সুবোধ সরকারের কবিতা মানেই বৃষ্টি আর আগুনের সঙ্গম। দ্রোহ আর দাহ, দম এবং দাপট সেখানে যমজ উদ্যাপন। অর্জুনের তিরের মতো এক-একটি কবিতা। বেলুড়ের সিঁড়ি পরিষ্কার করা থেকে বাসনাপুরের থালা ধোওয়ার মধ্যে যে দর্শন জেগে আছে তাকে নতুন দৃষ্টিকোণ দিলেন কবি। ভলক্যানোর ঢাকনা খুলে উঠে এল এক নারী যার চুলে বেলা ও কালবেলার নেশা লাস্ট মেট্রোর জন্য দাঁড়িয়ে আছে। বাসনা ও বেলুড় যেখানে এক হয়ে যায়, সেখানে রাতেও খোলা থাকে দোকান। পৃথিবী জুড়ে এক পৃথিবী দোকান, সেখানে সবাই বাসনা কিনে চলেছেন। বাংলা ভাষার কবিতা থেকে এই মুহূর্তে যদি কোনও ভারতীয় মুখ উঠে এসে থাকে, সেই মুখের নাম সুবোধ সরকার। তাঁর এই নতুন কাব্যগ্রন্থে, কবিতা লেখার পঞ্চাশ বছরে পাঠকের হাতে উঠে এল যেন এক তরুণ কবির স্পর্ধা ও হাহাকার।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।