Eight centuries ago, Bengal faced turmoil as invading forces threatened to erase its rich, multicultural heritage of Hindu, Buddhist, and tribal traditions.
Yet, amidst the chaos bloomed a renaissance of art, music, and literature, giving birth to masterpieces like Arya Saptashati, Pavanadut, and the timeless Geet Govinda. Simultaneously, society grappled with dark forces—superstitions, sinister rituals, conspiracies, and betrayal.
Against this dramatic backdrop unfolds Smargaralakhandanam, a mystery intricately woven with history and poetry, encompassing love, lust, treachery, and shadows.
The death of Kumaradatta—is it a mere accident or a cunning murder? Did the renowned poet Jayadeva hold the key to the mystery?
Can you unravel the truth before history does?
This is a fair-play mystery. All clues are before you—just open your eyes and solve it.
লক্ষ্মণসেনের শাসনাধীন বাংলা। ব্রাহ্মণ্য নিয়মের বেড়াজাল আর দুর্বল ও ক্রমে প্রান্তিক হয়ে ওঠা বৌদ্ধধর্ম— এই দুইয়ের মাঝে আটকে পড়া সমাজ। এই সুজলা-সুফলা অথচ নানা দ্বন্দ্বে দীর্ণ অঞ্চলের ভাগ্যাকাশে দেখা দিল বহিঃশত্রুর ঘোড়ার পায়ের ধূলিমেঘ। তারই মাঝে কেন্দুবিল্ব গ্রামে কাব্যরচনায় মগ্ন ছিলেন এক কবি। হঠাৎ এক শান্ত বিহারে ঘটে গেল এক অত্যন্ত রহস্যময় হত্যাকাণ্ড। নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের ফলে ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে দাঁড়াল, কারণ রাজনীতির চতুরঙ্গে তিনি নিতান্ত তুচ্ছ ক্রীড়নক ছিলেন না। কিন্তু রুদ্ধদ্বার কক্ষে তাঁকে কে, কীভাবে হত্যা করল? রহস্যভেদে ব্যাপৃত হলেন কবি। আর তারপর... এই শীর্ণকায় ঐতিহাসিক উপন্যাসটি আদতে এক অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রয়াস। লকড্ রুম মিস্ট্রি, পলিটিক্যাল থ্রিলার, সর্বোপরি কাব্যতত্ত্ব ও শব্দতত্ত্বের সূক্ষ্ম প্রয়োগ থেকে বোঝা যায়, এই লেখার পূর্বসূরি উমবের্তো একো-র অদ্বিতীয় ক্লাসিকটিই। পটভূমি চতুর্দশ শতাব্দীর ইতালির বদলে ত্রয়োদশ শতকের গৌড়। ব্যাপ্তি ও আলোচনা অনেকটাই কম। রহস্যভেদী ব্রাদার উইলিয়াম অফ বাস্কারভিলের মতো যাজকের পরিবর্তে কবি জয়দেব। কিন্তু 'দ্য নেম অফ দ্য রোজ'-এর মতো এই বইও আদতে ইতিহাসের পটভূমিতে কবির দৃষ্টি ও সেই নিরিখে সমাজের বাঁকবদলের এক বিশ্লেষণ। ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ— এদের সবক'টিই লঘু চরণে চলাফেরা করেছে এই রহস্যকাহিনির অন্দর ও বাহিরে। তবে শেষ অবধি এই কাল্পনিক আখ্যান বাস্তবের গ্রাসে লীন হয়েছে। লোভের লোলুপ জিহ্বা ছারখার করে দিয়েছে দেশ-ধর্ম-মানুষকে। লেখনীর সুষমায় এই বই স্বতন্ত্রভাবে সম্ভ্রম দাবি করে। রহস্য হিসেবেও পরিবেশন ও উন্মোচনে এটি অতি বিশিষ্ট। বইটির মুদ্রণ শুদ্ধ ও নয়নসুখকর। তবে এর দুটি ত্রুটির জন্য একটি তারা খসাতে বাধ্য হলাম। তারা হল~ (১) একটিও অলংকরণ নেই এই বইয়ে। ওটির প্রয়োজন ছিল। (২) 'নান্দীমুখ' নামে যে সবজান্তা, অতিবোদ্ধা টাইপের ভূমিকাটি লেখক বইয়ের শুরুতেই গুঁজেছেন, সেটির মতো লিট্যারারি স্বমেহন বিরল। ওই পাতাগুলো পিন করে দেব ভাবছি। এ-বাদে বিশেষ কিছু বলার নেই। বইটির সাফল্য কামনা করি।
স্মরগরলখণ্ডনং লেখক - শুভদীপ রায়চৌধুরী প্রকাশক - স্মেল অফ বুকস মূল্য - ২২৫ টাকা।।
স্মেল অফ বুকস থেকে ২০২৫ সালের বইমেলায় বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছিল।। তার মধ্যে শুভদীপ রায়চৌধুরী এর লেখা স্মরগরলখণ্ডনং বইটির টাইটেল, ব্লারব আর প্রচ্ছদ দেখে দারুন ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল, তাই বইটি নিয়েছিলাম অনলাইনে।। সেই বই পড়া শেষ করলাম গত সপ্তাহে।। শুভদীপ রায়চৌধুরী এর লেখা প্রথমবার পড়লাম, বেশ রিসার্চ করে তিনি এই লেখাটি লিখেছেন সেটা বইটি পড়লেই বোঝা যায়।।
আপাতদৃষ্টিতে একটি টানটান রহস্য গল্পের ভাঁজে ভাঁজে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, কাব্য, প্রেম, লালসা, লাভের এক অশ্রুতপূর্ব বৃত্তান্ত।। এই কাহিনি ছুঁয়ে যায় হরেক রকম আধুনিক ও উত্তরাধুনিক দর্শন, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের জটিল তত্ত্ব, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নানা কন্সেপ্ট।। নানা রঙের চরিত্র, ঘটনার ঘনঘটায়, রহস্যের জটিলতায় এ একটি বিরল অভিজ্ঞতা।। কুমারদত্তের মৃত্যু কী স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? পাঠক আপনি কি পারবেন কবিবর জয়দেবের আগেই রহস্যভেদ করতে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
উপন্যাস এর ঘটনাগুলি সমান্তরাল ভাবে বর্ণনা করেছেন লেখক, তিনটি আলাদা আলাদা স্থানে ঘটনাগুলি ঘটে চলে, মধ্যযুগের বাঙালি কবি জয়দেব এর গ্রাম কেন্দুবিল্ব, দেশের রাজধানী লক্ষ্মণাবতী এবং ভাস্করবিল বৌদ্ধবিহার।। উপন্যাসটি একটি রহস্য উপন্যাস যার অন্যতম চরিত্র ভাস্করবিল বিহারের আচার্য বজ্রদেব, মধ্যযুগের বাঙালি কবি জয়দেব, বৈশাখী ওরফে মাধবী এই উপন্যাসের প্রধান নারীচরিত্র।। উপন্যাসটির মধ্যে দার্শনিক চিন্তা ভাবনার যে প্রকাশ লেখক এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন, জীবন, অপরাধ, সত্যি সম্পর্কে যে দার্শনিক চিন্তা ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে তারই কিছু কিছু পছন্দের লেখা ধরা রইলো।। ভাস্করবিল বিহারের আচার্য বজ্রদেব বলেন "তরল যেমন সর্ব আকার ধারণ করতে পারে, সত্যও তার আধারের আকার ধারণ করে।। আমি দেখি, আপনি দেখেন, সবাই দেখে, তাই ইহা সত্য।।" উপন্যাসে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি বটেশ্বর স্বামী বলেন "সত্যকে অনুভব করতে গেলে বিশ্বাস থেকে শুরু করতে হয়।। কোনকিছুতেই যদি বিশ্বাস না করি, তব আমি কিভাবে সত্যকে জনার পথে যাত্রা করবো? বেদ, স্মৃতি, শ্রুতি, আমাদের সেই বিশ্বাসের শিক্ষা দেয়।।" লেখক একটি থ্রিলারই লিখেছেন।। কিন্তু এ বই আর পাঁচটা বই-এর থেকে আলাদা হয়ে থাকবে প্রথমত বিষয়বস্তুর জন্য।। উপন্যাসটির নান্দিমুখে লেখক অনেক কিছুরই আভাস দিয়েছেন, তাই সময় নষ্ট না করে বইটি সংগ্রহে করে পড়ে ফেলুন।। এই বই পড়া একটি সফর, একটি অভিজ্ঞতা, যা অনেকদিন মনে থেকে যাবে।।
ইতিহাসাশ্রিত রহস্যগল্প, যাতে মিশে আছে জীবনদর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, সম্পর্কের জটিলতা, আর তৎকালীন বাংলার সমসাময়িক চিত্র। গবেষণা করে লেখা, সুন্দর বাক্যগঠন, মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েনি। তবে কিছু জায়গায় কার বয়ানে গল্প বলা হচ্ছে সেটা বুঝতে সমস্যা হচ্ছিলো, যদিও অষ্টম অধ্যায়ে গিয়ে তার মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। মধ্যযুগের বাংলার ইতিহাসে আগ্রহী হলে অবশ্যই পড়ুন।
লেখকের জন্য শুভেচ্ছা, আরও লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম...
This was an awesome read. Kudos the author. I really got lost to the long forgotten timeline of this novel. I would definitely look forward to the author's next book!