মেসোপটেমিয়ায় একটি ভাষার জন্ম হচ্ছে। নদীর জল যখন সবচেয়ে বড় পরিবহন, সিংহের মুখগহ্বর থেকে এক মানবীকে বের করে এনে একজন হয়ে উঠছে জনপদের কিংবদন্তি, কিন্ত সব ছাপিয়ে এই উপন্যাস হয়ে উঠল একটি প্রেমের সংলাপ। সভ্যতার উষাকালে এক বলিষ্ঠ প্রৌঢ় তার বহুদিনের সঙ্গিনীকে পরিত্যাগ করে বেরিয়ে পড়লেন সঙ্গিনীর হারিয়ে যাওয়া কন্যার সঙ্গে। কীভাবে বিবাহ হয় মানুষ শেখেনি তখনও। এক তীব্র আশ্লেষে পালাতে পালাতে পিতৃসম এক মানুষ আর মেয়েটি জড়িয়ে পড়ে। তাই নিয়ে দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ। হত্যা, লুন্ঠন, যৌনঈর্ষার হাত ধরে শুরু হয় মানব সভ্যতা। গদ্যে লেখা এই প্রথম উপন্যাসে কবি সুবোধ সরকার প্রশ্ন তুলেছেন— সভ্যতার শুরু কি মাতৃদুগ্ধে? না পিতৃদুগ্ধে? এ উপন্যাস আসলে এক দার্শনিক খোঁজ যা আধুনিক কাল অবধি বিস্তারিত।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।