উৎস যখন ফুরিয়ে আসে, ঝরনা যখন শুকিয়ে যায়, কবির বাগানে আসে শীত। কিন্তু এই কাব্যগ্রন্থ কবির পুনর্জন্মকে দরজা খুলে দিল। প্রতিবাদের কবিতাকে আভূমি সম্মান জানিয়েই, কবি এখানে প্রেমের যশ ও যমুনাকে পাহারা দিচ্ছেন। যেন কবির ভেতরে একটা বাইসন খুঁজে চলেছে হেমন্তকাল। নক্ষত্রের জামা গায়ে দিয়ে নিজের পাড়া থেকে পরাবাস্তবে হেঁটে চলেছে প্রেমিক। তার লোভ, তার ঈর্ষা, তার কারুবাসনা, তার দোষ, তার পুণ্য, তার সমস্ত আশকারা নিয়ে নদী থেকে উঠে দাঁড়ালো ভালবাসা। তার চুল থেকে তখনও জল ঝরছে। সুবোধ সরকারের প্রেমের কবিতা যেন ঘুমন্ত ভলক্যানোর ওপর আশ্বিনের শিউলি। প্রেম হল পাহাড়ি ঝরনার মতো, তার আবার বয়েস কী? সেই ঝরনা অনুসরণ করে কবি খুঁজে চলেছেন নক্ষত্রের জামা থেকে খসে পড়া বোতাম।
সুবোধ সরকার-এর জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৫৮, কৃষ্ণনগরে। শরণার্থী পরিবারের ছেলে। বাবা মারা যান যখন ক্লাস এইটের ছাত্র। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক, পড়ান সিটি কলেজে। কবিতা পড়তে গিয়েছেন আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, রাশিয়া, তাইওয়ান, ইস্তানবুল। স্ত্রী প্রয়াত কবি মল্লিকা সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পাদনা করেছেন ‘ভাষানগর’ পত্রিকা। সম্পাদনা: দিল্লির সাহিত্য অকাদেমির ইংরেজি জার্নাল ‘ইন্ডিয়ান লিটরেচার।’ পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১৩), বিনোদনশক্তি চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার এবং বাংলা আকাদেমির পুরস্কার। এছাড়াও কবিতার জন্য পেয়েছেন সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গঙ্গাধর মেহের জাতীয় পুরস্কার এবং গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি লিট। ২০১৬তে ফুল ব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে আমেরিকার আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন এবং ৩৩টি দেশের কবি লেখকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেখক শিবিরে অংশ নিয়েছেন। পুত্র রোরোকে নিয়ে কলকাতার সিরিটিতে থাকেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির তিনি প্রথম সভাপতি।