আশা-আকাঙ্খা
শংকর
দে'জ পাবলিশিং
ফুলসজ্জার রাতে কমলেশ অফিস থেকে জরুরি তলব পায়। নতুন বউকে বিরহ-যন্ত্রনায় ফেলে সে চলে আসে চন্দনপুর। অফিসার বস নোয়েল ব্যানার্জী কমলেশের ওপর ভার চাপায় তাদের নতুন প্লান্টের ম্যানেজার দায়িত্বে, কৃষিনগরে। যে কারখানা তৈরী করবে সার, ভারতবর্ষের নিজেদের বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা বানানো।
এরপর কারখানার কাজ চলতে থাকে। কমলেশের বিবাহিত নতুন বউ মল্লিকা কৃষিনগর চলে আসে। অদূরে ধর্মপুরে মল্লিকার মাসতুতো বোন ও জামাইবাবু থাকেন। কৃষিনগরের অবিরাম কাজ, কমলেশের সময়জ্ঞানহীন কারখানায় যাওয়া-আসা, বাড়িতেও ফোনে কাজ-সংক্রান্ত ব্যস্ততায় মল্লিকা অভ্যস্ত আর বিরক্ত হয়ে পড়ে। তার জামাইবাবুও বড়ো অফিসে বড়ো পোস্টে কাজ করেন, কিন্তু তাদের তো সামাজিক জীবন এতো রঙবিহীন নয়। কমলেশ যদিও বলে সে সরকারি চাকরি করে, এই কাজটা তার কাছে কাজের মতো নয়, দেশের স্বার্থ আর উন্নতির পথের কারিগর হিসেবেই সে নিজেকে দেখে।
আপাত দৃষ্টিতে উপন্যাসটিকে এক নব-দম্পতির দুষ্টু-মিষ্টি প্রেম, বিরহ, অভিমান - এসবে মোড়া একটি উপন্যাস ভাবছিলাম। কাহিনী প্রায় শেষের দিকে, আর তখনই গল্পে টুইস্ট, এক নয়, একাধিক। ভুলে গেছিলাম এই উপন্যাসটি কালজয়ী জন-অরণ্য, সীমাবদ্ধ উপন্যাসগুলোর সমগোত্রীয়, এক মলাটের ভিতর।
অতুলনীয় গল্প, সঙ্গে সার তৈরী নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও যান্ত্রিক ব্যাখা অসাধারণ।