থেকে অখাদ্য। হাতে সময় থাকলে পড়ে দেখেন। ভালো লাগার কিছু আছে বলে তো মনে হয় না। তবে, আপনার ভালো লাগলেও লাগতে পারে।