বাংলায় 'মেঘদূতম্'-এর একাধিক অনুবাদ আছে। তারা সহজলভ্য, সুপরিচিত, নন্দিত। তার পরেও একটি অনুবাদ...কেন?
রাজা ভট্টাচার্যের লেখাজোখার সঙ্গে পরিচয় আছে বেশ ভালোভাবেই। কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে অন্তত আমার মনে কোনো সংশয় নেই। তবু বইটা পড়ার সময় এই 'কেন?' ব্যাপারটা মাথার মধ্যে মশার মতো ভনভন করছিল।
বইটা পড়ার পর উত্তর পেয়ে গেছি।
নির্দ্বিধায়, নিঃসংশয়ে বলতে পারি, এযাবৎ বাংলায় এই কাব্যের যেক'টি অনুবাদ পড়ার সুযোগ হয়েছে, তাদের মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠতম।
এবার নির্ঘাত আপনাদের মাথায় ওই 'কেন?' ব্যাপারটা ভনভন করতে শুরু করেছে। উত্তর দ্বিবিধ~
প্রথমত, 'মেঘদূতম'-এর এত সুললিত ও মূলানুগ অনুবাদ আমি আগে পড়িনি। এমন অনুবাদের জন্যই বোধহয় 'ভাষান্তর' কথাটা প্রযোজ্য— যেখানে অণুমাত্র বাদ না দিয়ে শুধু ভাষাটা বদলে যায়; কবির ভাব ও তাঁর রচনা থাকে অপরিবর্তিত।
দ্বিতীয়ত, অন্য অনুবাদগুলো পড়লেই মনে হয়, এগুলো রসাস্বাদনের জন্য নয়; বরং বৈদগ্ধ্যের প্রকাশ হিসেবে বা ছাত্রদের পাঠকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার জন্যই এগুলোর সৃজন।
মুশকিল হল, আমরা যারা মেঘলা আবহাওয়া দেখলে 'সাংস্কৃতিক' মোডে "এমন দিনে তারে বলা যায়" শুনি, নয়তো 'আবগারি ওয়েদার! বসা যাক?' আহ্বান জানাই বন্ধুদের, তারা কি তাহলে মেঘদূত পড়ব না?
আমাদের জন্যই এসেছে এই দুর্দান্ত অনুবাদটি।
তবে...
১) এ-কেমন লে-আউট? একে তো সংস্কৃত টেক্সটটুকু প্রতিবর্ণীকরণের জন্য একটি দস্তুরমতো নয়ন-অসুখকর ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। তার ওপর বিশাল মার্জিন আর মাঝের শূন্যস্থান মিলিয়ে প্রতি পাতার প্রায় অর্ধেকই ফাঁকা! এইভাবে বইটিকে স্থূলতর করে ভয়ানকরকম মূল্যবান করে তোলার কী যুক্তি?
২) মধুজা ধর-কৃত প্রচ্ছদটি নয়নাভিরাম। কিন্তু ভেতরের অলংকরণগুলো সাদা-কালো এবং অত্যন্ত হতাশাজনক। আর্টপ্লেটে বেশ কিছু রঙিন ছবি-সম্বলিত পাতলা পেপারব্যাক হিসেবে বইটিকে প্রকাশ করলে বরং অনেক-অনেক ভালো হত।
তবে হ্যাঁ, এমন অসাধারণ ভাষান্তরের জন্যই আমি বইটাকে মনে রাখব।