নতুন এই কাব্যগ্রন্থে সুবোধ সরকার কোনও ইডিওলজির দাসত্ব নেননি, চোখের জলের মতো নিখুঁত, চোখের জলের মতো সুন্দর কবিতার জন্য তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, একটার পর একটা ট্রেন চলে যাচ্ছে নক্ষত্রের দিকে। তাঁর প্রেমের কবিতা পড়ে যেমন ত্বক গরম হয়ে ওঠে, তেমনি মনে হয় লাবণ্যের স্নান। সুবোধ সরকার জিনস পরা আহত কিন্নরের মতো তাকিয়ে আছেন সেই ক্রমমুক্তির দিকে যার উচ্চতম সিঁড়িটাতে একটা আলোর বল এসে পড়ে আছে। ওটাই কবিতা। এই নতুন কবিতাগুচ্ছ সেই আলোর দিকে যেতে চাইছে। জিনসের এক পকেটে মুঠোভর্তি বকুল, আর এক পকেটে বোমা। মানুষের কান্নার কোনও ব্যাকরণ নেই, কিন্তু তার কবিতা আছে। সেই কবিতাই আনতে চলেছেন সুবোধ সরকার।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।