কিছু অনীহার কোনো কারণ হয় না। বলার মতো কারণ পাওয়া যায় না বলে হয়তো এর পেছনে হাজারও কারণ থাকে। কিছু মানুষ তার অনীহার অদৃশ্য বাঁধনে আটকে থাকে। কেউ কেউ আবার নিজেও আটকে থাকতে ভালোবাসে। নন্দিতার অনীহার কারণ কী সেটা আমরা জানি না। হয়তো নন্দিতাও জানে না। এই সমাজের কিছু কিছু অদৃশ্য কারণ এই অনীহা তৈরি দেয়। এই অনীহা থেকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা কারোরই নেই। অথবা যিনি দিতে চান তারও হয়তো কোনো অনীহা থাকে। কে জানে...
"মানুষ তার জীবনের ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর পর্যন্ত এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কৌশল শিখতে সময় নেয়। তারপরে তারা সেই কৌশল অবলম্বন করে পনেরো থেকে থেকে বিশ বছর বাঁচে।"
ইশতিয়াক আহমেদ এর লেখা 'অনীহা'র গল্প মফস্বল কেন্দ্রিক। ইশতিয়াক আহমেদ গল্প লেখেন না, আমাদের চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে আমাদের সামনে তুলে ধরেন। 'অনীহা' খুবই সাদামাটা একটা গল্প, তবে ইশতিয়াক আহমেদের গল্প বলার ঢং এটাকে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
'অনীহা' যেমন দেখানো হয়েছে মফস্বলের রাজনীতির পাশাপাশি স্কুলের সহকর্মীদের মধ্যকার রাজনীতি প্রচলিত চিত্র। তেমনি রয়েছে চেয়ারম্যানের পরিবারের প্রতি আজাদের লয়ালিটি।
এছাড়াও নন্দিতা , আজাদ কিংবা হাবীবের অনীহার গল্প ইশতিয়াক আহমেদ ভালোভাবেই বলেছেন।
ইশতিয়াক আহমেদের লেখালেখিতে আরও নিয়মিত হওয়া উচিত। এছাড়াও আরও বড় পরিসরে লেখা উচিত।
"পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা মায়ের কাছে তার দুর্দান্ত চালাক সন্তানটিও শত চেষ্টা করে নিজের দুঃখ লুকাতে পারে না"