বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশেরই একজন প্রবাদপ্রতিম নাট্যকার সেলিম আল দীন। তাঁর নাটকের বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা এবং গভীরতা, বর্ণনভঙ্গি সবই পাঠক এবং দর্শককের চিত্ত স্পর্শ করে। নাট্যকারের নিজের ভাষায় 'পুত্র' নাটকটি তাঁর সহজতম নাটক। এটি সেলিম আল দীনের জীবদ্দশার শেষ দিকে রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক। নাটকের মূল চরিত্র সিরাজ এবং আবছা। যমুনাপাড়ের মাইট্যাল বংশের সিরাজ এবং তার স্ত্রী এর একমাত্র সন্তান মানিকের আত্মহত্যা, এর প্রেক্ষিতে পিতা-মাতার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং দ্বন্দ্ব, পিতা এবং মাতা উভয়েরই সন্তানের জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত স্নেহ এবং শূন্যতা এই নাটকের উপজীব্য। দাম্পত্য সম্পর্কটি পুত্রশোক এবং একে অপরকে দোষারোপ এবং স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। যে আম গাছটিতে মানিক ফাঁসি নিয়েছিল, সেই আম গাছটি একসময় কেটে ফেলে সিরাজ। সেই আমের শিকড়কে পুত্র ভেবে পুনরায় ধন্দে পড়ে মাতা পিতা। একসময় আবছার অন্যরকম সাহস এবং অনুভূতির মিশেলে নাটকটি পরিণতি পায়। এইভাবে বাস্তব এবং অবাস্তবের ভেতর দিয়ে নাটকটি তার গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে শেষ পর্যন্ত পাঠকমনের গভীর সত্তার অংশগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে। নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন শিমুল ইউসূফ। কারো কারো মতে, নাটকটি নাট্যকারের নিজ জীবনের বেদনার নির্যাস দিয়ে তৈরি হয়েছে। কারণ, তাঁর নিজের একটি পুত্র হয়ে ২০ দিনের মাথায় মারা গিয়েছিল। যার ফলে নাটকটিতে বেদনার নানান স্তর পরিক্রমা করা নাট্যকারের জন্য হয়ে উঠেছে আরো অর্থবহ।আবার ভূমিকাতে তিনি বলেছেন তাঁকে ছোটবেলায় প্রতিপালনকারী একজনের জীবনে ঠিক এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। যার ফলে সিরাজগঞ্জের সিরাজকে নিয়ে এই কাহিনীর অবতারণা। তবে যাই হোক, বাংলা নাট্যসাহিত্যে সর্বপ্রাণবাদী এই নাটকটি তার স্বকীয়তাতেই সমুজ্জল হয়ে থাকবে। নাটকের শেষ সঙ্গীতটি উদ্ধৃত করে এই আলোচনাটির সমাপ্তি টানছি- এ কোনো প্রাচীন দিনের রূপকথা নয় তবু এইতো মণিমালা যমুনা- কূলের অপূর্ব পুত্রের সন্ধানে যে ঘর ভাঙে কুলনাশী সর্বাহারী উন্মত্ত জলস্রোত। আবছা এ কালের তবু পুরোটা একালের ও নয়। এ কালের যে নয় সেও তো সত্য নয়। এ এক অপূর্ব গল্প যা আমি পড়েছি সমস্ত আকাশে। পুত্র এক মেঘাবর্ত অমর্তলোকের আগামীর ইতিহাসে।
অসাধারণ। প্রথমে একটু hazy লাগলেও শেষটা অসাধারণ লেগেছে। এই হেজি লাগার জন্য হয়তো নাটক ধাচে লেখাটা দায়ী। তবে তারপরেও সাবলীল। উপন্যাস শেষ হবার পরে থেকে যাওয়া রেশ'টা ঠিক ঠিক করে পাওয়া যায়।