কিছু মৃত্যু আছে যা মানুষকে মহান করে। ভালবাসতে শেখায় আদর্শকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কর্নেল তাহেরের মৃত্যুটিও এমনি একটি মৃত্যু। ক্ষুদিরামের ফাঁসির পরে উপমহাদেশে কর্নেল তাহেরের ফাঁসিই হলো সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ফাঁসি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র ৫ বছর পরে '৭৬ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেরের ফাঁসির ঘটনাটি ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই চিহ্নিত হবে। কর্নেল তাহেরের আদর্শ সঠিক ছিল না ভুল ছিল তার বিচার করবে ইতিহাস। তবে ভুল-ভ্রান্তি, দুর্বলতা সত্ত্বেও এ কথা বিনা দ্বিধায় বলা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের ছিলেন একজন সাহসী দেশপ্রেমিক। তাঁর সাহস তাঁকে পরিণত করেছিল কিংবদন্তীতে। ফাঁসির পূর্বেও তাঁর সাহসী কর্মকাণ্ড প্রেরণা যোগাবে ভবিষ্যৎ রাজনীতিবিদদের আদর্শের প্রতি সৎ থাকতে। দেশের প্রথম রাজনৈতিক ফাঁসিকে হাসিমুখে গ্রহণকারী তাহেরের নেতৃত্বে সংঘটিত ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের ফলাফল হিসেবে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের উত্থানকে চিহ্নিত করা গেলেও এ কথা ভাববার কোন কারণ নেই যে, ইচ্ছে করে এই চক্রকে অভ্যুত্থানকারীরা ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। তাহেরের জীবনের দিকে লক্ষ্য করলেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই তাহেরের জীবন, ৭ নভেম্বর থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী রাজনীতিবিদদের তাঁদের কর্মের দিকে এগোতে হবে। এ গ্রন্থে সত্যনিষ্ঠ থেকে ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি উদঘাটনের প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে- এ মৌলিক সত্যই আবার প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে যে, মানুষের মৃত্যুই তাঁর শেষ নয়।
বইয়ের নাম " ফাঁসির মঞ্চে কর্নেল তাহের: একটি অজানা কাহিনী " হলেও কোন উল্লেখিত কাহিনী-ই অজানা নয়। বইয়ের নাম হওয়া দরকার ছিলঃ একজন সাহসী মানুষের জীবন গল্প! আমার প্রায়শ মনে হয় বাঙ্গালী খুব-ই অকৃতজ্ঞ জাতি। এরা কাউকেই প্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা, ভালোবাসা দিতে পারে না। কর্ণেল তাহেরকেও পারে নি।
বর্তমানদের জন্যে অবশ্যই অজানা কাহিনী, একজন কর্ণেল তাহের। কেননা ইতিহাস যে যার শাসনকাল অনুযায়ী রচিত, পঠিত ও চর্চিত হয়। একজন সাহসী বীরের কোন ন্যায্য সম্মান আমরা দিতে পারি নি। ব্যার্থ জাতি তাই যুগের পর যুগ খেসারত দিতে থাকে। বলি হয় দেশপ্রেমী, তাদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা দিয়ে আমরা খেলি স্বার্থের হীন খেলা। অবশ্য পাঠ্য এই বই। এর পর "লরেন্স লিফুৎসুলজ" এর "অসমাপ্ত বিপ্লব"/ " Unfinished Revolution" পাঠ করা উচিত।
হুমায়ূন আহমেদের দেয়াল পড়ার সময় প্রথম জানতে পারি কর্ণেল তাহের সম্পর্কে। এরপর পড়ি শাহাদুজ্জামানের লেখা ক্রাচের কর্নেল বইটি, যেখানে মূলত তাহেরের জীবনীটা তুলে ধরা হয়েছে। তাহের ছিলেন একজন অকুতোভয় কর্ণেল, একজন নেতা। ছোট থেকেই দেশের প্রতি তার ছিল অগাধ ভালোবাসা। সেজন্য সে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে চলে আসেন যুদ্ধে অংশ নিতে। সে যুদ্ধে নিজের পা হারান। কিন্তু তার লিডারশীপে বেশ কয়েকটা স্থান তার সহযোদ্ধারা দখল করে নিতে পেরেছিল।
এই সাহসী বীরের জীবনের উপসংহার সুখকর হয় নাই। যাকে সে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত করেছিল সেই মানুষ টাই তাকে অপরাধ মূলক ভাবে ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়েছিল। একজন সাহসী বীরের এমন করুণ পরিসমাপ্তি আসলেই দুঃখজনক। ফাঁসির মঞ্চে কর্নেল তাহের পড়ার সময় তাকে যেভাবে অন্যায় ভাবে বন্দ এবং বিচারকার্য করে ফাঁসীর রায় দেওয়া হয়েছিল সেটাই দেখানো হয়েছে। বইটা পড়তে পড়তে এত খারাপ লাগছিল। ওনার মতন সাহসী বীর এমনটা ডিসার্ব করত না৷
গতানুগতিক তথ্য দিয়েই ভরা অথচ নাম "একটি অজানা কাহিনী"! তার থেকেও বড় হচ্ছে, একজন কর্ণেল তাহের কে যেভাবে এককভাবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছে সেটা খুবই একপেশে লাগে। আরো বিস্তারিত আলোচনা হলে ভাল হত বলে মনে হয়।
As the title states "ফাঁসির মঞ্চে কর্নেল তাহের একটি অজানা কাহিনী" it's nothing unknown at all. Those who are keen student of history and knows / want to know the true history of Bangladesh and it's birth, Colonel Taher is not an unknown name to them. He is a very interesting and brave person. All should admire him just for his contribution in Bangladesh's Liberation War, 1971.