শান্ত শহর চাঁদপুর। কিন্তু এক বিষণ্ণ রাতে সেই শান্তি শহর থেকে বিদায় নিলো। শহরের সবচেয়ে শান্ত জায়গা রামকৃষ্ণ মিশনে হয়ে গেল এক রোমহর্ষক খুন। নির্মমভাবে ঘুমের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে আশ্রমের প্রধান পুরোহিতকে। পরদিন সকালেই পুরো শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। ধর্মীয় ও সামাজিক, দুই দিক থেকেই পুলিশ পড়ল চাপে।
ইফতেখার সাহেবের আদেশে ঈশানকে নামতে হলো রহস্য সমাধানে। পুলিশ হত্যাকারীর কোনো ধরনের চিহ্ন খুঁজে পায়নি। ঈশানের পথে এসে দাঁড়াল তন্ত্রের নানা গুপ্ত তত্ত্ব ও তথ্য। কে খুন করেছে? খুনের অস্ত্রে সে হলুদ মাখিয়ে নিয়েছিল কেন? কারা খোঁজ করছে তন্ত্র বিদ্যার গুপ্ত জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত পুরানো পুঁথির? সাধকের রক্ত কোন ক্রিয়ায় লাগবে?
প্রশ্ন এসে জড়ো হলো অনেক। কিন্তু, ঈশান জানে, প্রশ্ন অনেক হলেও, উত্তর একটাই।
এই গল্পে বেশ খাটতে দেখা গেছে ঈশান রায়কে। এমন গল্পই তো চাই। গল্পের প্রয়োজনে চাঁদপুরের কিছু কিছু সৌন্দর্যের বর্ননা উঠে এসেছে, যেখানে একটুও বাড়িয়ে চাড়িয়ে কিছু লেখা মনে হয়নি, একদম প্রয়োজন মতোই ছিলো। গল্পে আধুনিকতার সাথে তান্ত্রিকতার ছোয়াটাও ভালো করেই উঠে এসেছে। গল্পটা পড়তে আমার একটুও বিরক্ত লাগেনি। কিন্ত তারপরও একটা খটকা লেগেছে আমার।
যদি দ্বিতীয় খুন না হতো তাহলে কি ঈশান রায় পারতো রহস্যের সমাধান করতে? আমার মনে হয় দ্বিতীয় খুন হওয়ার আগেই ঈশানের সেখানে পৌছে যাওয়া উচিত ছিলো, কিংবা দ্বিতীয় খুনটা না হলেও ঈশান রহস্যের সমাধান করতো অন্যকোনোভাবে সেটা দেখানো দরকার ছিলো।
এই একটা খটকা বাদে মোটামুটি টাইপের লেগেছে বইটা। (২.৫/৫)