...লাঠির সাহায্য নেই, মাংসপেশির অনাবশ্যক চালনা নেই, কথায় কথায় পিস্তল ছোড়া আর রক্তারক্তি কাণ্ড নেই- শুধু যুক্তিতর্কের সাহায্য আর মস্তিষ্কের ব্যবহার। বাস্তবিক এ একটা শিক্ষার, একটা অনুপ্রেরণার বিষয়। আমি জোর করে বলতে পারি, আমেরিকা হলে সেখানকার উৎসাহী যুবকদের ভেতর আপনার জীবনচরিতকার হবার জন্য দস্তুরমতো রেষারেষি পড়ে যেত। প্রত্যেকটি অ্যাডভেঞ্চার আপনার নিত্যকার সঙ্গী হয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমস্ত ঘটনা পরপর তারা লিখে রাখত। তারপর অ্যাডভেঞ্চার শেষ হয়ে গেলে বই এর আকারে তা প্রকাশ করে সমস্ত জগতের সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দিয়ে তবে তারা ক্ষান্ত হত।" 'সোনার হরিণ' উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র মিস্টার বাসুর হুকাকাশি-মূল্যায়ণ
২০২৬ রিভিউ বিষয়ঃ বই রিভিউঃ ৩৩ বইঃগোয়েন্দা হুকাকাশি সমগ্র লেখকঃ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য্য জঁরাঃ গোয়েন্দা
যদিও গল্পের শুরুতে পোয়ারো কে অনুসরণ করেছেন, লেখক বলা আছে, তবে আমি শার্লকের প্রভাব বেশি পেয়েছি। যেটা আমার একান্ত মতামত। পোয়ারো আমার খুব কম পড়া তাই এ নিয়ে মতামত জাহির করা ঠিক না।
ডাফ স্ট্রিটের জাপানি বংশোদ্ভূত এই হুকা-কাশি, হুকো খেয়ে খুক খুক করে কাশেন কি না জানা নেই, তবে ছদ্মবেশ ধারনে দারুন পটু। এক হীরের খোঁজ করতে গিয়ে রণজিৎ নামে এক স্যাঙাৎ জুটিয়ে ফেলেন। পরে এই জুটি দুর্দান্ত সব গোয়েন্দা রহস্য সমাধান করেন। তিন খানা উপন্যাস আর খান কতক গল্প এই গোয়েন্দার। তাতেই আমার মত গোয়েন্দাপ্রেমী পাঠকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন।
পদ্মরাগ উপন্যাসটার ছোঁয়া বা ছায়া পাবেন সীমন্ত হীরে কিংবা রক্তমুখী নীলা উপন্যাসে। সোনার হরিণের সাথেও কোন না কোন উপন্যাসের কিঞ্চিত মিল পাবেন। বলা বাহুল্য সেগুলোর অধিকাংশই এই “কাশি” সাহেবের গল্প থেকেই অনুপ্রাণিত। ছোট ছোট গল্পগুলোর কিছু কিছু অতি সাধারণ- খুব চেনা গল্প আমাদের। কিন্তু যখন লেখক লিখেছেন, তখন এগুলো এত চেনা ছিল না।
সোনার হরিণ উপন্যাস বড় কলেবরের। এখানে শত্রুপক্ষ হুকাকাশি আর রণজিৎকে প্রায় ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল বৈ কি। প্রচন্ড বুদ্ধিমান-ধূর্ত শত্রপক্ষের সাথে মাথা খাঁটিয়ে যুদ্ধ জয়ের আনন্দ আর কিসে আছে বলুন তো?
এই গোয়েন্দা সিরিজ পড়ে, একটা ব্যাপার খেয়াল করবেন, এখানে কোন র-ক্তা\র#ক্তি-খ০উনোখ০নি নেই! হ্যা অনেক গোয়েন্দা গল্পেই খু/ন নেই, থাকে না। কিন্তু একটা পুরো সিরিজে, একজন গোয়েন্দার জীবনে খ০উনে কেইস নেই! হয়তো জাপানি, থেকে মনেপ্রাণে বাঙালি হয়ে ওঠা এই গোয়েন্দার সৃষ্টিকর্তা বেঁচে থাকলে আরো দুর্দান্ত কিছু গল্প পেতাম।
যেহেতু, এই গল্প থেকে অনুপ্রাণীত অনেক গল্পই পরবর্তীতে লেখা হয়েছে, সুতরাং অনেকেই অনেক গল্পের টুইস্ট ধরে ফেলতে পারলেও পারতে পারেন।
অনেক দিন পর, খাঁটি নিখাঁদ এই গল্প-উপন্যাস পড়ে দারুন লেগেছে আমার। সোনার হরিণ বেশ পছন্দ হয়েছে। এটার কাহিনী জটিল, খুব বেশি জটিল যে সেটাও বলব না, তবে মাথা খাটাতে হয়েছে। পেছনে গিয়ে কিছু চরিত্রের নাম-কার্য-ধাম একটু চেক করা লেগেছে, তখন মনে হচ্ছিল, ইশ সার্চ অপশন কোথায়! ছেলে বুড়ো সবার জন্য এই গল্প-উপন্যাসের সমাহার পড়া এখন একান্ত দরকার। নইলে দারুন কিছুই মিস করবেন।